ব্যবসা-বাণিজ্য

শরিকানা ব্যবসায় লাভ বণ্টনের পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩১২১) : আমার চাচার একটি ব্যবসা আছে। সেখানে তিনি প্রায় দশ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আমি চাচার ব্যবসায় দুই লক্ষ টাকা দিয়ে শরীক হতে চাচ্ছি। ব্যবসা তিনিই পরিচালনা করবেন। মাঝে মধ্যে সুযোগ হলে আমিও কিছু কাজ করব। তিনি মোট লাভের ২০% আমাকে দেবেন, আর বাকিটা তার থাকবে। এভাবে চুক্তি করতে কোনো সমস্যা আছে কি?

যৌথ ব্যবসায় শতকরা হারে লাভ বণ্টন কর যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩১২০) : আমি আট লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে একটি দোকান শুরু করতে চাচ্ছি। আমার এক বন্ধু এবং আমি এটি দেখাশোনা ও পরিচালনা করব। আমি একটি চাকরি করি। তাই বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে থাকব। ছুটির দিনেও থাকব। আর সে পুরো সময় থাকবে এবং যাবতীয় কাজ আঞ্জাম দেবে। চুক্তি হবে, খরচ বাদ দিয়ে যা লাভ থাকবে তা থেকে ৩০% নেবে সে, আর ৭০% নেব আমি। শরীয়তের দৃষ্টিতে আমাদের উক্ত চুক্তিতে কোনো সমস্যা আছে কি? দয়া করে জানাবেন।

যৌথ ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ সদকা করার শর্তে বিনিয়োগ গ্রহণ করা জায়ে…

প্রশ্ন (১৩১১০) : আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি সবসময় ব্যবসার লাভের ২% মসজিদ-মাদরাসায় এবং ৩% গরিব-মিসকীনদের দান করে থাকি। বিভিন্ন সময় আমি অন্যদের থেকেও নির্দিষ্ট হারে লাভ প্রদানের চুক্তিতে বিনিয়োগ গ্রহণ করে থাকি। তাদেরকেও বিষয়টি জানিয়ে দেই যে, মোট লাভ থেকে উক্ত অংশ বাদ দিয়েই লাভ বণ্টন হবে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এভাবে চুক্তি করতে কোনো সমস্যা আছে কি?

যৌথ ব্যবসায় লাভ-লোকসানের হিসাব কিভাবে হবে?

প্রশ্ন (১৩০৯২) : আমি ও আমার বন্ধু মিলে দশ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি চালের আড়ত দিয়েছি। আমার পুঁজি চার লক্ষ টাকা আর বন্ধুর ছয় লক্ষ টাকা। ব্যবসা পরিচালনা আমি একাই করি। তাই তার সাথে আমার চুক্তি হয় যে, লাভের ৩৩% তার আর বাকিটা আমার। আর লোকসান হলে অর্ধেক সে বহন করবে আর বাকি অর্ধেক আমি। সে এতে রাজি হয়। প্রশ্ন হল, এভাবে চুক্তি করা কি বৈধ হয়েছে?

কেউ নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করতে দিলে তাকে না জানিয়ে অন্য কোনো ব্যবসায় উক্ত টাকা বিনিয়ো…

প্রশ্ন (১৩০৬৮) : আমাদের বাজারে আমার দুটি ‍দোকান আছে। একটিতে মুদীর ব্যবসা, অন্যটিতে কাপড়ের ব্যবসা আছে। আমার ছোট মামা দুবাই থাকে। কয়েকমাস আগে তিনি ছুটিতে দেশে আসেন। এক মাস আগে বিদেশ যাওয়ার সময় তিনি আমাকে দুই লাখ টাকা দেন আমার ব্যবসাতে লাভ-লস সমান অংশীদারীর ভিত্তিতে বিনিয়োগ করার জন্য। কিন্তু আমার উক্ত ব্যবসাদুটিতে পুঁজি বিনিয়োগ করার প্রয়োজন নেই। তাই আমি চাচ্ছিলাম মামাকে না জানিয়ে তার টাকা দিয়ে জমি ভাড়া নিয়ে চাষাবাদ করার জন্য। অতপর ফসল মাড়াই করে বিক্রি করে লাভ-লস বণ্টন করার জন্য। জানতে চাচ্ছি, এভাবে তার টাকা বিনিয়ো করলে কোনো সমস্যা আছে কি?

নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ গ্রহণের শর্তে ব্যবসার চুক্তি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩০৫২) : আমি আমার এক বন্ধুকে এক লক্ষ টাকা নিম্নোক্ত শর্তাবলীতে ব্যবসা করার জন্য দিয়েছি। ১. লোকসান হলে আমার। ২. যদি লাভ হয় তবে মূল টাকার ১৮%-২৩% লাভ দিতে হবে। পরবর্তীতে জানতে পেরেছি, এরূপ ব্যবসায়িক চুক্তি বৈধ নয়। তাই হযরতের কাছে জিজ্ঞাসা, এ ব্যবসা থেকে অন্য কোনো পদ্ধতিতে লাভ নেওয়া যাবে কি না? কারণ, এক বছর ইতিমধ্যেই শেষ। যদি সে সন্তুষ্ট হয়ে কিছু লাভ দেয় তা গ্রহণ করা হারাম হবে কি? জানালে উপকৃত হব।

কোনো ব্যক্তি পারিশ্রমিক ছাড়া কোনো দোকানে শ্রম দিলে সে কি কোনো বিনিময় পাবে?

প্রশ্ন (১৩০৫১) : আমার চাচার টিনের ব্যবসা আছে। ব্যবসার সম্পূর্ণ পুঁজি তার একারই। আমরা দু’ভাই বড় হওয়ার পর তিনি আমাদেরকেও ব্যবসার কাজে শরীক করেছেন। এখন আমরা সবাই মিলে ব্যবসা দেখাশোনা করি। ইদানিং কিছু বিষয়ে বড় ভাইয়ের সাথে অমিল হওয়ায় আমি চাচ্ছি পৃথক হয়ে অন্য কোনো ব্যবসা করব। আমি গত সাত বছর দোকানে খেটেছি। এ সময়ে যখন যে প্রয়োজন দেখা দিয়েছে চাচার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা পূরণ করেছি। জানার বিষয় হল, উক্ত দীর্ঘ সময়ের খাটনি বাবদ আমি কি কোনো প্রাপ্য বা ব্যবসার কোনো অংশের মালিকানা দাবি করতে পারব? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

বকেয়া ভাড়ার টাকার যাকাত আদায় করতে হবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৩৯) : আমি মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে ব্যবসা করছি। আমাদের পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত ঢাকায় সাত তলা একটি বাড়ি আছে। এক তলায় আমরা থাকি, বাকিগুলো ভাড়া দেওয়া। দুইটি ফ্ল্যাটে আমাদের দুই আত্মীয় ভাড়া থাকে। তারা ঠিকমত ভাড়া পরিশোধ করে না। কখনো দুই-তিন মাসের ভাড়াও বাকি পড়ে থাকে। আত্মীয় হওয়ায় চাপও দিতে পারি না। আমি সাধারণত ডিসেম্বরে ব্যবসার বাৎসরিক হিসাবের পাশাপাশি যাকাতেরও হিসাব করে ফেলি। এখন প্রশ্ন হল, বকেয়া বাড়ি ভাড়ার যাকাতের হিসাব কীভাবে করব?

ব্যবসার আয়ের আংশিক ভাড়া হিসেবে দেওয়ার চুক্তিতে দোকান ভাড়া নেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৯২) : ঢাকায় আমার একটি দোকান। আছে। আমার এক বন্ধু দোকানটি এভাবে ভাড়া নিতে চাচ্ছে যে, সে এখানে ব্যবসা করে যা লাভ হবে তার ৩০% আমাকে দিবে। কোনো সিকিউরিটি মানি বা অ্যাডভান্স দিবে না। জানতে চাই, এভাবে দোকান বাবদ লাভ নেওয়া সহিহ আছে কি না?

