দুধ পান সংক্রান্ত একটি মাসআলা।
প্রশ্ন (১২০৩৫) : আমার আপন ভাগিনা বয়সে আমার সমান। আমার মা আমার ভাগিনাকে ছোট বেলায় দুধ পান করিয়েছেন। এখন আমার ভাগিনা আমার আপন ভাতিজিকে অর্থাৎ তার মামাতো বোনকে বিবাহ করতে চায়। এটা কি তার জন্য জায়েয হবে?
প্রশ্ন (১২০৩৫) : আমার আপন ভাগিনা বয়সে আমার সমান। আমার মা আমার ভাগিনাকে ছোট বেলায় দুধ পান করিয়েছেন। এখন আমার ভাগিনা আমার আপন ভাতিজিকে অর্থাৎ তার মামাতো বোনকে বিবাহ করতে চায়। এটা কি তার জন্য জায়েয হবে?
প্রশ্ন (১২০৩৪) : আমি কিরান হজ্ব করেছিলাম। কিরান হজ্বের কুরবানী দেওয়ার নিয়ত ছিল বিধায় ঈদের আগে তিনটি রোযা রাখিনি। কিন্তু যথাসময়ে টাকা ব্যবস্থা করতে না পারায় হজ্বের কুরবানী করা সম্ভব হয় নি। তখন হজ্বের কুরবানী না করে হালাল হয়ে যাই। এরপর হজ্বের বাকি আমল সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসি। এখন আমার জানার বিষয় হল, উক্ত ক্ষেত্রে বাড়িতে আসার পর উক্ত কুরবানীর বিকল্প দশটি রোযা রাখা আমার জন্য যথেষ্ট হবে, নাকি হজ্বের কুরাবানীই করতে হবে?
প্রশ্ন (১২০৩৩) : আলহামদুলিল্লাহ আমি আমার স্বামীর সাথে হজ্বে যাই। হজ্বের অধিকাংশ কাজ পূ্র্ণ করার পর ১২ জিলহজ্ব আমার হায়েয শুরু হয়ে যায়। এবং ১৮ জিলহজ্ব আমরা মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি। উল্লেখ্য, ১৮ জিলহজ্ব পর্যন্ত আমার হায়েয চলতে থাকে। তাই আমি তাওয়াফে বিদা না করেই রওয়ানা হয়ে যাই। আমি জানতে চাচ্ছি, তাওয়াফে বিদা না করে মদীনায় চলে যাওয়া কি ঠিক হয়েছে? এবং এর জন্য কি কোনো দম আবশ্যক হবে?
প্রশ্ন (১২০৩২) : এবার হজ্বের সফরে তাওয়াফে যিয়ারত করার পর সায়ী শুরু করার আগেই আমার ঋতুস্রাব শুরু হয়। তখন আমি এ অবস্থাতেই সায়ী করি। আমি জানতে চাচ্ছি, ঋতুস্রাব চলা অবস্থায় সায়ী করা আমার জন্য সহিহ হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।
প্রশ্ন (১২০৩১) : আমরা মধুর ব্যবসা করি। তাই বছরের বিভিন্ন সময়ে সুন্দরবনে যাই মধু সংগ্রহ করতে। গত সিজনে মধু সংগ্রহ করতে যাওয়ার পর একটা হিংস্র বাঘ এসে আমাদের এক সাথীর উপর আক্রমণ করে তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। আমরা তাকে খুঁজতে খুঁজতে একপর্যায়ে তার শরীরের ছিন্ন-ভিন্ন কিছু অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হই। আমরা তার একটি পা, একটি হাত ও পাজরের কিছু অংশ এবং মাথা পাই। এগুলো উদ্ধারের পর আমরা তার শরীরের উদ্ধারকৃত অংশগুলো গোসল না দিয়ে এবং জানাযা না পড়ে কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দিই। আমি জানতে চাচ্ছি, তার শরীরের অংশগুলো গোসল না দিয়ে জানাযা না পড়ে কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে দাফন করা কী শরীয়তসম্মত হয়েছে?
প্রশ্ন (১২০৩০) : নামাযের মধ্যে সূরা ফাতিহা পড়ার পর আমি অন্য সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়ে থাকি। আমি জানি এটা পড়া সুন্নত। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে একজন আলেম থেকে শুনলাম, সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নত নয়। তাই আমি হযরতের কাছে সঠিক বিষয়টি জানতে চাচ্ছি।
প্রশ্ন (১২০২৯) : আমি মাঝে মাঝে সময় কম থাকার কারণে যোহরের আগের চার রাকাত সুন্নত পড়ি না। যোহরের ফরয আদায়ের পর তা আদায় করি। এক্ষেত্রে আমার জানার বিষয় হলো, এই চার রাকাত সুন্নত কি আমি নামায পরবর্তী দুই রাকাত সুন্নতের আগে পড়ব নাকি পরে পড়ব?
