ব্যবসা-বাণিজ্য

মুদারাবা ব্যবসায় শ্রমদাতা যদি টাকা বিনিয়োগ করে তাহলে উক্ত টাকার লভ্যাংশ বণ্টন করার পদ্ধতি কী হবে?

প্রশ্ন (১২৭৭১) : আমি বিদেশ থাকা অবস্থায় আমার ভাগিনাকে মুদারাবা ব্যবসা করার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। চুক্তি হয়েছিল যে ৬০% আমি ও ৪০% লভ্যাংশ সে পাবে। কিছুদিন পর ব্যবসায় আরো ১ লক্ষ টাকার প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু আমি টাকা দিতে পারছিলাম না। সে আমার সাথে পরামর্শ করে নিজের পক্ষ থেকে এক লক্ষ টাকা ব্যবসায় লাগায়। জানার বিষয় হল, এখন আমাদের হিসাবের পদ্ধতিটা কী হবে? তার বিনিয়োগকৃত টাকার জন্য কি তাকে অতিরিক্ত মুনাফা দিতে হবে? নাকি পূর্ব নির্ধারিত হারেই লভ্যাংশ বণ্টন করা যাবে।

ফটো স্টুডিও থেকে উপার্জন করা টাকা কি হারাম?

প্রশ্ন (১২৭৭০) : আমার একটি ফটো স্টুডিও আছে, এর আয় দিয়ে আমার পরিবার চলে। একদিন আমার এক আত্মীয়কে আমাদের বাড়িতে দাওয়াত দিলে সে বলে, আপনার আয় হারাম, তাই আমি দাওয়াত গ্রহণ করতে পারব না। এখন আমি জানতে চাই, আমার এ ব্যবসা ও তা থেকে প্রাপ্ত আয় বৈধ কি না? বৈধ না হলে এখন আমার করণীয় কী?

চলমান ব্যবসা দিয়ে মুদারাবা চুক্তি করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৭৫৪) : আমার এক বন্ধুর বড় একটি লাইব্রেরী রয়েছে। কিছুদিন আগে সে বিদেশ চলে যায়। যাওয়ার সময় আমাকে লাইব্রেরীর দায়িত্বশীল বানিয়ে যায়। তার সাথে আমার এভাবে চুক্তি হয় যে, লাইব্রেরী দিয়ে মুযারাবার ভিত্তিতে আমি স্বাধীনভাবে ব্যবসা করব। অর্জিত লভ্যাংশের ৪০% আমি ও ৬০% তিনি পাবেন। বিষয়টি শুনে আমার এক পরিচিত আলেম বললেন, চলমান ব্যবসা দিয়ে এভাবে কারবার করা সহিহ নয়। মুহতারামের কাছে আমার জানার বিষয় হল, তার এ কথাটি কি ঠিক? বাস্তবে এমন হলে এখন আমাদের করণীয় কী?

মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭৩৯) : আমাদের এলাকায় জামে মসজিদে আমি বেশ কিছুদিন যাবৎ একটা বিষয় দেখে আসছি। সেটা হলো, শুক্রবার জুমার নামাযের সময় ইমাম সাহেব বয়ান করেন। বয়ানের পর চার রাকাত কাবলাল জুমা পড়তে বলেন। তারপর ইমাম সাহেব মিম্বারে বসা অবস্থায় সানি আযানের পূর্বমুহূর্তে মসজিদে দান বাবদ আসা মুরগী, ডিম, নারিকেল ইত্যাদি নিলামে তোলা হয়। এ ধরনের কাজ মসজিদের ভিতরে করা যাবে কি? জানালে উপকৃত হব।

কারো পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়ে পণ্য ক্রয় করে কমিশন পেলে উক্ত কমিশন গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৭২২) : আমি একটি ফ্যাক্টরীতে চাকরি করি। আমার দায়িত্ব হল, ফ্যাক্টরীর পণ্য উৎপাদনের যাবতীয় কাঁচামাল বাজার থেকে ক্রয় করা। দীর্ঘদিন যাবৎ এ পোস্টে কাজ করার সুবাদে অনেক ব্যবসায়ীর সাথে আমার পরিচয় ও সম্পর্ক আছে। এখন এক ব্যবসায়ী আমার সাথে এভাবে চুক্তি করতে চাচ্ছে যে, আমি যদি ফ্যাক্টরীর সব কাঁচামাল তার থেকে ক্রয় করি তাহলে সে আমাকে শতকরা ৩% কমিশন দিবে। এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার জন্য উক্ত কমিশন গ্রহণ করতে শরয়ীভাবে কোনো অসুবিধা আছে কি না? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

কী পরিমাণ অর্থ থাকলে হজ্ব ফরয হয়?

