সিজদা

একাকী ফরয নামায আদায় করার সময় কি কেরাত জোরে পাঠ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৬) : আমার বাবা ঘরে একাকী ফরয নামায পড়ার সময় যোহর আসরসহ সকল নামাযে স্বশব্দে ইকামত দেন ও স্বশব্দে কেরাত পড়েন। যেসকল নামাযে ইমাম সাহেব নিম্নস্বরে কেরাত পড়ে থাকেন ঐসকল নামাযেও জোরে পড়েন। এসব নামাযেও তার জন্য উচ্চস্বরে কিরাত পড়া কি ঠিক হচ্ছে? আর ঠিক না হলে তার আদায়কৃত নামাযগুলোর বিধান কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

রুকু-সিজদায় যাওয়ার পর পিছনের সতর খুলে গেলে কি নামায নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৫) : অনেক সময় মসজিদে কিছু মুসল্লী ভাইকে দেখা যায় তারা এমন খাটো শার্ট, প্যান্ট ইত্যাদি পরে নামায পড়তে আসে যে, রুকু-সিজদায় গেলে পিছনের সতর খুলে যায়। এতে অনেক সময় তার পিছনের মুসল্লীদের বিব্রত হতে হয়। এখন আমি জানতে চাই, এমন কাপড় পরিধান করে নামায পড়ার কী হুকুম? এতে পিছনের মুসল্লীদের নামাযের কোনো সমস্যা হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মুসাফির ব্যক্তি যোহরের নামায চার রাকাত আদায় করলে কি তা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৭৮৬) : সফর অবস্থায় আমরা দুই সাথী একদিন মসজিদে জামাত না পেয়ে নিজেরা জামাত করি। সফরে সবসময় কসর করলেও যেহেতু মসজিদে জামাতে নামায পড়লে পূর্ণ চার রাকাতই পড়া হয় এ হিসাবে আমিও চার রাকাত নামায পড়াই। ঘটনাক্রমে ভুলবশত প্রথম বৈঠক করিনি। তাই সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করি। নামায শেষে আমার সাথীটি বলল, নামায সহিহ হয়নি। কেননা, মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাত পড়ার ক্ষেত্রে প্রথম বৈঠক না করলে নামায নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি আমার বোধগম্য হয়নি। কেননা আমি তো সাহু-সিজদা করেছি। তাই সে পুনরায় নামাযটি পড়লেও আমি পড়িনি। জানার বিষয় হল, তার কথাটি কি ঠিক? আমাদের ঐ দিনের যোহরের নামায সহিহ হয়েছে কি?

সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করার পর রুকুতে চলে গেলে কি তিলাওয়াতে সিজদা আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২৭৮৫) : একদিন আমাদের মসজিদের হাফেজ সাহেব তারাবীর নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করেও কোনো সিজদা করেননি। নামায শেষে আমি ইমাম সাহেবকে বিষয়টি বললাম। তিনি বললেন, রুকুতে সিজদা আদায় করা হয়েছে। তার কথাটি আমার বোধগম্য হয়নি। তাই জানার বিষয় হল, রুকুতে সিজদা আদায় হবে কি না?

সালাম ফিরানোর সময় সাহু সিজদা দেওয়ার কথা মনে পড়লে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৭৪৪) : আমি যোহরের নামাযে প্রথম বৈঠকে ভুলে দরূদ শরীফ পড়ে ফেলি। কিন্তু সিজদায়ে সাহু করতে ভুলে যাই। দ্বিতীয় সালামের পরই সিজদায়ে সাহুর কথা মনে পড়ে। এরপর আমি নামায পুনরায় পড়ে নেই। এখন জানার বিষয় হচ্ছে, দ্বিতীয় সালামের পরপরই বা এক সালামের পর যদি সিজদায়ে সাহুর কথা স্মরণ হয় তাহলে এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী?

ফরয নামাযের তৃতীয়-চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে ফেললে কি সিজদায়ে সাহু আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৭৪২) : কিছুদিন আগে এক বয়ানের মজলিসে এক ভাই নামাযের মাসায়েলের আলোচনা করতে গিয়ে বললেন- ‘ভুলবশত ফরয নামাযের তৃতীয়-চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে সূরা মিলিয়ে ফেললে সিজদায়ে সাহু করা আবশ্যক হয় না।’ জানার বিষয় হল, তার এই কথা কি ঠিক?

মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে সিজদায় পেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৬৯৯) : অনেক সময় মসজিদে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব সিজদারত আছেন। তখন কেউ কেউ ওই অবস্থায় ইমামের সঙ্গে নামাযে শরীক হয়। আবার অনেকে ইমাম সাহেব সিজদা থেকে উঠার অপেক্ষায় থাকে। যখন ইমাম সাহেব সিজদা থেকে দাঁড়ান, তখন নামাযে শরীক হয়। জানার বিষয় হল, ইমামকে সিজদা অবস্থায় পেলে করণীয় কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

নামাযের বৈঠকে ভুলে তাশাহ্হুদের পরিবর্তে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেললে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হয়?

প্রশ্ন (১২৬৮৯) : আমি ইশার নামাযে ইমামতি করছিলাম। প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের বদলে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি। পরে তাশাহহুদ পড়ে যথানিয়মে নামায শেষ করার পূর্বে সাহু সিজদা দিয়ে নিই। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত নামায কি হয়েছে?

সিজদায় হাতের আঙ্গুল কি মিলিয়ে রাখতে হবে?

প্রশ্ন (১২৬৬৪) : একদিন মসজিদে নামায পড়ছিলাম। নামাযের পর এক ব্যক্তি বললেন, নামাযে সিজদা অবস্থায় উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ স্বাভাবিকভাবে রাখার নিয়ম। সিজদা অবস্থায় আপনার হাতের আঙ্গুলগুলো মিলানো ছিল। এটা নিয়মপরিপন্থী। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, তার কথা কি ঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

হায়েযগ্রস্ত মহিলা কুরআন তিলাওয়াত শুনলে কি তার উপর সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৬৫৮) : আমার ছেলে হিফয বিভাগে পড়ে। বাড়িতে আসলে সে অনেক সময় কুরআন তিলাওয়াত করে। তখন তার পাশে বসে আমি তার তিলাওয়াত শুনি। একদিন সে তিলাওয়াত করছিল। আর আমি পাশে বসে শুনছিলাম। তিলাওয়াতের মাঝে সে একবার বলে উঠল, আম্মু! সিজদার আয়াত পড়েছি। আপনাকেও সিজদা করতে হবে। হুজুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আমি ঐ সময় হায়েয অবস্থায় ছিলাম। এ অবস্থায় সিজদার আয়াত শোনার কারণে কি আমার উপর সিজদা ওয়াজিব হয়েছে? পবিত্র হওয়ার পর তা আদায় করতে হবে? এ ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

সিজদায়ে তিলাওয়াতে কি তাসবীহ পড়তে হয়?

প্রশ্ন (১২৬৪৯) : আমি প্রতিদিন কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করি। তাই অনেক সময় সিজদার আয়াত পড়া হয়। সাধারণত আমি সিজাদায়ে তিলাওয়াতে কোনো দুআ পড়ি না। কিছু দিন আগে আমাদের প্রতিবেশী এক আলেম বললেন, নামাযের সিজদার মত সিজদায়ে তিলাওয়াতেও তাসবীহ পড়তে হয়। এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আসলেই কি নামাযের সিজদার ন্যায় সিজদায়ে তিলাওয়াতেও তাসবীহ পড়া নিয়ম? যদি পড়ার বিধান থাকে তাহলে سبحان ربي الأعلى ছাড়া অন্য কোনো দুআ পড়া যাবে কি না? দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

মসজিদের ভেতরে হেঁটে হেঁটে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলে কি একাধিক সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৬৪১) : আমি গত রমযান মাসে তারাবীহর পড়া ভালোভাবে ইয়াদ করার জন্য মসজিদে বসে তিলাওয়াত করি। কখনো মসজিদের ভেতরে হেঁটে হেঁটে তিলাওয়াত করি। এখন প্রশ্ন হল একটি সিজদার আয়াত মসজিদের ভেতরে হেঁটে হেঁটে বারবার পড়ার কারণে আমার উপর কি একাধিক সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব হবে? নাকি একটিই ওয়াজিব হবে?

