মান্নত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৬৮৩) : আমি অনেকদিন যাবৎ চাকরির সন্ধান করেও কোথাও মনমত চাকরি খুঁজে পাচ্ছিলাম না। একবার একটা ভাল চাকরির সন্ধান পাই। আল্লাহর রহমতে উক্ত চাকরিতে ইন্টারভিউ দিয়ে উত্তীর্ণ হই। কিন্তু চাকুরী হবে কি না তা নিয়ে ভয়ে ছিলাম। তখন আমি এই বলে মান্নত করি যে, যদি আমার এই চাকুরিটা হয়ে যায় তাহলে আমি প্রতি জুমার দিন রোযা রাখবো। পরে আমার ঐ চাকুরিটা হয়ে যায়। তাই আমি প্রত্যেক জুমার দিন রোযা রেখে যাচ্ছি। কিন্তু বর্তমানে আমার সাংসারিক ঝামেলা অনেক বেড়ে গেছে। তাই মাঝেমধ্যে জুমআর দিনে রোযা রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। হুযুরের নিকট আমার জানার বিষয় হলো, রোযা না রাখতে পারলে আমার করণীয় কী? যে দিনগুরোর রোযা ছুটেছে সেগুলোর জন্য কী করতে হবে? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

জুমার নামাযে কোনো ওয়াজিব বিধান ছুটে গেলে সাহু সিজদা না করার কোনো সুযোগ আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৬১৮) : আমি একজন ইমাম। গত শুক্রবার জুমার নামায পড়াতে গিয়ে ভুলে একটি ওয়াজিব ছুটে যায়। শুনেছি, জুমার নামাযে ভুলে ওয়াজিব ছুটে গেলে নাকি সাহু সিজদা না দিলেও হয়। তাই আমি সাহু সিজদা করিনি। মাসআলাটি কি ঠিক? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

জুমার খুতবার পূর্বের বাংলা বয়ান শোনা কি আবশ্যক?

প্রশ্ন (১৩৬১২) : জুমার দিন খুতবার পূর্বে বাংলায় বয়ান চলাকালে যিকির-আযকার বা কথাবার্তা বলা যাবে কি? নাকি খুতবার ন্যায় তাও চুপ করে শোনা ওয়াজিব?

জুমার খুতবায় কি কুরআনের আয়াত ও হাদিস পাঠ করা জরুরি?

প্রশ্ন (১৩৫৮৯) : আমাদের এলাকার মসজিদে একজন নতুন খতীব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বেশ কয়েক জুমায় প্রথম ও দ্বিতীয় খুতবায় কোনো আয়াত-হাদিস পাঠ করেননি। আরবীতে হামদ ও সানা পড়ার পর কিছু নসীহত করেই শেষ করে দেন। জানার বিষয় হল, এভাবে খুতবা দিলে কি হয়ে যাবে? নাকি আয়াত-হাদিসও পড়তে হবে?

নৌকা, ফেরী, লঞ্চ ইত্যাদি চলমান অবস্থায় সেগুলোতে জুমার নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৮১) : লঞ্চ, ফেরী ইত্যাদিতে জুমার নামায পড়ার বিধান কী? যদি জুমার নামাযের ওয়াক্ত হয়ে যায় তাহলে সেখানে জুমার নামায পড়ে নিলে তা সহিহ হবে কি? যদি না হয় তাহলে সহিহ না হওয়ার কারণ কী? আর কোনো জায়গায় জুমার নামায আদায় করার জন্য কী কী শর্ত প্রযোজ্য? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

অন্ধ ব্যক্তির ইমামতি কি মাকরুহ?

প্রশ্ন (১৩৫১৯) : আমাদের এলাকায় একটি বড় মাদরাসা আছে। মাদরাসার মুহতামিম সাহেব একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেম। তিনি সবসময় আমাদের জামে মসজিদে জুমআ, দুই ঈদ ও তারাবীহর নামায পড়ান। কিছুদিন আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এখনও তিনি আমাদের জামে মসজিদে জুমআ, ঈদ ও তারাবীহর নামায পড়ান। আমি শুনেছি, অন্ধ ব্যক্তির পেছনে নামায মাকরূহ হয়। জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত ইমামের পেছনে নামায মাকরূহ হবে কি?

জুমার নামায আদায় করতে না পারলে কি যোহরের নামাযের জামাত পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১৩৪৫৬) : আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে শুক্রবার দিন ট্রেনে ঢাকা থেকে সিলেট যাচ্ছিলাম। জুমার নামাযের সময় ট্রেন না থামায় আমরা জুমার নামায পড়তে পারিনি। আমরা ট্রেন থেকে নেমে এক মসজিদে ঢুকে যোহরের নামায জামাতের সাথে আদায় করি। জানতে চাচ্ছি, জামাতের সাথে এভাবে যোহরের নামায আদায় করা কি ঠিক হয়েছে? নাকি পৃথকভাবে আদায় করা উচিত ছিল?