প্রশ্ন (১২৭০৫) : জনৈক ব্যবসায়ী এই পরিমাণ সম্পদের মালিক যে, তা দ্বারা হজ্বের যাবতীয় খরচ ও হজ্ব থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারের খরচাদি আদায় করা সম্ভব। কিন্তু হজ্ব করলে তার ব্যবসার মূলধন থাকবে না। তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ এই ব্যবসা দ্বারাই হয়ে থাকে। এখন সে জানতে চাচ্ছে যে, এমতাবস্থায় তার উপর হজ্ব ফরয হবে কি?

মুযারাবা ব্যবসার ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের জন্য মূলধন থেকে খরচ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৭০৩) : আমি আমার বন্ধুর কাছ থেকে মুযারাবার ভিত্তিতে ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছি। তাকে ৩০% লভ্যাংশ দেওয়ার চুক্তি করে তা দিয়ে একটি লাইব্রেরী দিয়েছি। আর বর্তমানে এ ধরণের ব্যবসার প্রচার-প্রসার না হলে দেখা যাবে ভালো ব্যবসা হবে না। তাই ব্যবসার স্বার্থেই প্রাথমিকভাবে এর পরিচিতির জন্য প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনে কিছু টাকা খরচ হয়েছে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ টাকাগুলো যেহেতু ব্যবসার স্বার্থেই খরচ হয়েছে তা ব্যবসার ব্যয় ধরে ব্যবসা থেকে নিতে পারব কি না?

আমানতের টাকা অনুমতি নিয়ে ব্যবসায় খরচ করে যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে কি উক্ত টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৬৭২) : আমার মামা বিদেশ থাকেন। তিনি টাকা-পয়সা আমার ব্যাংক একাউন্টে পাঠান। তিনি এ টাকা আমার একাউন্টে আমানত হিসাবে রাখেন। ঐ টাকা আমার একাউন্টে দীর্ঘদিন থেকে যায়। ফলে আমি মামার অনুমতি নিয়ে ঐ টাকা থেকে দুই লক্ষ টাকা আমার ব্যবসায় খরচ করি। এতে আমার কিছু লাভ হয়। কিন্তু প্রায় দুই মাস আগে আমার ব্যবসায় বিপুল পরিমাণে লস হলে মূলধনেরও অনেক ক্ষতি হয়। যার ফলে অনেকদিন ব্যবসা বন্ধ থাকে। এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার মামা যেহেতু ঐ টাকা আমার একাউন্টে আমানত হিসাবে রেখেছেন এবং আমি তার অনুমতি নিয়েই তা ব্যবসায় খরচ করেছি। আমাকে কি ঐ টাকা মামাকে ফিরিয়ে দিতে হবে? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

বছরের মাঝে নতুন সম্পদ যুক্ত হলে তার জন্য নতুন করে বছর গণনা করতে হবে নাকি পূর্বের নেসাবের সাথে যুক্ত…

প্রশ্ন (১২৬৬২) : আমার পিতা একজন ব্যবসায়ী। প্রতি বছর তার যাকাতবর্ষ পূর্ণ হয় শাওয়ালের ৫ তারিখ। আর সে মাসেই তিনি যাকাত আদায় করে দেন। এ বছর রমযানে তার ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য টাকা লাভ হয়েছে । তিনি বলেছেন, এ বছর রমযানে যে টাকা লাভ হয়েছে তার যাকাত আগামী রমযানে আদায় করব। আমি আব্বুকে বললাম, নিয়ম তো এ বছরই সব টাকার যাকাত আদায় করে দেওয়া। তিনি বলেন, রমযানের টাকার উপর তো বছর অতিবাহিত হয়নি, তাহলে তার উপর কেন যাকাত আসবে? এখন হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আমার আব্বুর রমযানে যে টাকা অর্জিত হয়েছে, সেগুলোর যাকাত কি এ বছরই শাওয়ালে অন্যান্য সম্পদের সাথে আদায় করতে হবে? নাকি আগামী রমযানে যখন তার উপর বছর অতিবাহিত হবে? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

স্বামী ধনী হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রীর ভরণ-পোষণ আদায় না করলে উক্ত স্ত্রীকে যাকাত দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬২৮) : আমার প্রতিবেশী একজন ধনী ব্যবসায়ী। কিন্তু তিনি তার পরিবারের প্রতি উদাসীন। এমনকি ঠিকমত তাদের খরচও দেন না। মাঝে মাঝেই স্ত্রীকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। আমার জানামতে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বেশ কষ্টে দিন কাটান। আমার প্রশ্ন হল, আমি কি ঐ ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে যাকাত দিতে পারব? দিলে কি আমার যাকাত আদায় হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

ব্যবসার পশু-পাখির জন্য ক্রয়কৃত খাবারের উপর কি যাকাত আসবে?

