সফরের নামাজ (কসর)

দুগ্ধদানকারিনী মহিলা রোযা ভাঙতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৯৪) : আমাদের সন্তান হয়েছে ১ মাস হলো। আমার স্ত্রী শারীরিকভাবে দুর্বল। রোযা অবস্থায় দুধ খাওয়ালে তার রোযা রাখতে খুব কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে সন্তান দুধই পায় না। সে দুটি রোযা রেখে ভেঙে ফেলেছিল। ডাক্তারের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি বাচ্চাকে সাগু ও সেরেলাক খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু বাচ্চা এগুলো খেতে চায় না। এদিকে তার মা রোযাও রাখতে চায় ওদিকে সন্তানের সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে শরয়ী সমাধান জানালে আমরা কৃতজ্ঞ হবো। আর যে দুটি রোযা রেখে ভেঙ্গে ফেলেছে তার কাযা কাফফারা দিতে হবে কি?

জুমার নামায কি চার রাকাত ছিল?

প্রশ্ন (১৩৩১৪) : কেউ কেউ বলে, জুমার নামায চার রাকাত ছিল। চার রাকাত থেকে দুই রাকাত করা হয়েছে। দুই রাকাত এর পরিবর্তে দুই খুতবাহ এবং বাকি দুই রাকাত হচ্ছে নামায। জানতে চাচ্ছি, এই কথা কতটুকু সঠিক? দয়া করে দলিলসহ জানাবেন।

কসরের হুকুম জানা সত্ত্বেও কসর না করলে কি নামায আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩২৯৩) : আমি মাঝে মাঝেই কাজের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ যাতায়াত করি। সফরে কসর করতে হয় এ মাসআলা আমি জানতাম। কিন্ত কখনো কখনো সফরের সময় তা আমার স্মরণ থাকত না। তাই পথিমধ্যে আসর ও মাগরিব পূর্ণ নামাযই আদায় করতাম। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার জানা থাকা সত্ত্বেও এতদিন যাবৎ আমি যে সফর অবস্থায় পূর্ণ নামায পড়েছি এর কী হুকুম? উক্ত নামাযগুলো আমাকে কি পুনরায় আদায় করে নিতে হবে? আমার তো সব স্মরণও নেই। বিস্তারিত জানালে খুশি হব।

মুকীম ইমামের পিছনে মুসাফির ব্যক্তির আদায়কৃত আসরের নামায ফাসেদ হয়ে গেলে তা কত রাকাত কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩২৯০) : আমি সিলেট থেকে সফর করে ঢাকায় আসছিলাম। আমাদের বাস যখন হবিগঞ্জ অতিক্রম করছিল তখন আসরের নামাযের সময় হয়ে যায়। বাসটি একটি মসজিদের পাশে থামিয়ে যাত্রিদেরকে নামাযের জন্য সময় দেয়া হয়। আমরা নেমে সে মসজিদের মুকীম ইমামের পেছনে আসরের চার রাকাত নামায আদায় করি। নামায শেষে ইমাম সাহেব ঘোষণা করেন, নামায হয়নি, আবার পড়তে হবে। এদিকে আমাদের বাস ছাড়ার সময় হয়ে যায়। তাই আমরা দ্রুত গিয়ে বাসে উঠে যাই। জানার বিষয় হল, এখন আমরা উক্ত নামায কয় রাকাত কাযা করব?

মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাতবিশিষ্টি নামায কসর করতে ভুলে কি তার নামায আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩২৫৮) : মুসাফির ব্যক্তি যদি চার রাকাতবিশিষ্ট ফরয নামাযে দুই রাকাত কসর না পড়ে ভুলে চার রাকাত পড়ে ফেলে তাহলে তার নামায আদায় হবে কি?

ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর সফরে বের হয়ে নামায কাযা হলে তা আদায় করবে কিভাবে?

প্রশ্ন (১৩২২১) : রাত আটটায় আমার একটি সফর ছিল ট্রেনে। আর এশার নামাযের সময় হয় রাত সাতটায়। ট্রেন ছাড়ে আমার মুকিম অবস্থায়। রাস্তায় থাকার কারণে আমি সেদিন ইশার নামায আদায় করতে পারি নি। পরবর্তীতে ট্রেনে ভিড়ের কারণে নামায পড়তে পারিনি। এখন প্রশ্ন হল, আমি কি কাযা আদায়ের সময় কসর করব না পূর্ণ নামায পড়ব?

মাহরাম ছাড়া ওমরাহ করলে কি ওমরাহ আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩১৬৪) : কিছুদিন আগে আমি আমার বয়স্ক চাচাতো ভাই ও চাচীর সাথে ওমরার সফরে গিয়েছিলাম। যেহেতু চাচী সার্বক্ষণিক সাথেই থাকবেন এবং ছিলেনও, তাই ভেবেছি চাচাতো ভায়ের সাথে সফর করতে দোষ নেই। তাছাড়া অনেকে এমনটা বলেছিলো। কিন্তু মাদরাসা পড়ুয়া আমার ভাগিনা বলেছে আমাদের সফর করা ঠিক হয়নি। আবার কিছু কিছু লোক বলেছেন কোনো অসুবিধা নেই। বিষয়টা দলীলসহ জানতে চাই?

