সফরের নামাজ (কসর)

মুসাফিরের জন্য কি সফর অবস্থায় কসর করা আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৮১২) : সফর অবস্থায় নামায কসর করা কি জরুরি? কেউ কেউ বলে কসর করা জরুরি নয়। কেউ চাইলে পুরো নামাযও পড়তে পারে আবার কসরও করতে পারে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। এ কথার পর বিষয়টি নিয়ে আমি সংশয়ে পড়ে যাই। দয়া করে আমাকে এর সমাধান জানাবেন।

মুসাফির ব্যক্তি যোহরের নামায চার রাকাত আদায় করলে কি তা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৭৮৬) : সফর অবস্থায় আমরা দুই সাথী একদিন মসজিদে জামাত না পেয়ে নিজেরা জামাত করি। সফরে সবসময় কসর করলেও যেহেতু মসজিদে জামাতে নামায পড়লে পূর্ণ চার রাকাতই পড়া হয় এ হিসাবে আমিও চার রাকাত নামায পড়াই। ঘটনাক্রমে ভুলবশত প্রথম বৈঠক করিনি। তাই সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করি। নামায শেষে আমার সাথীটি বলল, নামায সহিহ হয়নি। কেননা, মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাত পড়ার ক্ষেত্রে প্রথম বৈঠক না করলে নামায নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি আমার বোধগম্য হয়নি। কেননা আমি তো সাহু-সিজদা করেছি। তাই সে পুনরায় নামাযটি পড়লেও আমি পড়িনি। জানার বিষয় হল, তার কথাটি কি ঠিক? আমাদের ঐ দিনের যোহরের নামায সহিহ হয়েছে কি?

শহরের স্থায়ী বাসিন্দা গ্রামে গিয়ে কি কসর করবে নাকি পূর্ণ নামায পড়বে?

প্রশ্ন (১২৭৪১) : আমার গ্রামের বাড়ি খুলনা। ঢাকাতে আমার বাবা বাড়ি করেছেন। তাই আমরা ঢাকাতেই থাকি। গ্রামে আমার বাবার ঘর-বাড়ি কিছুই নেই। বছরে এক-দুইবার আমার বাবা সেখানে চাচাদের বাড়িতে বেড়াতে যান। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমার বাবা সেখানে গিয়ে কি নামায কসর করবেন, না পূর্ণ নামায পড়বেন?

মুকীম অবস্থায় চামড়ার মোজা পরিধান করার পর সফরে বের হয়ে গেলে কতদিন পর্যন্ত মাসাহ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৭১৩) : আমি শুক্রবার সকালে চামড়ার মোজা পরিধান করি এবং ঐ মোজার উপর মাসাহ করে জুমার নামায আদায় করি। এরপর সফরে বের হই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কত দিন পর্যন্ত এই মোজার উপর মাসাহ করতে পারব?

মুসাফির জুমার নামাযের ইমামতি করলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৬৯৬) : আমার বাড়ি মানিকগঞ্জ। কয়েকদিন আগে আমি খুলনায় আমার এক বন্ধুর বাসায় বেড়াতে যাই। সেখানে একটি ছোট মসজিদে জুমা আদায় করি। জুমার খুতবা দেওয়ার পর হঠাৎ খতীব সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন মুসল্লিরা আমাকে ইমামতির জন্যে অনুরোধ করলে আমি নামায পড়াই। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, মুসাফির হয়েও আমি যে জুমার নামাযে ইমামতি করেছি তা কি সহিহ হয়েছিল? না হলে এখন আমার করণীয় কী? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার জন্য কতটুকু পরিমাণ চুল কাটতে হবে?

প্রশ্ন (১২৬৬১) : হজ্ব বা উমরাহ করার পর হালাল হওয়ার জন্য কতটুকু পরিমাণ চুল কাটা আবশ্যক? মাথার চারপাশের কয়েক জায়গা থেকে অল্প অল্প করে চুল কেটে নিলে তার দ্বারা কি হালাল হওয়া যাবে?