প্রশ্ন (১২৬১৯) : আমার একটি পোল্ট্রি ফার্ম আছে। প্রতি মাসে প্রায় লাখ টাকার খাদ্যের প্রয়োজন হয়। আমি একসাথে পুরো মাসের খাদ্য ক্রয় করে রাখি। কিছুদিন আগে আমার যাকাতবর্ষ পূর্ণ হয় এবং যাকাত আদায় করি। কিন্তু ক্রয়কৃত খাদ্যের যাকাত আদায় করিনি। এক ভাই বললেন, আপনি যেহেতু ব্যবসার পণ্য উৎপাদনের জন্য এ খাবারগুলো ক্রয় করেছেন তাই আপনাকে এ খাদ্যের যাকাত আদায় করতে হবে। জানার বিষয় হল, তার কথা কি ঠিক? আমার কি এ খাদ্যের যাকাত আদায় করতে হবে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

যাকাতযোগ্য ব্যবসায়িক পণ্য পুড়ে গেলে কি উক্ত পণ্যের যাকাত আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২৫৯৯) : গত মাসে আমার দোকানের ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার কিছুদিন পর দুর্ঘটনাক্রমে দোকানে আগুন লেগে অনেক মাল পুড়ে যায়। আর কিছু মাল বাকি থাকে। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হল- এরূপ অবস্থায় আমাকে কি পুরো মালের যাকাত দিতে হবে?

সমিতির টাকা লটারীর মাধ্যমে ভাগ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫৬৬) : আমি একজন ব্যবসায়ী, আমার একটি সমিতি আছে। আমার সমিতির ৫০ জন সদস্য আছে। প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে আমি প্রতি সপ্তাহে দুই কিস্তিতে ১০০০ টাকা নেই। (যার ফলে প্রতি সপ্তাহে আমার কাছে ৫০,০০০/- টাকা জমা হয়) এবং প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৫০ সদস্যের নাম লটারী করি, যার নাম লটারীতে ওঠে তাকে একসাথে ৫০,০০০/-টাকা দিয়ে দিই। তার পরের সপ্তাহে যে ব্যক্তি টাকা পেয়েছে তার নাম বাদ দিয়ে বাকি ৪৯ জনের নাম লটারী করি। যার নাম লটারীতে ওঠে তাকে ৫০,০০/- টাকা দিয়ে দিই। এইভাবে ৫০ সপ্তাহে ৫০ জনই আগে বা পরে ৫০,০০০/- টাকা পেতে থাকে এবং যারা টাকা পেয়েছে তারাও ৫০ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে এক হাজার করে টাকা দিতে থাকে। এই সমিতি করার উদ্দেশ্য হল, যারা ছোট ব্যবসায়ী তারা একসাথে ৫০,০০০/- টাকা পেয়ে যাতে ব্যবসায় উন্নতি করতে পারে। উল্লেখ্য, তাদের টাকা আমার কাছে তিন-চার দিন থাকে, তখন আমি ঐ টাকা দ্বারা ব্যবসা করি এবং সকল সদস্য আমার ব্যবসা করার বিষয়টি জানে এবং এ ব্যাপারে তারা আমাকে কিছু বলে না। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার সমিতির কার্যক্রম শরীয়তসম্মত কি না? শরীয়তসম্মত না হলে কী কারণে শরীয়তসম্মত না- অনুগ্রহ করে জানাবেন। ইনশাআল্লাহ, আমি সেই কারণ দূর করব।

