ব্যবসা-বাণিজ্য

কাস্টমারের কাছে থাকা বাকি টাকার কি যাকাত দিতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৮৯৪) : আমার ছোটখাটো একটি ব্যবসা আছে। আমার দোকানেপ্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার পণ্য আছে । আমি সবসময় নগদ বিক্রি করার চেষ্টা করি। কিন্তু ব্যবসার খাতিরে অনেক সময় বাকি দিতে হয়। এভাবে মানুষের কাছে আমার প্রায় সত্তর-আশি হাজার টাকা বাকি আছে। আমার প্রশ্ন হল, যাকাতবর্ষ শেষ হলে ঐ বাকি টাকারও কি যাকাত দিতে হবে?

সরিষা তেলের সাথে অন্য তেল মিক্স করে বিক্রি করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৮৭১) : আমার সরিষার তেলের একটা ফ্যাক্টরী আছে। পাশে আরো কয়েকটি ফ্যাক্টরী আছে। তারা সরিষার তেলের সাথে পামঅয়েল, সয়াবিন ও রাইজ ব্রান্ড তেল মিক্স করে এবং কম দামে বিক্রি করে। কিন্তু আমি যেহেতু এগুলো মিক্স করি না। তাই দামও কম রাখতে পারি না। ফলে আমার ফ্যাক্টরী বন্ধের দিকে চলে যাচ্ছে। গত জানুয়ারি মাসে আমার প্রায় সাতাইশ লক্ষ টাকা লোকসান হয়েছে। আমি আশঙ্কা করছি, এই মাসে আমাদের এই ফ্যাক্টরীতে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকা লোকসান হবে। এখন কাছে জানার বিষয় হল, আমি সরিষার তেলের সাথে পামঅয়েল, সোয়াবিন ও রাইজ ব্রান্ড তেল মিক্স করে কম দামে বিক্রি করতে পারব কি?

নির্দিষ্ট মুনাফা দেওয়ার শর্তে মুদারাবা চুক্তি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৮৬৭) : আমি দেশের বাইরে থাকি। আমার চাচা ধানের ব্যবসা করে। আমি চাচার কাছে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এক লক্ষ টাকা দিয়েছি। আমাদের মাঝে এভাবে ‍চু্ক্তি হয়েছে যে, চাচা আমাকে লাভ হিসেবে প্রতি বছর বিশ হাজার টাকা করে দিবে। এখন জানার বিষয় হল, আমাদের এই চুক্তি কি জায়েয হয়েছে, নাকি এটা সুদ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

গোবর বেচাকেনা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৮৬৩) : গোবর একটি নাপাক বস্তু। কিন্তু আমাদের এলাকার লোকেরা গোবর জমা করে তা বিক্রি করে। হুজুরের কাছে জানতে চাই, এভাবে নাপাক বস্তুর বেচাকেনা জায়েয আছে কি?

আমানতের টাকা অনুমতি নিয়ে ব্যবসা করে তাতে লস হলে কি উক্ত টাকা ফেরত দিতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৮৬১) : আমার ফুফাতো ভাই বিদেশ থাকে। সে আমার একাউন্টে তার টাকা পাঠায়। এবং সেগুলো আমার একাউন্টেই আমানত হিসেবে রেখে দেয়। ঐ টাকা আমার একাউন্টে দীর্ঘদিন থেকে যায়। তাই আমি তার অনুমতি নিয়ে ঐ টাকা দিয়ে ব্যবসা করি। এতে আমার ভালই লাভ হয়েছে। তবে কিছুদিন আগে আমার ব্যবসায় অনেক লস হয়। ফলে মূলধনের অনেক ক্ষতি হয়। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় কি আমাকে তার টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে?

যৌথ ব্যবসায় লোকসান হলে এর দায় কে বহন করবে?