সফরে নামায পড়ার বিধান।

প্রশ্ন (১২৬৫৭) : আমি বেনাপোলে থাকি। একদিন একটা প্রয়োজনে যশোর শহরে যাওয়ার দরকার হয়। শহরে পৌঁছার পর আব্বু ফোন করে বললেন, তোমার আপুর বাসা খুলনা থেকে ঘুরে আসো। তাই আমি যশোর থেকে খুলনায় যাই এবং সেখানে এক দিন অবস্থান করি। বেনাপোল থেকে যশোরের দূরত্ব সফর পরিমাণের চেয়ে অনেক কম। অনুরূপভাবে যশোর থেকে খুলনার দূরত্বও সফর পরিমাণ তথা ৭৮ কি. মি. নয়। কিন্তু বেনাপোল থেকে খুলনার দূরত্ব সফর পরিমাণের চেয়ে বেশি অর্থাৎ প্রায় ৮০/৮১ কি. মি. বা তার চেয়ে বেশি। এখন হুজুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে আমি খুলনায় গিয়ে কি কসর পড়ব না পূর্ণ নামায পড়ব? জানিয়ে বাধিত করবেন।

রমযানের রোযার কাফ্ফারা বিরতিহীন রাখা কি আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৬১৭) : আমার স্ত্রীর উপর রমযানের একটি রোযার কাফফারা ওয়াজিব হয়েছিল। কাফফারার ষাটটি রোযার মধ্যে এগারোটি রোযা লাগাতার রাখে। বারোতম দিনে একটি দূরের সফরে বের হলে পথিমধ্যে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে রোযা ভাঙ্গতে বাধ্য হয়। তিন দিনের লাগাতার অসুস্থতার পর চতুর্থ দিন থেকে আবার কাফফারার রোযা রাখতে শুরু করে। এখন প্রশ্ন হল, সে তার গণনা বারোতম রোযা থেকে করবে, না আবার শুরু থেকে শুরু করবে? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? দ্রুত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

সফর সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৪১) : তাবলীগ জামাতের মারকায ঢাকা কাকরাইল মসজিদ থেকে ৪০, ২০, ৭, ৩ দিনের জন্য বিভিন্ন মহল্লা, গ্রাম, শহর, পৌরসভা, থানা বা জেলাভিত্তিক জামাত পাঠানো হয়ে থাকে। এ অবস্থায় তাবলীগ জামাতের ভাইদের নামাযের হুকুম কী হবে? কিছু ভাই বলে থাকেন, তাবলীগ জামাতে বের হয়ে যেহেতু একই মসজিদে ১৫ দিনের বেশি অবস্থান করা হয় না তাই সদা-সর্বদা মুসাফির থাকবে। তাদের এ কথা কতটুকু ঠিক? এখানে আরো উল্লেখ্য যে, একই মসজিদ বা একই মহল্লা, গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা বা জেলার ভিতর ১৫ দিনের বেশি থাকলে নামাযের হুকুম কী হবে?

নফল হজ্ব করা বেশি উত্তম নামি দান-সদকা?

প্রশ্ন (১২৫১৮) : আল্লাহর অশেষ দয়ায় আমি একাধিকবার বাইতুল্লাহর হজ্ব করতে পেরেছি এবং সবসময় চেষ্টা করি, প্রতি বছর না হলেও অন্তত তিন বছরে যেন একবার যাওয়া হয়। সে হিসাবে আমি আগামী বছরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করি। কিন্তু দেশের কিছু অঞ্চলে বন্যা হওয়ায় শত শত পরিবার বিপদের সম্মুখীন হয়। সেখানে আমার কিছু আত্মীয়-স্বজনও আছে। এ অবস্থায় আমাদের ইমাম সাহেব আমাকে পরামর্শ দেন এবারের হজ্বের জন্য জমা করা অর্থগুলো মানবতার সেবায় দান করে দিতে। তিনি বলেন, নফল হজ্বের চেয়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বেশি ফযীলতের। তার কথামতো সে অর্থ আমি ঐ খাতে দান করে দেই। এখন চিন্তা হচ্ছে, আসলে কোনটা উত্তম ছিল, দান করে দেয়া, নাকি হজ্বে যাওয়া। এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানিয়ে আমাকে আশ্বস্ত করবেন।

লটারির টাকা কি হালাল হবে?

