সালাত বা নামাজ

জাহাজ সমুদ্রে থাকাকালীন যাত্রীরা মুকিম হওয়ার নিয়ত করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২২৪৮) : আমি মাছ ধরার একটি সামুদ্রিক জাহাজ চালিয়ে থাকি। অনেক সময় দেখা যায়, তীরবর্তী এলাকাগুলোতে মাছ ধরা যায় না। আমরা তখন গভীর সমুদ্র অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানা পর্যন্ত পৌঁছি, যা সফরের দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি এবং একাধারে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০-২৫ দিন থাকি। লক্ষ্য অর্জন হলে গন্তব্যে ফিরে আসি। হুযুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি, উক্ত স্থানটিতে থাকাকালীন আমি এবং আমার অন্য সাথীরা কীভাবে নামায পড়ব? কসর না পূর্ণ নামায পড়ব?

ঈদের নামাযের প্রথম রাকাতে ইমাম সাহেবের সাথে অতিরিক্ত তাকবীর বলতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৪৭) : গত কুরবানীর ঈদে ঈদগাহে যেতে আমার দেরি হয়ে যায়। আমি ঈদগাহে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতে কেরাত পড়ছেন। তখন আমি তাকবীরে তাহরীমা বলে জামাতে শরীক হই। নামায শেষে পাশের মুসল্লি আমাকে বললেন, ‘আপনার ছুটে যাওয়া তাকবীরগুলো শুরুতেই আদায় করে নিতে হত।’ জানতে চাই, লোকটি কি ঠিক বলেছে? ঈদের নামাযে প্রথম রাকাতের কেরাত অবস্থায় জামাতে শরীক হলে তাকবীর আদায়ের নিয়ম কী?

জুমার খুতবা চলাকালীন দান বাক্স চালানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৪৬) : আমাদের এলাকায় জুমার দিন বিভিন্ন মসজিদে খুতবার সময় দানবাক্স চালাতে ও এক-দু’জন উঠে মুসল্লিদের থেকে টাকা উঠাতে দেখা যায়। জানার বিষয় হল, খুতবা চলাকালীন দানবাক্স চালানো বা উঠে টাকা উঠানো শরীয়তের দৃষ্টিতে কেমন?

নামাযের মাঝখানে ওজরের কারণে বসে পড়লে কি কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১২২৪৫) : আলহামদুলিল্লাহ, আমি নিয়মিত সুন্নাহ মোতাবেক নামায আদায় করার চেষ্টা করি। গত কয়েকদিন আগে আমি ইমাম সাহেবের সাথে নামায শুরু করি। হঠাৎ নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ানো অবস্থায় আমার মাথা প্রচুর চক্কর দেয়া শুরু করে। তখন আমার চোখের সামনে সব অন্ধকার মনে হচ্ছিল। ঐ সময় আমি অপারগ হয়ে বসে পড়ি এবং বাকি নামায বসে আদায় করি। জানার বিষয় হল, আমার এভাবে বসে নামায আদায় করা কি ঠিক হয়েছে?

মাযুর ব্যক্তির নামায কাযা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২৪৪) : কিছুদিন আগে আমার পরিচিত একজন গাড়ি এক্সিডেন্ট করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। তখন তার মাথায় অপারেশন করা লাগে। এরপর মাথায় ব্যান্ডেজ অবস্থায় ছিল কিছুদিন। প্রথম কয়েকদিন বিছানায় পুরো শায়িত ছিল। মাথা নাড়ানো সম্ভব ছিল না। ডাক্তাররাও কয়েকদিন মাথা না নাড়ানোর কথা বলেছিলেন। এখন সে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন হল, সে যে কয়দিন পুরো শায়িত ছিল ওই দিনগুলোর নামাযের হুকুম কী? একজন বলেছে, মাথা না নাড়াতে পারলেও যেহেতু তার জ্ঞান ছিল তাই ওই কয়দিনের নামায তার চোখের ইশারায় পড়া জরুরি ছিল। তাই ওই কয়দিন নামায না পড়া অন্যায় হয়েছে। তার একথা কি ঠিক? এখন সে ওই নামাযগুলোর জন্য কী করবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

জানাযার নামাযে দুই দিকে সালাম ফিরাবে নাকি একদিকে?

প্রশ্ন (১২২৪৩) : একজন আলেমকে বলতে শুনলাম, জানাযার নামাযে দু’দিকে সালাম ফিরানো ঠিক নয়। বরং সুন্নাহসম্মত পন্থা হচ্ছে জানাযার নামাযে এক দিকে সালাম ফেরানো। নবী কারীম (সা.) এমনটি করেছেন। আমি জানতে চাচ্ছি, তার কথা কি ঠিক? আমরা কি জানাযায় এক দিকে সালাম ফেরাব?

