নামাযের শেষ বৈঠকে মুসল্লি দুআ-দরূদ শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব সালাম ফিরিয়ে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৬৮৬) : শেষ বৈঠকে মুকতাদীর দরূদ শরীফ বা দুআ মাসূর শেষ হওয়ার আগেই যদি ইমাম সাহেব সালাম ফিরিয়ে ফেলে তাহলে মুকতাদীর করণীয় কী? দুআ-দরূদ শেষ করে সালাম ফিরাবে নাকি শেষ করার পূর্বেই ইমামের সাথে সালাম ফিরাবে?

ইমাম সাহেবকে রুকুতে পাওয়ার পর তাকবীর বলে সরাসরি রুকুতে চলে গেলে কি তাকবীরে তাহরীমা আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩৬৮১) : আমি আসরের নামাযের সময় মসজিদে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব রুকুতে চলে গেছেন। তাই আমি তাড়াতাড়ি করে তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাই। রুকুর জন্য ভিন্ন তাকবীর বলিনি। আমি জানতে চাচ্ছি, আমার তাকবীরে তাহরীমা কি আদায় হয়েছে? নাকি ঐ নামায পুণরায় পড়তে হবে?

নামাযের মাঝখানে ইমামের সাথে শরিক হলে কি মুকতাদি সানা পড়বে?

প্রশ্ন (১৩৬৭৮) : যদি কেউ এমন অবস্থায় নামাযের জামাতে শরিক হয় যখন ইমাম সাহেব কেরাত পড়ছেন অথবা রুকুতে চলে গেছেন, তখন তার জন্য সানা পড়ার বিধান কী? সে কি পড়বে নাকি ছেড়ে দিবে?

চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের প্রথম বৈঠকে ইমামের সাথে শরিক হওয়ার পর ইমাম দাঁড়িয়ে গেলে কি মুসল্লি তা…

প্রশ্ন (১৩৬৬৬) : আমি যোহরের নামাযে প্রথম বৈঠকে ইমামের সাথে শরিক হই। শরিক হয়ে তাশাহহুদ পড়া শুরু করি। তখনই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। এখন জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমি কি তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াব, না ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে যাব?

ফরয নামাযের চতুর্থ রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে গেলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৬৫৫) : আসরের নামাযে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুলে তৃতীয় রাকাতে বসে পড়েছেন। এরপর চতুর্থ রাকাতে ইমাম সাহেব না বসে সোজা দাঁড়িয়ে যান। কেননা তিনি ভেবেছেন, এটি তৃতীয় রাকাত। মুসল্লিরা শেষ বৈঠকে বসে লোকমা দিয়েছেন। কিন্তু ইমাম সাহেব বৈঠকে ফিরে না আসায় মুসল্লিরা বৈঠক ছেড়ে ইমাম সাহেবের অনুসরণ করে। মাসআলা জানা থাকায় আমি ও কয়েকজন মুসল্লি শেষ বৈঠকে বসে ছিলাম। এরপর ইমাম সাহেব যখন পঞ্চম রাকাতের সিজদা করেছেন তখন আমরা সালাম ফিরিয়েছি। এরপর অবশ্য আমরাও সকলের সাথে সতর্কতাবশত পুনরায় আসরের নামায আদায় করে নিয়েছি। জানার বিষয় হল, আমাদের প্রথম নামায সহিহ হয়েছিল কি?

ইমাম সাহেব নামাযে ভুল করলে কি সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দিবে নাকি আল্লাহু আকবার বলে?

প্রশ্ন (১৩৬৪৬) : নামাযে ইমাম সাহেব যদি ভুল করেন তাহলে আমরা আল্লাহু আকবার বলে লোকমা দিই। কয়েকদিন আগে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুল করে যোহরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। তখন আমরা যথারীতি আল্লাহু আকবার বলে লোকমা দিই। নামায শেষে একজন আলেম বললেন, হাদিস ও ফিকহের কিতাবাদিতে সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দেওয়ার কথা আছে। আল্লাহু আকবার বলে নয়। সুতরাং সুবহানাল্লাহ বলাই উচিত। জানতে চাচ্ছি, ঐ আলেমের কথা কি ঠিক?

