ড. মুফতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী

সিজদায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার কারণে নামাযের শেষ বৈঠক ছুটে গেলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৮৭৫) : একদিন আমি ফজরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে সিজদায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। ইমাম সাহেবের সালামের শব্দ শুনে ঘুম ভাঙে। তখন সাথে সাথে সিজদা থেকে উঠে বসে সালাম ফিরাই। আমি জানতে চাই, আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে?

পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কবর খননের কাজ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮৭৪) : আমাদের গ্রামে একজন প্রসিদ্ধ কবর খননকারী আছে। নির্ধারিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সে কবর খুঁড়ে থাকে। প্রয়োজন হলে আশপাশের গ্রাম থেকেও তার ডাক আসে। প্রশ্ন হল, তার জন্য এভাবে পারিশ্রমিক নিয়ে কবর খনন করা এবং তাকে দিয়ে টাকার বিনিময়ে কবর খনন করানো কি জায়েয হবে?

মহিলাদের জন্য ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা পা-মোজা পরিধান করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮৭৩) : আমি এক তালীমে শুনেছি যে, মহিলাদের জন্য ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা পরতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য হাতমোজা, পা-মোজা পরা জায়েয আছে কি? দলীল-প্রমাণসহ জানালে উপকৃত হব।

ফজর ও আসরের নামাযের পর ইমাম সাহেবের মুসল্লিদের দিকে ফিরে বসার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৮৭২) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। সাধারণত ফজর ও আসর নামাযের পর মুসল্লিদের দিকে ফিরে বসি। কিন্তু এই ব্যপারে আমার কোনো জ্ঞান নেই। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আসলে বিষয়টি কতটুকু শরীয়তসম্মত? যদি বিষয়টি শরীয়তসম্মত হয় তাহলে জানার বিষয় হল, পুরোপুরি মুসল্লিদের দিকে ফিরে বসতে হবে, নাকি ডান বা বাম দিকে ফিরে বসলেও চলবে?

সূর্যোদয়ের সময় নামায পড়লে কি উক্ত নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৯) : আমরা জানি, সূর্যোদয়ের সময় ১০-১৫ মিনিট নামায পড়া যায় না। তা সত্ত্বেও যদি কেউ এ সময় ফজরের নামায পড়ে ফেলে তাহলে কি এর দ্বারা তার ফরয আদায় হয়ে যাবে? নাকি পরে আবার পড়তে হবে? অনুরূপ যদি সূর্যোদয়ের পূর্বে নামায শুরু করার পর নামাযরত অবস্থায় সূর্যোদয় হয়ে যায় তাহলে এ নামাযের হুকুম কী?

কুরআনের আয়াত ও হাদিস লিখিত ওয়ালমেট, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি ব্যবহারের বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৮৬৮) : বাড়ি-ঘর, মসজিদ-মাদরাসার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কুরআনের আয়াত ও হাদিস লিখিত ওয়ালমেট, ক্যালেন্ডার, শোপিছ ও বিভিন্ন আসবাবপত্র আমরা ব্যবহার করে থাকি। এগুলোর কোনোটির মধ্যে সরাসরি আরবী লেখা থাকে, কোনোটির মধ্যে তরজমা, কোনোটির মধ্যে কেলিওগ্রাফির মাধ্যমে আয়াত বা হাদিস লেখা থাকে। আমার প্রশ্ন হল, এগুলো ব্যবহার কি জায়েয, না নাজায়েয? এগুলোর হুকুম কী? এ ধরনের ক্যালেন্ডার দিয়ে দরসি গায়রে দরসি কিতাব বাঁধাই করা, পড়ার টেবিলে বিছিয়ে ব্যবহার করা এবং বিভিন্ন স্থানে সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে লাগানোর হুকুম কী?