বিল্ডিংয়ের কোনো তলাকে মসজিদের জন্য স্থায়ীভাবে নির্ধারিত করার পর সেটা বাতিল করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৪২) : আমাদের মসজিদ-মাদরাসা কমপ্লেক্সটি দশ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন। ভবনটি নির্মাণের পূর্বেই মুতাওয়াল্লী সাহেবসহ মসজিদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, ভবনটির দ্বিতীয় তলা স্থায়ীভাবে মসজিদ হবে এবং প্রয়োজনের সময় তাতে মাদরাসার কার্যক্রমও পরিচালিত হবে। যেমন, এখানে মাদরাসার পরীক্ষা ও বিভিন্ন জলসা অনুষ্ঠিত হওয়া ইত্যাদি। আমার জানার বিষয় হচ্ছে, এ মসজিদে ইতিকাফ করা যাবে কি না? উল্লেখ্য, এ তলাটিতে বর্তমানে জুমার নামাযসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া হচ্ছে এবং তাতে সর্বসাধারণের উন্মুক্ত অংশগ্রহণও রয়েছে।

নামাযে সিজদার আয়াত পাঠ করার পর সিজদা দিতে ভুলে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৪০) : নামাযের মধ্যে সিজদার আয়াত পাঠের পর ভুলে যথাসময়ে সিজদা আদায় না করলে কী করণীয়? একজন হাফেজ সাহেব বললেন যে, নামায শেষ হওয়ার আগে যদি স্মরণ হয়ে যায় তাহলে তা আদায় করে নিবে এবং পরে সাহু সিজদা করবে। তার কথাটি কি ঠিক?

বিল্ডিংয়ের কোনো তলা নামাযের জন্য নির্ধারন করে আবার তা বাতিল করা কি ঠিক?

প্রশ্ন (১২২৩৩) : আমাদের এলাকায় ঘন বসতি হওয়ায় পূর্বের ছোট মসজিদে মুসল্লী সংকুলান হয় না। ফলে নামায পড়তে বেশ কষ্ট হয়। বিষয়টা নিয়ে আমাদের মাঝে আলোচনা চলছিল। একদিন আমরা কয়েকজন মিলে এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধাভাজন বশির সাহেবের বাসায় যাই। এব্যাপারে তার সাথে আলোচনা করলে তিনি বলেন যে, আমার এ বাড়ির ৫ম তলাটি খালি পড়ে রয়েছে। চাইলে তোমরা এটাকে মসজিদ বানিয়ে ফেলতে পারো। এরপর আমরা ৫ম তলাটিকে সাফাই করে তাতে নামায পড়া শুরু করি। এক সপ্তাহ পর একজন ইমামও নিয়োগ দেওয়া হয়। এভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা সেখানে নামায পড়ে আসছি। কিন্তু কয়েকদিন আগে উনার বড় ছেলে ৫ম তলার উপর আরো দুতলা করবে বলে সেখানে নামায পড়া বন্ধ করে দেয় এবং কাজও শুরু করে দেয়। তারা বলছে, যখন এটা আমাদের প্রয়োজন ছিল না তখন তা নামায পড়ার জন্য দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমাদের প্রয়োজন পড়েছে; বরং এটা যথেষ্ট হচ্ছে না বিধায় এর উপর আরো দু’তলা করতে হচ্ছে। তাই জানতে চাচ্ছি, ৫ম তলাটি মসজিদের জন্য দিয়ে পুনরায় তা নিয়ে নেওয়া কি জায়েয হবে? এতে তাদের মসজিদ ভাঙার গুনাহ হবে না?

ইস্তিঞ্জা সংক্রান্ত কয়েকটি প্রশ্ন।

প্রশ্ন (১২২৩২) : ১. একেবারে মাযুর ব্যক্তি নিজে নিজে ইস্তেঞ্জা করতে পারে না। তার ইস্তেঞ্জার কী বিধান হবে? তার স্ত্রী জীবিত নেই। এখন কি ছেলেরা তাকে ইস্তেঞ্জা করিয়ে দিতে পারবে? ২. মহিলাদেরও কি ইস্তেঞ্জার ক্ষেত্রে ঢিলা ব্যবহারের বিধান রয়েছে? ৩. ব্যবহৃত ঢিলা শুকিয়ে গেলে তা দ্বারা কি আবার ইস্তেঞ্জা করা যাবে? ৪. গাছের পাতা কি ঢিলা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে? যদি জায়েয না হয় তাহলে শুধু এভাবে ইস্তেঞ্জা করার পর আদায়কৃত নামাযের কী হুকুম হবে?

