সালাত বা নামাজ

জামাতে শরীক হওয়ার আগে ইমামের সিজদার আয়াতের তিলাওয়াত শুনলে কি সিজদা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২২৮৯) : আমাদের মসজিদে প্রতি শুক্রবার ফজরের নামাযে ইমাম সাহেব সূরা আলিফ-লাম-মিম সাজদা তিলাওয়াত করেন। গত শুক্রবার ফজরের নামায শুরু হলে আমি মসজিদের এক কোণে সুন্নত পড়ছিলাম। এ সময় ইমাম সাহেব সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা করেন। আমি শরীক হতে পারিনি। এরপর আমার সুন্নত পড়া শেষ হলে উক্ত রাকাতে রুকুর আগে আমি ইমামের সাথে শরীক হই। জানার বিষয় হল, আমার কি পরবর্তিতে তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করতে হবে?

চড়ুই পাখির বিষ্ঠা কি নাপাক?

প্রশ্ন (১২২৮৪) : আমি একদিন বড় ভাইয়ের সাথে মসজিদে যাচ্ছিলাম। পথে এক গাছের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় চড়ুই পাখির বিষ্ঠা এসে আমার জামায় পড়ে। মসজিদে পৌঁছে আমি জামা ধুতে চাইলে বড় ভাই বললেন, ধোওয়ার দরকার নেই। চড়ুই পাখির বিষ্ঠা নাপাক নয়। তাড়াতাড়ি জামাতে শরিক হয়ে যাও। নতুবা প্রথম রাকাত ছুটে যাবে। তার কথামত আমি তা না ধুয়েই নামায পড়ে নেই। তাই হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, বড় ভাইয়ের এই কথা কি সঠিক? চড়ুই পাখির বিষ্ঠা জামায় লেগে থাকা অবস্থায় আমার উক্ত নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?

সুস্থ অবস্থায় কাযা হওয়া নামায অসুস্থ অবস্থায় ইশারা করে পড়লে সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২২৮২) : কিছুদিন আগে আমার হাঁটুতে প্রচন্ড ব্যথা হয়েছিল। ফলে ওঠা-বসা করতে পারতাম না। তখন এক মুফতী সাহেবকে জিজ্ঞেস করে চেয়ারে বসে ইশারার মাধ্যমে রুকু-সিজদা করে নামায পড়তাম। তখন আমার সুস্থ অবস্থায় ছুটে যাওয়া কিছু নামাযের কাযা পড়ি। এখন আলহামদুলিল্লাহ আমার হাঁটুতে কোনো ব্যথা নেই। রুকু-সিজদা ঠিকভাবে করতে পারি। জানার বিষয় হল, অসুস্থ থাকাকালীন সুস্থ অবস্থায় ছুটে যাওয়া যে নামাযগুলোর কাযা পড়েছিলাম সেগুলো কি এখন পুনরায় পড়তে হবে?

বিতিরের নামায পড়ার পর তারাবীহ পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৮১) : গত রমযানে একদিন এশার পরবর্তী দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করার পর রমযানের কথা স্মরণ না থাকায় গতানুগতিকভাবে আমি ভুলে বিতিরও পরে ফেলি। বিতির শেষ হওয়ার পর তারাবীহ শুরু হলে আমার রমযানের কথা স্মরণ হয়। কিন্তু তখন আমার সংশয় হতে থাকে যে, তারাবীহ তো বিতিরের আগে পড়তে হয়। আমি তো বিতির পড়ে ফেলেছি, এখন কি আমার তারাবীহ হবে? এই দোদুল্যমান অবস্থা নিয়েই আমি তারাবীহ আদায় করি। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত তারাবীহ কি শুদ্ধ হয়েছে? না হলে এখন আমার করণীয় কি?

