পবিত্রতা

কুলি করার পর মুখের ভেতরে পানির যে আর্দ্রতা থাকে তা গিলে ফেললে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৬০৮) : রমযান মাসে অনেককে দেখা যায় যে, তারা অযু করার পর মুখের ভেতরে অযুর পানি থাকার ভয়ে বারবার থুথু ফেলতেই থাকে, ফলে দ্রুত গলা শুকিয়ে যায়। আবার কেউ কুলির পর একবারও থুথু ফেলে না। তো প্রশ্ন হল, অযু করার পর মুখে যে আর্দ্রতা থাকে তা কি থুথুর সাথে গিলে ফেলা যাবে, না ফেলে দিতে হবে? এক্ষেত্রে আসলে সঠিক মাসআলাটি কী?

গোসল ফরয অবস্থায় মাসনূন দুআ পাঠ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৯৭) : আমি জানি, গোসল ফরয অবস্থায় কুরআন শরীফ পড়া যায় না। জানার বিষয় হল, গোসল ফরয অবস্থায় বিভিন্ন স্থানের মাসনূন দুআ কি পড়তে পারব? যেমন বাথরুমে প্রবেশের দুআ ইত্যাদি। দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাযূর ব্যক্তি কি মোজার উপর মাসাহ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৫৯৫) : আমার অসুস্থতার কারণে ডাক্তার প্রস্রাবের রাস্তার সাথে ক্যাথেটার লাগিয়ে দিয়েছে। তাই এক মাওলানা সাহেবের কথামতো আমি নামাযের প্রত্যেক ওয়াক্তে নতুন করে অযু করে নামায পড়ছি। প্রশ্ন হল, আমি এই ওযর থাকা অবস্থায় চামড়ার মোজা পরলে প্রতি ওয়াক্তের অযুর সময় পা না ধুয়ে মোজার উপর মাসাহ করতে পারব কি না?

প্রস্রাব করার পর পানি ব্যবহার না করে শুধু ঢিলা ব্যবহার করলে কি পবিত্রতা অর্জন হয় না?

প্রশ্ন (১২৫৯৪) : আমাদের এলাকার একজন মুসল্লী বলেন যে, প্রস্রাব করার পর পানি থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি পানি ব্যবহার না করে, তবে সে নাপাক থেকে যাবে, তার অযু হবে না। তাই হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হলো, কেউ যদি প্রস্রাব করার পর শুধু টিস্যু বা মাটির ঢিলা ব্যবহার করে শুকিয়ে নেয়, পানি ব্যবহার না করে, তারপর অযু করে নামায পড়ে, তবে কি তার নামায হবে না? পানি ব্যবহার না করার কারণে সে কি নাপাক থেকে যাবে?

বাচ্চার নাপাক কাঁথা ভেজা পানি ফ্লোরে পড়লে সেখানে কি নামায আদায় করা যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৭৮) : বাচ্চার পেশাবের বেশ কিছু কাঁথা-কাপড় মেঝেতে রাখা ছিল। একবার করে হালকাভাবে ধুয়ে শুধু বড় আকারের নাপাকির গন্ধ ও চিহ্ন দূর করা হয়েছিল। পুরোপুরি পাক করা হয়নি। ঐ নাপাক কাপড়ের পানি মেঝেতে লেগে বেশ খানিকটা জায়গা ভেজা মতোন হয়ে যায়। ঘর ছোট হওয়ায় ঐ জায়গা ছাড়া নামায পড়ার মতো আর জায়গাও নেই। এদিকে সময় এত অল্প যে, ঐ জায়গা মুছে পাক করতে গেলে নামাযের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। এ অবস্থায় ঐ মেঝেতে জায়নামায বিছিয়ে নামায পড়লে কি নামায সহিহ হবে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

মসজিদে অবস্থানকারী ব্যক্তি কোনো কারণে রাতে মসজিদ থেকে বের হতে না পারলে কীভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে?

প্রশ্ন (১২৫৭৩) : আমি মাঝে মাঝে তাবলীগে যাই। কখনো কখনো আমাদের জামাতের রোখ প্রত্যন্ত গ্রামে পড়ে। গ্রামের মসজিদগুলোতে সাধারণত অযু-গোসলের ব্যবস্থা মসজিদ থেকে একটু দূরে থাকে। সেখানে মাঝ রাতে যদি গোসলের প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে করণীয় কী? কারণ এমন জায়গায় গভীর রাতে একা একা বের হয়ে গোসল করে নেওয়াটা কঠিন। দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

এসি থেকে নির্গত পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৬৮) : এয়ার কন্ডিশন (এসি) থেকে নির্গত পানি দ্বারা ফরয গোসল কিংবা অযু করা জায়েয হবে কি? বা তা দ্বারা নাপাক কাপড় পরিষ্কার করা যাবে কি?