কোনো প্রতিষ্ঠান সুদী ব্যাংক থেকে লোন গ্রহণ করলে উক্ত প্রতিষ্ঠারে চাকরি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮৬৭) : আমি একজন আলেমের কাছে জানতে পেরেছি যে, ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা হারাম। ছেলে ব্যাংকে চাকরি করে। তাই তার উপার্জন দ্বারা মা-বাবা হজ্ব করতে পারবেন না। এই উত্তর থেকে আমার মনে সংশয় এসেছে যে- ১. বিভিন্ন বিধর্মী বিদেশী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানী করে থাকে। তারা সুদকে হারাম মনে করে না। ব্যাংক থেকে সুদী লোন নিয়ে থাকে এবং ব্যাংক থেকে সুদ দেওয়া হলে তাও গ্রহণ করে। আমি উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসাবে বাংলাদেশে তাদের অফিসে কাজ পরিচালনা করে থাকি। এক্ষেত্রে আমার কাজ পোষাকশিল্প নিয়েই। প্রস্তুত করা থেকে নিয়ে শিপমেন্ট পর্যন্ত সকল কাজের পরিচালনা আমার দায়িত্বে। তো এ বাবদ তারা যে বিনিময় প্রদান করে থাকে তা গ্রহণ করা হালাল না হারাম? ২. আমার এক দ্বীনী ভাইয়েরও প্রশ্ন হল, উপরোক্ত কোম্পানী ও এধরনের প্রতিষ্ঠানের আমদানীকৃত পণ্য সে এদেশ থেকে বিদেশে পরিবহন করে থাকে। এ বাবদ তাদের থেকে প্রাপ্ত টাকা হালাল না হারাম। তার পরিবহন সংক্রান্ত কার্যাদিও বৈধ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তার পরিবহন খরচ পরিশোধ করছে তো উক্ত ইহুদী-খ্রিস্টানদের কোম্পানী, যারা সুদী লোন নেয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে সুদ গ্রহণও করে। এ কারণে আমাদের বেতন ও পারিশ্রমিক অবৈধ গণ্য হবে কি না?

একাকী ফরয নামায আদায় করার সময় কি কেরাত জোরে পাঠ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৬) : আমার বাবা ঘরে একাকী ফরয নামায পড়ার সময় যোহর আসরসহ সকল নামাযে স্বশব্দে ইকামত দেন ও স্বশব্দে কেরাত পড়েন। যেসকল নামাযে ইমাম সাহেব নিম্নস্বরে কেরাত পড়ে থাকেন ঐসকল নামাযেও জোরে পড়েন। এসব নামাযেও তার জন্য উচ্চস্বরে কিরাত পড়া কি ঠিক হচ্ছে? আর ঠিক না হলে তার আদায়কৃত নামাযগুলোর বিধান কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

রুকু-সিজদায় যাওয়ার পর পিছনের সতর খুলে গেলে কি নামায নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৫) : অনেক সময় মসজিদে কিছু মুসল্লী ভাইকে দেখা যায় তারা এমন খাটো শার্ট, প্যান্ট ইত্যাদি পরে নামায পড়তে আসে যে, রুকু-সিজদায় গেলে পিছনের সতর খুলে যায়। এতে অনেক সময় তার পিছনের মুসল্লীদের বিব্রত হতে হয়। এখন আমি জানতে চাই, এমন কাপড় পরিধান করে নামায পড়ার কী হুকুম? এতে পিছনের মুসল্লীদের নামাযের কোনো সমস্যা হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কারো মৃত্যুর সংবাদ উচ্চস্বরে প্রচার করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৮৬৪) : জনৈক আলেম তিরমিযী শরিফে বর্ণিত- إِيّاكُمْ وَالنّعْيَ، فَإِنّ النّعْيَ مِنْ عَمَلِ الجَاهِلِيّةِ.‘মৃত্যু-সংবাদ উচ্চস্বরে প্রচার থেকে বিরত থাক’- হাদিসটিসহ অনেক সাহাবী তাদের মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করতে নিষেধ করেছেন মর্মের হাদিসগুলো দিয়ে মৃত্যু সংবাদ উচ্চস্বরে বা মাইকে প্রচার করতে নিষেধ করেন। আর বুখারিতে বর্ণিত বাদশাহ নাজাশীর মৃত্যুর খবর নবীজী দিয়েছিলেন- হাদিসটি তিনি সাধারণভাবে ফোনে বা মৌখিকভাবে আত্মীয়-স্বজনকে জানানোর উপর প্রয়োগ করেন। সত্যি কি মৃত্যু-সংবাদ উচ্চস্বরে বলা বা মাইকিং করা নিষেধ? তিরমিযীতে বর্ণিত হাদিস এবং সাহাবীদের নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত আছার দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