লঞ্চে জামাতের সাথে নামায আদায় করার জন্য কি আযান দেওয়া আবশ্যক?

প্রশ্ন (১৩১৪৪) : আমার বাড়ি বরিশাল। আমি লঞ্চে ঢাকা যাতায়াত করি। যাত্রীদের মধ্যে অনেককে দেখেছি, তারা জামাতের সাথে নামায আদায়ের জন্য আযান দেওয়াকে আবশ্যক মনে করে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, মহল্লার মসজিদে জামাতের সাথে নামায আদায়ের জন্য যেভাবে আযান দিতে হয়, সেভাবে লঞ্চের মধ্যে জামাতের সাথে নামায আদায়ের জন্যও কি আযান দিতে হবে?

বিমানে সফরকারী ব্যক্তি কিভাবে ইফতার করবে?

প্রশ্ন (১৩০৮১) : রমযানে যখন বিমানে সফর করা হয় তখন ইফতারের সময় নিয়ে বেশ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। কারণ, যে দেশ থেকেই সফর শুরু হয় এক সময় দেখা যায়, সে দেশের সময় অনুযায়ী সূর্যাস্ত হয়ে গেছে। কিন্তু বিমান যমিন থেকে কয়েক হাজার ফিট উপরে থাকায় স্পষ্টভাবেই সূর্য দেখা যায়। বিশেষ করে বিমান যখন পূর্বদিক থেকে পশ্চিম দিকে যেতে থাকে। যেমন কেউ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিমানে উঠল। এক্ষেত্রে বিমান যেহেতু পশ্চিম দিকে যাচ্ছে তাই দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা সূর্য চোখের সামনে থাকে। অথচ বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী সূর্যাস্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই। এক্ষেত্রে বিমানের যাত্রীদের যদি সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাহলে দেখা যায় কখনো কখনো রোযার সময় প্রলম্বিত হয়ে ২০-২২ ঘণ্টাও হয়ে যায়। তাই হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ ধরনের অবস্থায় আমরা কখন ইফতার করব?

পনের দিনের বেশি থাকার নিয়তে সফরে গিয়ে এর আগেই চলে আসার নিয়ত করলে কত রাকাত নামায আদায় করবে?

প্রশ্ন (১৩০৪৮) : গত মাসে সফরের উদ্দেশ্যে ইন্ডিয়া গিয়েছিলাম। যাওয়ার সময় পনের দিনের বেশি অবস্থানের ইচ্ছা ছিল। ভিসাও ছিল বিশ দিনের। কিন্তু কোনো কারণে আটদিন থেকে দেশে ফেরার ইচ্ছা করি। প্রথমে তো পনের দিন থাকার ইচ্ছা ছিল, তাই মুকীম হিসেবে পূর্ণ নামাযই পড়েছি। কিন্তু আটদিন পর যখন চলে আসার সিদ্ধান্ত হলো তখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যাই যে, এখন কসর করব নাকি আগের মতই পূর্ণ নামায পড়ব। পরে এ কথা ভেবে পূর্ণ নামায পড়া শুরু করি যে, চার রাকাতের জায়গায় দুই রাকাত পড়লে তো নামাযই হবে না, তবে দুই রাকাতের জায়গায় চার রাকাত পড়লে অন্তত নামায হয়ে যাবে। তাই হুজুরের কাছে আমার জিজ্ঞাসা হল, পরবর্তী সময় কসর না করে পূর্ণ নামায পড়া কি ঠিক হয়েছে?

মুসাফির ব্যক্তি মাসবুক হলে ইমামের সালাম ফিরানোর পর কত রাকাত পড়বে?

প্রশ্ন (১৩০৪৭) : কয়েকজন মুসাফির মিলে আসরের নামায জামাতের সাথে আদায় করছিল। এক রাকাত হয়ে গেছে আর এক রাকাত বাকি। ইতিমধ্যে একজন মুসাফির এসে নামাযে শরীক হল। এখন কথা হল এই মুসাফির তো জানে না যে, ইমাম মুসাফির না মুকিম। এখন জানার বিষয় হলো, এই মুসাফির মুসল্লি কত রাকাত নামায পড়বে?

নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর সফরে বের হয়ে উক্ত নামায কাযা হলে কত রাকাত কাযা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩০৪৫) : একদিন বাড়িতে থাকা অবস্থায় যোহরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার পরও নামায না পড়ে সফরে বের হয়ে যাই। পরে কোনো জটিলতার কারণে সফর অবস্থায়ও নামাযটি পড়া হয়নি। জানার বিষয় হল, মুকীম অবস্থায় ওয়াক্ত শুরু হয়ে যাওয়ার কারণে এখন আমাকে কি চার রাকাতের কাযা করতে হবে, নাকি দুই রাকাতের কাযা করলেই চলবে?

