সিজদা

মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাম ফিরালে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১২৪৪৪) : আমি এক নামাযে মাসবুক হই। ভুলবশত ইমামের সাথে আমিও সালাম ফিরাই। এরপর পাশের লোকদের দাঁড়াতে দেখে আমার মাসবুক হওয়ার কথা স্মরণ হয়। তখন আমি দাঁড়িয়ে বাকি রাকাত পড়ে সাহু সিজদা করি। আমার এ নামায কি সহিহ হয়েছে? ইমাম সাহেব বলেছেন সাহু সিজদা না দিলেও নামায হয়ে যেত, তাঁর কথা কি ঠিক?

বিতির নামাযে ইমাম সাহেব ভুলে দুআ কুনুত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৪৩৯) : বিতিরের নামাযে ইমাম সাহেব ভুলে দুআ কুনূত না পড়েই রুকুতে চলে যান। মুক্তাদীগণ লোকমা দিলে রুকু বাদ দিয়ে আবার দাঁড়িয়ে যান। এরপর দুআ কুনূত পড়ে যথারীতি বাকি নামায শেষ করেন। এতে এক রাকাতে দুই রুকু হয়ে যায়। উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে? এক আলেম বলেছেন, নামায সহিহ হয়নি। সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

শেষ বৈঠকে দুইবার তাশাহ্হুদ পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৪১৫) : আমি একবার ফজরের সুন্নত পড়ার সময় তাশাহহুদ পড়ে সামান্য ঘুমিয়ে যাই। ঘুম ভাঙার পর পুনরায় তাশাহহুদ পড়েছি এবং দরূদ শরীফ ও দুআ মাছূরা পড়ে নামায শেষ করেছি। জানার বিষয় হল, তাশাহহুদ দুইবার পড়ার কারণে কি আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল? এবং সাহু সিজদা না দেওয়াতে কি নামায সহিহ হয়নি?

মুক্তাদীর ভুলের কারণে ইমাম বা মুক্তদী কারো উপর কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১২৪১০) : একদিন আমি জামাতের সাথে এশার নামায পড়ছিলাম। প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরীফ অর্ধেকের বেশি পড়ে ফেলি। ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের তাকবীর বলার পর স্মরণ হয় যে, আমি প্রথম বৈঠকে আছি। তারপর যথারীতি ইমামের সাথে নামায শেষ করি। জানার বিষয় হল, উক্ত ভুলের কারণে কি আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল? এবং সাহু সিজদা না করার কারণে কি ওই নামায পুনরায় পড়তে হবে?

জোহরের নামাযে সূরা ফাতিহার এক-দুই আয়াত উচ্চস্বরে পড়ে ফেললে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৩৯১) : আমি একদিন যোহরের নামাযের ইমামতি করছিলাম। প্রথম রাকাতে ভুলে সূরা ফাতিহার ১ম আয়াত উচ্চস্বরে পড়ে ফেলি। খেয়াল হতেই পরক্ষণে ২য় আয়াত থেকে আস্তে পড়া শুরু করি। এক্ষেত্রে কি আমাকে সাহু সিজদা করতে হবে?

এক নামাযে একাধিক ভুল হলে সাহু সিজদা কতবার করতে হবে?

প্রশ্ন (১২৩৮৯) : নামায আদায় করতে গিয়ে মাঝে মাঝে আমার সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার মত ভুল হয়ে যায়। কখনো এমন ভুল একই নামাযে একাধিক হয়ে থাকে। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত ক্ষেত্রে ভুল একাধিক হওয়ার কারণে কি আমাকে সাহু সিজদাও একাধিকবার করতে হবে?

জামাতে শরীক হওয়ার আগে ইমামের সিজদার আয়াতের তিলাওয়াত শুনলে কি সিজদা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৩৮৬) : আমাদের মসজিদে প্রতি শুক্রবার ফজরের নামাযে ইমাম সাহেব সূরা আলিফ-লাম-মিম সাজদা তিলাওয়াত করেন। গত শুক্রবার ফজরের নামায শুরু হলে আমি মসজিদের এক কোণে সুন্নত পড়ছিলাম। এ সময় ইমাম সাহেব সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা করেন। আমি শরীক হতে পারিনি। এরপর আমার সুন্নত পড়া শেষ হলে উক্ত রাকাতে রুকুর আগে আমি ইমামের সাথে শরীক হই। জানার বিষয় হল, আমার কি পরবর্তিতে তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করতে হবে?