প্রশ্ন (১২০২৮) : যোহরের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর আমার মাসিক শুরু হয়। কিন্তু তখনও আমি যোহরের নামায পড়িনি। তবে যোহরের নামায পড়ার মত সময় আমার হাতে ছিল। আমি চাইলে নামায পড়তে পারতাম। আমি জানতে চাচ্ছি, এখন কি আমার উক্ত নামায কাযা করতে হবে? জানালে উপকৃত হব।
প্রশ্ন (১২০২৭) : রমযান মাসে একদিন এশার জামাতে হাজির হতে দেরি হয়। ফলে আমার এশার নামায ও দুই রাকাত সুন্নত পড়তে পড়তে চার রাকাত তারাবীহ ছুটে যায়। আমি দ্রুত এশার ফরয ও সুন্নত আদায় করে তারাবীতে শরীক হয়ে যাই। পরবতীর্তে বিতির নামায পড়ার পরে ছুটে যাওয়া তারাবীহ আদায় করি। এখন এভাবে বিতিরের পরে তারাবীহ আদায় করা সহিহ হয়েছে কি?
প্রশ্ন (১২০২৬) : ক) আমরা জানি, নামায থেকে বের হওয়ার জন্য সালাম ফিরানো ওয়াজিব। কিন্তু এটা কি এক সালামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না উভয় সালামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? কেউ যদি এক সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করে দেয় তাহলে কি কোনো অসুবিধা আছে? খ) সাধারণত লোকদের তিনভাবে সালাম ফিরাতে দেখা যায়। ১. সামনের দিকে চেহারা রেখে السّلَامُ عَلَيْكُمْ বলে। আর وَرَحْمَةُ اللهِ বলার সময় চেহারা ডানে-বামে ফিরায়। অথবা পুরা সালামই চেহারা সামনের দিকে রেখে বলে। এরপর চেহারা ডানে-বামে ফিরায়। ২. সালামের পুরা বাক্যই ডানে বা বামে চেহারা ফিরিয়ে বলে। অর্থাৎ চেহারা ডান বা বাম দিকে ফিরানোর পর السّلَامُ عَلَيْكُمْ বলা শুরু করে। ৩. সামনে থেকে সালাম শুরু করে। সালাম বলতে বলতে ডানে বা বামে চেহারা ফিরায়। যাতে ডানে বা বাম দিকে পূর্ণ চেহারা ফিরানোর সাথে সাথে সালামও শেষ হয়ে যায়। জানার বিষয় হল, এই তিন পদ্ধতির মধ্যে কোন পদ্ধতিটি সহিহ?
প্রশ্ন (১২০২৫) : আমি তিলাওয়াত করা অবস্থায় আমার শরীরের ঘা থেকে রক্ত ঝরছিল। তাই আমি অযু ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কায় রক্ত গড়িয়ে পড়ার আগেই তা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলছিলাম। এভাবে একটু পরপর অনেক রক্ত ঝরছিল , আর প্রত্যেকবারই আমি রক্ত গড়িয়ে পড়ার আগেই তা মুছে ফেলছিলাম। আমি জানতে চাচ্ছি, রক্ত গড়িয়ে পড়ার আগে মুছে ফেলার দ্বারা কি আমার ওযু বহাল আছে নাকি ভেঙে গেছে?
প্রশ্ন (১২০২৪) : আমি আমার বন্ধুদের সাতে মিশে ধুমপানে অভ্যস্ত হয়ে যাই। এতে আমার বাবা-মা খুব কষ্ট পান এবং আমার সাথে খুব রাগ করেন। কিন্তু আমি কিছুতেই এটা ছাড়তে পারছিলাম না। পরে একদিন আমার বাবা আমাকে বলেন যে, তুমি তোমার মায়ের মাথা ছুঁয়ে কসম করে বলো যে, আর ধূমপান করবে না। তখন আমি বাধ্য হয়ে আমার মায়ের মাথা ছুঁয়ে বলি, “কসম করছি, আমি আর ধূমপার করব না।” কিন্তু কিছুদিন পর আবার করে ফেলি। তো আমি জানতে চাচ্ছি, এর কারণে কি আমার উপর কোনো কাফ্ফারা ওয়াজিব হয়েছে?
প্রশ্ন (১২০২৩) : বিশেষ কোনো কারণে আমার স্বামী আমাকে এক বছর তার অনুমতি ছাড়া আমার বাবা-মার সাথে ফোনে বা সরাসরি কথা বলতে নিষেধ করেছে। কথা বললে প্রত্যেকবার এক তালাক হবে। এভাবে তিনবার বললে তিন তালাক হয়ে যাবে। পরবর্তীতে সে আমাকে অনুমতি দেয়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, একবারে পূর্ণ এক বছরের জন্য অনুমতি নিয়ে নেয়াই যথেষ্ট হবে, না প্রতিবারের জন্য পৃথক অনুমতি নিতে হবে?
