মুকতাদি নামাযে কোনো ভুল করলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?
প্রশ্ন (১২৬৯১) : মাঝে মাঝে ইমামের পিছনে প্রথম বৈঠকে দরূদ পড়ে ফেলি। জানার বিষয় হল এ ভুলের কারণে কি আমার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?
প্রশ্ন (১২৬৯১) : মাঝে মাঝে ইমামের পিছনে প্রথম বৈঠকে দরূদ পড়ে ফেলি। জানার বিষয় হল এ ভুলের কারণে কি আমার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?
প্রশ্ন (১২৬৮৯) : আমি ইশার নামাযে ইমামতি করছিলাম। প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের বদলে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি। পরে তাশাহহুদ পড়ে যথানিয়মে নামায শেষ করার পূর্বে সাহু সিজদা দিয়ে নিই। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত নামায কি হয়েছে?
প্রশ্ন (১২৬৮৭) : ফরয নামায পড়ানোর সময় জাহান্নামের আয়াত পড়তে গিয়ে আমার কান্না চলে আসে এবং কেরাত থেমে যায়। পরে কেরাতের বাকি অংশ শেষ করে নামায পূর্ণ করি। জানার বিষয় হল, এভাবে কান্না করার কারণে আমার নামায কি নষ্ট হয়ে গেছে? মাসআলাটির সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
প্রশ্ন (১২৬৮৫) : একদিন আসরের নামাযে মসজিদে যেতে বিলম্ব হয়ে যায়। মসজিদে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব রুকুতে আছেন। আমি তাড়াতাড়ি তাকবীর বলা অবস্থায় রুকুতে শরীক হয়ে যাই। যেন ইমামকে রুকুতে পেয়ে পূর্ণ রাকাত পেতে পারি। আমার তাকবীর রুকুতে গিয়ে শেষ হয়। এ অবস্থায় আমার নামায কি সহিহ হয়েছে? যদি সহিহ না হয়, তাহলে এ অবস্থায় আমার করণীয় কী ছিল?
প্রশ্ন (১২৬৭৬) : আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে ভর্তি ছিল। সেখানে সে সাত দিন অজ্ঞান অবস্থায় ছিল। এখন আলহামদুলিল্লাহ সে সুস্থ। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, ঐ সময়ের নামাযগুলো সে কীভাবে আদায় করবে?
প্রশ্ন (১২৬৭৪) : একদিন আমি আসরের নামাযে মাসবুক হই। ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর পর বাকি নামায আদায় করতে গিয়ে কত রাকাত পাইনি তা নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে পাশের মাসবুক ব্যক্তি, যে আমার সাথেই নামাযে শরীক হয়েছিল- তাকে দেখে দেখে নামায আদায় করে নিয়েছি। এভাবে দেখে দেখে নামায আদায় করাতে কি কোনো সমস্যা হয়েছে?
প্রশ্ন (১২৬৬৬) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব কিছুদিন যাবৎ মেহরাব ছেড়ে এক কাতার পিছনে দাঁড়ান। আর মুসল্লিরা মসজিদের দ্বিতীয় কাতারে দাঁড়ান। বেশ কয়েকদিন যাবৎ এভাবে নামায পড়া হচ্ছে। কিন্তু গত দুদিন আগে এক আগন্তুক বললেন, এভাবে নামায পড়ে তো আপনারা হাদিসে বর্ণিত প্রথম কাতারের ফযীলত থেকে মাহরূম হচ্ছেন। কেননা এটা তো দ্বিতীয় কাতার; প্রথম কাতার নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে বেশ দ্বিধায় আছি। তাছাড়া এ কথা শোনার পর অনেক মুসল্লি ইমাম সাহেবকে দোষারোপ করছে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, হাদিস শরিফে যে প্রথম কাতারের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে, এর দ্বারা কোন প্রথম কাতার উদ্দেশ্য? এবং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আমরা যে নামাযগুলো পড়েছি, তাতে প্রথম কাতারের ছাওয়াব পাব কি না? দয়া করে দলীলসহ বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৬৬৪) : একদিন মসজিদে নামায পড়ছিলাম। নামাযের পর এক ব্যক্তি বললেন, নামাযে সিজদা অবস্থায় উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ স্বাভাবিকভাবে রাখার নিয়ম। সিজদা অবস্থায় আপনার হাতের আঙ্গুলগুলো মিলানো ছিল। এটা নিয়মপরিপন্থী। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, তার কথা কি ঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৬৬০) : আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন সাহেব আযানে حي على الصلاة ও حي على الفلاح বলার সময় প্রায়ই ডানে বামে মুখ ফেরান না। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আযানে حي على الصلاة ও حي على الفلاح বলার সময় ডানে বামে মুখ ফেরানোর বিধান কী? আর নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার সময়ও কি ডানে বামে মুখ ফেরাতে হবে?