প্রশ্ন (১৩৮০০) : আমরা ব্যবসার উদ্দেশ্যে পাঁচজন মিলে একটি সমিতি গঠন করি। আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে, উক্ত ব্যবসা থেকে যা লাভ হবে তার সবার মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হবে। তো সবাই মিলে উক্ত ব্যবসা দেখাশোনার দায়িত্ব আমাকেই দিয়েছে। তবে আমার জন্য কোনো পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয় নি। তো এক বছর আগে এক লোককে পনের হাজার টাকা অগ্রিম দেই এই চুক্তিতে যে, তিনমাস পর সে চাল দিবে। পরে ঐ লোক থেকে চাউল বা টাকা কোনোটা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এখন সংগঠনের বাকি সদস্যরা আমার কাছে এই টাকা দাবি করছে। জানার বিষয় হল, উক্ত টাকা সম্পর্কে শরীয়তে বিধান কী? এই টাকার দায় কি শুধু আমার উপরই আসবে?

মুদারাবা ব্যবসা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৭৯৬) : আমরা দশজন সাথী মিলে পাঁচ বছর আগে একটি সমিতি করেছিলাম। মাসে ১০০০/- টাকা করে জমা করে পাঁচ বছরে মোটামুটি একটি সঞ্চয় হয়েছে। এখন সবাই চাচ্ছে, এই টাকা দিয়ে একটি ব্যবসা করতে এবং সে দায়িত্বটা সবাই মিলে আমাকে দিয়েছে। কিন্তু এ টাকা দিয়ে ব্যবসা করার মতো সময় এখন আমার হাতে নেই। তাই আমি চাচ্ছি এই টাকা দিয়ে কারো সাথে মুদারাবা চুক্তি করতে এবং তাতে আমার জন্য যে লাভ ধার্য করা হবে সেটা সবাই মিলে ভাগ করে নিব। হুযুরের কাছে জানতে চাই, এভাবে কারবার করা আমার জন্য বৈধ হবে কি?

যাকাতের নেসাবের সাথে বছরের মাঝখানে টাকা যুক্ত হলে কি উক্ত টাকার যাকাত আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৭৬৬) : আমার একটি ব্যবসা আছে। গত বছর মার্চ মাস থেকে আমার যাকাত-বর্ষ শুরু হয়েছে। তখন ব্যবসার পণ্য-মূল্য ও নগদ টাকা মিলিয়ে আমার কাছে সর্বমোট চার লক্ষ টাকা ছিল। ধীরে ধীরে আামর ব্যবসায় উন্নতি হয়েছে। এখন যাকাত-বর্ষ পূর্ণ হওয়ার সময় ক্যাশ টাকা ও পণ্য মূল্য মিলিয়ে প্রায় আট লক্ষ টাকার সম্পদ আমার মালিকানায় আছে। জানার বিষয় হল, বছরের মাঝখানে আমার যে আয় হয়েছে সেগুলোর হিসাব কীভাবে করব?

মুদারাবা চুক্তিতে ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ কে বহণ করবে?

প্রশ্ন (১৩৬৩২) : আমি আমার চাচাতো ভাইয়ের সাথে এভাবে চুক্তি করি যে, আমরা একটি ব্যবসা করব। ব্যবসার পুঁজি আমি দিব। আর তুমি ব্যবসা পরিচালনা করবে। ব্যবসা থেকে যা লাভ হবে তা আমরা উভয়ে সমান সমান ভাগ করে নিব। সাথে এ চুক্তিও করি যে, যদি ব্যবসায় কোনো ক্ষতি হয় তাহলে সব ক্ষতিপূরণ তুমি বহণ বহন করবে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমাদের এ চুক্তি সহিহ হয়েছে কি? যদি সহিহ না হয় তাহলে আমরা চুক্তিটা কীভাবে করতে পারি? দয়া করে জানাবেন।

মুদারাবা ব্যবসায় লভ্যাংশ বণ্টন হবে কিভাবে?