নামাযে সূরা ফাতিহা না পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৩৬৬) : একদিন যোহরের নামাযে মসজিদে যেতে দেরি হয়ে যায়, ফলে মাসবুক হই। যখন বাকি নামায আদায় করি তখন প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহা ভুলে যাই। আমার প্রশ্ন হল, এমন অবস্থায় কি আমার জন্য সাহু সিজদা করা আবশ্যক?

চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের প্রথম বৈঠকে ইমাম না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৬৩) : যোহরের নামাযে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। পিছন থেকে কয়েকজন মুকতাদী ‘আল্লাহু আকবার’ বলে লোকমা দেন। তখন ইমাম সাহেব বসে পড়েন এবং তাশাহ্হুদ পড়ার পর শেষে সাহু সিজদা করেন। আমার জানার বিষয় হল, এই নামায কি শুদ্ধ হয়েছে, নাকি তা আবার পড়তে হবে?

নামাযের শুরুতে ছানা পড়তে ভুলে গেলে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৩৫৯) : অনেক সময় নামায শুরু করার পর ছানা পড়তে ভুলে যাই। তো আমাদের এলাকায় একজনকে জিজ্ঞাসা করি; তিনি বলেন, এমন অবস্থায় সাহু সিজদা করা ওয়াজিব। হুজুরের কাছে প্রশ্ন হল, তার এ কথাটি কি ঠিক?

নামাযের কোনো রাকাতে এক সিজদা ছেড়ে দিলে কি নামায হবে?

প্রশ্ন (১২৩৫৭) : আমি নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে এক সিজদা করি। নামায শেষ করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর স্মরণ হয় যে, আমি এক সিজদা করেছি। এখন আমার ঐ নামাযের হুকুম কী?

ফরয নামায ভুলে পাঁচ রাকাত পড়ে ফেললে উক্ত নামাযের হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২৩৫৬) : আমার এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে জামাত করে আসর নামায পড়ছিলাম। ভুলবশত চতুর্থ রাকাতকে তৃতীয় রাকাত মনে করে দাঁড়িয়ে যাই এবং পাঁচ রাকাতের পর সালাম ফিরাই। সালাম ফেরানোর পর সে বলল, নামায তো পাঁচ রাকাত হয়েছে; তখন আমি কথা না বলে সাহু সিজদা করি এবং পুনরায় সালাম ফিরাই। আমাদের এ নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?

সুন্নত বা নফল নামাযে একাধিক রাকাতে একই সূরা পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৫৩) : কয়েকদিন আগে এশার জামাতের পর সুন্নত পড়ছিলাম। দ্বিতীয় রাকাতে রুকুতে গিয়ে মনে পড়ে- আমি উভয় রাকাতে একই সূরা পড়েছি। পরে সাহু সিজদাও করিনি। জানার বিষয় হল, আমার উপর কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে এবং এ নামায কি সহিহ হয়েছে?

মুক্তাদির জন্য ইমাম সাহেবের ইক্তিদা করার বিধান কি?

প্রশ্ন (১২৩৪৫) : কিছুদিন আগে আমরা কয়েকজন জামাতের সাথে যোহর নামায আদায় করছিলাম। নামাযের প্রথম রাকাতে হঠাৎ দেখি ইমাম সাহেব তাকবীর বলে সিজদায় যাচ্ছেন। আমি সিজদায়ে তিলাওয়াত ভেবে ইমাম সাহেবের সাথে সিজদায় শরীক হই। পরে বুঝতে পারলাম যে, আসলেই তা সিজদায়ে তিলাওয়াত ছিল। তখন আমার পাশে যে মুসল্লী ভাই ছিলেন তিনি সিজদায় যাননি। পরে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি তিলাওয়াতে সিজদা শুনিনি, তাই যাইনি এবং আপনার যাওয়াটাও ঠিক হয়নি। আমার না করাটাই ঠিক। জানার বিষয় হল, ইমামের সাথে আমার সিজদায় শরীক হওয়া কি ঠিক হয়েছে? আর তার কথা কি ঠিক?