প্রশ্ন (১২৫০১) : আমি সাধারণ চাকরিজীবী। সাংসারিক ব্যয়ের পর যে অতিরিক্ত টাকা হাতে থাকে তা আমি হজ্বের উদ্দেশ্যে একটু একটু করে জমাতে থাকি। এভাবে হজ্ব কাফেলায় জমা দেওয়ার মতো অর্থ জোগাড় হয়ে যায়। এদিকে আমার একটি লটারি ড্র হওয়ায় আরো কিছু টাকা হাতে আসে। আগের জমানো অর্থগুলো হজ্ব কাফেলায় দিয়ে লটারি থেকে পাওয়া অর্থ নিজের সঙ্গে রাখি এবং গোটা সফরে ব্যক্তিগত বেশ কিছু খরচ তা দিয়ে নির্বাহ করি। হজ্ব শেষে মক্কায় আমার এক প্রবাসী বন্ধুর সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপকালে তিনি আমাকে জানালেন, লটারির টাকা হারাম! আর হারাম টাকা দিয়ে হজ্ব করলে হজ্ব হয় না। এতে আমি ভীষণ চিন্তিত হলাম। লটারির ঐ টাকা যে কেন সঙ্গে নিয়েছিলাম সেজন্য অনুতপ্ত হলাম। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার হজ্ব কি একেবারেই হয়নি? নাকি হলেও অসম্পূর্ণ হয়েছে? সেক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? আমার খটকার মূল কারণ, আমার হজ্ব সফরের মৌলিক খরচ, যা কিনা আমি হজ্ব কাফেলায় জমা দিয়েছি তা তো নিঃসন্দেহে হালাল। প্রাসঙ্গিক খরচ সন্দেহযুক্ত হওয়াতে কি হজ্বের উপরে তার প্রভাব পড়বে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

নারীরা মাহরাম ছাড়া হজ্বে যেতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০০) : আমি শুনেছি যে, মহিলারা মাহরাম ব্যতিরেকে আটচল্লিশ মাইল বা এর চেয়ে বেশি দূরত্বের সফর একাকী করতে পারে না। যে পরিমাণ অর্থ থাকলে হজ্ব ফরয হয় তা আমার আছে। কিন্তু মাহরামকে সঙ্গে নেয়ার মতো পথ খরচ ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের মতো সামর্থ্য আমার নেই। এদিকে আমার পড়শী এক দম্পতি এ বছরই হজ্বে যাচ্ছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রতিবেশী মহিলার সাথে আমি কি হজ্বের সফরে যেতে পারি? কারণ আমার না হলেও তার তো মাহরাম আছে এবং এতে করে মাহরামের যে প্রয়োজনীয়তা, তথা নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত হওয়া- তা তো হয়েই যাচ্ছে। আর যদি এভাবেও আমার যাওয়ার অনুমতি না থাকে শরীয়তে তাহলে ফরয হজ্ব আদায়ে আমার করণীয় কী?