জানাযার নামাযে তিন তাকবীর দিয়ে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কি উক্ত নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৬৩৮) : একবার আমাদের মহল্লার ইমাম সাহেব এক ব্যক্তির জানাযার নামাযে তিন তাকবীর বলে সালাম ফিরিয়েছেন। নামায শেষে এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে ইমাম সাহেব পুনরায় চার তাকবীরের সাথে নামায পড়ান। জানতে চাই, আমাদের প্রথম নামাযের বিধান কী? আর দ্বিতীয়বার পড়া কি ঠিক হয়েছে?

কোনো ওয়াক্তের কাযা নামায স্মরণ থাকা সত্ত্বেও পরের ওয়াক্ত পড়লে কি উক্ত নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৬২৮) : আমি গতকাল গাড়িতে থাকায় আসরের নামায যথাসময়ে আদায় করতে পারি নি। পরে মাগরিবের সময় গাড়ি থেকে নেমে এক মসজিদে জামাতের সাথে মাগরিবের নামায পড়ি। তখন আমার আসরের নামাযের কথা স্মরণ ছিল। কিন্তু মাগরিবের জামাত দাঁড়িয়ে যাওয়ায় আসরের কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও মাগরিবের জামাতে শরিক হয়ে যাই। আর আমার পূর্বের কোনো নামায কাযা নেই। এখন আমার করণীয় কী? আমি কি আসরের কাযা আদায় করে নিব? বিস্তারিত জানতে চাই।

ইমাম সাহেব মুসল্লিদের থেকে উঁচু স্থানে দাড়িয়ে নামায আদায় করার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১৩৬১৫) : একবার বৃষ্টির সময় আমরা কয়েকজন ঘরে আসরের নামাযের জামাত করি। ইমাম ও আরো দুইজন খাটের উপর দাঁড়ায়। আর বাকিরা নিচে দাঁড়ায়। জানতে চাই, যারা নিচে দাঁড়িয়েছে তাদের নামাযের হুকুম কী?

প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গিয়ে লোকমা শুনে আবার বসলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৬০৭) : একদিন আমাদের মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেব আসরের নামাযে প্রথম বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে যান। পেছন থেকে মুয়াজ্জিন সাহেব লোকমা দিলে তিনি তাশাহহুদের জন্য বসে যান এবং নামায শেষে সাহু সিজদা দেন। সালাম ফিরানোর পর কয়েকজন মুসল্লি বললেন যে, নামায হয়নি। ইমাম সাহেব তাই পুনরায় নামায দোহরান। আমার প্রশ্ন হল, মুসল্লিতের কথা কি ঠিক? ইমাম সাহেবের নামায দোহরানো কি সঠিক হয়েছে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

লেনদেন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৬০২) : একজন ইমাম সাহেব আমাকে সাথে নিয়ে পাইকারী দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকার ফ্যান কিনে ইমাম সাহেবের নামেই ভাউচার করেন। অতপর ইমাম সাহেব ফ্যানগুলো নিজের আয়ত্তে দুই দিন রাখার পর ঐ ফ্যানগুলো ছয় মাসের বাকি মেয়াদে ৬০ হাজার টাকায় আমার কাছে বিক্রি করেন। জানার বিষয় হলো, উক্ত বেচাকেনাতে সুদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি? দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।

ইমামের পিছনে মুকতাদি কোনো ভুল করলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৯৭) : ইমামের পিছনে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে প্রথম বৈঠকে আমি মাঝেমধ্যে তাশাহহুদের পর দরূদ শরীফ ও দুআয়ে মাসূরাও পড়ে ফেলি। জানার বিষয় হল, ইমামের পেছনে থেকে আমার উক্ত ভুলের কারণে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

নামাযের প্রথম বৈঠকে মুসল্লি তাশাহ্হুদ শেষ করার আগে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৫৮৮) : মাঝে মাঝে আমি প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। এ অবস্থায় আমি কী করব? তাশাহহুদ শেষ করব? নাকি তাশাহহুদ শেষ না করেই ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে যাব?