মুসাফির ব্যক্তির উপর কি তাকবীরে তাশরীক ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১৩০৪৩) : কুরবানী ঈদে আমি তিন-চার দিনের জন্য চাঁদপুর থেকে ঢাকায় আসি। আমি জানতাম মুসাফিরের উপর তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব নয়। তাই আমি মুসাফির অবস্থায় বিভিন্ন সময় মুকীম ইমামের পেছনে নামায পড়লেও তাকবীরে তাশরীক বলিনি। পরবর্তীতে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জানতে পারলাম, মুসাফির, মুকীম ইমামের একতেদা করলে তার উপরও তাকবীরে তাশরীক ওয়াজিব হয়ে যায়। জানতে চাচ্ছি, তার কথাটি কি সঠিক? সঠিক হলে আমার করণীয় কী?

কোনো মহিলা কি মাহরাম ব্যতীত হজ্বে যেতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩০৩৮) : আমার স্ত্রীর উপর হজ্ব ফরয হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আমি দেশের বাইরে আছি। আমরা দু’জন একসাথে হজ্ব পালন করব। বাংলাদেশ থেকে আমার স্ত্রীকে শ্বশুর সৌদি এয়ারলাইন্স পর্যন্ত দিয়ে যাবেন আর আমি এদিক থেকে তাকে রিসিভ করব। এখন হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, বাংলাদেশ থেকে বিমানে সৌদি আসতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। এমতাবস্থায় এই অল্প কয়েক ঘণ্টা মাহরাম ছাড়া সফর করতে কি কোনো প্রকার অসুবিধা আছে?

ট্রেন চলা অবস্থায় দাঁড়িয়ে নামায পড়তে কষ্ট হলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৯৮৮) : এখন প্রায় সব ট্রেনেই নামায আদায়ের ব্যবস্থা থাকে। তবে ট্রেন চলা অবস্থায় ঝাঁকুনির কারণে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। তাই দাঁড়িয়ে নামায পড়া বেশ কষ্টকর। তাছাড়া নামায পড়া অবস্থায় ট্রেন দিক পরিবর্তন করলে কেবলা ঠিক রাখা সম্ভব হয় না। এমতাবস্থায় সফরকালে ট্রেনে নামায পড়ব কীভাবে? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুন্নত নামাযের কি কসর আছে?

প্রশ্ন (১২৯৭৪) : আমি ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় সফর করি। আমার জানার বিষয় হল, সুন্নত নামাযের কি কসর করতে হয়? আর সফর অবস্থায় সুন্নত নামাযের হুকুম কী?

সফরে বের হয়ে যোহরের নামায আদায় করার পর কোনো কারণে ওয়াক্তের মধ্যেই সফর বাতিল করে বাড়িতে ফিরে আসলে কি…

প্রশ্ন (১২৯৫৭) : আমি গত ঈদের ছুটি শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে ৪/৫ মাইল দূরবর্তী স্টেশনে পৌঁছি এবং সেখানে যোহরের নামায কসর করি। কিন্তু পরবর্তীতে বিশেষ কারণে সফর বাতিল করে বাড়িতে এসে দেখি যোহরের ওয়াক্ত এখনো বেশ বাকি। এখন প্রশ্ন হল, আমাকে উক্ত যোহরের নামাযটি কি পুনরায় পূর্ণ চার রাকাত পড়তে হবে?

সফর পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করার পর বাড়িতে ফিরে আসলে নামাযের হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১২৮৮১) : কেউ যদি সফরে বের হয়ে সফরের দূরত্ব অতিক্রম করার আগেই ফেলে যাওয়া কোনো কিছু নিতে আবার বাড়িতে ফিরে আসে তাহলে বাড়িতে আসার পথে সে কসর করবে, না পূর্ণ নামায আদায় করবে?

কুরবানীর পশু ক্রয় করার পর সফরে চলে যাওয়ার কারণে কুরবানী করতে না পারলে করনীয় কী?

প্রশ্ন (১২৮৪৮) : আমার চাচা ঈদের তিন দিন পূর্বে কুরবানীর জন্য একটি খাসি ক্রয় করেন। ঈদের দিন দুপুরে ব্যবসায়িক জরুরি কাজে তিনি সিঙ্গাপুর চলে যান। তাই ঈদের দিন কুরবানী করতে পারেননি। বাসায় তখন অন্য কোনো পুরুষ মানুষ না থাকায় আর খাসিটি কুরবানী করা হয়নি। ঈদের ৫ দিন পর তিনি দেশ আসেন। তখন কুরবানীর সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি উক্ত খাসি জবাই করে সদকা করে দেন। এখন তিনি জানতে চাচ্ছেন যে, তার আসলে কী করা উচিত ছিল? তার উক্ত কাজ কি ঠিক হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

বর্তমান সময়ে ছবি তোলার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৮১৫) : আমরা জানি ইসলামী শরীয়তে কোনো ধরনের ছবি বানানো বা যান্ত্রিক উপায়ে তোলা নিষিদ্ধ। কিন্তু বর্তমান সমাজে কেউ কেউ ছবি ছাপানোকে জায়েয বলেন এবং যেই ছবিকে সম্মান প্রদর্শন করা হয় না, সেই সব ছবিকে জায়েয বলে দাবি করছে। এ বিষয়ে দলিলসহ বিস্তারিত জানতে চাই।