সালাত বা নামাজ

মাজুর ব্যক্তির পিছনে তারাবীহের ইক্তিদা করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২১৮৭) : গত রমযানে তাবলীগের এক সফরে আমি ইন্ডিয়া ছিলাম। রোখের এক মসজিদে আমরা দেখলাম, একজন বৃদ্ধ হাফেজ হুইল চেয়ারে বসে তারাবীহ পড়াচ্ছেন। আর মুক্তাদীগণ সকলেই তার পিছনে দাঁড়িয়ে তারাবীহ পড়ছেন। এমন অবস্থার সম্মুখীন আমরা প্রথম হলাম। তাই কী করব- এ নিয়ে আমরা বেশ সংশয়ে ছিলাম। এবং শেষ পর্যন্ত আমরাও এলাকার ভাইদের মতই তার পিছনে তারাবীহ আদায় করি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে হুইল চেয়ারে বসে ইমামতি করা ও তার পিছনে ইক্তিদা করা কি জায়েয আছে? এবং আমাদের উক্ত দিনগুলির তারাবীহ কি সহিহ হয়েছে?

নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক বলতে ভুলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১৮৬) : আমি গত ঈদুল আযহার দিন আসরের নামাযে মাসবুক হই। ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর পর সবাই যখন তাকবীরে তাশরীক বলে তখন আমারও তাকবীরের কথা স্মরণ হয়। কিন্তু অবশিষ্ট নামায শেষ করে সালাম ফেরানোর পর তাকবীর বলতে ভুলে যাই। বাসায় যাওয়ার পর তাকবীরের কথা স্মরণ হলে তৎক্ষণাৎ একবার তাকবীর বলে নেই। জানার বিষয় হল, আমার ঐ ওয়াক্তের তাকবীর কি আদায় হয়েছে? না হয়ে থাকলে এখন করণীয় কী?

যানবাহনে নামাযরত অবস্থায় যানবাহন ঘুরে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১৮৫) : লঞ্চে করে লালমোহন থেকে ঢাকায় আসার পথে খালের মাঝে অতিরিক্ত বাঁক থাকায় আমরা আসরের নামায বিলম্ব করে সূর্য ডোবার আগ মুহূর্তে আরম্ভ করি। নামাযের মাঝে হঠাৎ লঞ্চটি ঘুরতে শুরু করে। তখন ইমাম সাহেবও ঘুরতে থাকেন। আর ইমাম সাহেবের দেখাদেখি মুসল্লিরাও ঘুরতে থাকে। আরো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ইমাম সাহেব ঘুরার সাথে সাথে ডান দিকে ঘেষে এক-দু পা করে হাঁটতেও থাকেন। বিষয়টি আমার কাছে অদ্ভুত লাগায় পাশের ভাইকে জিজ্ঞেস করলে সে এ বলে উত্তর দেয় যে, হয়ত কিবলা ঠিক রাখার জন্য সকলে ঘুরতে থাকে। অন্যথায় পূর্বদিকে ফিরে নামায আদায় করা হত। আর ইমাম সাহেব যদি তখন না হাটতেন তাহলে মুসল্লিদের পিছনে চলে যেতেন। তাই হয়ত তিনিও হেঁটেছেন। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত নামায আদায় হয়েছে কি?

নামাযের মধ্যে হাসলে কি নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২১৮৪) : কিছুদিন আগে এশার নামায পড়ার সময় কোনো কারণে খুব হাসি আসে। হাসি চেপে রাখতে গিয়ে হাল্কা একটু আওয়ায হয়। আমি মনে করছিলাম যে, আওয়াজটি শুধু আমি নিজেই শুনেছি কিন্তু পাশের ভাই বলে উঠলেন, যান ওযু করে আসেন, আমি আপনার হাসির আওয়াজ শুনেছি। তখন আমি ওযু করে পুনরায় নামায পড়ি। জানতে চাচ্ছি, এতটুকু হাসির কারণে ওযু করা ঠিক হয়েছে কি?

রাতে কুরবানী দিলে কি কোনো সমস্যা আছে?

প্রশ্ন (১২১৮১) : কুরবানীর সময় কসাই খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই আমরা কয়েকজন মিলে নাটোর থেকে ভালো একদল জাত কসাইয়ের ব্যবস্থা করে থাকি। গরু অনেক হওয়ায় প্রায় দেখা যায়, কারো কারো গরু রাতে জবাই দিতে হচ্ছে। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি, রাতে কুরবানী দিলে কি কোনো সমস্যা আছে?