রুকু-সিজদায় মুক্তাদী তাসবীহ শেষ করার আগে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৩৭) : আমি একজন বয়স্ক মানুষ। ইমামের একেবারে সাথে সাথে উঠা-বসা করতে অনেক কষ্ট হয়। তাই অনেকসময় রুকু-সিজদার তাসবীহ তিন বার পড়ার আগেই ইমাম সাহেব তাকবীর বলে উঠে যান। এমতাবস্থায় আমি কি তাসবীহ তিন বার পূর্ণ করে উঠব নাকি তিন বার পূর্ণ না হলেও ইমাম সাহেব তাকবীর বললে উঠে যাব?

ফেতনা হওয়ার আশঙ্কায় সাহু সিজদা ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক?

প্রশ্ন (১২৩২১) : আমি ঢাকার একটি বড় মসজিদে তারাবীহ পড়াই। এবার রমযানের ২৭ তারিখে তারাবীর নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার তিন-চার আয়াত মনে মনে পড়ি, এরপর স্মরণ হলে উচ্চস্বরে সূরা ফাতিহা শুরু থেকে পড়ি। সেদিন মসজিদে ৩-৪ হাজার মুসল্লী ছিল। অনেক বড় জামাত ফেতনা হতে পারে- একথা ভেবে সাহু সিজদা দিইনি। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হচ্ছে, আমার এই কাজটি কি ঠিক হয়েছে? জুমা ও ঈদের নামাযের মত তারাবীর জামাত বড় হলে সাহু সিজদা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ আছে কি না?

জায়গা-সংকীর্ণতার কারণে কোনো উঁচু স্থানে সিজদা করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩১৩) : গত সপ্তাহে জুমার নামাযে মসজিদে যেতে আমার দেরি হয়ে যায়। একারণে নামাযের শুরুতে কাতারে জায়গা না পেয়ে আমরা কয়েকজন মুসল্লি কাতারের পাশে সিঁড়ির সামনে দাঁড়াই এবং জায়গা-সংকীর্ণতার কারণে প্রথম সিঁড়ির উপর সিজদা করে নামায পড়ি। আমাদের উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে?

জুমার দিন খতিব সাহেব খুতবা শুরু করার আগে সুন্নত পড়ে শেষ করতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩১২) : জুমার পূর্বের চার রাকাত সুন্নত পড়া অবস্থায় অনেকসময় খতিব সাহেব খুতবা শুরু করে দেন। এক আলেম থেকে শুনেছি খুতবার সময় নামায পড়া নিষেধ। জানার বিষয় হল, এমন পরিস্থিতিতে আমার জন্য করণীয় কী? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

জামাতে শরীক হওয়ার আগে ইমামের সিজদার আয়াতের তিলাওয়াত শুনলে কি সিজদা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২২৮৯) : আমাদের মসজিদে প্রতি শুক্রবার ফজরের নামাযে ইমাম সাহেব সূরা আলিফ-লাম-মিম সাজদা তিলাওয়াত করেন। গত শুক্রবার ফজরের নামায শুরু হলে আমি মসজিদের এক কোণে সুন্নত পড়ছিলাম। এ সময় ইমাম সাহেব সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা করেন। আমি শরীক হতে পারিনি। এরপর আমার সুন্নত পড়া শেষ হলে উক্ত রাকাতে রুকুর আগে আমি ইমামের সাথে শরীক হই। জানার বিষয় হল, আমার কি পরবর্তিতে তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করতে হবে?

সুস্থ অবস্থায় কাযা হওয়া নামায অসুস্থ অবস্থায় ইশারা করে পড়লে সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২২৮২) : কিছুদিন আগে আমার হাঁটুতে প্রচন্ড ব্যথা হয়েছিল। ফলে ওঠা-বসা করতে পারতাম না। তখন এক মুফতী সাহেবকে জিজ্ঞেস করে চেয়ারে বসে ইশারার মাধ্যমে রুকু-সিজদা করে নামায পড়তাম। তখন আমার সুস্থ অবস্থায় ছুটে যাওয়া কিছু নামাযের কাযা পড়ি। এখন আলহামদুলিল্লাহ আমার হাঁটুতে কোনো ব্যথা নেই। রুকু-সিজদা ঠিকভাবে করতে পারি। জানার বিষয় হল, অসুস্থ থাকাকালীন সুস্থ অবস্থায় ছুটে যাওয়া যে নামাযগুলোর কাযা পড়েছিলাম সেগুলো কি এখন পুনরায় পড়তে হবে?