প্রশ্ন (১২০২২) : ঈদের নামাযের পর ইমাম সাহেব খুতবা পড়ার সময় অনেককে দেখা যায় ইমাম সাহেবের সঙ্গে তাকবীরে তাশরীক পড়েন। জানার বিষয় হল, ঐ সময় ইমাম সাহেবের সঙ্গে তাকবীর বলা কি ঠিক, না চুপ থেকে খুতবা শোনা উচিত?
প্রশ্ন (১২০২১) : আমার মামা বাসের ড্রাইভার। তিনি সৌদিআরবে মক্কা থেকে মদীনায় বাস চালান। এ কারণে তাকে একদিন পর পর মক্কায় আসতে হয়। আমাদের সকলেরই জানা আছে যে, মীকাতের বাইরে থেকে কেউ সরাসরি মক্কায় প্রবেশ করলে তাকে এহরাম বেঁধে প্রবেশ করতে হয়। তাই এখন তিনি কী করবেন? প্রতিবার কি ইহরাম বেঁধেই মক্কায় প্রবেশ করবেন?
প্রশ্ন (১২০২০) : আজকে ফজরের সময় মসজিদে একটি ছেলেকে দেখলাম ফজরের নামাযের পর মসজিদের বারান্দায় গিয়ে দুই রাকাত নামায আদায় করেছে। তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, ফজরের আগে সুন্নত পড়তে পারে নি বিধায় তা ফরযের পর আদায় করেছে। তাই জানতে চাচ্ছি, ফজরের নামাযের আগে সুন্নত পড়তে না পারলে তা ফজরের ফরযের পর সূর্যোদয়ের আগে আদায় করা যাবে কি?
প্রশ্ন (১২০১৯) : আমার স্বামী ঢাকায় থেকে চাকরি করেন। আর আমি গ্রামের বাড়িতে থাকি। তিনি সপ্তাহে একদিন বাড়িতে আসেন। বর্তমানে আমি গর্ভবতী। আমি শারিরীকভাবে খুবেই দুর্বল। আমার এলার্জী, ঠান্ডা ও কাশির সমস্যা আছে। রাতে গরম পানি দিয়ে গোসল করাও আমার জন্য কষ্টকর। তাই ফজরের নামায কাযা হওয়ার আশঙ্কায় আমরা সহবাস করা থেকে বিরত থাকি। আর দিনের বেলা গরম পানি দিয়ে একাধিকবার গোসল করলে শারীরিক ক্ষতি ও রোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝে মনোমালিন্য হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমার জন্য কী করণীয়?
প্রশ্ন (১২০১৮) : একবার আমার জামায় নাপাকী লেগেছিল। কিন্তু কাছে পানি না থাকায় তখন আমি জামাটি ধুতে পারিনি। পরে তা শুকিয়ে যায়। আর আমিও নাপাকীর জায়গা ভুলে যাই। পরে আমার এক বন্ধুর নিকট জিজ্ঞাসা করলে সে বলে কাপড়ের কিছু অংশ ধুয়ে নিলেই তো পাক হয়ে যাবে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি , তার কথা ঠিক আছে? জামার কিছু অংশ ধুয়ে নিলেই কি জামা পাক হয়ে যাবে?
প্রশ্ন (১২০১৭) : আমাদের মসজিদে যাওয়ার রাস্তা কাঁচাবাজারের ভিতর দিয়ে। আর এই রাস্তায় সবসময় পানি জমে কাঁদা হয়ে থাকে। ফলে মসজিদে যাওয়ার সময় জামায় কাঁদা লেগে যায়। আমি জানতে চাচ্ছি, কাঁদাযুক্ত জামা নিয়ে নামায পড়লে নামায সহিহ হবে কি?
প্রশ্ন (১২০১৬) : আমার চাচাতো বোনের দুই বছর আগে বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সাথে তার ঝগড়া লেগে থাকে। সে সবসময় তার স্বামীর সাথে খারাপ ব্যবহার করে। তার কথা অমান্য করে। সে নিজের মন মত চলাফেরা করে। এতে স্বামী বাধা দেয় বিধায় সে তার স্বামীর সাথে থাকতে চাচ্ছে না এবং তার থেকে তালাক নিতে চাচ্ছে। এখন স্বামী বলছে পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে খোলা তালাক দিবে। বিয়েতে মোহর ছিল আড়াই লক্ষ টাকা। সম্পুর্ণ টাকা বিয়ের পরপরই পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছিল। এখন জানার বিষয় হলো, খোলা তালাকের বিনিময়ে স্বামী কী পরিমাণ টাকা স্ত্রীর থেকে নিতে পারবে?