প্রশ্ন (১৩৬১৩) : আমি আমার ভাইয়ের সাথে মুদারাবা পদ্ধতিতে ব্যবসার চুক্তি করি। আমাদের চুক্তি ছিল যে, ব্যবসার যাবতীয় পুঁজি তার থাকবে। আর আমি ব্যবসা পরিচালনা করব। লভ্যাংশ আমাদের মাঝে সমানহারে বণ্টিত হবে। কিছুদিন পর ব্যবসা বড় হতে শুরু করে। কিন্তু ভাইয়া পর্যাপ্ত মূলধন সরবরাহ করতে পারছিলেন না। তাই ভাইয়ার সাথে পরামর্শক্রমে আমি আমার কিছু টাকা ঐ ব্যবসায় খাটিয়েছি। এখন জানার বিষয় হলো, আমরা লভ্যাংশ বণ্টন কীভাবে করব?

লেনদেন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৬০২) : একজন ইমাম সাহেব আমাকে সাথে নিয়ে পাইকারী দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকার ফ্যান কিনে ইমাম সাহেবের নামেই ভাউচার করেন। অতপর ইমাম সাহেব ফ্যানগুলো নিজের আয়ত্তে দুই দিন রাখার পর ঐ ফ্যানগুলো ছয় মাসের বাকি মেয়াদে ৬০ হাজার টাকায় আমার কাছে বিক্রি করেন। জানার বিষয় হলো, উক্ত বেচাকেনাতে সুদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি? দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।

যাকাত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৫৮৬) : আমার বন্ধুর ছোট একটি দোকান আছে। দোকানে সবসময় ৭/৮ হাজার টাকার ব্যবসার মাল থাকে। তো সে কুরবানীর ঈদের পর নেসাবের মালিক হয়। ৬ মাস পর সে উক্ত টাকা দিয়ে বাড়ি বানানোর জন্য জমি ক্রয় করে। এতে তার সব টাকা খরচ হয়ে যায় এবং আরো ঋণ করতে হয়। এখনো সে পরিপূর্ণভাবে ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। এ অবস্থায় জানার বিষয় হল- ১. নগদ টাকা খরচ হয়ে যাওয়ার কারণে ঐ ব্যক্তির নেসাব বাকি আছে কি? ২. নেসাব বাকি থাকলে কি যাকাতবর্ষ শেষে অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে ঋণ পরিশোধের জন্য জমাকৃত টাকারও যাকাত, কুরবানী আদায় করতে হবে? এবং কুরবানীর দিনগুলোতে ব্যবসার মাল ছাড়া নগদ অর্থ কুরবানীর সর্বাপেক্ষা ছোট পশুর মূল্যের পরিমাণ না হলে কি ধার করে কুরবানী করতে হবে?

মুদারাবা চুক্তিতে লাভ বণ্টন ও লোকসানের ক্ষেত্রে একই হারে টাকা কেটে নেওয়ার চুক্তি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৭৩) : আমরা দুই বন্ধু মিলে দেড় লক্ষ করে মোট ৩ লক্ষ টাকা আমাদের অন্য এক বন্ধুকে দেই ব্যবসা করার জন্য। সে বিভিন্ন ধরণের পুরাতন পণ্য ক্রয় করে তা মেরামত করে আবার বিক্রি করে। সে আমাদেরকে অর্জিত লাভের ২৩% করে দেওয়ার আর লস হলে একই হারে কেটে নেওয়ার চুক্তি করে। এক বছর পর সে নিজেও তাতে ৫০,০০০/- টাকা বিনিয়োগ করে। এখন জানার বিষয় হল, আমাদের উপরোক্ত চুক্তিটি সহিহ আছে কি?

মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৫৪৬) : আমাদের দেশের কাগজ ও পয়সার যত ধরণের (প্রচলিত এবং অপ্রচলিত) মুদ্রা আছে সব মুদ্রা আমি সংগ্রহ করি। সে মুদ্রা যত টাকা মূল্যের আমি তার চেয়ে কম বা বেশি মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করি। জানতে চাচ্ছি, ইসলামের দৃষ্টিতে এর বিধান কী?