জোঁক শরীর থেকে রক্ত খেলে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪৯৬) : আমাদের বাসা থেকে মসজিদে যেতে একটা ঝোপঝাড়ের পথ পাড়ি দিতে হয়। কিছুদিন আগে সেই পথ ধরে মসজিদে যাই। মসজিদের কাছাকাছি গিয়ে হঠাৎ পায়ে একটি জোঁক দেখতে পাই, যা রক্তে পূর্ণ ছিল। জামাত দাঁড়িয়ে যাওয়ায় জোঁকটি ফেলে জামাতে শরীক হই। যেহেতু অযু অবস্থায় ছিলাম, তাই নতুন করে অযু করিনি। এখন হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামাযটি কি শুদ্ধ হয়েছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

ফরয গোসলে নাকের ভিতরে পানি না ঢুকিয়ে শুধু ভেজা আঙ্গুল ঢুকালে কি গোসল হবে?

প্রশ্ন (১২৪৮৭) : যদি কোনো ব্যক্তি ফরয গোসলে নাকের ভেতরে পানি প্রবেশ না করিয়ে শুধু আঙ্গুল ভিজিয়ে নাকের ভিতরটা তিন বার ভিজিয়ে নেয় তাহলে তার গোসল হবে কি না? এবং নাকের ভিতরে পানি প্রবেশ করানো ও তা পরিষ্কার করার পদ্ধতি কী?

তেলাপোকা বা এজাতীয় পোকা পানিতে পড়ে মারা গেলে কি উক্ত পানি নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪৪৫) : পানির সমস্যার কারণে আমাদের বাসায় বিভিন্ন পাত্রে পানি ভরে রাখা হয়। কখনো কখনো পাত্রে এক বা একাধিক তেলাপোকা মরা পাওয়া যায়। আমার মা সবসময় এ পানি ফেলে সাবান দিয়ে পাত্রটি ধুয়ে নেন। প্রশ্ন হল, তেলাপোকা মরার কারণে পাত্রের পানির হুকুম কী? তা কি অযু-গোসল কিংবা কাপড় ধোয়া ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করার সুযোগ আছে? সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

বাসের সিটে বসে ঘুমালে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪২৫) : একবার দূরে কোথাও যাচ্ছিলাম। রাতে গাড়িতে উঠেছি। ফজরের সময় দশ মিনিটের জন্য বিরতি দেওয়া হল। আমি এবং আমার পাশের সিটের সাথী একসাথে নামায আদায় করলাম। আমি তো অযু করেছি কিন্তু সে অযু করেনি। তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, আমি অযু করে উঠেছিলাম, আর বাসের সিটে বসে ঘুমালে অযু ভাঙে না। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আবেদন, এ বিষয়ে সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

মলদ্বারে ঔষুধ প্রয়োগ করার পর তা বের হলে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪২৪) : গত রোযায় কোনো এক রাতে এশার নামাযের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শক্রমে মলদ্বারে ঔষুধ প্রয়োগ করি। পরে তারাবীহ পড়ানো শেষ হলে পায়জামায় হাত দিলে ভেজা ভেজা অনুভব হয়। জানার বিষয় হল, মলদ্বারের ভিতর ঔষধ প্রয়োগ করার পর তা যদি বের হয়ে যায়, তাহলে কি অযু ভেঙে যায়?

অযু করার সময় কথা বললে কি মাকরুহ হবে?

প্রশ্ন (১২৪০১) : অযু করার সময় অনেকে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করে থাকে। উত্তর দিতে না পারায় নিজের কাছে অনেক খারাপ লাগে। জানার বিষয়, তার মনের দিকে লক্ষ করে যদি উত্তর দেওয়া হয়, তাহলেও কি অযু মাকরূহ হবে?

কবুতরের বিষ্ঠা কি নাপাক নয়?

প্রশ্ন (১২৩৮৫) : মসজিদের চত্বরে বসে নামাযের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ কবুতরের বিষ্ঠা জামায় এসে পড়ে। পরে টিস্যুপেপার দিয়ে মুছে নামায পড়েছি। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত কাপড় পরে নামায সহিহ হয়েছে, নাকি ওই নামায পুনরায় পড়তে হবে?

