পবিত্রতা

গোসলের সময় শরীর থেকে পানির ছিটা বালতিতে পড়লে কি কোনো সমস্যা আছে?

প্রশ্ন (১২৩৩৯) : আমাদের পাশের বাড়িতে একজন মহিলা তালীম করেন। আমার আম্মু মাঝেমাঝে সেখানে বসেন। একদিন তালীম থেকে এসে বললেন যে, আজকে তালীমের মহিলা একটি মাসআলা বলল, তার উপর আমল করা তো কঠিন। মহিলা বলেছে, বালতির পানি দিয়ে গোসলের সময় শরীর থেকে পানির ছিটা বালতিতে পড়লে সে পানি দিয়ে গোসল হবে না। জানার বিষয় হল, মহিলার কথা কি ঠিক? অন্যথায় সঠিক মাসআলা কী?

রঙমিস্ত্রি হাত পরিষ্কার করার পরেও হাতে রঙ লেগে থাকলে কি তার অযু শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন (১২৩৩৮) : আমি একজন রঙমিস্ত্রি। রঙের কাজ করে তারপিন ইত্যাদি দিয়ে হাত পরিষ্কার করার পরও অনেকসময় নখের কোণায় কিছু রঙ আটকে থাকে, যা উঠানো খুবই কষ্টকর। জানার বিষয় হল, এমন অবস্থায় আমার অযুর কী হুকুম? আমার অযু কি শুদ্ধ হবে?

সাবান মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করা যাবে কি ?

প্রশ্ন (১২৩২৪) : শুক্রবার জুমুআর পূর্বে কাপড় ধোয়ার জন্য ওয়াশরুমে গিয়েছি। কাপড় ধোয়ার পরপরই পানি শেষ হয়ে যায়। কাপড়গুলো পবিত্র ছিল, শুধু ময়লা হয়েছিল। আর আমার উপর গোসলও ফরয ছিল না। জুমুআর উদ্দেশ্যে গোসল করব। এদিকে নামাযের সময় হয়ে গিয়েছে। তাই কাপড় ধোয়া সাবান মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করে নামায পড়ে নিয়েছি। জানার বিষয় হল, সেই পানি দিয়ে গোসল করা কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে?

বিড়ালের মুখ দেওয়া পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩২৩) : আমরা বান্দরবনে পাহাড়ের উপর বসবাস করি। গরমকালে পানির অনেক সংকট হয়। বহু নিচ থেকে পানি আনতে হয়। তাই একবার পানি আনলে কমপক্ষে এক দিন তা দিয়ে চলতে হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, কখনো কখনো বিড়াল পানিতে মুখ দিয়ে দেয়। তাই জানার বিষয় হচ্ছে, বিড়ালের মুখ দেওয়া সেই পানি কি আমরা অযু-গোসলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারব?

পুরাতন ব্যান্ডেজ খুলে নতুন ব্যান্ডেজ লাগালে কি অযু বা মাসাহ বাতিল হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২৩১০) : আমি একজন রাজমিস্ত্রী। কয়েকদিন আগে নির্মাণ কাজ করার সময় ইটের চাপ লেগে আমার বাম হাতে গুরুতর জখম হয়। ডাক্তার ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিয়েছেন। আমি ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ করে নামায পড়ি। তবে ডাক্তার বলেছেন, এক সপ্তাহ পর থেকে দিনে দুইবার ড্রেসিং করে নতুন ব্যান্ডেজ লাগাতে হবে। জানার বিষয় হল, ড্রেসিং করে নতুন ব্যান্ডেজ লাগালে কি অযু নষ্ট হয়ে যাবে?

পবিত্রতা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩০৯) : কয়েকদিন আগে আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমাকে স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল। ডাক্তার আমার শরীরে স্যালাইন দেওয়ার আগে আমি অযু করে নিয়েছিলাম, যেন সময়মত নামায পড়ে নিতে পারি। তবে আমার হাতে সুচ ঢুকানোর পর স্যালাইন ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ কারণে নলের ভেতর কিছুদূর পর্যন্ত রক্ত বেরিয়ে আসে। এরপর স্যালাইন ছাড়লে আবার তা শরীরের ভেতর চলে যায়। জানার বিষয় হল, ঐ দিন স্যালাইন চলা অবস্থায় উক্ত অযু দ্বারা আমি দুই ওয়াক্ত নামায পড়েছিলাম। ঐ নামাযের কী হুকুম?

চড়ুই পাখির বিষ্ঠা কি নাপাক?