প্রশ্ন (১২৬৫৭) : আমি বেনাপোলে থাকি। একদিন একটা প্রয়োজনে যশোর শহরে যাওয়ার দরকার হয়। শহরে পৌঁছার পর আব্বু ফোন করে বললেন, তোমার আপুর বাসা খুলনা থেকে ঘুরে আসো। তাই আমি যশোর থেকে খুলনায় যাই এবং সেখানে এক দিন অবস্থান করি। বেনাপোল থেকে যশোরের দূরত্ব সফর পরিমাণের চেয়ে অনেক কম। অনুরূপভাবে যশোর থেকে খুলনার দূরত্বও সফর পরিমাণ তথা ৭৮ কি. মি. নয়। কিন্তু বেনাপোল থেকে খুলনার দূরত্ব সফর পরিমাণের চেয়ে বেশি অর্থাৎ প্রায় ৮০/৮১ কি. মি. বা তার চেয়ে বেশি। এখন হুজুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে আমি খুলনায় গিয়ে কি কসর পড়ব না পূর্ণ নামায পড়ব? জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৬৫৬) : মাঝে মাঝে আমি আসর ও এশার আগের চার রাকাত সুন্নত পড়ি। অন্যান্য নামাযের মত এ নামাযেও প্রথম বৈঠকে দরূদ শরীফ পড়ি না। কিছু দিন আগে আমার প্রতিবেশী বললেন, এসকল নামাযের প্রথম বৈঠকে দরূদ শরীফ পড়তে হয়। অনুরূপভাবে তৃতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর পর পুনরায় সানা, আউযুবিল্লাহও পড়তে হয়। এখন হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, তার কথা কি ঠিক? এ ব্যাপারে শরীয়তের সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৬৪৮) : একবার প্রস্রাব পরীক্ষা করার জন্য একটি বোতলে প্রস্রাব ভরে নিয়ে ল্যাবে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে যোহরের নামাযের সময় হয়ে যাওয়ায় আমি বোতলটি পকেটে রেখেই নামায পড়ে ফেলি। হযরতের কাছে জানার বিষয় হলো, প্রস্রাবের বোতল পকেটে নিয়ে নামায পড়ায় আমার উক্ত নামায কি হয়েছে?
প্রশ্ন (১২৬৪৩) : আমরা জানি, নফল নামায শুরু করার পর ভেঙে ফেললে তা কাযা করতে হয়। এখন যদি কেউ মাকরূহ ওয়াক্তে নফলের নিয়ত বাঁধার পর কোনভাবে বুঝতে পেরে নামায ছেড়ে দেয় তাহলে কি এই নফলেরও কাযা করতে হবে? এ জিজ্ঞাসার কারণ, এ সময় তো এমনিতেই নামায পড়া অনুচিত ছিল। জানালে খুব উপকার হয়।
প্রশ্ন (১২৬৪০) : আমাদের মহল্লার মসজিদে রমযানের শেষ দশকে রাত ১২টার পর জামাতের সাথে কিয়ামুল লাইল-এর নামায আদায় করা হয় এবং তাতে পূর্ণ ৩০ পারা পড়া হয়। ইমাম সাহেব ফতোয়া দিয়েছেন, রমযানের শেষ দশকের জামাতবদ্ধ এই নফল নামায মাকরূহ হবে না। তিনি মক্কা ও মদীনাকে দলীল হিসাবে ব্যবহার করেছেন। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত নফল নামাযের জামাতটা শরীয়তে বৈধ হবে কি না? বিস্তারিত দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।
