দুই বছরের চেয়ে কম বয়সী গরু দিয়ে কুরবানী করলে কি উক্ত কুরবানী সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৮৮) : আমার বাবার গরুর খামার আছে। একটি গরুর বয়স দুই বছর পূর্ণ হয়নি। কিন্তু মোটা তাজা হওয়ার কারণে দুই বছর বয়সী গরুর চেয়েও বড় মনে হয়। এক ব্যক্তি বলল ঐ গরু দ্বারা কুরবানী সহিহ হবে। তাই তা দিয়ে আমি কুরবানী দিই। আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব বিষয়টি জানতে পেরে বললেন ঐ গরু দ্বারা আপনার কুরবানী সহিহ হয়নি। জানতে চাই বাস্তবেই কি আমার কুরাবনী সহিহ হয়নি? যদি না হয় তাহলে এখন আমার করণীয় কী?

মাসবুক ব্যক্তি কি ইমামের সাথে সাহু সিজদা আদায় করবে?

প্রশ্ন (১৩৪৮৩) : আমি আসরের নামাযের সময় চতুর্থ রাকাতে ইমামের সাথে শরিক হই। নামায শেষে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা আদায় করেন। কিন্তু আমি সাহু সিজদা না দিয়ে বসে থাকি। কারণ আমি এক ব্যক্তির কাছে শুনেছিলাম, মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সাহু সিজদা দিবে না। কিন্তু নামায শেষে পাশের এক মুসল্লি বলল, মাসবুক ব্যক্তিও ইমামের সাথে সাহু সিজদায় শরিক হবে। অন্যথায় তার নামায সহিহ হবে না। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, সঠিক মাসআলা কোনটি? জানালে উপকৃত হব।

নামাযের কোনো রাকাতে ভুলে রুকু ছুটে গেলে কি উক্ত নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৫৩) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব আসরের নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে রুকু না করেই সিজদায় চলে যান। পেছন থেকে তাকবীর বললেও তিনি উঠেননি। ফলে সবাই তার সাথে সিজদায় শরিক হয়ে যায়। পরে তিনি দ্বিতীয় রাকাতে দুটি রুকু করেন এবং চতুর্থ রাকাতের পর সাহু সিজদা করে নামায শেষ করেন। জানার বিষয় হল, আমাদের ঐ নামায কি সহিহ হয়েছে?

জানাযার নামাযে ভুলবশত তাকবীর ছুটে যাওয়ায় পুনরায় আদায় করলে কি উক্ত নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৫১) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব একদিন জানাযার নামায পড়ানোর সময় ভুলে ৩য় তাকবীর দিয়ে সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। মুসল্লিরা সাথে সাথে লোকমা দেয়। পরে ইমাম সাহেব পুনরায় শুরু থেকে জানাযা নামায পড়ালেন। জানতে চাই, তার এ কাজ কি ঠিক হয়েছে? দ্বিতীয় জানাযা কি সহিহ হয়েছে?

নামাযে শরিক না হয়ে ইমাম সাহেবের সিজদার আয়াতের তিলাওয়াত শুনলে কি সিজদায়ে তিলাওয়াত আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৪৬) : আমাদের বাসা মসজিদের পাশে অবস্থিত। ফলে নামাযের সময় আমাদের বাসা থেকে ইমাম সাহেবের তিলাওয়াত শোনা যায়। জুমার দিন ফজরের নামাযে ইমাম সাহেব সূরা সাজদাহ তিলাওয়াত করেন। যা আমাদের বাসা থেকে স্পষ্টভাবে শোনা যায় এবং বাসার সবাই সিজদার আয়াতটি সম্পর্কে অবগত। জানার বিষয় হলো, বাসায় মাস্তুরাত যারা আছেন উক্ত সিজদার আয়াত শোনার দ্বারা তাদের উপরও কি সিজদা করা ওয়াজিব হবে?

বিতরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমাম সাহেবকে পেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৪৩৩) : রমযান মাসে আমি একদিন তারাবীর নামায শেষ করে ইস্তিঞ্জার প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হই। অযু করে ফিরে এসে আমি ইমাম সাহেবকে বিতরের তৃতীয় রাকাতে পাই। আমি তখন জামাতে শরিক হই। ইমাম সাহেব যখন তাকবীর বলে দুআ কুনূত পড়েন তখন আমিও তার সাথে দুআ কুনূত পড়ি। এরপর ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাত শেষ করে সালাম ফিরালে আমি দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট দু রাকাত পূর্ণ করি। তাতে পুনরায় আর দুআ কুনূত পড়িনি। নামায শেষে একজন ব্যক্তি আমাকে বলল, আপনার নামায আদায় হয়নি। কেননা প্রথমবার আপনি যখন ইমামের সাথে দুআ কুনূত পড়েছেন তা ছিল আপনার প্রথম রাকাত। তাই আপনার তৃতীয় রাকাতে দুআ কুনূত পড়া আপনার জন্য ওয়াজিব ছিল। সুতরাং ইচ্ছাকৃত ওয়াজিব ত্যাগ করার কারণে আপনার নামায নষ্ট হয়ে গেছে। হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, ঐ ব্যক্তির কথা কি ঠিক আছে?

মুসাফির ব্যক্তি কি মুকিমদের জুমার ইমামতি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৪৩২) : কিছুদিন আগে আমরা কয়েকজন বরিশাল থেকে ঢাকায় আসি। এখানে আমার ভগ্নিপতির মাদরাসা আছে। জুমআর দিন তিনি উপস্থিত না থাকায় আমাদের সাথে আসা একজন জুমার নামায পড়িয়ে দেন। পরে আমার মনে হল, তিনি তো মুসাফির। তার নিজের উপরই যখন জুমা ওয়াজিব নয় তখন তিনি মুকীমদের ইমাম হবেন কীভাবে? তাই জানতে চাই, মুসাফিরের জন্য জুমার ইমামতি করার বিধান কী?

কোনো কারণে ইমাম সাহেবের আগে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪২০) : রমযানের পূর্বে ট্রেনে এক জায়গায় যাচ্ছিলাম। মাঝে ফজরের সময় এক স্টেশনে ট্রেনটি থামে। ঐ স্টেশনে ট্রেন সাধারণত একটু দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। তাই আমি প্লাটফর্মের এক কামরায় ফজরের জামাতে শরিক হই। আমরা যখন বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ছি তখন ট্রেন ছাড়ার জান্য সংকেত দেওয়া হয়। তাই আমি তাড়াহুড়ো করে ইমামের আগেই সালাম ফিরিয়ে ট্রেনে উঠি। ইমামের আগে সালাম ফিরানোর কারণে কি আমার ঐ নামায নষ্ট হয়ে গেছে? ঐ নামায কি পুনরায় আদায় করতে হবে?

মুসাফির ব্যক্তি মুকিম ইমামের পিছনে মাসবুক হলে কত রাকাত আদায় করবে?

প্রশ্ন (১৩৪১৫) : মুসাফির ব্যক্তি যদি মুকীম ইমামের পিছনে মাসবুক হয় তবে সে দুই রাকাত পেলে কি আরো দুই রাকাত একাকী পড়বে, নাকি দইু রাকাতেই নামায শেষ করবে? আর যদি এক রাকাত পায় তাহলে কয় রাকাত পড়বে?

জুমার নামাযে শেষ বৈঠকে ইমাম সাহেবের সাথে শরিক হলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৯০) : গত শুক্রবার একটা কাজে আটকে গিয়ে জুমার প্রস্তুতি নিতে দেরি হয়ে যায়। আমি কাজ শেষ করে দ্রুত মসজিদে রওয়ানা দেই এবং নিয়ত করে বসা মাত্রই ইমাম সাহেব সালাম ফিরিয়ে দেন। আমি দাঁড়িয়ে মাসবুকের ন্যায় নামায পূর্ণ করি। জানতে চাই আমার ঐ জুমার নামায কি আদায় হয়েছে?

