মসজিদ

নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৫৪২) : কিছুদিন আগে আমার মেয়ের একটি ছেলেসন্তান জন্ম হয়। নার্সরা নাতিকে আমাদের কোলে দেওয়ার পর তার কানে আযান দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেই। ঠিক তখনই যোহর নামাযের আযান হয়। আমরা মসজিদের আযানই যথেষ্ট মনে করে পুনরায় তার কানে আর আযান দেইনি। জানার বিষয় হল, মসজিদের আযানের দ্বারা কি নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার সুন্নাত আদায় হয়ে যায়? আর নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার ক্ষেত্রেও কি حي على الصلاة ও حي على الفلاح বলার সময় ডানে-বামে চেহারা ঘোরানোর নিয়ম আছে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

সফর সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৪১) : তাবলীগ জামাতের মারকায ঢাকা কাকরাইল মসজিদ থেকে ৪০, ২০, ৭, ৩ দিনের জন্য বিভিন্ন মহল্লা, গ্রাম, শহর, পৌরসভা, থানা বা জেলাভিত্তিক জামাত পাঠানো হয়ে থাকে। এ অবস্থায় তাবলীগ জামাতের ভাইদের নামাযের হুকুম কী হবে? কিছু ভাই বলে থাকেন, তাবলীগ জামাতে বের হয়ে যেহেতু একই মসজিদে ১৫ দিনের বেশি অবস্থান করা হয় না তাই সদা-সর্বদা মুসাফির থাকবে। তাদের এ কথা কতটুকু ঠিক? এখানে আরো উল্লেখ্য যে, একই মসজিদ বা একই মহল্লা, গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা বা জেলার ভিতর ১৫ দিনের বেশি থাকলে নামাযের হুকুম কী হবে?

কেউ অন্যায়ভাবে মসজিদের জমি দখল করে না দিতে চাইলে তার থেকে জমির মূল্য গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৩২) : আমাদের মসজিদের একটি জমি দীর্ঘদিন থেকে মহল্লার এক ব্যক্তির দখলে ছিল এবং সে জমিটির মালিকানা দাবি করে আসছিল। ২০০৬ সালে সে জমিটি আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দেয়। লোকটি তাতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। ২০০৭ সালে আমরা ক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা করি। সে নানা অপকৌশলে মামলার রায় তার পক্ষে নিয়ে যায়। ২০০৯ সালে আরেক সূত্র ধরে আমরা পুনরায় মামলা করি। দীর্ঘদিন পরে গত বছর আদালত মসজিদের পক্ষে রায় দেয়। সে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। বিষয়টির এভাবে কোনো নিষ্পত্তি না দেখে এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি একটি সমঝোতা করতে চাচ্ছেন যে, যেহেতু সে বাড়ি নির্মাণ করে ফেলেছে তাই জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য মসজিদকে দিয়ে দিবে। জানার বিষয় হল, জমির বিপরীতে এভাবে মূল্য নেওয়া বৈধ হবে কি না? এক্ষেত্রে ঐ লোক কি মূল বিক্রেতা থেকে ক্ষতিপূরণ নিতে পারবে?

মসজিদের জায়গা বেদখল হয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৫২১) : দুই শতাংশ জায়গার উপর একশ বছরের পুরনো একটি মসজিদ রয়েছে। সঙ্গে মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত আরো পাঁচ শতাংশ জমি ছিল। কালক্রমে যা বেদখল হয়ে গিয়েছে। তা আর উদ্ধার করা সম্ভব নয়। এখন মসজিদটি সম্প্রসারিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যা এখানে সম্ভব নয়। তাই মুতাওয়াল্লী চাচ্ছেন, অদূরে চার শতাংশের উপর বড় আকারে মসজিদ করতে। এখন আমার জানার বিষয় হল, আগের মসজিদ ও তার জায়গাটা কোন কাজে ব্যবহার করা হবে? উল্লেখ্য, অতি নিকটে হওয়ার কারণে উভয়টাকে মসজিদ হিসাবে ব্যবহার করা সমীচীন মনে হচ্ছে না। দয়া করে মাসআলাটির সমাধান প্রদান করে বাধিত করবেন।

মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জায়গায় কবর থাকলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৫১৬) : জনাব, ২৫ বছর আগে আমাদের গ্রামের এক মুরব্বী মসজিদের নামে ৫ শতাংশ জায়গা ওয়াকফ করেন। ওয়াকফকৃত জায়গাটির সীমানার মধ্যে ডান পাশে পুরাতন একটি কবর ছিল। আমাদের জানামতে এটি ওয়াকফকারীর নানার কবর। সে সময় আবাদী কম থাকায় মসজিদটি নির্মাণকালে আমরা কবরের দিক থেকে প্রায় দুই শতাংশ জায়গা ছেড়ে তা নির্মাণ করি। এখন মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আমরা চাচ্ছি মসজিদটি বড় করে পূর্ণ জায়গার উপর নির্মাণ করতে। এক্ষেত্রে কী আমাদের জন্য কবরের জায়গাটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে?

অস্থায়ী নামায ঘর গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫১৫) : আমাদের বাজারের মসজিদের সাথে লাগানো একটি পাটের গুদাম ছিল। গুদামের মালিক এই এলাকা থেকে তার ব্যবসা সরিয়ে নেয়ার সময় গুদামটি মসজিদের কল্যাণে ওয়াকফ করে যায়। এরপর মসজিদ কমিটি সেটিকে এক গম ব্যবসায়ীর নিকট গোডাউন হিসেবে ভাড়া দেয়। জুমার দিন মুসল্লি বেশি হওয়া শুরু হলে মসজিদ কমিটি ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে গুদামটির দেয়াল ভেঙ্গে মসজিদের সাথে মিলিয়ে দেয়। এক থেকে দেড় বছর সেখানেও নামায হয়। এখন মসজিদের মূল জায়গাতেই তিন তলা ভবন করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হচ্ছে, এতদিন নামায পড়ার পর এখন ঐ জায়গাটি গুদাম বা দোকান হিসাবে ভাড়া দেওয়া যাবে কি না?

মসজিদের অপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করে দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫১৩) : আমাদের এলাকায় একটি প্রাচীন মসজিদ আছে। মসজিদে অনেক আগের ইসলামী ফাউন্ডেশনের দেওয়া দুটি আলমারি আছে, এগুলো প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও কিছু পুরাতন পাখাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র আছে। মসজিদ বানানোর পর এসকল জিনিসপত্র নতুন করে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তখন বর্তমান জিনিসপত্রের কোনো প্রয়োজন থাকবে না। রেখে দিয়ে কোনো লাভও হবে না। উক্ত জিনিসগুলো ওয়াকফকৃত হওয়ায় তা কী করা হবে- এ নিয়ে দ্বিমত হচ্ছে। কেউ বলছে, এগুলো বিক্রি করা যাবে না। অনেকে এগুলো বিক্রি করে তার অর্থ মসজিদের কাজে ব্যবহার করতে বলছেন। জানার বিষয় হল, এই জিনিসগুলো রেখে দেওয়ার মাঝে কোনো লাভ নেই, তাই এগুলো বিক্রি করে মসজিদের কাজে ব্যয় করার শরয়ী বিধান কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

রাস্তার পাশে মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি আইন অনুযায়ী রাস্তার জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫১২) : আজ থেকে ১৫ বছর আগে আমরা আমাদের এলাকার অভ্যন্তরীণ সাধারণ সড়কের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করি। মসজিদটি নির্মাণকালে আশেপাশে বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট কম থাকায় রাস্তা প্রশস্ত ছিল। তাই আমরা রাস্তার জন্য দেড় ফিট জায়গা- যা সরকারী আইন অনুযায়ী খালি রাখার দরকার ছিল- তা খালি না রেখেই নিজেদের পূর্ণ জায়গার উপর মসজিদটি নির্মাণ করি। পরবর্তীতে যারা রাস্তার পাশে বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট বানিয়েছে, তারাও রাস্তার জন্য দেড় ফিট জায়গা না ছেড়ে ওগুলো বানিয়েছে। ফলে চলাচলের পথ সংকীর্ণ হয়ে মানুষের যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে পৌরসভার পক্ষ থেকে সবার কাছে রাস্তার জন্য জায়গা ছাড়ার নোটিশ এসেছে। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় কি মসজিদের সেই অংশ থেকে রাস্তার জন্য দেড় ফিট জায়গা বের করার অবকাশ আছে, যে অংশটুকু সরকারি আইন অনুযায়ী খালি রাখার দরকার ছিল?