এক মসজিদের জন্য কালেকশন করা টাকা অন্য মসজিদের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৪৩) : আমাদের গ্রামের মসজিদে অযুখানা বানানোর জন্য আমি আমার কয়েকজন পরিচিত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা কালেকশন করি। মসজিদের অযুখানার কাজ শেষ হওয়ার পর আমার কাছে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা রয়ে গেছে। এখন জানতে চাচ্ছি, ঐ তিন হাজার টাকা আমি আমাদের গ্রামেরই অন্য মসজিদের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করতে পারব কি?

ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৪৬৯) : আমরা অনেক সময় দোকানে গিয়ে বলি, ‘ভাই, অমুক মালটা দেন।’ দোকানদার মাল দেওয়ার পর কখনো মূল্য জিজ্ঞাসা করে পরিশোধ করি। কখনো পরে দেওয়ার কথা বলে চলে আসি। আবার কখনো মূল্য জিজ্ঞাসা না করেই বলি যে, মূল্য পরবর্তীতে আমি দিয়ে যাব বা অমুকে দিয়ে যাবে। তো আমার জানার বিষয় হল, ভাই অমুক মালটা দেন- কথাটা আদেশসূচক হয়েছে। সুতরাং ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হবে কি? না হলে কীভাবে বলব? শেষে মূল্য জিজ্ঞাসা না করেই পরে দেওয়ার কথা বললে মূল্যটা অস্পষ্ট থেকে যায়। তাই এই বিক্রয় শুদ্ধ হবে কি?

অগ্রীম যাকাত দিলে কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৩৭) : আমার ছোট একটা ব্যবসা আছে। প্রতি রমযান মাস শুরু হওয়ার আগে আমি ব্যবসার বাৎসরিক হিসাব সম্পন্ন করে রমযানের শুরু থেকে যাকাত দেওয়া শুরু করে দেই। এ বছর ঈদের আগের দিন হিসাব শেষে দেখলাম, আমার যে পরিমাণ যাকাত ওয়াজিব হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি আদায় করা হয়েছে। আমি জানতে চাই, যাকাত হিসেবে অতিরিক্ত যে অংশ আমি আদায় করেছি তা কি আমি আগামী বছরের যাকাত হিসেবে গণ্য করতে পারব?

ধান ধার দেওয়ার পর তা পরিশোধের সময় মূল্য দিয়ে পরিশোধ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪০১) : আমার মুদির দোকানের ব্যবসা আছে। গত বছর আমি একজন ব্যবসায়ীকে দশ মন ধান করয দিয়েছিলাম। এ বছর তা আদায় করার কথা। এখন আমি চাচ্ছি, তার কাছ থেকে ধান না নিয়ে টাকা নিতে। জানার বিষয় হলো, টাকা নিলে কোন সময়ের মূল্য হিসেবে সে টাকা দিবে? গত বছরের, না বর্তমান বাজারের?

মুদারাবা চুক্তিতে ব্যবসা অব্যাহত রাখতে বিনিয়োগকারীকে বাধ্য করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৯৭) : এক বছর পূর্বে আমি আমার বন্ধুর কাছ থেকে দশ লক্ষ টাকা নিয়ে একটি কাপড়ের দোকান দিয়েছি। আমাদের মাঝে লভ্যাংশ সমান ভাগে ভাগ করে নেওয়ার ভিত্তিতে চুক্তি হয়েছিল। আর নতুন ব্যবসায় দোকান ভাড়া, ডেকোরেশন, ইত্যাদি খাতে প্রচুর খরচ হওয়ায় এক বছরে আমি তাকে কোনো লাভ দিতে পারিনি। এখন আমার বন্ধু ব্যবসা বাদ দিয়ে তার মূলধন ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছেন। আমি চাচ্ছি, ব্যবসাটা ধরে রাখতে। এখন যদি ব্যবসাটা বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে আমার এত দিনের শ্রম সম্পূর্ণ বৃথা যাবে। তাই জানার বিষয় হল, আমার বন্ধু যদি স্বেচ্ছায় ব্যবসাটা রাখতে না চায় তাহলে তাকে আমি বাধ্য করতে পারব কি?