ইতিকাফরত অবস্থায় কি জানাযার নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২২৩১) : গত রোযায় প্রচণ্ড গরম পড়েছিল। অসহনীয় গরমের কারণে আমাদের পাড়ার মসজিদটিতে কেউ ইতিকাফ করতে চাচ্ছিল না। গরমে মুআযযিন সাহেব আগের থেকে অসুস্থ ছিলেন। তাই আমি একাই আল্লাহর উপর ভরসা করে ইতিকাফে বসে পড়ি। ইতিকাফে থাকা অবস্থায় পাড়ার তিন ভদ্রলোক বৈরী আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করে। ফলে যথাক্রমে ২৩, ২৪, ২৫ রমযানে মসজিদের পূর্ব পাশের উঠানে জানাযা পড়াই। কারণ আমাদের পাড়ার অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজ করে। ইদানীং সময়ে কিছু ছেলে স্কুলে যাওয়া-আসা করে। আমি জানতে চাচ্ছি যে, এ পরিস্থিতির মাঝেও কি জানাযা পড়ানোর কারণে উক্ত তিন দিনের ইতিকাফ ভেঙে গেছে? উল্লেখ্য, ২৫ রমযানে জানাযা পড়ানোর পর ইস্তিসকার নামাযও পড়ানো হয়। সংবাদ আসছিল, বিভিন্ন এলাকায় সালাতুল ইস্তিসকা পড়া হচ্ছে। তাই আমরা আগের থেকেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলাম যে, জানাযার পর ইস্তিসকার নামায অনুষ্ঠিত হবে।

মাগরিবের আযানের পর ফরযের আগে কোনো নফল নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২২৮) : মুহতারামের নিকট আমার জানার বিষয় হল, মাগরিবের আযানের পরে ফরয নামাযের আগে নফল নামায পড়ার হুকুম কী? এবিষয়ে কোনো এক আলেমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, পড়া যাবে। কেননা বিভিন্ন সাহাবীরা পড়েছেন। অন্য একজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মাকরূহে তানযিহী-এর সাথে হবে; কেননা খুলাফায়ে আরবাআসহ উল্লেখযোগ্য কোনো সাহাবী পড়েননি। এ বিষয়ে শরয়ী সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

নামাযে ইশারা করে কিছু বললে কি নামায ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১২২২৭) : আমি ও আমার বন্ধু একদিন তার ইমামতিতে আছরের নামায পড়ছিলাম। সালাম ফেরানোর পর রাকাত নিয়ে তার সন্দেহ হয়। তাই সে আমাকে হাতের ইশারায় জিজ্ঞেস করে যে, নামায তিন রাকাত হয়েছে, না চার রাকাত? আমি হাত ও মাথা দিয়ে ইশারা করে বুঝাই যে তিন রাকাত হয়েছে। সে দাঁড়িয়ে আরেক রাকাত পড়ে সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করে। কিন্তু আমার সন্দেহ হয় যে, এভাবে ইশারা করার পর এ নামায সহিহ হয়েছে কি না? তাই আমি পুনরায় নামাযটি পড়ে নিই। এখন জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত নামায সহিহ হয়েছিল কি না? পুনরায় নামায পড়া কি আমার ঠিক হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কোন যৌনকর্মী মারা গেলে কি তার জানাযার নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২২১৪) : সম্প্রতি এক যৌনকর্মীর মৃত্যুর পর পুরোপুরি ইসলামী প্রথা মেনে জানাযা পড়িয়ে দাফন করা হয়েছে। জনৈক পুলিশ কর্মকর্তার অনুরোধে স্থানীয় মসজিদের ইমাম প্রায় দু’শ উপস্থিত মুসল্লিদের নিয়ে তার জানাযা নামায পড়ান। এলাকার বাসিন্দাদের মতে এই যৌনপল্লিতে এটি ব্যতিক্রম ঘটনা। সাধারণত মৃত যৌনকর্মীদের গোপনে কবর দেওয়া হয় অথবা মৃতদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সংবাদটি প্রচার হলে মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আমার জানার বিষয় হল, যৌনকর্মীদের জানাযা পড়ার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

সফরে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে এক ওয়াক্তে পড়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২২১২) : আমি রিয়াদের মুহাম্মদ বিন সাউদ ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্র। আমাদের ভার্সিটি থেকে প্রায়ই ছাত্র জামাত ওমরার উদ্দেশ্যে মক্কায় গিয়ে থাকে। সুযোগ হলে আমিও তাদের সাথে শরীক হই। আমার সফরসঙ্গীরা তাদের হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী যাত্রাপথে বিরতি দিয়ে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করে নেয়। কিন্তু আমাদের হানাফী মাযহাব অনুসারে যেহেতু দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে পড়ার নিয়ম নেই, তাই আমি তাদের সাথে জামাতে শরীক না হয়ে শুধু ওয়াক্তের নামায একাকী পড়ি। পরবর্তী ওয়াক্তের নামায সফরে বিরতি না হওয়ার কারণে বাধ্য হয়েই আমাকে কাযা করতে হয়। অবশ্য আমাকে অনেকে বলেছেন, তুমি চাইলে তাদের সাথে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে পড়তে পারো। আসলেই কি এভাবে দুই ওয়াক্তের নামায আমার জন্য একত্রে পড়ার সুযোগ রয়েছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

নামাযী ব্যক্তির দিকে মুখ করে বসলে কোনো সমস্যা আছে কি?