জীবিত অবস্থায় মাদ্রাসা কিংবা মসজিদের জন্য জমি ওয়াকফ করলে এর হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১২৫০৮) : আমার চাচা এক মাস আগে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পূর্বে সুস্থ অবস্থায় তিনি আমাদের গ্রামের মাদরাসার জন্য আট শতাংশের একটি জমি ওয়াকফ করেন। তিনি মৌখিকভাবে বলেছিলেন, ‘আমি আমার এই আট শতাংশ জমি আমাদের গ্রামের মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করলাম। তবে যতদিন আমি বেঁচে আছি ততদিন আমি এই জমির ফল-ফসল ভোগ করব। আমার মৃত্যুর পরে মাদরাসা এটি নিয়ে নিবে।’ চাচার ইন্তেকালের পর চাচাত ভাইয়েরা এক হুযুরকে মাসআলা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন যে, আট শতাংশ জমি যদি মৃতের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ বা তার চেয়ে কম হয় তাহলে সেটা পুরোটাই মাদরাসার হবে। আর যদি এক তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ মাদরাসার জন্য ওয়াকফ হবে। বকিটা ওয়ারিশদের সম্পত্তি বলে বিবেচিত হবে। এখন চাচাত ভাইয়েরা জানতে চায় যে, ঐ কথা কি ঠিক? অনুগ্রহপূর্বক সঠিক মাসআলা জানানোর অনুরোধ রইল।

মান্নতের টাকা মসজিদে দান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০৩) : আমি এক ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগের পর লস হওয়ার আশংকা দেখলে মান্নত করি যে, ‘যদি লাভ হয় তাহলে লাভের ১০% গরীবদের সদকা করব’। আল্লাহর রহমতে উক্ত ব্যবসায় ভালো লাভ হয়। এখন আমাদের মসজিদে নির্মাণ কাজ চলছে। আমি কি উক্ত টাকা এখানে দান করতে পারব?

জোঁক শরীর থেকে রক্ত খেলে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪৯৬) : আমাদের বাসা থেকে মসজিদে যেতে একটা ঝোপঝাড়ের পথ পাড়ি দিতে হয়। কিছুদিন আগে সেই পথ ধরে মসজিদে যাই। মসজিদের কাছাকাছি গিয়ে হঠাৎ পায়ে একটি জোঁক দেখতে পাই, যা রক্তে পূর্ণ ছিল। জামাত দাঁড়িয়ে যাওয়ায় জোঁকটি ফেলে জামাতে শরীক হই। যেহেতু অযু অবস্থায় ছিলাম, তাই নতুন করে অযু করিনি। এখন হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামাযটি কি শুদ্ধ হয়েছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

ফজর ও আসর নামাযে ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর মুসল্লীদের দিকে মুখ করে বসার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৪৯৩) : মসজিদে আমরা সাধারণত দেখি, আসর ও ফজরের নামাযে সালাম ফেরানোর পর ইমাম সাহেব মুসল্লীদের দিকে মুখ করে বসেন। আমার এক সহপাঠী, ধর্মীয় বিষয়ে বেশ পড়াশোনা আছে তার। সে আমাকে একদিন বলল, এই যে মসজিদগুলোতে ইমাম সাহেবরা ফজর ও আসরের পর মুসল্লীদের দিকে মুখ করে বসেন এটা সুন্নতের খেলাফ। মুসল্লিদের বরাবর না বসে মেহরাবের ডান দিকে বা বাম দিকে সামান্য বাঁকা হয়ে বসা উচিত ইমামের। সহপাঠীর কথায় আমি একটু অবাকই হলাম। ব্যাপকভাবে মসজিদগুলোতে ইমাম সাহেবরা কি তাহলে সুন্নতের খেলাফ আমল করে আসছেন? আপনার কাছে তাই জিজ্ঞাসা, এক্ষেত্রে শরীয়তস্বীকৃত পদ্ধতি কী?