সিজদারত অবস্থায় জমিন থেকে পা উঠে গেলে কি নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২১৭৮) : আজ যোহরের নামাযের পর এক মুরব্বী আমাকে ডেকে বললেন, সিজদায় তোমার পা জমিন থেকে উঠে যায়। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা দুই পা জমিন থেকে উঠে গেলে তো নামাযই হবে না। বিষয়টি আমার পুরোপুরি বুঝে আসেনি। কেননা এ বিষয়ে আমি ভিন্ন মন্তব্যও শুনেছি। সঠিক মাসআলা দলীলসহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব?

ঈদের নামাযের আগে কুরবানী করলে কি কুরবানী আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২১৭৭) : আমি চট্টগ্রামে থাকি। কোনো কারণে গত কুরবানীর ঈদটি ঢাকার একটি এতীমখানায় করতে হয়। মুসাফির থাকায় আমার উপর তো আর কুরবানী ওয়াজিব ছিল না। কিন্তু আমার স্ত্রী ও বড় মেয়ে ছাহেবে নেসাব হওয়ায় তাদের পক্ষ হতে কুরবানী আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি গরু ক্রয় করি এবং তাদের অনুমতিক্রমে গোশত এতীমখানায় দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা করি। ঈদের আগের রাতে শুনি যে, ফজরের আগেই একটি গরু জবাই করা হবে। কারণ অনেক ছাত্র আছে, যাদের কাছে খাবার পৌঁছানো সম্ভব নয় বিধায় আগেই তাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করতে হয় এবং তা পিকআপ ভ্যানে ছাত্রদের সাথে দিয়ে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ফজর নামাযের ২৫ মিনিট পূর্বে আমার গরুটি জবাই করা হয় এবং তা রান্না করে ছাত্রদের সাথে দিয়ে দেওয়া হয়। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, মুসাফির থাকা অবস্থায় ঈদের নামাযের আগে আমার গরুটি জবাই করা কি সহিহ হয়েছে এবং এর দ্বারা আমার স্ত্রী ও মেয়ের কুরবানী কি আদায় হয়েছে?

চার রাকাত সুন্নতের নিয়ত করে দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কি অবশিষ্ট দুই রাকাত কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৭৪) : দুই দিন আগে মসজিদে আছরের চার রাকআত সুন্নত পড়ছিলাম। তখন জামাত দাঁড়িয়ে গেলে দুই রাকাতের পর সালাম ফিরিয়ে জামাতে শরীক হয়ে যাই। প্রশ্ন হচ্ছে, এখন কি আমাকে অবশিষ্ট দুই রাকাত কাযা করত হবে? কেননা আমি তো চার রাকাতের নিয়তে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত পড়েছি?

নামায কাযা করার সময় কি ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৭৩) : আমি শৈশব থেকেই নামাযের প্রতি খুব যত্নবান ছিলাম। তাই কখনো কোনো কারণে নামায ছুটে গেলেও সাথে সাথে তা কাযা করে নিতাম। কিছুদিন হল, আমি এক কোম্পানিতে সেলসম্যান হিসাবে চাকরি শুরু করেছি। ডিউটিতে ব্যস্ত থাকায় মাঝেমাঝেই যোহর, আসর ও মাগরিব নামায কাযা হয়ে যায়। তবে আমি প্রতিদিন নিয়মিতই রাতে বাসায় এসে উক্ত নামাযগুলোর কাযা পড়ে নিই। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি যে, রাতে কাযা করার সময় আমাকে কি উক্ত নামাযগুলোর নির্ধারিত ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পড়তে হবে?

মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৭০) : আমাদের এলাকায় মসজিদে জুমার দিন বয়ানের পর দ্বিতীয় আযানের পূর্বমুহূর্তে মসজিদের মিম্বার থেকে মসজিদের দানকৃত পণ্যসমূহের নিলাম বিক্রি করা হয়। এভাবে মসজিদের ভেতর ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ কি না? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

বিতরের নামাযে দুআয়ে কুনূত উচ্চ স্বরে পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৬৯) : আমি নিউইয়র্ক থাকি। প্রতি রমযানে সাধারণত মসজিদে তারাবীহ পড়ানো হয়। এ রমযানে যে মসজিদে তারাবীহ পড়াচ্ছি, সেখানকার অধিকাংশ মুসল্লীই বিভিন্ন আরব দেশের নাগরিক। তারা ফিকহে হানাফীর অনুসারী নয়। তাদের আবদার হচ্ছে, বিতর নামাযে দুআয়ে কুনূতটা যেন উচ্চ স্বরে পড়া হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, হানাফী মাযহাবের কারো মতে কী দুআয়ে কুনূত উচ্চ স্বরে পড়ার সুযোগ আছে?