কসর সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৭৫) : আমি ঢাকা লালমাটিয়ায় এলাকায় থাকি। বাড়িতে যাওয়ার সময় অনেকক্ষেত্রে আমাকে আমার ছোট ভাইয়ের মাদরাসা (কেরানীগঞ্জ) যেতে হয়। ওখান থেকে তাকে নিয়ে আবার লালমাটিয়া হয়ে এয়ারপোর্ট দিয়ে বাড়ি (সিলেট) যেতে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, কেরানীগঞ্জ তো সিটির বাইরে। তাই সেখানে গেলে কি আমি কসর করতে পারব। কেরানীগঞ্জ থেকে লালমাটিয়া হয়ে এয়ারপোর্ট যাওয়ার সময় আমি যদি মুহাম্মদপুর বা লালমাটিয়ায় নামায পড়ি তাহলে আমি কসর করব, না পূর্ণ নামায পড়ব। দলীলসহ উত্তর জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। জাযাকুমুল্লাহু খায়রান।

মুসাফির ব্যক্তি রোযা না রাখলে তার জন্য করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২৩০৩) : গত বছর শাবান মাসের ত্রিশ তারিখে রাত দশটায় আমি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার জন্য প্লেনে উঠি। আমেরিকায় যখন নিজের বাসায় পৌঁছাই তখন দুপুর একটা বাজে। সেখানে দ্বিতীয় রমযান চলছিল। সফরের কারণে আমি রোযা ছিলাম না। তাই বাসায় এসে দুপুরের খাবার খাই, কিন্তু পরে সন্দেহ হয় যে কাজটি ঠিক হল কি না। হুজুরের কাছে প্রশ্ন হল, আমার এ কাজটি কি শরীয়তসম্মত হয়েছে?

নামায কসর করা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২৯০) : আমার গ্রামের বাড়ি সিলেট। আমি লন্ডনে থাকি । লন্ডনের সিটিজেনশিপ আছে। সিলেটে আমাদের বাড়ি ও জায়গা-জমি আছে। বছরে আব্বা-আম্মাসহ একাধিকবার দেশে আসা হয়। সামনে আমার বিবাহ-শাদী ইত্যাদি দেশেই করার খেয়াল এবং লন্ডন ও বাংলাদেশ উভয় দেশেই থাকার খেয়াল। কিছু সময় দেশে থাকব, বাকি সময় লন্ডনে থাকব। জানার বিষয় হল, আমি দেশে আসলে কি কসর করব?

জাহাজ সমুদ্রে থাকাকালীন যাত্রীদের জন্য মুকিম হওয়ার নিয়ত প্রযোজ্য নয়।

প্রশ্ন (১২২৫২) : আমি মাছ ধরার একটি সামুদ্রিক জাহাজ চালিয়ে থাকি। অনেক সময় দেখা যায়, তীরবর্তী এলাকাগুলোতে মাছ ধরা যায় না। আমরা তখন গভীর সমুদ্র অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানা পর্যন্ত পৌঁছি, যা সফরের দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি এবং একাধারে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০-২৫ দিন থাকি। লক্ষ্য অর্জন হলে গন্তব্যে ফিরে আসি। হুযুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি, উক্ত স্থানটিতে থাকাকালীন আমি এবং আমার অন্য সাথীরা কীভাবে নামায পড়ব? কসর না পূর্ণ নামায পড়ব?

জাহাজ সমুদ্রে থাকাকালীন যাত্রীরা মুকিম হওয়ার নিয়ত করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২২৪৮) : আমি মাছ ধরার একটি সামুদ্রিক জাহাজ চালিয়ে থাকি। অনেক সময় দেখা যায়, তীরবর্তী এলাকাগুলোতে মাছ ধরা যায় না। আমরা তখন গভীর সমুদ্র অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানা পর্যন্ত পৌঁছি, যা সফরের দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি এবং একাধারে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০-২৫ দিন থাকি। লক্ষ্য অর্জন হলে গন্তব্যে ফিরে আসি। হুযুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি, উক্ত স্থানটিতে থাকাকালীন আমি এবং আমার অন্য সাথীরা কীভাবে নামায পড়ব? কসর না পূর্ণ নামায পড়ব?