মসজিদে একাকী ফরয নামায শুরু করার পর জামাত শুরু হয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৪৯১) : আমাদের গ্রামের বাজার মসজিদে প্রায়ই জামাতের নির্ধারিত সময় থেকে পাঁচ-দশ মিনিট দেরি করে জামাত শুরু করে। তাই অনেক মুসল্লীই জামাতের অপেক্ষা না করে একাকী নামায পড়তে দাঁড়িয়ে যায়। পরে দেখা যায় জামাত শুরু হয়ে যায়। আমিও প্রায় সময় একাকী দাঁড়িয়ে যাই। একবার এশার নামাযে একাকী দাঁড়িয়ে গেলে এক রাকাত শেষ করে দ্বিতীয় রাকাতে যখন কেরাত আরম্ভ করেছি তখন জামাত আরম্ভ হয়ে যায়। এ অবস্থায় আমি বুঝতে পারছিলাম না- আমার কী করণীয়। আমি কি নামায ছেড়ে দিয়ে জামাতে অংশগ্রহণ করব, নাকি পুরো নামায একাকী শেষ করে ফেলব- যেমনটা সাধারণত করে থাকে এখানকার অন্য মুসল্লীরা- নাকি দুই রাকাত পূর্ণ করে জামাতে অংশ নেব। অবশেষে চিন্তা করে দ্বিতীয় রাকাত সমাপ্ত করে জামাতে শরীক হয়ে গেলাম। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে আসলে কী করা উচিত? তাছাড়া আমি যা করেছি তা কি ঠিক হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন। বিস্তারিত বললে ভালো হয়।

জুমার নামাযে একই ব্যক্তির খুতবা দেওয়া ও ইমামতি করা কি জরুরী?

প্রশ্ন (১২৪৮৮) : জুমার নামাযের খুতবা জুমার নামাযের মতোই গুরুত্বপূর্ণ বলে আলেমদের মুখে শুনেছি। আমাদের মসজিদের যিনি খতীব, সাধারণত তিনিই খুতবা দেন এবং নামায পড়ান। কিছুদিন আগে এক জুমায় খুতবা দেওয়ার পর তিনি হাম্মামের জরুরতে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলেন। আর উপস্থিত একজনকে ইমামতির দায়িত্ব অর্পণ করলেন। আমার জানার বিষয়, পরে যিনি নামায পড়ালেন তার ইমামতিতে কি আমাদের জুমা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় হয়েছে? যেহেতু খুতবা তিনি দেননি, তিনি ছিলেন কেবল শ্রোতা। জানালে উপকৃত হব।

মসজিদের সামনে মানুষ চলাচলের রাস্তায় মেহরাব নির্মাণ করা জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১২৪৮৩) : আমাদের মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জায়গার পরিমাণ ছিল চার কাঠা। পুরাতন মসজিদ সেই জায়গার উপরেই ছিল। জুমার দিন দেখা যেত মুসল্লিরা মসজিদের ভিতরে জায়গা না হওয়াতে বাইরে কাতার করত। তাই নতুন করে নির্মাণের সময় মেহরাব ও সামনের কাতারের কিছু অংশ ওয়াকফকৃত জায়গা থেকে সামনের দিকে বাড়িয়ে নেয়। যাতে পূর্ণ এক কাতার বেড়ে যায়। বর্ধিত অংশের জায়গা ছিল মানুষ চলাচলের রাস্তার কিছু অংশ। রাস্তা বড় হওয়াতে মানুষ চলাচলে সমস্যা হয় না। কারণ ঐ গলি দিয়ে গাড়ি চলে না। শুধু মানুষ যাতায়াত করে। এখন মুহতারামের নিকট জানতে চাচ্ছি, ওয়াকফকৃত জায়গা অতিক্রম করে মানুষের চলাচলের জায়গায় মসজিদ বাড়ানো ঠিক হয়েছে কি না? বর্ধিত অংশ মসজিদের হুকুমে কি না? ঐ অংশে দাঁড়িয়ে ইমামতি করলে তা সহিহ হবে কি না? উল্লেখ্য, রাস্তার জায়গার পরিমাণ ছিল আট ফুট। মেহরাবের মধ্যে চলে আসছে সোয়া তিন ফুট।

মসজিদের ক্যাশিয়ার পদে দায়িত্বরত ব্যক্তির জন্য পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা জায়েয হবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৭৪) : আমাদের এলাকার মসজিদের ক্যাশিয়ার সাহেব অত্যন্ত পরিশ্রমী ও বিশ্বস্ত। মসজিদের হিসাব-নিকাশ ও অন্যান্য কাজে অনেক সময় দেন। তিনি সরকারি চাকরি করেন। অর্থনৈতিক কিছু সমস্যার কারণে সম্প্রতি একটি ফার্মেসিতে পার্টটাইম চাকরি নিতে চাচ্ছেন এবং মসজিদের কমিটি থেকে বের হয়ে যেতে যাচ্ছেন। অপরদিকে মসজিদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার কাজ শুরু হয়েছে। এসময় তিনি না থাকলে এবং সময় না দিলে নির্মাণকাজে বিঘ্নতা ঘটতে পারে। কারণ, কমিটির অন্য কেউ তার মতো এতো সময় দেয় না। এসব কারণে কমিটির অনেকে বলছেন, তার জন্য পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হোক। এখন মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি, মসজিদের ফান্ড থেকে তার জন্য পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা কি বৈধ হবে?