ইমাম সাহেবের তিলাওয়াত সহিহ না হলে তার পিছনে নামায আদায় করার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১৩৫৮৫) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব সহিহভাবে কুরআন শরীফ পড়তে পারেন না। তার ع ও ح এর উচ্চারণ সঠিক হয় না। ع হামযার মতো এবং ه ح ـ এর মতো হয়ে যায়। এ অবস্থায় তার পেছনে আমাদের নামায সহিহ হবে কি? আর এ ধরনের ব্যক্তিদের ইমামতির হুকুম কী? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরিফ পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৩৭) : গতকাল এশার নামাযে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব সাহু সিজদা করেন। নামাযের পর কয়েকজন মুসল্লি সাহু সিজদার ব্যাপরে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তিনি বলেন, প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরিফ পড়ে ফেলি। এই কারণে সাহু সিজদা করেছি। তখন একজন বলল, দরূদ তো নবী (সা.)-এর জন্য দুআ। এর কারণে তো সাহু সিজদা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। জানতে চাই, এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা কী?

মুসাফিরের জন্য নামায কসর করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৫৩০) : আমি জানি ইসলামে মুসাফিরের জন্য নামায কসর করার বিধান রয়েছে। এক ব্যক্তি আমাকে বলল কসর করা নাকি জরুরি নয়। কেউ চাইলে পুরো নামাযও পড়তে পারে আবার কসরও করতে পারে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, সফর অবস্থায় নামায কসর করা কি জরুরি? দয়া করে আমাকে এর সমাধান জানাবেন।

অন্ধ ব্যক্তির ইমামতি কি মাকরুহ?

প্রশ্ন (১৩৫১৯) : আমাদের এলাকায় একটি বড় মাদরাসা আছে। মাদরাসার মুহতামিম সাহেব একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেম। তিনি সবসময় আমাদের জামে মসজিদে জুমআ, দুই ঈদ ও তারাবীহর নামায পড়ান। কিছুদিন আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এখনও তিনি আমাদের জামে মসজিদে জুমআ, ঈদ ও তারাবীহর নামায পড়ান। আমি শুনেছি, অন্ধ ব্যক্তির পেছনে নামায মাকরূহ হয়। জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত ইমামের পেছনে নামায মাকরূহ হবে কি?

ইমাম সাহেব নামাযের মধ্যে কেরাতে আটকে গেলে অন্য জায়গা থেকে পড়তে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫১৫) : যদি ইমাম সাহেব কেরাতে আটকে যায় এবং নামায শুদ্ধ হয় এ পরিমাণ কেরাত পূর্ণ হয়নি তাহলে কি তিনি সে স্থান ত্যাগ করে অন্য জায়গা থেকে পড়তে পারবে?

ইতিকাফকারী ব্যক্তি জানাযার নামাযে শরিক হতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫১৪) : এবার রমযানের শেষ দশকে আমার দাদা আমাদের মহল্লার মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন। একদিন মসজিদের পার্শ্ববর্তী মাঠে জানাযার নামায হচ্ছিল। তিনি তাতে শরিক হয়েছেন এবং নামায শেষ হওয়ামাত্রই মসজিদে ফিরে এসেছেন। এ কথা জানতে পেরে মসজিদের ইমাম সাহেব বলেছেন, তার ইতিকাফ ভেঙ্গে গেছে। জানতে চাচ্ছি, ইমাম সাহেবের কথা কি ঠিক?