ফরয হজ্বের সাথে মান্নতের হজ্বের নিয়ত করা যাকে কি?

প্রশ্ন (১২৮৬৩) : আমি অনেক দিন যাবৎ মারাত্মক অসুস্থতায় ভুগছি। অসুস্থতার এক পর্যায়ে আমার মা একটি মান্নত করেছে যে, আল্লাহ যদি আমার ছেলেকে সুস্থ করে দেন তাহলে আমি একটি হজ্ব করব। আল্লাহ তাআলার মেহেরবানীতে এখন আমি সুস্থ। আবার আমার মায়ের উপরও হজ্ব ফরয। কিন্তু এখনো তা আদায় করার সুযোগ হয়নি। এখন তিনি জানতে চাচ্ছেন যে, তার কয়টি হজ্ব আদায় করতে হবে। একটি হজ্ব আদায় করলে উভয়টির ক্ষেত্রে (ফরয ও মান্নত) যথেষ্ট হবে কি না? জানালে খুব উপকৃত হব।

স্বামীর একাধিক বাড়ি থাকলে স্ত্রী কোন বাড়িতে ইদ্দত পালন করবে?

প্রশ্ন (১২৮৬২) : আমার স্বামীর গ্রামের বাড়ি খুলনায়। ঢাকাতেও তার নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। তার কর্মস্থান ঢাকায় ছিল বিধায় আমরা ঢাকাস্থ বাড়িতেই বসবাস করি। গত কয়েকদিন আগে আমার স্বামী তার ঢাকাস্থ বাড়িতে হার্ট এ্যাটাক করেন। হসপিটালে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন তাকে খুলনায় গ্রামের বাড়িতে কবরস্থ করা হয়। এ অবস্থায় এখন আমি কি খুলনায় এসে ইদ্দত পালন করতে পারব? না ঢাকাতেই ইদ্দত পালন করতে হবে? অথবা যদি কিছুদিন ঢাকায় আর কিছুদিন খুলনায় ইদ্দত পালন করি তাহলে কি কোনো অসুবিধা আছে? দয়া করে জানাবেন।

কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৮৬১) : আমাদের মসজিদের ধারণ ক্ষমতা খুব কম। জুমার দিন মসজিদে মুসল্লিদের জায়গা হয় না। তাই মসজিদ কমিটি মসজিদেরই ওয়াকফকৃত জমিতে মসজিদ সম্প্রসারণ করতে চাচ্ছে। উক্ত জমিতে তিনটি কবর রয়েছে। কবরগুলো ৮-১০ বছর বা এর চেয়েও বেশি পুরাতন। কবরওয়ালাদের পরিবার মসজিদ সম্প্রসারণের কথা শুনে তারা কবর থেকে মাটি ও হাড্ডি উঠিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে দাফন করেছে। এখন কেউ কেউ বলছে, কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করে সেখানে নামায পড়া শিরক। জানার বিষয় হল, উক্ত কবরের জায়গায় মসজিদ সম্প্রসারণ করা যাবে কি না? তাদের এ কথাটি কতটুকু সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

জমি ওয়াকফ করার পর জমিতে থাকা গাছের মালিক কে হবে?