নামাযে হাঁচির দুআ পড়লে কি নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২২৭৮) : কিছুদিন আগে আমি মসজিদে নামায পড়ছিলাম। হঠাৎ আমার হাঁচি আসে। হাঁচির পর বেখেয়ালে কিছুটা শব্দ করেই ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে ফেলি। নামায শেষ করার পর পাশে থাকা এক ব্যক্তি বললেন, নামাযটি আবার পড়ে নিলে ভালো হয়। কারণ, নামাযে হাঁচির পরের দুআ পড়া যায় না। জানার বিষয় হল, নামাযে হাঁচির পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে কি নামায নষ্ট হয়ে যায়?

জানাযার নামাযের অসিয়ত করলে কি তা পালন করা আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২২৭৭) : আমাদের এলাকায় এক মুরব্বী মৃত্যুর পূর্বে তার এক বন্ধুকে জানাযা পড়ানোর অসিয়ত করে যান। কিন্তু তার ছেলে এই অসিয়তের কথা জানা সত্ত্বেও ঐ ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে অন্য হুজুরকে দিয়ে জানাযা পড়ান। পরে এ নিয়ে তার আত্মীয়দের মাঝে মতবিরোধ তৈরি হয়ে যায়, ছেলে তার বাবার অসিয়ত পালন করেনি, অথচ অসিয়ত পালন করা জরুরি। জানার বিষয় হল, শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে এ অসিয়ত পালন করা কি জরুরি ছিল? এবং এ কাজের কারণে কি তার অন্যায় হয়েছে?

নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত এলাকার মসজিদে জুমার নামায আদায় করা সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২২৭৫) : আমি একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানীতে চাকরি করি। কোম্পানীটি প্রায় ৩ একর জমিতে স্থাপিত। প্রবেশাধিকার কোম্পানীর স্টাফদের জন্য আইনগতভাবে সংরক্ষিত। ভিতরে একটি মসজিদ আছে, যাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা হয়। শুক্রবার ছুটি থাকায় জুমা হয় না। তবে অফিস টাইম ছাড়া অন্য সময় দায়িত্বরত পাহারাদারগণ নামায পড়েন। কিন্তু যখন কোম্পানীর প্রডাকশন বৃদ্ধি পায় তখন শুক্রবারেও কাজ করতে হয়। জানার বিষয় হল, এখন শুক্রবারে আমাদের জন্য উক্ত মসজিদে জুমা আদায় করা কি সহিহ হবে?

জানাযার নামাযে ইমাম সাহেব মাইয়্যেতের কোন অংশের বরাবর দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২২৭৩) : আমাদের এলাকায় একটি বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ মতবিরোধ চলে আসছে। তা হল, জানাযার নামাযে ইমাম সাহেব মায়্যেতের কোন বরাবর দাঁড়াবেন? সিনা বরাবর, নাকি কোমর বরাবর? এবং এক্ষেত্রে পুরুষ-মহিলার কেনো পার্থক্য হবে কি না? মুফতী সাহেবের কাছে এ বিষয়ের সঠিক সমাধান কামনা করছি।

আসরের পর তাওয়াফ করলে তাওয়াফের নামায কখন আদায় করবে?

প্রশ্ন (১২২৬৪) : মক্কা শরীফে আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত অনেক সময় পাওয়া যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তখন দুটি তাওয়াফ করা যায়। আমাদের মুআল্লিম সাহেব বলেছেন, তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামায পড়া ওয়াজিব। আমি একবার আসরের পর একটি তাওয়াফ শেষ করে নামাযের জন্য দাঁড়াচ্ছিলাম তখন এক ভাই বললেন, আসরের পর নামায পড়া যায় না। জানার বিষয় হল, ঐ লোকের কথা কি ঠিক? যদি ঠিক হয় তাহলে তাওয়াফের নামায কখন পড়ব?

পাট ভিজানো পানি দিয়ে কি অযু-গোসল করা যাবে?