নির্দিষ্ট পরিমাণ অংকের টাকা লাভ দেওয়ার ভিত্তিতে ব্যবসার চুক্তি করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৫৩) : আমার ফুফার একটি রাইসমিল আছে। সেখানে নতুন কিছু মেশিনারিজ কেনার জন্য ১,৩০,০০০/- টাকার প্রয়োজন। সে আমার সাথে এভাবে চুক্তি করতে চাচ্ছে যে, আমি তাকে ঐ টাকা দিলে সে প্রতি মাসে আমাকে ১৭০০/- টাকা লাভ দিবে। এর পর বাকি লাভ যা থাকবে ছয়মাস পর পর হিসাব করে বণ্টন হবে। তখন লাভের পরিমাণ দেখে ইনসাফের ভিত্তিতে শতকরা হারে একটি পরিমাণ নির্ধারণ করে বাকি লাভ নেওয়া হবে। তাই মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি, উপরে বর্ণিত নিয়মে করা আমাদের চু্ক্তিটি কি বৈধ হবে?

লভ্যাংশের হার নির্ধারণ করা ছাড়া কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৯৫২) : আমার মামার একটি কাপড়ের দোকান আছে। বছর খানেক আগে সেখানে বিনিয়োগের জন্য মামাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলাম। মামা বলেছিলেন, প্রতি মাসে দুই-আড়াই হাজার টাকা করে দিবে। আর বছর শেষে যখন হিসাব হবে তখন চূড়ান্ত হিসাব করে লভ্যাংশ উভয়ে বণ্টন করে নেব। তবে কোনো অংশ উল্লেখ করা হয়নি। আমি জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে চুক্তি করা কি বৈধ হয়েছে? আর আমি যে লাভ গ্রহণ করছি তা গ্রহণ করা জায়েয হচ্ছে কি? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

মুদারাবা ব্যবসায় লোকসান হলে তা বহন করবে কে?

প্রশ্ন (১২৯৩৫) : প্রায় এক বছর পূর্বে আমি আমার এক বন্ধুকে এক লক্ষ টাকা এ শর্তে বিনিয়োগ করি যে, আমি লাভের ৬০% পাব। আর সে পাবে ৪০%। তেমনি লোকসান হলে উভয়ে উক্ত হারে তা বহন করব। কিছুদিন আগে আমি জানতে পেরেছি যে, এভাবে চুক্তি সহিহ নয়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এতদিন পর্যন্ত এ চুক্তি থেকে আমরা যে লাভ ভোগ করেছি এর ব্যাপারে আমাদের করণীয় কী?

ব্যবসার উদ্দেশ্যে গরু ক্রয় করলে কি যাকাত দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৯২৫) : আমি গত বছর গরু মোটাতাজাকরণের একটি খামার বানিয়েছি। গত বছর অনেক ষাঁড় বাছুর ক্রয় করি এবং কুরবানীর ঈদের পূর্বে যেগুলোর বয়স দুই বছর পূর্ণ হয় সেগুলো বিক্রি করে দেই। বর্তমানে আমার খামারে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার গরু রয়েছে। আমার প্রশ্ন হল, খামারের গরুর মূল্যমানের উপর কি যাকাত আদায় করতে হবে?

ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে যাকাত দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯০৪) : আমার দুলাভাই একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। কিছুদিন আগে হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসার জন্য অন্যের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা ঋণ নেন এবং এর দ্বারা চিকিৎসা সম্পন্ন করেন। এখন তিনি সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু ঐ ঋণ এখনও পরিশোধ করতে পারেননি। এখন আমি কি তাঁকে আমার যাকাতের টাকা দিতে পারব?

ব্যবসার কাজের জন্য ব্যবহৃত গাড়ির যাকাত আদায় করতে হবে কি?

প্রশ্ন (১২৮৯৫) : আমি একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিক। আমার অনেকগুলো গাড়ি আছে। গাড়িগুলো ফ্যাক্টরির পণ্য ট্রান্সপোর্টের জন্য ব্যবহার করা হয়। প্রশ্ন হল, আমাকে ফ্যাক্টরির পণ্যের যাকাতের সাথে গাড়িগুলোর যাকাত কি আদায় করতে হবে?