মহিলাদের জন্য জামাতে নামায আদায় করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৩৭২) : আমরা দুই ভাই আর বাবা মিলে প্রতি রমযানে বাসায় জামাতে তারাবীর নামায পড়ি। আগামী রমযান থেকে আমার বোন আর আম্মুও আমাদের সাথে শরীক হতে চাচ্ছেন। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আম্মু আর আপু আমাদের সাথে শরীক হলে আমরা কীভাবে কাতার করে দাঁড়াব? আর মহিলাদের জন্য বাসায় বা বাইরে জামাতে অংশগ্রহণ করার বিধান কী? বিস্তারিত দলীলসহ জানতে চাই।

জানাযার নামাযে মায়্যেতকে উল্টো করে রাখলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৭১) : আমাদের পাশের গ্রামে এক মহিলার জানাযার নামাযে ভুলে মায়্যেতকে ইমামের সামনে উল্টো তথা দক্ষিণমুখী করে রাখা হয়। মায়্যেতের উপর চাদর থাকায় বিষয়টি কেউ বুঝতে পারে নি। এভাবেই নামায আদায় করা হয়। জানতে চাচ্ছি, উক্ত জানাযা নামায সহিহ হয়েছে কি?

ইমামের ইক্তিদা করা অবস্থায় নামাযের প্রথম রাকাতে ঘুমিয়ে পড়লে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৩৫৭) : আমি ফজর নামাযের প্রথম রাকাতে ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। ইমাম সাহেব কখন রুকু ও সেজদা করলেন আমি তা টের পাইনি। হঠাৎ চোখ খুলে দেখি, তিনি সেজদা থেকে উঠে দ্বিতীয় রাকাত শুরু করছেন। তখন আমি তার সাথে দ্বিতীয় রাকাতে শরীক হয়ে নামায শেষে ছুটে যাওয়া রাকাতটি আদায় করেছি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমার ঐ নামায কি আদায় হয়েছে? নাকি তা পুনরায় আদায় করতে হবে?

একাধিক ব্যক্তির জানাযা একসাথে হলে মায়্যেতকে কিভাবে রাখবে?

প্রশ্ন (১৩৩৪৭) : আমাদের মসজিদটি হাসপাতালের পাশে অবস্থিত। মসজিদের সামনে একটি মাঠ রয়েছে। হাসপাতালে প্রায় সময়ই একসাথে কয়েকজন মানুষ মারা যায়। তখন মসজিদের মাঠেই তাদের জানাযার নামাযের ব্যবস্থা করা হয়। একাধিক জানাযা উপস্থিত হলে সবার জানাযার নামায একত্রে আদায় করা হয়। কিন্তু মায়্যেতকে কীভাবে রাখতে হবে, এ নিয়ে প্রতিবারই দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। একেকজন একেকরকম কথা বলে। আমরা কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি না। জানার বিষয় হল, একাধিক জানাযার ক্ষেত্রে মায়্যেতকে রাখার সঠিক পদ্ধতিটা কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মৃত ব্যক্তিকে গোসল না করিয়ে তার জানাযা পড়ে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৩২৮) : আমাদের এক প্রতিবেশী ঢাকায় বসবাস করতেন। কিছুদিন আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার জানাযা ও দাফনের জন্য তাকে গ্রামে নিয়ে আসা হয়। সবাই মনে করেছিল, ঢাকা থেকে তাকে গোসল করিয়ে আনা হয়েছে। তাই তারা তার গোসল না করিয়ে জানাযা পড়ে ফেলে। হঠাৎ তার এক আত্মীয় বলল, তাকে তো ঢাকা থেকে গোসল করিয়ে আনা হয়নি। তখন এ ব্যাপারে ইমাম সাহেবের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, এখন মাইয়েতকে গোসল করিয়ে পুনরায় তার জানাযা পড়তে হবে। পরে তাই করা হয়েছে। এখন জানতে চাই, ইমাম সাহেবের কথা কি ঠিক? আমাদের জন্য কি ঐ ব্যক্তির জানাযা পুনরায় পড়া আবশ্যক ছিল? এমনটি হলে কী করণীয়?

