আরবী মাসের বর্তমান নামে নামকরণের কারণ কী
প্রশ্ন (৩৮৮৮) : বর্তমানে আরবী বারো মাসের যে নামগুলো আমরা দেখতে পাই সেগুলোর নামকরণের কারণ কী?
প্রশ্ন
বর্তমানে আরবী বারো মাসের যে নামগুলো আমরা দেখতে পাই সেগুলোর নামকরণের কারণ কী?
উত্তর
بسم الله الرحمٰن الرحيم. حامدا و مصليا و مسلما
আরবী মাসের বর্তমান যে নামগুলো রয়েছে এগুলোর নামকরণের কারণ নিম্নে উল্লেখ করা হল,
মহররম: এই মাসে আরবরা যুদ্ধ বিগ্রহ করাকে হারাম মনে করত এবং একে সম্মান করত। পাশাপাশি আরবরা নিজেদের স্বার্থ মোতাবেক এই মাসের মর্যাদাও নষ্ট করত। তারা কখনো এ মাসকে হালাল বানাতো, আবার কখনো হারাম বানাতো। তাদের এ আচরণের প্রতিবাদে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে।
সফর: সফর অর্থ শূন্য। এ মাসে আরবরা যুদ্ধ ও সফরের জন্য বের হয়ে যেত। যার ফলে তাদের গৃহ শূন্য হয়ে থাকত। এ কারণে এই মাসের এ নাম রাখা হয়েছে।
রবিউল আউয়াল: বসন্ত ঋতুর প্রথম মাস।
রবিউল আখির: বসন্ত ঋতুর দ্বিতীয় মাস। আরবীতে রবি মানে বসন্ত। যেহেতু এই দুই মাস আরবে বসন্ত থাকত তাই এ নামে নামকরণ করা হয়েছে।
জুমাদাল উলা: বরফ জমার প্রথম মাস।
জুমাদাল উখরা: বরফ জমার দ্বিতীয় মাস। জুমাদা মানে পানি জমে বরফ হওয়া। আরবে এই দুই মাসে ঠাণ্ডার কারণে পানি জমে বরফ হয়ে যেত। তাই এ নামে নামকরণ করা হয়েছে।
রজব: রজব শব্দটি আরবী তারজিব শব্দ থেকে উদগত। যার অর্থ সম্মান করা। (আরবরা এ মাসকে যথেষ্ট সম্মান করত। এ কারণে এ নামে নামকরণ করা হয়েছে।)
শাবান: শাবান অর্থ ছড়িয়ে পড়া। আরবরা রজব মাসে যুদ্ধ বিগ্রহ এড়িয়ে চলত। রজব শেষ হলে তারা যুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ত। এ কারণে এ মাসের এ নাম রাখা হয়েছে। কারো কারো মতে এ মাসে আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমত চারদিকে ছড়িয়ে দেন, এ কারণে এ নাম রাখা হয়েছে।
রমজান: গ্রীষ্মের মাস। এ মাসে আরবে তীব্র গরম পড়ত। গরমে সব কিছু জ্বলে যাওয়ার উপক্রম হত। এ কারণে এ মাসের এই নাম রাখা হয়েছে। কেউ কেউ কারণ বর্ণনা করেছেন যে, এ মাসে বান্দার গুনাহ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হয়। তাই একে রমজান বলা হয়।
শাওয়াল: শাওয়াল শব্দের অর্থ হল, উটের লেঝ উঁচু করে সংগত হওয়া। বছরের এ সময় উট পরস্পরে সংগত হত, এ কারণে এ মাসের এই নাম রাখা হয়েছে।
জ্বিলকদ: বসে থাকার মাস। আরবরা এ মাসে যুদ্ধ ও সফর বন্ধ রেখে বাড়িতে বসে থাকত। এ কারণে এই মাসের এই নামকরণ করা হয়েছে।
জ্বিলহজ্ব: হজ্বের মাস। আরবরা এ মাসে হজ্ব পালন করত বিধায় এই মাসের এই নামকরণ করা হয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/১২৯; রেসালায়ে নুজুম, পৃ. ২২৯
আল্লাহ তা‘আলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।
و الله تعالى أعلم بالصواب
وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله وسلم
উত্তর দিচ্ছেন:
ড. মুফতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী
সূত্র: https://www.drkhalilurrahman.com/10156/article-details.html