সালাত বা নামাজ

নামাযের মধ্যে হাই আসলে কি করবে?

প্রশ্ন (১২১৪৪) : নামাযের মধ্যে যদি কারো হাই আসে তাহলে নিজের হাত মুখের উপর রাখা কি যথেষ্ট? নাকি হাই আটকানোরও চেষ্টা করতে হবে? গতকাল জুমআর বয়ানে খতীব সাহেব বললেন যে, হাই আসার পর আটকানো সম্ভব হওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি মুখের উপর হাত রাখে তাহলে সেটা মাকরূহ হবে। তার কথাটি কি সহিহ?

ফজরের নামায একাকী আদায় করলে কি কিরাত উচ্চস্বরে পড়া জরুরী?

প্রশ্ন (১২১৪১) : আমাদের বাড়ির সাথেই মসজিদ। আলহামদুলিল্লাহ সর্বদা মসজিদে জামাতের সাথে নামায আদায় করি। কিন্তু একদিন ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে যায়। তাই ফজরের নামাযটি ঘরেই একাকী পড়ি। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, একাকী ফজরের নামায পড়লে উচ্চস্বরে কিরাত পড়া কি জরুরি নাকি আস্তে আস্তে পড়া যাবে?

জুমার নামায় পড়তে না পারলে যোহরের নামায জামাতের সাথে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৩৯) : আমরা কয়েকজন বন্ধু একবার সফরে গিয়েছিলাম। আমরা গাড়িতে থাকায় জুমার নামায জামাতের সাথে পড়তে পারিনি। পরবর্তীতে আমরা গাড়ি থেকে নেমে এক মসজিদের বারান্দায় যোহরের নামায জামাতের সাথে আদায় করি। আমাদের এক সাথী বললেন, এমতাবস্থায় যোহরের নামায একাকী পড়তে হয়। জানার বিষয় হচ্ছে, আমাদের যোহরের নামায পড়া কি সহিহ হয়েছে?

নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে নামায আদায় করার মান্নত করলে কি সেই জায়গায় গিয়েই তা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৩১) : আমার বাবা অনেক আগে কোনো এক প্রসঙ্গে মসজিদে নববীতে চার রাকাত নফল নামায পড়ার মান্নত করেছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার মসজিদে নববীতে যাওয়ার তৌফিক হয়নি। এখন তার বয়স অনেক বেড়েছে, শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। শারীরিক দুর্বলতার কারণে লম্বা সফর করা তার জন্য কঠিন। তো এখন তিনি কী করতে পারেন? মান্নতটি পূর্ণ করার কী পদ্ধতি হতে পারে?

এক তায়াম্মুম দিয়ে কত ওয়াক্ত নামায আদায় করা যায়?

প্রশ্ন (১২১২৮) : শীতের মৌসুমে কয়েকদিন আমি তীব্র জ¦রে আক্রান্ত ছিলাম। তায়াম্মুম করে নামায পড়তাম। একজন অত্মীয় আমাকে দেখতে এসে বললেন, ‘একবার তায়াম্মুম করে বারবার নামায পড়া যায় না। প্রতি ওয়াক্তে তায়াম্মুম করে নিও।’ আমি জানতে চাচ্ছি, একবার তায়াম্মুম করে কত ওয়াক্ত নামায পড়া যায়? ইতিপূর্বে আমি এক তায়াম্মুমে (পবিত্রতা থাকা পর্যন্ত) একাধিক নামায পড়েছি। সেগুলোর কী হুকুম?

মুক্তাদী নামাযে ভুল করলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২১২৬) : একদিন এশার নামাযে দ্বিতীয় রাকাতে বসার সময় ইমাম সাহেব কিছুটা দীর্ঘ করে তাকবীর বলেন। একারণে আমরা কয়েকজন মুক্তাদি দাঁড়িয়ে যাই। এরপর অন্যদের দেখে আবার বসে পড়ি এবং শেষে ইমামের সাথেই সালাম ফিরাই। জানার বিষয় হল, এভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণে কি আমাদের উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হয়েছে?

কাউকে বিপদে পড়তে দেখলে নামায ছেড়ে দেওয়া জায়েয আছি কি?

প্রশ্ন (১২১২৫) : আমার আট মাসের বাচ্চাকে খাটের উপর ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে আমি খাটের পাশে আসরের নামায পড়তে দাঁড়াই। ইতিমধ্যে ঘুম ভেঙ্গে গেলে বাচ্চা কাঁদতে শুরু করে এবং গড়াগড়ি করে খাটের পাশে চলে যায়। এ অবস্থা দেখে নিচে পড়ে যাওয়ার ভয়ে আমি নামায ছেড়ে দিয়ে বাচ্চাকে কোলে নিই। জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামায ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

কোথাও সফরে গেলে কি সুন্নত নামায আদায় করা জরুরী?