মাসবুক ব্যক্তির নামায।

প্রশ্ন (১৩২৯৬) : আমি মাগরিবের সময় মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে ৩য় রাকাতে পাই। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর বাকি নামায পূর্ণ করার সময় ভুলে প্রথম রাকাতের বৈঠক না করেই দাঁড়িয়ে যাই। নামায শেষে সাহু সিজদাহ আদায় করিনি। এমতাবস্থায় আমার এ নামায কি পুনরায় পড়তে হবে?

মুকীম ইমামের পিছনে মুসাফির ব্যক্তির আদায়কৃত আসরের নামায ফাসেদ হয়ে গেলে তা কত রাকাত কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩২৯০) : আমি সিলেট থেকে সফর করে ঢাকায় আসছিলাম। আমাদের বাস যখন হবিগঞ্জ অতিক্রম করছিল তখন আসরের নামাযের সময় হয়ে যায়। বাসটি একটি মসজিদের পাশে থামিয়ে যাত্রিদেরকে নামাযের জন্য সময় দেয়া হয়। আমরা নেমে সে মসজিদের মুকীম ইমামের পেছনে আসরের চার রাকাত নামায আদায় করি। নামায শেষে ইমাম সাহেব ঘোষণা করেন, নামায হয়নি, আবার পড়তে হবে। এদিকে আমাদের বাস ছাড়ার সময় হয়ে যায়। তাই আমরা দ্রুত গিয়ে বাসে উঠে যাই। জানার বিষয় হল, এখন আমরা উক্ত নামায কয় রাকাত কাযা করব?

তারাবীর নামাযে ইমাম সাহেব রুকুতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বসে থাকা কি ঠিক?

প্রশ্ন (১৩২৭৯) : রমযান মাসে তারাবীর সময় কোনো কোনো মুসল্লী ভাইকে দেখা যায়, ইমাম সাহেব রুকুতে যাওয়া পর্যন্ত বসে থাকেন। যখনই ইমাম সাহেব রুকুতে যান তখন তারা দ্রুত উঠে তাকবীর বেঁধে রুকুতে চলে যান। জানতে চাই এমনটি করা কি ঠিক?

ইমাম সাহেব নামাযে কোনো ভুল করলে কী বলে লোকমা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১৩২৩৭) : কয়েকদিন আগে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুলবশত যোহরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। তখন আমরা যথারীতি আল্লাহু আকবার বলে লোকমা দেই। নামায শেষে একজন আলেম বললেন, হাদিস ও ফিকহের কিতাবাদিতে সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দেওয়ার কথা আছে। আল্লাহু আকবার বলে নয়। সুতরাং সুবহানাল্লাহ বলাই উচিত। জানতে চাচ্ছি, ঐ আলেমের কথা কি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

ওযরের কারণে নামাযের বৈঠকে উভয় পা একদিকে বের করে দিয়ে বসলে কোনো সমস্যা হবে কি?

প্রশ্ন (১৩২২২) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। দীর্ঘদিন যাবৎ আমার ডান পায়ে ব্যথা। চিকিৎসা করিয়েও তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। উক্ত ব্যথার কারণে আমি নামাযে সুন্নত তরীকায় অর্থাৎ এক পা বিছিয়ে আরেক পা দাঁড় করিয়ে বসতে পারি না। তাই উভয় পা মহিলাদের মত ডান দিকে বের করে দিয়ে মাটিতে বসি। এখন আমার জানার বিষয় হল, উক্ত পদ্ধতিতে বসার কারণে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি? এবং আমার পেছনে ইকতেদা করা সহিহ হবে কি?