কাযা নামাজ

ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর সফরে বের হয়ে নামায কাযা হলে তা আদায় করবে কিভাবে?

প্রশ্ন (১৩২২১) : রাত আটটায় আমার একটি সফর ছিল ট্রেনে। আর এশার নামাযের সময় হয় রাত সাতটায়। ট্রেন ছাড়ে আমার মুকিম অবস্থায়। রাস্তায় থাকার কারণে আমি সেদিন ইশার নামায আদায় করতে পারি নি। পরবর্তীতে ট্রেনে ভিড়ের কারণে নামায পড়তে পারিনি। এখন প্রশ্ন হল, আমি কি কাযা আদায়ের সময় কসর করব না পূর্ণ নামায পড়ব?

মদীনা যিয়ারতের পর ইহরাম ছাড়া মক্কায় এসে দেশে চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩১৯৫) : হজ্বের পর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনায় গিয়েছিলাম। এরপর সেখান থেকে ইহরাম না বেঁধেই মক্কায় চলে এসেছি। এবং দেশেও চলে এসেছি। এখন উপায় কী?

আদায়কৃত নামায পুনরায় আদায় করতে গিয়ে মনে পড়লে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩১৯০) : আমার মেধাশক্তি খুব দুর্বল। কিছু করার পর মনে থাকে না। নামায পড়েছি কি না এটাও মনে থাকে না। তাই মাঝে মাঝেই আমি নামায পড়িনি ভেবে নামাযে দাঁড়িয়ে যাই। এক-দুই রাকাত পর মনে পড়ে আমি তো নামায পড়েছি। তখন সাথে সাথে আমি নামায ছেড়ে দেই। হুজুরের নিকট জানতে চাই, উক্ত অবস্থায় এভাবে নামায ছেড়ে দেওয়ার কারণে গুনাহ হবে কি? আর এই নামাযের কাযা করতে হবে কি?

সুস্থ অবস্থার কাযা নামায অসুস্থ অবস্থায় কীভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন (১৩১০৭) : আমার দাদা শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন বিধায় দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে পারেন না। তাই তিনি বসে রুকু সিজদার সাথে নামায আদায় করেন। সুস্থ থাকা অবস্থায় তার কিছু নামায কাযা হয়ে যায়। এখন তিনি সে নামাযগুলো কাযা করতে চাচ্ছেন। জানার বিষয় হল, সুস্থ অবস্থায় ছুটে যাওয়া নামাযগুলো বর্তমানে তিনি কীভাবে কাযা করবেন?

ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর নামায আদায় করার আগে হায়েয চলে আসলে কি উক্ত ওয়াক্তের নামায কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩১০৫) : নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর নামায আদায়ের পূর্বেই আমার ঋতুস্রাব শুরু হয়। জানার বিষয় হল, পরবর্তীতে পবিত্র হওয়ার পর কি আমাকে উক্ত ওয়াক্তের নামায কাযা করতে হবে?

রোযা রাখা অবস্থায় মুখের মধ্যে বৃষ্টির পানি ঢুকে গেলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১৩১০১) : আমি রোযা রেখে বৃষ্টির মধ্যে হাঁটছিলাম। তখন মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার কারণে আমার মুখে কিছু বৃষ্টির পানি ঢুকে ভেতরে চলে যায়। হুযুরের কাছে জানতে চাই, আমার রোযা কি ভেঙ্গে গেছে? আর ভেঙ্গে গেলে কি শুধু কাযা করতে হবে নাকি কাফফারাও দিতে হবে?

বিমানে সফরকারী ব্যক্তি কিভাবে ইফতার করবে?

প্রশ্ন (১৩০৮১) : রমযানে যখন বিমানে সফর করা হয় তখন ইফতারের সময় নিয়ে বেশ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। কারণ, যে দেশ থেকেই সফর শুরু হয় এক সময় দেখা যায়, সে দেশের সময় অনুযায়ী সূর্যাস্ত হয়ে গেছে। কিন্তু বিমান যমিন থেকে কয়েক হাজার ফিট উপরে থাকায় স্পষ্টভাবেই সূর্য দেখা যায়। বিশেষ করে বিমান যখন পূর্বদিক থেকে পশ্চিম দিকে যেতে থাকে। যেমন কেউ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিমানে উঠল। এক্ষেত্রে বিমান যেহেতু পশ্চিম দিকে যাচ্ছে তাই দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা সূর্য চোখের সামনে থাকে। অথচ বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী সূর্যাস্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই। এক্ষেত্রে বিমানের যাত্রীদের যদি সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাহলে দেখা যায় কখনো কখনো রোযার সময় প্রলম্বিত হয়ে ২০-২২ ঘণ্টাও হয়ে যায়। তাই হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ ধরনের অবস্থায় আমরা কখন ইফতার করব?