সফরে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে এক ওয়াক্তে পড়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২২১২) : আমি রিয়াদের মুহাম্মদ বিন সাউদ ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্র। আমাদের ভার্সিটি থেকে প্রায়ই ছাত্র জামাত ওমরার উদ্দেশ্যে মক্কায় গিয়ে থাকে। সুযোগ হলে আমিও তাদের সাথে শরীক হই। আমার সফরসঙ্গীরা তাদের হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী যাত্রাপথে বিরতি দিয়ে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করে নেয়। কিন্তু আমাদের হানাফী মাযহাব অনুসারে যেহেতু দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে পড়ার নিয়ম নেই, তাই আমি তাদের সাথে জামাতে শরীক না হয়ে শুধু ওয়াক্তের নামায একাকী পড়ি। পরবর্তী ওয়াক্তের নামায সফরে বিরতি না হওয়ার কারণে বাধ্য হয়েই আমাকে কাযা করতে হয়। অবশ্য আমাকে অনেকে বলেছেন, তুমি চাইলে তাদের সাথে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে পড়তে পারো। আসলেই কি এভাবে দুই ওয়াক্তের নামায আমার জন্য একত্রে পড়ার সুযোগ রয়েছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

ঈদের নামাযের আগে কুরবানী করলে কি কুরবানী আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২১৭৭) : আমি চট্টগ্রামে থাকি। কোনো কারণে গত কুরবানীর ঈদটি ঢাকার একটি এতীমখানায় করতে হয়। মুসাফির থাকায় আমার উপর তো আর কুরবানী ওয়াজিব ছিল না। কিন্তু আমার স্ত্রী ও বড় মেয়ে ছাহেবে নেসাব হওয়ায় তাদের পক্ষ হতে কুরবানী আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি গরু ক্রয় করি এবং তাদের অনুমতিক্রমে গোশত এতীমখানায় দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা করি। ঈদের আগের রাতে শুনি যে, ফজরের আগেই একটি গরু জবাই করা হবে। কারণ অনেক ছাত্র আছে, যাদের কাছে খাবার পৌঁছানো সম্ভব নয় বিধায় আগেই তাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করতে হয় এবং তা পিকআপ ভ্যানে ছাত্রদের সাথে দিয়ে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ফজর নামাযের ২৫ মিনিট পূর্বে আমার গরুটি জবাই করা হয় এবং তা রান্না করে ছাত্রদের সাথে দিয়ে দেওয়া হয়। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, মুসাফির থাকা অবস্থায় ঈদের নামাযের আগে আমার গরুটি জবাই করা কি সহিহ হয়েছে এবং এর দ্বারা আমার স্ত্রী ও মেয়ের কুরবানী কি আদায় হয়েছে?

রোযা রেখে ভেঙে ফেললে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১৬৩) : গত বছর রমযানে প্রায় এক সপ্তাহ সফরে ছিলাম। সফরের কিছুদিন রোযা রাখতে পারিনি। মুহাররাম মাসে তা কাযা করতে শুরু করি। কতদিন রোযা রাখিনি- নিশ্চিতভাবে এ সংখ্যাটি মনে ছিল না। চারদিন রোযা রাখার পর পঞ্চম দিন রোযা রাখা অবস্থায় ঘটনাক্রমে এক সাথীর সাথে দেখা হয় যে ঐ সফরে আমাদের সাথে ছিল। সে আমাকে জানালো যে, আমরা কেবল তিন দিন রোযা রাখিনি। অবশিষ্ট দিনগুলোতে নিশ্চিতভাবেই রোযা রেখেছি। বিষয়টি জানার পর আমি পঞ্চম দিনের রোযাটি ভেঙে ফেলি। কিন্তু পরে জানতে পারলাম যে, রোযা শুরু করার পর তা পূর্ণ করা জরুরি। শুরু করার পর ভেঙে ফেললে এর কাযা করতে হবে। জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রেও কি আমাকে এ রোযার কাযা করতে হবে?