প্রশ্ন (১২৬৩৭) : জুমার নামাযের পরের সুন্নত আমি সাধারণত চার রাকাত পড়ি। একদিন চার রাকাত পড়ে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এক আলেম বললেন, জুমার পরের সুন্নত ছয় রাকাত পড়া উত্তম। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, আসলেই কি জুমার পরে ছয় রাকাত পড়া উত্তম? জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৬৩২) : আমার কোমরে প্রচন্ড ব্যাথা। তাই আমি সাধারণত বসে নামায পড়ি। একদিন এশার নামাযে ব্যাথা কিছুটা কমে। তাই মনে করলাম নামায হয়ত দাঁড়িয়ে পড়তে পারব। সে হিসেবে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করি। কিন্তু নামাযের মধ্যে ব্যাথা বেড়ে যায়। ফলে বাকি নামায আর দাঁড়িয়ে পড়া সম্ভব হয়নি। বসেই শেষ করতে হয়েছে। এখন হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, দাঁড়িয়ে নামায শুরু করার পর ওজরের কারণে বসে পড়ার সুযোগ আছে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৬২২) : আমি জেনেছি, জুমার দিন গোসল করা সুন্নত, এখন এর জন্য নির্ধারিত কোনো সময় আছে কি? যদি কেউ দিনের শুরুতে গোসল করে থাকে তাহলে তাতে কি জুমার জন্য গোসলের সুন্নত আদায় হবে? নাকি পুনরায় গোসল করতে হবে?
প্রশ্ন (১২৬১৫) : আমাদের টুপির একটি গার্মেন্ট আছে। আল্লাহর রহমতে সেখানে চার ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একজন নির্দিষ্ট ইমামও আছেন। ইমামের অনুপস্থিতে আমি নামায পড়াই। ঘটনাক্রমে একদিন উভয়ে অনুপস্থিত ছিলাম তখন আমার ফুফাতো ভাই ইমামতি করে। আর সে হল মক্তবের ছাত্র, এখনো বালেগ হয়নি। আর উপস্থিত সকলেই নামায সম্পর্কে এতটাই অজ্ঞ যে, তারা কেউই ইমামতির দায়িত্ব পালনে সম্মত হচ্ছিল না, বিধায় অপারগ হয়ে আমার ফুফাতো ভাই নামায পড়ায়। এখন আমার জানার বিষয় হলো, তাদের নামায কি সহিহ হয়েছে? জানতে পারলে উপকৃত হব।
প্রশ্ন (১২৬১৩) : কিছুদিন আগে যোহরের চার রাকাত সুন্নত পড়ার সময় শেষ বৈঠকে প্রথমবার তাশাহহুদ পড়ার পর আমার সন্দেহ জাগে যে, তাশাহহুদের কিছু অংশ ছুটে গেছে। তাই আবার পুরো তাশাহহুদ পড়ি। এরপর যথানিয়মে নামায শেষ করি। এখন হুযূরের কাছে জানার বিষয় হল, শেষ বৈঠকে দুই বার তাশাহহুদ পড়ার কারণে আমার উপর কি সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়েছিল? যদি হয়ে থাকে, তাহলে এখন আমার করণীয় কী?
প্রশ্ন (১২৬১২) : গত শুক্রবার সকাল দশটার দিকে আমাদের এলাকার চেয়ারম্যান সাহেব নতুন রাস্তা নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। আমি শ্রমিক হিসাবে কাজ করছিলাম। ঘণ্টাখানিক পর জুমার নামাযের সময় হয়ে যায়। কন্ট্রাক্টর সাহেবকে নামাযের কথা জানালে তিনি বলেন, ‘দুইটা পর্যন্ত কাজ চলবে। এরপর আধা ঘণ্টা বিরতি। তখন যোহর পড়ে নিও।’ অতঃপর আমি ব্যথিত হৃদয়ে কাজ শুরু করলে এক মুরব্বী শ্রমিক সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘বাবা রাগ কর না, এখন আমরা তার অধীনে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ। তাই আমাদেরকে ছুটি না দেওয়ার অধিকার তার আছে।’ মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, আসলে কি কন্ট্রাক্টর আমাদেরকে জুমার জন্য ছুটি না দিয়ে কাজে বাধ্য করতে পারে?