রমযানের কাযা রোযা আদায় আগে শাওয়ালের নফল রোযা রাখা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৬৩) : গত রমযানে আমি অসুস্থ থাকার কারণে কয়েকটি রোযা রাখতে পারিনি। এখনও তা কাযা হিসাবে রয়ে গেছে। কিন্তু রমযানের পরে কাযা রোযা না রেখে শাওয়ালের নফল রোযা রেখেছিলাম। তাই হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, কাযা রোযা না রেখে নফল রোযা রাখলে তা কি সহিহ হবে?

ঔষুধের মাধ্যমে স্রাব বন্ধ করে রাখলে উক্ত সময়ের নামায-রোযার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১৩০৫০) : বর্তমানে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে মাসিক স্রাব বন্ধ করে রাখা যায়। তাই অনেকে রমযান মাসের সবগুলো রোযা রাখার জন্য ঔষধ সেবনের মাধ্যমে স্রাব বন্ধ করে রাখে। বিশেষত হ্জ্ব চলাকালীন হায়েয আসলে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই অধিকাংশ মহিলা হজ্বের সময়গুলোতে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে স্রাব বন্ধ করে রাখে, যেন হজ্বের আমলগুলো কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই সম্পাদন করা যায়। এজন্য হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, ঔষধ সেবনের মাধ্যমে এভাবে ঋতুস্রাব বন্ধ করে রাখা কি জায়েয আছে? এ অবস্থায় কি সে নামায, রোযা ও তাওয়াফ ইত্যাদি আদায় করতে পারবে? যদি পারে তাহলে পরবর্তীতে এগুলো কাযা করা লাগবে কি না? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

নফল নামায শুরু করার পর মাসিক শুরু হয়ে গেলে কি তা কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩০৪৯) : একদিন শেষ রাতে নফল নামায পড়া অবস্থায় আমার মাসিক শুরু হয়ে যায়। আমার প্রশ্ন হল, উক্ত নফল নামায কি পবিত্র হওয়ার পর কাযা করতে হবে?

নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর সফরে বের হয়ে উক্ত নামায কাযা হলে কত রাকাত কাযা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩০৪৫) : একদিন বাড়িতে থাকা অবস্থায় যোহরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার পরও নামায না পড়ে সফরে বের হয়ে যাই। পরে কোনো জটিলতার কারণে সফর অবস্থায়ও নামাযটি পড়া হয়নি। জানার বিষয় হল, মুকীম অবস্থায় ওয়াক্ত শুরু হয়ে যাওয়ার কারণে এখন আমাকে কি চার রাকাতের কাযা করতে হবে, নাকি দুই রাকাতের কাযা করলেই চলবে?

ইচ্ছাকৃত ভাবে একাধিক রোযা ভেঙে ফেললে কি সবগুলোর কাফ্ফারা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩০০২) : আমি বালেগ হওয়ার পর থেকেই প্রতি রমযানে রোযা রাখি। কিন্তু শুরুতে বন্ধুদের প্ররোচনায় গোপনে পানাহার করে বেশ কিছু রোযা ভেঙে ফেলেছিলাম। এখন আমি সেগুলোর কাযা-কাফফারা আদায় করতে চাচ্ছি। আমি শুনেছি যে, বিনা ওজরে একটি রোযা ভাঙলে ৬০ টি রোযা কাযা হিসেবে রাখতে হয়। তাহলে কি আমাকে প্রত্যেক রোযার জন্য ৬০ টি করে রোযা রাখতে হবে? এ ব্যাপারে কোনো ছাড় আছে কি? শরীয়তের সমাধান জানানোর অনুরোধ রইল।

ভুলে অযু ছাড়া নামায পড়ার পর মনে পড়লে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৯৮৪) : কারো যদি এশার ফরয আদায়ের সময় অযু ভেঙ্গে যায়। নতুন অযু দিয়ে সে সুন্নত ও বিতর আদায় করে। পরে ওয়াক্তের ভিতরেই মনে পড়ে যে, এশার ফরয অযু ছাড়া পড়া হয়েছিল, তখন কি তাকে ফরযের সাথে সুন্নত ও বিতরও পুনরায় আদায় করতে হবে, না শুধু এশার ফরয আদায় করলেই চলবে?