ক্ষতস্থান থেকে রক্ত গড়িয়ে না পড়লেও কি অযু ভাঙে?

প্রশ্ন (১২৩৮৪) : মসজিদে যাওয়ার সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে হাত ছিলে যায়। এ অবস্থায়ই নামাযে শরীক হয়ে যাই। নামায শুরু করার সময় হাতের ছিলা জায়গাটা সাদা হয়ে ছিল। যখন নামায শেষ করি তখন দেখি রক্তে চামড়াটা লাল হয়ে আছে। এখন জানার বিষয় হল, আমার এই নামায কি সহিহ হয়েছে?

পবিত্রতা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৭১) : সেদিন ফরয গোসল করতে গিয়ে বালতি থেকে মগ দিয়ে পানি ওঠানোর সময় হাতের আঙ্গুলের অংশে পানি লেগে যায়। এক্ষেত্রে যদিও আমার হাতে দৃশ্যত কোনো নাপাকি ছিল না; তথাপি যেহেতু ফরয গোসল তাই পরে আমার সন্দেহ হলে পাশের একজনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আপনার আঙ্গুলের অংশ পানিতে লাগার কারণে ঐ পানি ব্যবহৃত পানির হুকুমে হয়ে গেছে। আর আপনার ঐ পানি দিয়ে গোসল ও পবিত্রতা অর্জন শুদ্ধ হয়নি। জানার বিষয় হল, তার কথাটি কি ঠিক?

সম্পদ চুরি হওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে নামায্ আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৬৮) : চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে আমার একটি আমের বাগান আছে। আমের সিজনে বাগানে থেকে দেখাশুনা করতে হয়। আমার এই বাগান দেখাশুনা করার জন্যে কয়েকজন শ্রমিকও রয়েছে। এবছর আমের সিজনে একবার আম পেড়ে যমিনে স্তুপ দেওয়া হয়। ঘটনাক্রমে একদিন শ্রমিকরা সবাই ছুটিতে ছিল। আমি ছাড়া আমের স্তুপ দেখার মতো কেউই ছিল না। তাই আমাকে বাগান দেখাশুনা করতে হল। এদিকে দেখাশুনা করতে করতে যোহরের নামাযের সময় হয়ে যায়। ঘটনাক্রমে আমার আশপাশে অযু করার মতো কোনো পানি ছিল না। যদি পানির সন্ধানে দূরে কোথাও বা পাহাড়ের নিচে যাই, তাহলে বাগানে রাখা সব আম ওঁত পেতে থাকা চোরেরা নিয়ে যাবে। তাই আমি ঐদিন যোহরের নামায শেষ সময়ে তায়াম্মুম করে পড়ি। জানার বিষয় হল, এভাবে যদি কেউ তার সম্পদ চুরির ভয়ে তায়াম্মুম করে নামায পড়ে, তাহলে কি তা সহিহ হবে?

ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে নামায পড়া সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৬৭) : কয়েকদিন আগে ফজরের সময় ঘুম ভাঙতে দেরি হয়ে যায়। চোখ খুলে দেখি, সূর্যোদয়ের ১০ মিনিট বাকি আছে। অযু করার জন্য দ্রুত ওয়াশরুমে গিয়ে দেখি লাইনে পানি নেই। তখন পানি খুঁজতে গেলে নামায কাযা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে নামায পড়ে নিই। জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে তায়াম্মুম করে নামায পড়া কি সহিহ হয়েছে?

অযুতে কুলি করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৩৬৪) : আমি ভুলে অযুতে কুলি না করে নামায আদায় করি। জানার বিষয় হল, কুলি করা ছাড়া আমার ঐ অযু হয়েছে কি?

অযু করার সময় এক অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার পর অন্য অঙ্গ ধৌত করলে কি অযু সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৩৬১) : একদিন মসজিদে অযু করার সময় হাত ও মুখ ধোয়ার পর পানি চলে যায়। তখন মসজিদের ফিল্টার থেকে পানি নিয়ে অযু শেষ করি। ততক্ষণে আমার চেহারা এবং হাত শুকিয়ে যায়। জানার বিষয় হল, আমার এ অযু কি শুদ্ধ হয়েছে? এবং তা দ্বারা যে নামায পড়েছি তা কি আদায় হয়েছে?