মুসাফির ব্যক্তি কি মুকিমদের জুমার ইমামতি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৪৩২) : কিছুদিন আগে আমরা কয়েকজন বরিশাল থেকে ঢাকায় আসি। এখানে আমার ভগ্নিপতির মাদরাসা আছে। জুমআর দিন তিনি উপস্থিত না থাকায় আমাদের সাথে আসা একজন জুমার নামায পড়িয়ে দেন। পরে আমার মনে হল, তিনি তো মুসাফির। তার নিজের উপরই যখন জুমা ওয়াজিব নয় তখন তিনি মুকীমদের ইমাম হবেন কীভাবে? তাই জানতে চাই, মুসাফিরের জন্য জুমার ইমামতি করার বিধান কী?

খুতবা দেওয়ার সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩৪২২) : আমাদের মসজিদের খতীব সাহেব জুমার বয়ানের সময় প্রসঙ্গক্রমে বলেন যে, জুমা ও ঈদের সময় খতীব সাহেবের জন্য ডান-বাম দিকে চেহারা ফিরিয়ে খুতবা দেওয়া সুন্নত তরীকা নয়। সুন্নত তরীকা হল সামনের মুসল্লিদের দিকে ফিরে খুতবা দেওয়া। জানার বিষয় হল, খতীব সাহেবের উক্ত কথা কি ঠিক?

জুমার নামাযে শেষ বৈঠকে ইমাম সাহেবের সাথে শরিক হলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৯০) : গত শুক্রবার একটা কাজে আটকে গিয়ে জুমার প্রস্তুতি নিতে দেরি হয়ে যায়। আমি কাজ শেষ করে দ্রুত মসজিদে রওয়ানা দেই এবং নিয়ত করে বসা মাত্রই ইমাম সাহেব সালাম ফিরিয়ে দেন। আমি দাঁড়িয়ে মাসবুকের ন্যায় নামায পূর্ণ করি। জানতে চাই আমার ঐ জুমার নামায কি আদায় হয়েছে?

জুমার খুতবা দেওয়ার সময় হাত নাড়ানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩১৭) : আমাদের মসজিদের খতীব সাহেব জুমার খুতবা দেওয়ার সময় হাত নাড়া চাড়া করে খুতবা দেন। আমার জানার বিষয় হলো, জুমার খুতবা পাঠ করা অবস্থায় এভাবে হাত নাড়াচাড়া করা যাবে কি?

জুমার নামায কি চার রাকাত ছিল?

প্রশ্ন (১৩৩১৪) : কেউ কেউ বলে, জুমার নামায চার রাকাত ছিল। চার রাকাত থেকে দুই রাকাত করা হয়েছে। দুই রাকাত এর পরিবর্তে দুই খুতবাহ এবং বাকি দুই রাকাত হচ্ছে নামায। জানতে চাচ্ছি, এই কথা কতটুকু সঠিক? দয়া করে দলিলসহ জানাবেন।

অস্থায়ী নামাযঘর কি মসজিদের হুকুমের আওতায় আসবে?

প্রশ্ন (১৩১৫৮) : আমি মসজিদ নির্মাণের জন্য আমার একটি জায়গা ওয়াক্ফ করেছি। জায়গাটি অনেক নিচু হওয়ার কারণে এখন সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তাই অস্থায়ীভাবে নামায চালিয়ে নেয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী উচুঁ জায়গাতে একটি ঘর বানিয়েছি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এ ঘরটিও সাধারণ মসজিদের মতই কি? এটাতে পাঞ্জেগানা নামায, জুমা, এতেকাফ সবকিছু আদায় করা যাবে কি?

এক গ্রামে একাধিক মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৯৭) : আমাদের গ্রামে দুটি মসজিদ আছে। দুটি মসজিদেই জুমার নামায অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের গ্রামের সকল মুসল্লীদের জন্য এই দুইটি মসজিদই যথেষ্ট। কিন্তু এক মুরুব্বী মহল্লার একটি জুমা মসজিদের ৩০০ গজের মধ্যে তাঁর অর্থায়নে নির্মিত একটি পাঞ্জেগানা মসজিদকে জুমা মসজিদে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। বাহ্যত বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে হয় না। কিন্তু এতে পার্শ্ববর্তী মসজিদের জুমার জামাতে মুসল্লী হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশ্ন হল, এমতাবস্থায় তাঁর জন্য উক্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে কি না?

মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৯১৩) : আমাদের এলাকায় ১৯৯২ সালে দুই দাগ জমি মসজিদ-মাদরাসার জন্য ওয়াক্ফ করা হয়। কিন্তু মসজিদ ও মাদরাসার জন্য পৃথকভাবে জমির দাগ ও পরিমাণ নির্দিষ্ট করা হয়নি। তবে সাথে সাথে ওয়াকফকারীগণ ও গ্রামবাসী সকলে মিলে এক দাগে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। সেখানে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও জুমার নামায আদায় করা হয়। পরবর্তীতে জায়গাটি যমুনা নদীতে ভেঙ্গে যায়। তারপর আবার ২০০১ বা ২০০২ সালের দিকে জায়গাটি উঠে যায় এবং সেখানে কিছু বসতি স্থাপন হয়। তারা যেই দাগে পূর্বে মসজিদ ছিল তা নিচু থাকাতে অপর দাগে একটি টিনের ঘর উঠিয়ে নামায ও জুমা পড়তে থাকে এবং পূর্বের মসজিদের কিছু জায়গায় টয়লেট বানানো হয়। বর্তমানে এলাকাবাসী একটি পাকা মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এখন জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় পাকা মসজিদ কোথায় নির্মাণ করবে, পূর্বের মসজিদের জায়গায়, না বর্তমান মসজিদের জায়গায় এবং টয়লেটগুলোর হুকুম কী হবে? শরীয়তের দৃষ্টিতে বিস্তারিত বিধান জানিয়ে আমাদেরকে বাধিত করবেন।

আহলে হাদিস ইমামের পিছনে জুমার নামায আদায় করলে কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৮৫৫) : আমার বাসা রাজশাহী। আমি একটি আহলে হাদিস অধ্যুষিত এলাকায় থাকি এবং তাদের মতাদর্শী এক ইমামের পিছনে জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্তের নামায আদায় করি। তিনি আরবীর পরিবর্তে বাংলায় জুমার খুতবা প্রদান করেন। অথচ আমরা জানি, আরবী ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় খুতবা দেওয়া জায়েয নয়। জানার বিষয় হল, বাংলাতে খুতবাদাতা ঐ ইমামের পিছনে আমার জুমার নামায সহিহ হয়েছে কি না? সহিহ না হলে এখন কি আমাকে এতদিনের আদায়কৃত নামাযগুলোর কাযা করতে হবে?

রোগীর দেখাশোনা করার কারণে জুমার নামায পড়তে না পারলে কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন (১২৭৫০) : আমার চাচা অসুস্থ হওয়ার কারণে হাসপাতালে তার সাথে সারাক্ষণ থাকতে হচ্ছিল। তাই একদিন জুমার নামাযের সময় হয়ে যাওয়ার পরও জুমাতে শরীক হতে পারিনি। যোহর আদায় করতে হয়েছে। কারণ, তখন রোগীর কাছে রেখে যাওয়ার জন্য কাউকে পাইনি। এখন মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, ঐদিন জুমার নামাযে শরীক না হওয়াটা কি অন্যায় হয়েছে?

মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭৩৯) : আমাদের এলাকায় জামে মসজিদে আমি বেশ কিছুদিন যাবৎ একটা বিষয় দেখে আসছি। সেটা হলো, শুক্রবার জুমার নামাযের সময় ইমাম সাহেব বয়ান করেন। বয়ানের পর চার রাকাত কাবলাল জুমা পড়তে বলেন। তারপর ইমাম সাহেব মিম্বারে বসা অবস্থায় সানি আযানের পূর্বমুহূর্তে মসজিদে দান বাবদ আসা মুরগী, ডিম, নারিকেল ইত্যাদি নিলামে তোলা হয়। এ ধরনের কাজ মসজিদের ভিতরে করা যাবে কি? জানালে উপকৃত হব।

বুঝমান নাবালেগ ছেলে জুমার খুতবা পাঠ করলে কি তা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৭১৮) : আমার ছেলে বুঝমান, কিন্তু সে নাবালেগ। আমরা সৌদি আরব থাকি। কিছুদিন আগে আমরা সৌদি আরব থেকে এসেছি। সে আরবীভাষী হওয়ার কারণে একদিন ইমাম সাহেব তাকে জুমার খুতবা দেওয়ার কথা বলেন। সে রাজি হয়ে যায়। তাই এদিন সে খুতবা দেয়। আর ইমাম সাহেব নামায পড়ান। জানার বিষয় হল, বুঝমান নাবালেগের খুতবা পাঠ জায়েয হয়েছে কি না?

মুসাফির জুমার নামাযের ইমামতি করলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৬৯৬) : আমার বাড়ি মানিকগঞ্জ। কয়েকদিন আগে আমি খুলনায় আমার এক বন্ধুর বাসায় বেড়াতে যাই। সেখানে একটি ছোট মসজিদে জুমা আদায় করি। জুমার খুতবা দেওয়ার পর হঠাৎ খতীব সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন মুসল্লিরা আমাকে ইমামতির জন্যে অনুরোধ করলে আমি নামায পড়াই। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, মুসাফির হয়েও আমি যে জুমার নামাযে ইমামতি করেছি তা কি সহিহ হয়েছিল? না হলে এখন আমার করণীয় কী? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।