অসুস্থ অবস্থায় রোযা কাযা হওয়ার পর মারা গেলে কি উক্ত রোযার ফিদইয়া দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৯২৩) : আমার ছোট ভাই ২৫ রমযানে অ্যাক্সিডেন্টে মারাত্মকভাবে আহত হয়। প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এবং চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায়ই সে মারা যায়। তাই শেষের পাঁচটি রোযা রাখতে পারেনি। এখন জানার বিষয় হল, অসুস্থাতার কারণে রমযানের শেষের যে রোযাগুলো সে রাখতে পারেনি সেগুলোর ফিদইয়া আদায় করা কি তার উপর ওয়াজিব ছিল? দয়া করে জানাবেন।

নামায শুরু করে ভেঙে ফেললে কি তা কাযা করতে হয়?

প্রশ্ন (১২৯১৭) : আমার বাড়ি ঝিনাইদহ। বাড়িতে যাওয়ার সময় আমি সবসময় রাতে রওনা করি। তাই এশার নামায ফেরিতে পড়া হয়। কিন্তু শেষবার আমি বাড়িতে যাওয়ার সময় মসজিদ থেকে নামায আদায় করে রওনা করি। পরে যখন গাড়ি ফেরিতে আসে তখন আমি আবার নামাযে দাঁড়াই। তখন আমার মনে পড়ল যে, এশার নামায তো গাড়িতে উঠার আগেই পড়া হয়েছে। তখন সাথে সাথে আমি নামায ছেড়ে দেই। এখন জানার বিষয় হল, যে নামায ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তা কি আমাকে কাযা করতে হবে?

কিরান হজ্বের ইহরাম বাঁধার পর কোনো কারণে হজ্বে যেতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৯০৮) : ইদানিং হজ্বের মওসুমে হজ্বযাত্রীদের অনেকে হজ্ব এজেন্সী কর্তৃক বিড়ম্বনার শিকার হন। তাদের মধ্যে কারো কারো বেলায় এমনও ঘটে যে, ইহরাম বেঁধে ফ্লাইটের দোরগোড়ায় যাওয়ার পর ফেরত আসতে হয়। এখন জানার বিষয় হল, কেউ কিরান হজ্বের ইহরাম বাঁধার পর হজ্বে যেতে না পারলে তার করণীয় কী? সে ইহরাম থেকে হালাল হবে কীভাবে? এবং পরবর্তীতে উক্ত হজ্ব কাযা করার নিয়ম কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

ছাহিবে তারতীব ভুলে কাযা নামায আদায় না করে ওয়াক্তিয়া নামায পড়ে ফেললে কি তার নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৯০০) : আমি নূরুল ইযা কিতাবে পড়েছি যে, তারতীব রহিত হওয়ার একটি কারণ হল কাযা নামাযের কথা স্মরণ না থাকা। এখন জানার বিষয় হল, কোনো ছাহিবে তারতীব যদি কাযা নামাযের কথা ভুলে কয়েক ওয়াক্তের ওয়াক্তিয়া নামায পড়ে ফেলে তাহলে যখন ঐ কাযা নামাযের কথা স্মরণ হবে তখন সে কী করবে? আগে কাযা পড়বে, নাকি ভুলে একবার তারতীব সাকিত হয়ে যাওয়ার কারণে আর তারতীব রক্ষা করতে হবে না?

সূর্যোদয়ের সময় নামায পড়লে কি উক্ত নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৯) : আমরা জানি, সূর্যোদয়ের সময় ১০-১৫ মিনিট নামায পড়া যায় না। তা সত্ত্বেও যদি কেউ এ সময় ফজরের নামায পড়ে ফেলে তাহলে কি এর দ্বারা তার ফরয আদায় হয়ে যাবে? নাকি পরে আবার পড়তে হবে? অনুরূপ যদি সূর্যোদয়ের পূর্বে নামায শুরু করার পর নামাযরত অবস্থায় সূর্যোদয় হয়ে যায় তাহলে এ নামাযের হুকুম কী?

আহলে হাদিস ইমামের পিছনে জুমার নামায আদায় করলে কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৮৫৫) : আমার বাসা রাজশাহী। আমি একটি আহলে হাদিস অধ্যুষিত এলাকায় থাকি এবং তাদের মতাদর্শী এক ইমামের পিছনে জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্তের নামায আদায় করি। তিনি আরবীর পরিবর্তে বাংলায় জুমার খুতবা প্রদান করেন। অথচ আমরা জানি, আরবী ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় খুতবা দেওয়া জায়েয নয়। জানার বিষয় হল, বাংলাতে খুতবাদাতা ঐ ইমামের পিছনে আমার জুমার নামায সহিহ হয়েছে কি না? সহিহ না হলে এখন কি আমাকে এতদিনের আদায়কৃত নামাযগুলোর কাযা করতে হবে?