শুধু সিজদার মাধ্যমে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬২৭) : আমি ঢাকা মেডিকিলের ২য় বর্ষের ছাত্র। গত বছর তিন সেমিস্টারেই আমার ফলাফল খুব ভালো হয়। আমার আম্মাকে দেখতাম ফলাফলের সংবাদ শুনতেই তিনি সিজদা দিয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন। এছাড়াও আরো কয়েকবার খুশির সংবাদ এলে তাকে এভাবে সিজদা আদায় করতে দেখেছি। আমার আম্মাকে ছাড়া অন্য কাউকে এভাবে সিজদা করতে না দেখায় বিষয়টি আমার কাছে নতুন মনে হচ্ছে। তাই হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এভাবে সিজদা করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা প্রমাণিত কি না? দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

শেষ বৈঠকে দুইবার তাশাহ্হুদ পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৬১৩) : কিছুদিন আগে যোহরের চার রাকাত সুন্নত পড়ার সময় শেষ বৈঠকে প্রথমবার তাশাহহুদ পড়ার পর আমার সন্দেহ জাগে যে, তাশাহহুদের কিছু অংশ ছুটে গেছে। তাই আবার পুরো তাশাহহুদ পড়ি। এরপর যথানিয়মে নামায শেষ করি। এখন হুযূরের কাছে জানার বিষয় হল, শেষ বৈঠকে দুই বার তাশাহহুদ পড়ার কারণে আমার উপর কি সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়েছিল? যদি হয়ে থাকে, তাহলে এখন আমার করণীয় কী?

নিষিদ্ধ সময়ে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬১১) : সাধারণত আমি সুবহে সাদিকের পর কুরআন শরীফ পড়ি। তাই অনেক সময় সিজদার আয়াতও পড়া হয়। আমি জানি, এসময় নফল নামায পড়া মাকরূহ। হুযূরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এসময় সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা করা যাবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৫৯) : আমি এক মসজিদের ইমাম। আমি জানি, সিজদার আয়াত যদি সূরার শেষে থাকে এবং সিজদার আয়াতের পর এক-দু আয়াত বাকি থাকে, তাহলে সূরা শেষ করে নামাযের রুকুর মাধ্যমে যদিও সিজদা আদায় হয়ে যায়, কিন্তু উত্তম হল, সিজদার আয়াত পড়ে ভিন্নভাবে সিজদা দেওয়া। আমার জানার বিষয় হল, ভিন্নভাবে সিজদা দেওয়ার পর দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট এক-দু আয়াত পড়ে রুকু করবে? নাকি অন্য সূরা থেকে আরো কিছু আয়াত মিলিয়ে রুকু করবে? আর যেসব সূরা সিজদার আয়াতের মাধ্যমে শেষ হয়, যেমন- সূরা ‘আলাক’। সেক্ষেত্রে যদি সূরা শেষ করে সিজদা করে এবং সিজদা থেকে দাঁড়িয়ে কিরাত না পড়েই রুকু সিজদার মাধ্যমে নামায শেষ করে তাহলে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি না? দলীলসহ উক্ত বিষয়গুলোর সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

লাহেক ব্যক্তি নামাযের শেষ বৈঠকে ভুলে তাশাহ্হুদ না পড়ে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেললে কি তার উপর সাহু সিজদা আ…

প্রশ্ন (১২৪৫৭) : কিছুদিন আগে আমাদের মসজিদে একটি বিদেশি জামাত আসে। ঘটনাক্রমে ইমাম সাহেব অনুপস্থিত থাকায় বিদেশি মেহমানদের একজন ইমামতি করেন। ইমাম সাহেব মুসাফির থাকার কারণে তিনি দুই রাকাত পড়ে সালাম ফেরানোর পর আমি বাকি দুই রাকাত পড়ার জন্য দাঁড়িয়ে যাই। আমি এই দুই রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ি এবং যথারীতি নামায শেষ করি। কিন্তু শেষ বৈঠকে ভুলে তাশাহহুদ না পড়ে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি এবং সিজদায়ে সাহু না করেই নামায শেষ করি। জানার বিষয় হল, আমার নামায কি সহিহ হয়েছে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।