প্রশ্ন (১২২৮৪) : আমি একদিন বড় ভাইয়ের সাথে মসজিদে যাচ্ছিলাম। পথে এক গাছের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় চড়ুই পাখির বিষ্ঠা এসে আমার জামায় পড়ে। মসজিদে পৌঁছে আমি জামা ধুতে চাইলে বড় ভাই বললেন, ধোওয়ার দরকার নেই। চড়ুই পাখির বিষ্ঠা নাপাক নয়। তাড়াতাড়ি জামাতে শরিক হয়ে যাও। নতুবা প্রথম রাকাত ছুটে যাবে। তার কথামত আমি তা না ধুয়েই নামায পড়ে নেই। তাই হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, বড় ভাইয়ের এই কথা কি সঠিক? চড়ুই পাখির বিষ্ঠা জামায় লেগে থাকা অবস্থায় আমার উক্ত নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?

পাট ভিজানো পানি দিয়ে কি অযু-গোসল করা যাবে?

প্রশ্ন (১২২৬০) : আমাদের এলাকায় অনেকেই পাট চাষ করেন। পাটগাছ কাটার পর তা থেকে আঁশ বের করার জন্য খালে বা পুকুরে এগুলো ভিজিয়ে রাখা হয়। কিছুদিন পর পাট পঁচে পানির রং পরিবর্তন হয়ে যায় এবং পানিতে কিছুটা দুর্গন্ধও সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন হল, এই পানি দ্বারা কি অযু-গোসল করা যাবে? এছাড়া পাট ধোয়ার সময় শরীরে বা কাপড়ে এই পানি লেগে থাকলে সে অবস্থায় নামায পড়া যাবে কি না?

জামায় দুধের বাচ্চার বমি নিয়ে নামায আদায় করলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২২৫৮) : আমার সন্তানের বয়স ছয় মাস। দুধপান করার পর সে মাঝে মাঝেই বমি করে। আমার কাপড়ে লেগে যায়, যা প্রতি ওয়াক্তে পরিষ্কার করা কষ্টকর। আবার অনেক সময় মনেও থাকে না। প্রশ্ন হল, এভাবে দুধের শিশুরা বমি করলে সে কাপড়ে নামায পড়ার কী হুকুম?

ইস্তিঞ্জা সংক্রান্ত কয়েকটি প্রশ্ন।

প্রশ্ন (১২২৩২) : ১. একেবারে মাযুর ব্যক্তি নিজে নিজে ইস্তেঞ্জা করতে পারে না। তার ইস্তেঞ্জার কী বিধান হবে? তার স্ত্রী জীবিত নেই। এখন কি ছেলেরা তাকে ইস্তেঞ্জা করিয়ে দিতে পারবে? ২. মহিলাদেরও কি ইস্তেঞ্জার ক্ষেত্রে ঢিলা ব্যবহারের বিধান রয়েছে? ৩. ব্যবহৃত ঢিলা শুকিয়ে গেলে তা দ্বারা কি আবার ইস্তেঞ্জা করা যাবে? ৪. গাছের পাতা কি ঢিলা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে? যদি জায়েয না হয় তাহলে শুধু এভাবে ইস্তেঞ্জা করার পর আদায়কৃত নামাযের কী হুকুম হবে?

এক তায়াম্মুম দিয়ে কত ওয়াক্ত নামায আদায় করা যায়?

প্রশ্ন (১২১২৮) : শীতের মৌসুমে কয়েকদিন আমি তীব্র জ¦রে আক্রান্ত ছিলাম। তায়াম্মুম করে নামায পড়তাম। একজন অত্মীয় আমাকে দেখতে এসে বললেন, ‘একবার তায়াম্মুম করে বারবার নামায পড়া যায় না। প্রতি ওয়াক্তে তায়াম্মুম করে নিও।’ আমি জানতে চাচ্ছি, একবার তায়াম্মুম করে কত ওয়াক্ত নামায পড়া যায়? ইতিপূর্বে আমি এক তায়াম্মুমে (পবিত্রতা থাকা পর্যন্ত) একাধিক নামায পড়েছি। সেগুলোর কী হুকুম?

পানি থাকা সত্ত্বেও তায়াম্মুম করার বিধান।

প্রশ্ন (১২১১৩) : আমরা জানি, পানি না থাকলে অথবা পানি ব্যবহার না করা গেলে ওযুর প্রয়োজন আছে- এমন কোনো ইবাদত করার জন্য তায়াম্মুম করতে হয়। কিন্তু অনেকসময় ওযুর প্রয়োজন নেই- এমন ইবাদতের জন্য পানি থাকা সত্ত্বেও আমি তায়াম্মুম করি। যেমন, দ্বীনী দরস প্রদান বা যিকির করা ইত্যাদি। আবার কখনো পানি থাকা সত্ত্বেও শুধু পবিত্র অবস্থায় থাকার উদ্দেশ্যেও তায়াম্মুম করে থাকি। জানার বিষয় হচ্ছে, আমার এভাবে তায়াম্মুম করা শরীয়তসম্মত হচ্ছে কি না? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

জায়নামাযের এক কোণে নাপাক থাকলে কি নামায আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২১০৩) : গতকাল যোহর নামায পড়ার সময় জায়নামায থেকে একটু একটু দুর্গন্ধ আসে। নামায শেষে জানতে পারি আমার ভাগিনা সকালে প্রস্রাব করেছিল। তখন জায়নামাযের সামনের এক কোণে প্রস্রাব লেগেছে। তা থেকেই দুর্গন্ধ আসছে। কিন্তু নামাযের সময় আমার কোনো অঙ্গ সে নাপাক অংশে লাগেনি। এখন জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে, নাকি তা আবার পড়তে হবে?