তারাবীহর নামাযে কুরআন দেখে পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৬৭) : আমি আমেরিকার একটি অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। সেখান পুরো দুইশ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র একটি মসজিদ। দূর-দূরান্ত থেকে লোক এখানে নামায পড়তে আসে। রমযান মাসে কোনো হাফেয না পাওয়াতে সূরা তারাবীহ পড়তে হয়। সেখানকার কিছু মুসল্লীর পীড়াপীড়ি, উৎসাহ প্রদান ও সাহস যোগানোর কারণে আমি এ বৎসর আল্লাহর উপর ভরসা করে কুরআন হেফজ করা শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ প্রায় আঠারো পারা মুখস্থ করা শেষ হয়েছে। আমার ইচ্ছা হল, এবারের রমযানে এ আঠারো পারা দিয়ে নামায পড়াব। কিন্তু কিছু লোক আমাকে অনুরোধ করছে, অবশিষ্ট বারো পারা কুরআন শরীফ যেন দেখে পড়ে নিই। যাতে খতম পূর্ণ হয়। প্রশ্ন হল, দেখে দেখে নামাযে এভাবে কুরআন পড়া জায়েয হবে কি না? বিশেষত এক্ষেত্রে হানাফী মাযহাবের মতামত কী?

নামায পড়া অবস্থায় মাথা থেকে টুপি খুলে পড়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১৬২) : নামায পড়া অবস্থায় বিভিন্ন কারণেই অনেকসময় মাথা থেকে টুপি খুলে পড়ে যায়। এক্ষেত্রে করণীয় কি? টুপি উঠিয়ে মাথায় পরে নিতে হবে, না মাথা খোলা অবস্থায়ই নামায পড়ব? সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি।

মাসবুক ব্যক্তির নামায।

প্রশ্ন (১২১৬১) : একদিন যোহরের নামাযে সময় আমি মাসবুক হই। যখন বাকি নামায আদায় করি তখন প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়তে ভুলে যাই। তবে অন্য একটি সূরা তিলাওয়াত করেছি। প্রশ্ন হল, এমন অবস্থায়ও কি আমার জন্য সাহু সিজদা করা আবশ্যক?

ডানে বা বামে মানুষের ছবি ঝুলানো থাকলে কি নামায মাকরুহ হবে?

প্রশ্ন (১২১৬০) : আমি ও আমার বড় ভাই মামার বাসায় যাই। সেখানে আমরা যেই রুমে নামায পড়ি তাতে আমাদের মরহুম নানা-নানীর ছবি ঝুলানো ছিল। ছবিটি বেশ বড় ছিল। নামাযের পর আমার সন্দেহ হয় যে, এ রুমে পড়া নামায আদায় হয়েছে কি না? বড় ভাইকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, নামায হয়ে গেছে। কেননা ছবিটি আমাদের সামনে ছিল না; বরং ডানপাশে ছিল। জানার বিষয় হল, তার কথাটা কি ঠিক? পাশে ছবি থাকা অবস্থায় নামায পড়লে কি নামাযে কোনো সমস্যা হবে না?

ঈদের নামাযের পূর্ব মুহূর্তে ওযু ছুটে গেলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১৪৮) : এবার ঈদের সময় ঈদগাহে অনেক মানুষ হয়েছিল। ইমাম সাহেবের বয়ানের পর নামায শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে আমার ওযু ভেঙে যায়। আমি ঈদগাহের মাঝখানে ছিলাম। তো মনে হল যে, এখন যদি ওযু করতে যাই তাহলে নামায হয়তো আর পাব না। তাই আমি নামাযের নিয়ত ছাড়া সবার সাথে এমনি রুকু সিজদা করি। প্রশ্ন হল, আমার এ কাজটি কি ঠিক হয়েছে? এমন অবস্থায় আমার করণীয় কী ছিল?

প্রাণীর ছবিযুক্ত জামা গায়ে দিয়ে নামায পড়লে কি নামায আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২১৪৬) : শীতকালে আমাদের এলাকায় কোনো কোনো যুবক এমন কাপড় পরিধান করে, যাতে বিভিন্ন প্রাণীর ছবি থাকে। কখনো কখনো এ ধরনের কাপড় নিয়ে তারা নামাযও পড়ে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ কারণে নামাযের কোনো সমস্যা হবে কি না?

একাকী নামায পড়া অবস্থায় কেউ পিছনে এসে ইকতেদা করলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১৪৫) : একদিন আমি মাদরাসায় একাকী ফযরের নামায পড়ছিলাম। সেখানে দু’জন ছাত্র এসে আমার পিছেনে ইকতেদা করে। আমি একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তি যেভাবে নামায পড়ে সেভাবেই নামায শেষ করি। নামায শেষে এদের একজন বলল, আপনার জন্য উচ্চ স্বরে কিরাত পড়া জরুরি ছিল। প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে সঠিক নিয়মটা কী? কেউ যদি উঁচু আওয়াজে না পড়ে, তাহলে কি তার নামায হবে?