প্রশ্ন (১২২৬০) : আমাদের এলাকায় অনেকেই পাট চাষ করেন। পাটগাছ কাটার পর তা থেকে আঁশ বের করার জন্য খালে বা পুকুরে এগুলো ভিজিয়ে রাখা হয়। কিছুদিন পর পাট পঁচে পানির রং পরিবর্তন হয়ে যায় এবং পানিতে কিছুটা দুর্গন্ধও সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন হল, এই পানি দ্বারা কি অযু-গোসল করা যাবে? এছাড়া পাট ধোয়ার সময় শরীরে বা কাপড়ে এই পানি লেগে থাকলে সে অবস্থায় নামায পড়া যাবে কি না?

বিতিরের নামাযে মাসবুক হলে কিভাবে তা আদায় করব?

প্রশ্ন (১২২৫৯) : রমযান মাসে একদিন খতম তারাবীর ২০ রাকাত শেষ হওয়ার পর আমি ইস্তিঞ্জায় যাই। অযু করে এসে ইমামের সাথে বিতিরের দুই রাকাত পাই। কিন্তু ভুলবশত অবশিষ্ট এক রাকাত পড়ার সময় দুআয়ে কুনূত না পড়েই নামায শেষ করে ফেলি। ইমাম সাহেবকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, নামায হয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, তিনি কি সঠিক বলেছেন? ইমামের সাথে যে রাকাতে আমি দুআয়ে কুনূত পড়েছি সেটা আমার দ্বিতীয় রাকাত ছিল। এমতাবস্থায় কি আমার নাযায সহিহ হয়েছে?

জামায় দুধের বাচ্চার বমি নিয়ে নামায আদায় করলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২২৫৮) : আমার সন্তানের বয়স ছয় মাস। দুধপান করার পর সে মাঝে মাঝেই বমি করে। আমার কাপড়ে লেগে যায়, যা প্রতি ওয়াক্তে পরিষ্কার করা কষ্টকর। আবার অনেক সময় মনেও থাকে না। প্রশ্ন হল, এভাবে দুধের শিশুরা বমি করলে সে কাপড়ে নামায পড়ার কী হুকুম?

ইমাম সাহেব কি মেহরাবের ভিতরে দাঁড়াবে নাকি মেহরাবের বাহিরে দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২২৫৭) : ইমাম সাহেব নামায পড়ানোর সময় মসজিদের অংশে না দাঁড়িয়ে কেবলমাত্র মেহরাবের ভেতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ালে নামায হবে কি? শুনেছি ইমাম সাহেব নামায পড়ানোর সময় মসজিদের অংশেই দাঁড়াতে হয়। এক্ষেত্রে সঠিক বিষয়টি জানালে উপকৃত হব।

বিতির নামায সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২৫৬) : আমি সেদিন বিতির নামাযে তৃতীয় রাকাতে ভুলে কুনূত না পড়ে রুকুতে চলে যাই। পরে রুকুতে স্মরণ হয় আমি কুনূত পড়িনি। তাই দাঁড়িয়ে যাই এবং দাঁড়িয়ে কুনূত আদায় করি। জানার বিষয় হল, আমি কি দ্বিতীয়বার রুকু করব? এভাবে রুকু থেকে দাঁড়িয়ে যাওয়া কি ঠিক হল?

ঈদের নামাযের প্রথম রাকাতে ইমাম সাহেবের সাথে অতিরিক্ত তাকবীর বলতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৫৪) : গত কুরবানীর ঈদে ঈদগাহে যেতে আমার দেরি হয়ে যায়। আমি ঈদগাহে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতে কেরাত পড়ছেন। তখন আমি তাকবীরে তাহরীমা বলে জামাতে শরীক হই। নামায শেষে পাশের মুসল্লি আমাকে বললেন, ‘আপনার ছুটে যাওয়া তাকবীরগুলো শুরুতেই আদায় করে নিতে হত।’ জানতে চাই, লোকটি কি ঠিক বলেছে? ঈদের নামাযে প্রথম রাকাতের কেরাত অবস্থায় জামাতে শরীক হলে তাকবীর আদায়ের নিয়ম কী?