পায়ে ব্যান্ডেজ থাকলে কিভাবে ওযু করবে?

প্রশ্ন (১২০৯৫) : রোড এক্সিডেন্টে আমার মামার এক পা ভেঙে গিয়েছে। ডাক্তার তার এ পায়ের রানের গোড়া থেকে পূর্ণ পা ব্যান্ডেজ করে দিয়েছেন। আমি জানতে চাচ্ছি, এখন তিনি কীভাবে ওযু করবেন? যদি কোনো কারণে গোসল ফরয হয় তাহলে তখন গোসল না করে তায়াম্মুম করলে জায়েয হবে কি? দয়া করে জানাবেন।

মুখ ভরে শুধু পানি বমি হলেও কি ওযু ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১২০৮৭) : ফজরের নামাযের জন্য ওযু করে দুই-তিন গ্লাস পানি পান করি। একটু পর মসজিদে যাওয়ার পথে আমার বমি বমি ভাব হয়। এরপর বেশ পরিমাণ পানি মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ওযু ভাঙার সন্দেহ হলে আমি সতর্কতামূলক আবার ওযু করে নিই। মুহতারামের কাছে জানতে চাচ্ছি, মুখ দিয়ে এরকম শুধু পানি বেরিয়ে এলে কি ওযু ভেঙে যায়?

তায়াম্মুম সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০৭১) : আমি কয়েকদিন খুব অসুস্থ ছিলাম। তাই ডাক্তার আমাকে পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিল। তখন আমি তায়াম্মুম করে নামায আদায় করতাম। এর মধ্যে একদিন আমার গোসল ফরয হয়। যেহেতু আমার পানি ব্যবহার করা নিষেধ তাই তায়াম্মুম করেই নামায আদায় করি। এখন আমি সুস্থ হয়ে গেছি। আমি জানতে চাচ্ছি, এখন আমি কি করব? আমি কি শুধু ওযু করেই নামায পড়তে পারব নাকি ঐ ফরয গোসল করতে হবে? সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাছের রক্ত কি নাপাক?

প্রশ্ন (১২০৫৭) : আমি একটি মাছের দোকানে মাছ কাটার কাজ করি। অনেক সময় মাছ কাটতে গেলে মাছের রক্ত আমার শরীরে এবং কাপড়ে লেগে যায়। জানার বিষয় হল, কাপড়ে মাছের রক্ত লাগলে সে কাপড় পরে নামায পড়লে কি নামায সহিহ হবে, নাকি তা ধুয়ে পবিত্র করতে হবে?

অর্ধেক মাথা মাসাহ করলে ওযু হবে কি?

প্রশ্ন (১২০৫৬) : আমি ওযুর মধ্যে সাধারণত পূর্ণ মাথা মাসাহ করি। একদিন তাড়াহুড়োর দরুন পূর্ণ মাথা মাসাহ করতে পারিনি। মোটামুটি অর্ধেকের মত করেছি। মুহাতারামের কাছে জানার বিয়ষ হল, অর্ধেক মাথা মাসাহ করলে ওযু হবে কি?

বিড়ালের মুখ দেওয়া পানি দিয়ে ওযু করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২০৫৫) : আমি মগের মধ্যে পানি ভরে বারান্দায় রেখে প্রস্রাব করতে যাই। এসে দেখি আমাদের ঘরের বিড়াল পানিতে মুখ ‍দিয়েছে। যেহেতু ঘরের বিড়াল, তাই আমি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে অযু করে নিই। পরবর্তীতে আমার মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয় যে,এই পানি দিয়ে আমার ওযু হয়েছে কিনা। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, বিড়ালের ঝুটা পাক না নাপাক? উক্ত পানি দিয়ে অযু করা কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে? উল্লেখ্য, উক্ত পানি ছাড়াও অন্য পানির ব্যবস্থা ছিল।

ওযু করার পর কোনো অংশ শুকনো থেকে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৪৩) : আমি অযু করার পর লক্ষ করলাম, ডান হাতের কিছু অংশ শুকনো রয়ে গেছে। তখন আমি পুনরায় অযু করে নিই। জানার বিষয় হল, উক্ত অবস্থায় আমার করণীয় কী ছিল?