বড় ভাই ওলি হিসেবে অনুমতি দেওয়ার পর ছোট ভাই আপত্তি করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৫১) : আমরা দুই ভাই এক বোন। আমার বাবা নেই। উভয়েই কাপড়ের ব্যবসা করেন। আমি ইন্টার পাশ করার পর তারা আমার বিবাহের জন্য একটি ছেলেকে পছন্দ করেন। ছেলেটি দ্বীনদার না হওয়াতে আমি রাযি হইনি। এরপর আমার মামা (যার মাধ্যমে আমি দ্বীনের বুঝ পেয়েছি) আমার জন্য একটি দ্বীনদার পাত্র ঠিক করেন, যার অর্থনৈতিক অবস্থা আমাদের থেকে কিছুটা দুর্বল। আমার বড় ভাইয়ের সম্মতিতে তার সাথে মহরে মিছিলে আমার বিবাহ হয়। এসময় আমার ছোট ভাই ব্যবসার কাজে ইন্ডিয়াতে ছিলেন। আকদের দুই দিন পরে ইন্ডিয়া থেকে আসেন এবং বলেন আমি এই বিয়েতে রাযি নই। কারণ তারা আমাদের থেকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। এ বিষয়ে তিনি অনেক কঠোরতা করেছেন। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, ছোট ভাইয়ের সম্মতি ছাড়া অর্থনৈতিক দিক থেকে গাইরে কুফুর মধ্যে বিবাহ হওয়ার দ্বারা কি আমাদের বিবাহ সহিহ হয়েছে? শরয়ীভাবে আমার ছোট ভাই কি আমাদের বিবাহ ভেঙ্গে দেয়ার অধিকার রাখে?

মুদারাবা ব্যবসা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৩৭) : আমি আমাদের এলাকার ‘উদয়ন সমবায় সমিতির’ একজন সদস্য। আমাদের সমিতিতে বেশ কিছু টাকা জমা হলে কোষাধ্যক্ষ সাহেবকে মুযারাবার ভিত্তিতে ব্যবসার জন্য ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। তিনি প্রথমে আগ্রহ দেখালেও পরে ঝামেলা হবে ভেবে রাজি হচ্ছিলেন না। তাই সমিতির সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, তিনি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করবেন, ব্যবসার উপকারার্থে যে কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নিবেন- এতে কারো আপত্তি থাকবে না। তিনি (একথা ভেবে যে, ব্যবসায় তার অভিজ্ঞতা নেই তাই লাভ না হতে পারে) তার এক আমানতদার বন্ধুকে সমিতির টাকা মুদারাবা চুক্তিতে দুই বছরের জন্য দিয়ে দেন। শতকরা হারে লাভের ৩০% সে পাবে ৭০% সমিতি পাবে। এক্ষেত্রে বিষয়টি তিনি দু-একজনের সাথে মৌখিকভাবে আলোচনা করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সকলের থেকে অনুমতি নেননি। ঘটনাটি জানাজানি হলে অনেক সদস্য এতে অসন্তুষ্ট হন। তারা টাকা ফিরিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে অনেক ঝামেলা হচ্ছে। সভাপতি চাচ্ছেন কোনোভাবে চলতি বছর শেষ করতে। কিন্তু অন্যান্যরা এখনই টাকা ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছেন। হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, নিজে ব্যবসা না করে এভাবে অন্যের সাথে চুক্তি করা কি জায়েয হয়েছে? সদস্যদের অভিযোগের কারণে এখনই তিনি চুক্তি ভঙ্গ করতে বাধ্য কি না? এক্ষেত্রে এক বছর শেষ করার দাবি কি শরীয়তসম্মত? এ সময় ব্যবসায় কোনো লোকসান হলে এর দায়ভার কে নিবে?

ডিও ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫২৮) : আমার আলআরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও এনআরসি ব্যাংকে সেভিং একাউন্টে কিছু টাকা জমা আছে। এই টাকা দিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, টি কে গ্রুপসহ অন্যান্য কোম্পানির নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী যেমন, আটা, ময়দা, চিনি, তৈল, ডালডা, ভুসি ইত্যাদি পণ্য দাম যখন কম থাকে তখন পণ্যগুলো কোম্পানি থেকে ক্রয় করা হয়। পণ্যের মূল্য তাদের ব্যাংক একাউন্টে নগদ জমা করা হয়। তারা পণ্য প্রদানের একটি তারিখ দিয়ে শুধু পণ্যের স্লিপ দিয়ে দেয়। এই স্লিপটিকে ব্যবসার ভাষায় ডিও বলা হয়। ডিও কিনে তাতে উল্লেখিত পণ্যসামগ্রী সংশ্লিষ্ট কোম্পানির গোডাউনে মজুদ রাখা হয়। কোনো পণ্যসামগ্রী আমি স্ব-চোখে দেখিও না এবং আমার গোডাউনেও আনি না, কেবলমাত্র কোম্পানীর দায়িত্বশীল প্রতিনিধির সাথে সরাসরি বা মোবাইলে কথা বলে পণ্যসামগ্রী কিনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিলে কোম্পানি আমাকে ঐ ডিও লেটার দিয়ে দেয়, পরবর্তীতে উল্লেখিত পণ্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি হলে, উক্ত ডিও লেটার কাগজটি অন্য আরেকজন ব্যবসায়ীর কাছে কিছু লাভ করে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এই ধরনের ব্যবসা করা জায়েয কি না? এই ব্যবসা করা যাবে কি না? জানালে খুবই উপকৃত হব।

ব্যবসার সম্পদের উপর যাকাত আবশ্যক হবে কি?