অংশীদার ভিত্তিক ব্যবসায় শরিকদের জন্য নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নির্ধারণের পর অতিরিক্ত ধার্য করা জায়েয আছ…

প্রশ্ন (১২৮৩০) : আমি আর আমার এক চাচাতো ভাই মিলে একলক্ষ আশি হাজার টাকা দিয়ে যাত্রী বহনের জন্য একটি মোটর সাইকেল কিনেছি। এতে আমি এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা দিয়েছি আর সে ষাট হাজার টাকা দিয়েছে। আমাদের মাঝে চুক্তি হয়েছিল আমরা আমাদের মূলধন অনুপাতে লাভ নিব। মোটর সাইকেল নিয়মিত আমার চাচাতো ভাই চালায়। যার কারণে সে এত অল্প লাভে সন্তুষ্ট নয়। এজন্য আমি বলেছি, তুই প্রতিদিন লাভের সাথে দুইশত টাকা অতিরিক্ত নিবি। জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত চুক্তিটি বৈধ হয়েছে কি না? বৈধ না হলে সঠিক পদ্ধতি কী হতে পারে?

অগ্রীম ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে ক্রেতা বিক্রেতা থেকে কোনো কিছু বন্ধক নিতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৮০৪) : আমি একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার স্বার্থে অনেক সময় অগ্রীম বিক্রয় চুক্তি করতে হয়। এক্ষেত্রে প্রায় অনেক ব্যবসায়ীকে দেখা যায় যে, তারা ‘সিকিউরিটি’ হিসাবে বিক্রেতা থেকে কোনো কিছু বন্ধক নেয়। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, এভাবে আগাম বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে আমার (ক্রেতার) জন্য বিক্রেতা থেকে চুক্তিকৃত পণ্য সরবরাহ করা পর্যন্ত ‘সিকিউরিটি’ হিসাবে কোনো কিছু বন্ধক নেওয়া কি বৈধ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

ধার দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে কি উক্ত টাকার যাকাত দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৭৭৭) : আমি আমার এক নিকটাত্মীয়কে ৫ বছর আগে ১২ লক্ষ টাকা করজে হাসানা হিসেবে দিয়েছি; কোনো রকম মুনাফার শর্ত ছাড়া। তিনি আমার ১২ লক্ষ টাকা তাঁর এক ব্যবসায়ী বন্ধুকে ব্যবসার কাজে দিয়েছেন। কিন্তু তার বন্ধু প্রতারণা করে টাকাটা তাকে দিচ্ছে না এবং টাকাটা পাওয়ার সম্ভাবনাও কম। আমার ঐ আত্মীয়ের পক্ষে আমার টাকা ফেরত দেওয়ার সামর্থ্যও নেই। মোটকথা এ টাকাটা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এমতাবস্থায় আমার ঐ ১২লক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে কি না?

কোনো ব্যবসায় শ্রম না দিয়ে বিনিয়োগকৃত মূলধনের আনুপাতিক হারের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ গ্রহণ করা জায়েয আছে …

প্রশ্ন (১২৭৭৩) : আমার ফুফাতো ভাই একটি দোকান দিয়েছে। সে এতে ৬ লক্ষ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। কিছুদিন পর তার টাকার প্রয়োজন হলে সে আমার কাছে ঋণ চায়। আমি তাকে ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে আলোচনাক্রমে তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করি। বিনিয়োগকৃত টাকার পরিমাণ ছিল ৪ লক্ষ। এক্ষেত্রে আমাদের মাঝে এভাবে চুক্তি হয় যে, ব্যবসা সে দেখাশোনা করবে। আর দোকানের সব খরচ বাদ দিয়ে যা লাভ হবে তা দু’জনের মাঝে অর্ধার্ধি হারে বণ্টন হবে। আর লোকসান হলে উভয়ে মূলধন অনুপাতে বহন করবে। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত চুক্তিটি শরীয়তসম্মত হয়েছে কি না? দয়া করে জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।