প্রশ্ন (১২১২২) : কিছুদিন আগে দশ দিনের জন্য আমরা তাবলীগে গিয়েছিলাম। আমাদের রোখ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানায় ছিল। সেখানে গিয়ে আমরা একাকী নামায পড়লে কসর করতাম এবং নামাযের আগে পরের সুন্নাতগুলোও গুরুত্বের সাথে আদায় করছিলাম। আমাদের জামাতের আমীর সাহেব ফরয নামায কসর পড়লেও নামাযের আগে-পরের সুন্নতগুলো পড়তেন না এবং অন্যদেরকেও পড়তে নিষেধ করতেন। বলতেন যে, সফরে সুন্নাত পড়তে হয় না। আমরা যারা আগে থেকেই এই ধরনের সফরে সুন্নাত পড়ে আসছি, তার এই কথা শুনে বেশ সংশয়ে পড়ে যাই। এবং আমাদের অনেক সাথি সুন্নাত পড়া বন্ধ করে দেয়। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমি বিষয়টির সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি যে, সফরে নামাযের আগে-পরের সুন্নাত আদায়ের বিধান কী?

ইমাম সাহেব ভুলে প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১২১) : একদিন যোহরের নামাযের ইমাম সাহেব মসজিদে ছিলেন না। তখন মুসল্লিদের থেকে একজন নামায পড়ালেন। তিনি ভুলক্রমে প্রথম বৈঠক না করেই তৃতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। পেছন থেকে লোকমা দিলেও তিনি বসলেন না এবং শেষে সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করেন। তো আমি জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে ?

তায়াম্মুম করে জানাযার নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১২০) : কয়েকদিন আগে আমাদের এলাকার চেয়ারম্যান মৃত্যুবরণ করেন। স্কুল মাঠে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। দূরাগত অনেক লোক যারা অযু করে আসেনি। অযুর অপেক্ষায় হাইস্কুলের টিউবওয়েলের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। জামাত শুরু হওয়ার পূর্বমুহূর্তে দেখলাম, তাদের অনেকেই তায়াম্মুম করে দ্রুত কাতারে দাঁড়িয়ে গেল। জানার বিষয় হল, তাদের তায়াম্মুম করা কি ঠিক হয়েছে? পানি থাকতে তায়াম্মুম করলে কি নামায হয়?

জায়নামাযের এক কোণে নাপাক থাকলে কি নামায আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২১০৩) : গতকাল যোহর নামায পড়ার সময় জায়নামায থেকে একটু একটু দুর্গন্ধ আসে। নামায শেষে জানতে পারি আমার ভাগিনা সকালে প্রস্রাব করেছিল। তখন জায়নামাযের সামনের এক কোণে প্রস্রাব লেগেছে। তা থেকেই দুর্গন্ধ আসছে। কিন্তু নামাযের সময় আমার কোনো অঙ্গ সে নাপাক অংশে লাগেনি। এখন জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে, নাকি তা আবার পড়তে হবে?

দুই তাকবীরের মাঝে কিছু সময় বিলম্ব করলে নামাযে কোনো সমস্যা হবে কি?

প্রশ্ন (১২১০০) : এবার ঈদগাহে ঈদের নামায পড়ানোর সময় মাইকে সমস্যা হওয়ায় মুকাব্বির ঠিক করে দেই। ঈদের জামাত বেশ বড় ছিল। তাই অতিরিক্ত তাকবীর বলার সময় দুই তাকবীরের মাঝে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলাম। যাতে সকলেই তাকবীর বলে শেষ করতে পারে। হুজুরের নিকট জানতে চাই, দুই তাকবীরের মাঝে কিছু সময় চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ঐ নামাযের কি কোনো সমস্যা হয়েছে?

নামাযের মাঝে ঘড়ি দেখলে কি নামাযের কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৯) : মসজিদের সামনের দেয়ালে একটি ডিজিটাল ঘড়ি লাগানো হয়েছে। তো অনেক সময় যোহরের নামায পড়ার জন্য মসজিদে এসে টাইম না দেখেই সুন্নত পড়তে শুরু করি। সুন্নত শুরু করার পর জামাত দাঁড়িয়ে যাওয়ার আশংকা হলে সুন্নত শেষ করতে পারব কি না নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঘড়ি দেখি। জানার বিষয় হলো, নামাযের মধ্যে সময় দেখার উদ্দেশ্যে ঘড়ি দেখলে নামাযের কি কোনো ক্ষতি হয়?

ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর জামাতে শরীক হলে কি ইক্তিদা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৮) : গতকাল এশার নামাযে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর আমি জামাতে শরীক হয়েছি। নামায শেষ করার পর আমার সন্দেহ হয় যে, ইমাম সাহেব সাহু সিজদা করার পর আমার ইক্তেদা করা সহিহ হল কি না? দয়া করে বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন।

তারাবীর নামায ভুলে একসাথে চার রাকাত আদায় করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৯৭) : আমি আমাদের গ্রামের মসজিদে খতম তারাবী পড়াই। কয়েকদিন আগে তারাবী নামাযে দুই রাকাতের পর বৈঠক না করে ভুলে দাঁড়িয়ে যাই এবং একসঙ্গে চার রাকাত পড়ে সাহু সিজদা করে সালাম ফেরাই। নামায শেষে একজন বললেন, তারাবী নামাযে প্রত্যেক দুই রাকাতের পর বৈঠক করা ফরয। আপনি যেহেতু ফরয তরক করেছেন, তাই সাহু সিজদা করলেও নামায সহিহ হয়নি। সুতরাং আগামীকাল তারাবী নামায শুরু হওয়ার আগে এই চার রাকাত নামায পুনরায় পড়িয়ে দেবেন। আমি ইমাম সাহেবের নির্দেশ অনুযায়ী ঐ চার রাকাত নামায পরদিন রাতে তারাবীর নামায শুরু হওয়ার আগে ছোট ছোট সূরা দিয়ে পড়িয়ে দেই। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হল, বাস্তবেই কি তারাবী নামাযে দুই রাকাতের পর ভুলে বৈঠক না করে একসঙ্গে চার রাকাত পড়ে নিলে (শেষে সাহু সিজদা করলেও) পুরো নামায ফাসেদ হয়ে যায়, নাকি এক্ষেত্রে সাহু সিজদা করাই যথেষ্ট?

মাসবুক ব্যক্তি ইমাম সাহেবের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কি তার নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৬) : কখনো কখনো মাসবুক হলে শেষ বৈঠকে তা স্মরণ থাকে না। ভুলে ইমাম সাহেবের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেলি। প্রথম সালাম ফিরিয়ে নেওয়ার পর মাসবুক হওয়ার বিষয়টি মনে পড়ে। এক্ষেত্রে কি আমার নামায ভেঙে যাবে। আর যদি না ভাঙে, তাহলে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

ভুলে ওযু ছাড়া নামায পড়ানোর পর মনে পড়লে করণীয়।

প্রশ্ন (১২০৯১) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। গতকাল এশার নামাযের সময় আমার ওযু আছে মনে করে নামায পড়িয়ে দেই। নামাযের পর মুসল্লীরা সবাই যখন যার যার বাড়িতে চলে যায় তখন আমার মনে পড়ে, আমি তো ওযু ছাড়াই নামায পড়িয়ে দিয়েছি। হযরতের কাছে জানতে চাই, এ অবস্থায় আমাদের জন্য করণীয় কী?

কাতারের মাঝখানে ফাঁকা রেখে নামায পড়লে কি কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১২০৮৯) : আমাদের এলাকায় একটি মাহফিল হয়। তাতে অনেক লোকসমাগম হয়। তাই কর্তৃপক্ষ এশার জামাত মাহফিলের মাঠেই করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেদিন এখানে বৃষ্টি ছিল। তাই নামাযের কাতার সোজা করার সময় দেখা গেল যে, মাঠের মধ্যখানে তিনটি কাতারের মাঝামাঝি অংশে উপরে শামিয়ানা না থাকায় বৃষ্টির পানি পড়ছে। তাই লোকেরা এ কাতারগুলোর ডান পাশে ও বাম পাশে দাঁড়াতে পারলেও মাঝের অংশ খালি রেখে পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল যে, যাদের সামনে কাতারগুলোর মাঝখানের অংশ ফাঁকা ছিল তাদের নামায কি সহিহ হয়েছে?

ফরয নামায শুরু করার পর হায়েয চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৮৬) : ফরয নামায শুরু করার পর দ্বিতীয় রাকাতে আমার হায়েয চলে আসে। ফলে সে নামাযটি আমি পূর্ণ করতে পারিনি। এখন উক্ত নামাযের হুকুম কী? তা কি পবিত্র হওয়ার পর কাযা করতে হবে? এমনটি যদি নফল নামাযে হয়, তাহলে বিধান কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

সিজদায় গিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২০৮৫) : আমি এই রমযানে প্রথম তারাবীর নামায পড়াই। প্রতিবার প্রথম রাকাত পড়ার পর ভিতরে ভয় লাগত যে, দ্বিতীয় রাকাতে আটকে যাব কিনা। তাই প্রথম রাকাতে রুকু-সিজদায় তাসবীহ না পড়ে দ্বিতীয় রাকাতের পড়া তিলাওয়াত করতাম। মুহতারামের কাছে আমি জানতে চাই, এভাবে রুকু-সিজদায় তাসবীহ না পড়ে কুরআন তিলাওয়াত করলে নামাযের কি কোনো ক্ষতি হয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।