প্রশ্ন (১২৫২৭) : আমাদের গ্রামে আমার চাচা গরু ক্রয়-বিক্রয় করেন। তাকে সবাই গরু বেপারী বলে চেনে। তার লেনদেনের পদ্ধতি হল, তিনি একটা গরু ক্রয় করে ১০-১৫ দিন বাড়িতে রেখে বিক্রি করে দেন। আবার কখনো ১ মাস বা দেড় মাসের মত রেখে বিক্রি করে দেন। হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এটার কারণে তার উপর যাকাত আসবে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

লটারীর টাকা কি হালাল?

প্রশ্ন (১২৫২০) : মাহবুব আমার ছোট ভাই। সে আমেরিকা থাকে। তার উপার্জিত টাকা আমার কাছেই পাঠিয়ে থাকে। আমি সে টাকা দিয়ে ব্যবসা করি এবং পরিবারের ভরণপোষণ করি। মাহবুব একবার লটারীতে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পায়। লটারীর এসব টাকা সে আমার নিকট পাঠিয়ে দিলে আমি সে টাকা থেকে কিছু ব্যবসায় বিনিয়োগ করি আর কিছু জমি ক্রয় করি এবং নিজেও কিছু খরচ করি। আমি এক আলেমকে জিজ্ঞেস করে জেনেছিলাম যে, কাফের মুলুকে পাওয়া লটারীর টাকা বৈধ, এতে সুদ নেই। তবে তা শুধু মাহবুবের জন্য জায়েয। কিন্তু এখন সঠিক মাসআলা জেনেছি যে, মূলত ওই টাকা মাহবুবের জন্যও নাজায়েয। কিন্তু এর মধ্যে আমি লটারীর টাকা ও পূর্বে পাঠানো টাকা দিয়ে বেশ মোটা অংকের টাকা ব্যয়ে একটি জমি ও দোকান ক্রয় করি। দ্বিতীয়ত সংসারের ভরণপোষণও এ টাকা থেকেই করেছি। তৃতীয়ত যাকাত, সাধারণ দান-খায়রাতও এ টাকা থেকেই দিয়েছি। এ অবস্থায় কী পন্থা অবলম্বন করলে উক্ত টাকা ও সম্পদ বৈধ হবে? আর এ টাকা থেকে দেওয়া যাকাত ও দান-খায়রাতের কী বিধান? উল্লেখ্য, আমাদের এক বিধবা খালা ও খালাতো ভাই-বোন আছে। এখন তাদেরকে কি পুরো টাকা দিয়ে দেওয়া যাবে? কেননা একে তো তারা গরিব আবার এক খালাতো বোন বিয়ের উপযুক্ত। টাকাটা দিলে তাদের অনেক উপকার হবে।

অস্থায়ী নামায ঘর গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫১৫) : আমাদের বাজারের মসজিদের সাথে লাগানো একটি পাটের গুদাম ছিল। গুদামের মালিক এই এলাকা থেকে তার ব্যবসা সরিয়ে নেয়ার সময় গুদামটি মসজিদের কল্যাণে ওয়াকফ করে যায়। এরপর মসজিদ কমিটি সেটিকে এক গম ব্যবসায়ীর নিকট গোডাউন হিসেবে ভাড়া দেয়। জুমার দিন মুসল্লি বেশি হওয়া শুরু হলে মসজিদ কমিটি ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে গুদামটির দেয়াল ভেঙ্গে মসজিদের সাথে মিলিয়ে দেয়। এক থেকে দেড় বছর সেখানেও নামায হয়। এখন মসজিদের মূল জায়গাতেই তিন তলা ভবন করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হচ্ছে, এতদিন নামায পড়ার পর এখন ঐ জায়গাটি গুদাম বা দোকান হিসাবে ভাড়া দেওয়া যাবে কি না?

মান্নতের টাকা মসজিদে দান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০৩) : আমি এক ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগের পর লস হওয়ার আশংকা দেখলে মান্নত করি যে, ‘যদি লাভ হয় তাহলে লাভের ১০% গরীবদের সদকা করব’। আল্লাহর রহমতে উক্ত ব্যবসায় ভালো লাভ হয়। এখন আমাদের মসজিদে নির্মাণ কাজ চলছে। আমি কি উক্ত টাকা এখানে দান করতে পারব?