নামাযের মাঝখানে ওজরের কারণে বসে পড়লে কি কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১২২৫৩) : আলহামদুলিল্লাহ, আমি নিয়মিত সুন্নাহ মোতাবেক নামায আদায় করার চেষ্টা করি। গত কয়েকদিন আগে আমি ইমাম সাহেবের সাথে নামায শুরু করি। হঠাৎ নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ানো অবস্থায় আমার মাথা প্রচুর চক্কর দেয়া শুরু করে। তখন আমার চোখের সামনে সব অন্ধকার মনে হচ্ছিল। ঐ সময় আমি অপারগ হয়ে বসে পড়ি এবং বাকি নামায বসে আদায় করি। জানার বিষয় হল, আমার এভাবে বসে নামায আদায় করা কি ঠিক হয়েছে?

জাহাজ সমুদ্রে থাকাকালীন যাত্রীদের জন্য মুকিম হওয়ার নিয়ত প্রযোজ্য নয়।

প্রশ্ন (১২২৫২) : আমি মাছ ধরার একটি সামুদ্রিক জাহাজ চালিয়ে থাকি। অনেক সময় দেখা যায়, তীরবর্তী এলাকাগুলোতে মাছ ধরা যায় না। আমরা তখন গভীর সমুদ্র অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানা পর্যন্ত পৌঁছি, যা সফরের দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি এবং একাধারে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০-২৫ দিন থাকি। লক্ষ্য অর্জন হলে গন্তব্যে ফিরে আসি। হুযুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি, উক্ত স্থানটিতে থাকাকালীন আমি এবং আমার অন্য সাথীরা কীভাবে নামায পড়ব? কসর না পূর্ণ নামায পড়ব?

তারাবীর নামায সংক্রান্ত দুটি প্রশ্ন।

প্রশ্ন (১২২৫১) : ১. তারাবীর নামাযে চার রাকাত পর পর মুসল্লীরা নিম্নোক্ত দুআ- سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزّةِ وَالْعَظمَةِ ... পড়ে থাকেন। এ সময় আসলে কী করণীয়? এ দুআ পড়বে নাকি ভিন্ন কোনো দুআ পড়বে? এ দুআ পড়ার অবকাশ আছে কি? ২. মাঝে মাঝে এমন হয় যে, দেরি করে আসার কারণে ইশার নামায শেষ করে তারাবীতে শরীক হতে হতে ৪/৬ রাকাত হয়ে যায়। ২০ রাকাত পড়ানোর পর ইমাম সাহেব বিতিরের জন্য দাঁড়িয়ে যান। তখন আমার কী করণীয়? তারাবীর বাকি রাকাতগুলো পড়তে গেলে বিতির ছুটে যাওয়ার আশংকা হয়। জানিয়ে বাধিত করবেন।

মুখ ঢেকে নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৫০) : শীতকালে শেষ রাতে আমাদের এলাকায় প্রচণ্ড কুয়াশা পড়ে। একদিন ফজরের নামাযের সময় আমি ও আমার ভাই ঘর থেকে রুমাল দিয়ে নাক-মুখ পেঁচিয়ে বের হই। মসজিদে গিয়ে সে এভাবেই সুন্নত পড়তে দাঁড়িয়ে যায়। তখন এক লোক আমাকে বললেন, তোমার ভাইকে বলবে রুমাল দিয়ে নাক-মুখ পেঁচিয়ে নামায পড়া মাকরূহ। জানার বিষয় হল, ঐ লোকের কথা কি ঠিক?

রমযান মাসে জামাতের সাথে বিতিরের নামায আদায়কালীন দুআয়ে কুনূত পড়ে শেষ করার আগে ইমাম সাহেব রুকুতে চলে …

প্রশ্ন (১২২৪৯) : আমি রমযান মাসে বিতিরের নামাযে মাঝে মাঝে এ সমস্যার সম্মুখীন হই যে, দুআয়ে কুনূত পুরোপুরি শেষ করার পূর্বে ইমাম সাহেব তাকবীর বলে রুকুতে চলে যান। হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এ অবস্থায় আমার করণীয় কী? ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হব, নাকি কুনূতের বাকি অংশ পূর্ণ করব?