মসজিদে বেচা-কেনা করার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২৪৭৩) : আমাদের মসজিদের সিঁড়ির নিচের জায়গা বেশ বড়। মসজিদ কমিটির এক প্রাক্তন সদস্য উক্ত স্থানটি ভাড়া নিয়ে আতর-টুপির দোকান বানাতে চাচ্ছেন। যেহেতু তিনি অনেকদিন পর্যন্ত মসজিদ কমিটির সদস্য ছিলেন, তাই বর্তমান কমিটির অনেকেই তার এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, মসজিদের উক্ত অংশে কি দোকান বানানো বৈধ হবে? উল্লেখ্য, মসজিদের সিঁড়িটি মসজিদের বারান্দা হয়ে উপরে উঠেছে। সিঁড়ির নিচে দোকান বানানো হলে বারান্দাটি ব্যবহার হবে। কারণ ক্রেতারা সেখানে দাঁড়ানো ছাড়া কিছু কিনতে পারবে না।

মসজিদ নির্মাণের জন্য মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জমি বিক্রি করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৬৩) : আমার দাদা প্রায় ৪০ বছর আগে মসজিদ মাদরাসার জন্য এক বিঘা জমি ওয়াকফ করেছিলেন। তখনই একটি মসজিদ এবং ছোট পরিসরে একটি মাদরাসা বানানো হয়। এরপর ছাত্রসংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার কারণে নামাযের সময় মসজিদে তাদের জায়গা হয় না। তাই মসজিদটি বড় করা খুবই দরকার। এজন্য মসজিদ কমিটি আগের ভবনটি ভেঙ্গে বড় করে মসজিদ বানাতে চাচ্ছে। এর জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। তাই মসজিদ কমিটি উক্ত জমির একটি অংশ বিক্রি করে তার অর্থ নতুন মসজিদ নির্মাণে ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছেন। জানার বিষয় হল, ওয়াক্ফকৃত জমিটির একটি অংশ বিক্রি করে তার অর্থ দিয়ে মসজিদ ভবন নির্মাণ করার ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? মাসআলাটির সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

ওয়াকফকৃত জমি ব্যবহার করার বিধান কি?

প্রশ্ন (১২৪৩০) : আমাদের এলাকায় ঈদগাহের জন্য একটি জায়গা ওয়াকফ করা হয়। পরবর্তীতে তার কিছু জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। জানার বিষয় হলো, সেই স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা ঠিক হয়েছে কি না? এবং সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও জুমার নামায আদায় করা সঠিক হবে কি না? যদি মসজিদ নির্মাণ এবং পাঁচ ওয়াক্ত ও জুমার নামায আদায় করা সঠিক না হয় তাহলে এখন করণীয় কী?

জুমার নামায সম্পর্কে দুটি প্রশ্ন।

প্রশ্ন (১২৪২০) : আমি হুজুরের কাছে দুটি বিষয় সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি, ১. জুমার নামাযে কেউ যদি দ্বিতীয় রাকাতের রুকু না পায়; যেমন শেষ বৈঠকে শরীক হল, তবে তার করণীয় কী? সে কি ইমাম সাহেবের সঙ্গে নামাযে শরীক হয়ে যাবে, নাকি মসজিদের এক পাশে একা একা চার রাকাত যোহর পড়ে নেবে? ২. এমন ব্যক্তি যদি ইমামের নামাযে শরীক হয়, তবে সে ইমামের সালাম ফেরানোর পর কত রাকাত পড়বে; দুই রাকাত না চার রাকাত? আমি আগে একজন থেকে শুনেছিলাম, দ্বিতীয় রাকাতের রুকু না পেলে চার রাকাত পড়তে হয়। এখন শুনি দুই রাকাত পড়া নাকি নিয়ম। মাসআলাদুটির সঠিক সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।