প্রশ্ন (১২৮৬০) : আমাদের গ্রামে একটি মাদরাসা আছে। আমার বাবা কয়েক বছর আগে উক্ত মাদরাসায় একটি জমি ওয়াকফ করেছেন। সে জমিতে অনেকগুলো গাছ আছে। বাবার ইন্তেকালের পর আমরা বিভিন্ন সময় কাঠের প্রয়োজনে গাছ কেটে ব্যবহার করেছি। কারণ বাবা এ ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলে যাননি। এখন সেখানে একটি মাদরাসা হবে। তারা মাদরাসার নির্মাণকাজে গাছগুলো ব্যবহার করতে চাচ্ছে। হুজুরের কাছে জানতে চাই, উক্ত গাছগুলোর প্রকৃত হকদার কে? যদি এর হকদার মাদরাসা হয় তাহলে এ পর্যন্ত যে গাছগুলো কেটে ব্যবহার করেছি সেগুলোর মূল্য কীভাবে পরিশোধ করব? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সরকারী অনুমোদন ছাড়া সরকারী গ্যাস ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৮৫৯) : কয়েক বছর আগে সরকারি অনুমোদন ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় মাতব্বরদের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। তখন আমাদের পরিবারেও গ্যাস সংযোগ নিয়ে গ্যাস ব্যবহার করা হয় এবং এর জন্য সরকারকে কোনো বিল দেওয়া হয়নি। কোনো কোনো লোকের কাছে শুনেছি, এভাবে গ্যাস ব্যবহার বৈধ হয়নি। আমার প্রশ্ন হল, যদি বৈধ না হয় তাহলে গ্যাস ব্যবহার করার কারণে কি এর ন্যায্য বিল সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে? যদি পৌঁছে দিতে হয় তাহলে কীভাবে এবং কোথায় পৌঁছে দিব?

বন্ধকী জমি ঋণগ্রহিতার নিকট ভাড়া দিয়ে তার থেকে ধান নেওয়ার শর্ত করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮৫৮) : এক ব্যক্তি কারো থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা নেন সাত কাঠা জমি বন্ধক রেখে। এরপর বন্ধকগ্রহিতা পুনরায় উক্ত জমি ঋণগ্রহিতার নিকট ফেরত দেন এই শর্তে যে, উক্ত জমি থেকে প্রতি বছর আমাকে পনের মন ধান দিতে হবে। উল্লেখ্য, ঋণগ্রহিতা উক্ত জমিতে ধান চাষ নাও করতে পারেন। তবুও তাকে পনের মন ধান অথবা তার মূল্য দিতে হবে। প্রশ্নোক্ত পদ্ধতি কি জায়েয আছে?

ইচ্ছাকৃত অবহেলা করে আমানতের জিনিস হারিয়ে ফেললে কি তার জরিমানা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৮৫৭) : লঞ্চ টার্মিনালে আমার পরিচিত একজন লোক আছে। আমি তার কাছে এক শত টাকা দিয়ে বলেছি, ব্যাগটা এক ঘন্টার জন্য তোমার কাছে রেখে গেলাম। এক ঘণ্টা পর আমি আসছি। সে বলল, ঠিক আছে। এক ঘণ্টার আগেই আমি ফিরে এসেছি। এসে আমার ব্যাগটি আমি পাচ্ছি না। পরে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম যে, সে অন্য একজনের কাছে ব্যাগটি দিয়ে তার কোনো কাজে লঞ্চে গিয়েছে। কিন্তু যার কাছে দিয়ে গেছে সে তখনই বলেছে, মালগুলো সে রাখতে পারবে না। ব্যাগের ভেতর প্রায় পাঁচ হাজার টাকার জিনিস-পত্র ছিল। এখন হযরতের কাছে জানতে চাই, এগুলোর ক্ষতিপূরণ কি আমি তাদের থেকে নিতে পারব? নিতে পারলে কার কাছ থেকে নিব? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মোবাইল বা আই-প্যাডের স্ক্রিনে লেখা কুরআন অযু ব্যতীত স্পর্শ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৮৫৬) : কুরআন মাজীদের কোনো সূরা বা আয়াত মোবাইল সেট বা আই-প্যাডের স্ক্রিনে লেখা থাকলে তা অযু ব্যতীত স্পর্শ করা যাবে কি?