প্রশ্ন (১২২১১) : একদিন মসজিদে কিবলার দিকে পিঠ করে বসে তিলাওয়াত করছিলাম। এর মধ্যে এক ব্যক্তি এসে আমার সামনে নামাযে দাঁড়িয়ে যায়। বলা হয়ে থাকে যে, নামাযীর দিকে মুখ করে বসা জায়েয নয়। কথাটি সঠিক কি না? বাস্তবে বিষয়টি এমন হয়ে থাকলে প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে গোনাহগার কে হবে? আমি, না ঐ নামাযী ব্যক্তি, যে হঠাৎ আমার সামেন এসে দাঁড়িয়ে গেল?

জন্মবার্ষিকী-মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২০৩) : আমাদের এলাকায় কারও জন্মবার্ষিকী এবং মৃত্যুবার্ষিকী পালন করার প্রচলন খুবই কম। কিছুদিন আগে ঢাকার একজন আলেম বয়ানের মধ্যে রাসূল (সা.) সহ সকল মানুষের মৃত্যুবার্ষিকী ও জন্মবার্ষিকী পালন করা জায়েয বলে ফতোয়া দেন। এতে আমাদের এলাকায় সকলে একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। সুতরাং উক্ত সমস্যার সমাধানকল্পে শরীয়তের দলিল উল্লেখ করে আমাদেরকে উপকৃত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

কাযা নামায বাকি রেখে ওয়াক্তিয়া নামায আদায় করলে কি আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২২০২) : আমি একদিন ফজরের নামায পড়তে পারি নাই। সূর্য উদয় হলে পড়ে নিব ভাবছিলাম। কিন্তু আমার মনে ছিল না। তারপর যোহরের নামায পড়ার পর আমি ফজরের কাযা নামায আদায় করি। এখন কি আমার যোহরের ফরয নামায বাতিল হয়ে যাবে? আমি একজন আলেমের কাছ থেকে শুনেছিলাম যে, কোনো ব্যক্তির এক ওয়াক্ত নামায তার জিম্মা থেকে ছুটে গেল পরবর্তী ওয়াক্তের পরে তা কাযা আদায় করলে পূর্ববর্তী নামাযের ফরযিয়াত বাতিল হয়ে যাবে। তাই দয়া করে সঠিক মাসআলা জানাবেন। উল্লেখ্য: আমার অনেক ওয়াক্তের নামায কাযা আছে।

জানাযার নামাযে অনিচ্ছাকৃত কেঁদে ফেললে কি নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২১৯১) : আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তি তার ছেলের জানাযা পড়াবার সময় সশব্দে কেঁদে ফেলে। নামায শেষ হওয়ার পর পাশের ভাইকে বললাম, নামায তো সহিহ হয়নি। কেননা যে সকল কারণে নামায নষ্ট হয়ে যায় সে সকল কারণে জানাযার নামাযও নষ্ট হয়ে যায়। আর বালা-মুসিবতের কারণে সশব্দে কাঁদলে নামায নষ্ট হয়ে যায়। প্রতি উত্তরে সে বলল, সে তো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছিল। তাই নিজেকে নিজে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার পরও যদি সশব্দে কান্না চলে আসে তাহলে এর দ্বারা নামায ভাঙে কীভাবে?

মাসবুক ব্যক্তি বৈঠক করতে ভুলে গেলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২১৮৮) : গতকাল মাগরিবের নামাযে মসজিদে যেতে আমার দেরি হয়ে যায়। আমি ইমামকে তৃতীয় রাকাতে পাই। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর আমি ছুটে যাওয়া দুই রাকাত নামায পড়তে দাঁড়াই। অন্য মুসল্লিরাও সুন্নত পড়তে দাঁড়ায়। আমি সুন্নত পড়ার মত দুই রাকাত পড়ি। আমার প্রথম রাকাতের পর বৈঠক করার কথা ভুলে যাই। সাহু-সিজাদও করিনি। এরপর সুন্নাত পড়ার সময় বিষয়টি মনে পড়ে। আমার উক্ত নামায কি হয়েছে?