ড. মুফতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী

বিড়ালের মুখ দেওয়া পানি দিয়ে ওযু করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২০৫৫) : আমি মগের মধ্যে পানি ভরে বারান্দায় রেখে প্রস্রাব করতে যাই। এসে দেখি আমাদের ঘরের বিড়াল পানিতে মুখ ‍দিয়েছে। যেহেতু ঘরের বিড়াল, তাই আমি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে অযু করে নিই। পরবর্তীতে আমার মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয় যে,এই পানি দিয়ে আমার ওযু হয়েছে কিনা। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, বিড়ালের ঝুটা পাক না নাপাক? উক্ত পানি দিয়ে অযু করা কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে? উল্লেখ্য, উক্ত পানি ছাড়াও অন্য পানির ব্যবস্থা ছিল।

ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন শর্ত করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২০৫৪) : আমাদের পোল্ট্রি ফিডের ব্যবসা আছে। আমরা বেশির ভাগ খামারিদের কাছে বাকি বিক্রয় করে থাকি। ফলে তারা আমাদের টাকা পরিশোধ করতে দেরি করে। এ কারণে তাদের কাছে বাকি বিক্রয়ের সময় বলে দিই যে, ‘ডিম বা মুরগি সব আমাদের কাছেই বিক্রয় করতে হবে।’ তারা তা মেনে নেয়। এরপর আমরা এ ডিম ও মুরগী নিয়ে বাহিরের পার্টির কাছে বিক্রি করি। এক্ষেত্রে আমাদের একটি সুবিধা হল, সে সময় আমরা আমাদের পাওনা টাকা কেটে নিতে পারি। আমি জানতে চাচ্ছি, আমাদের এই ক্রয়-বিক্রয় শরীয়তের দৃষ্টিতে ঠিক আছে কি না?

সিমে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার পর যে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেয় তা কি জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১২০৫৩) : আমাদের দেশে বিভিন্ন মোবাইল-সিম কোম্পানি গ্রাহকদের মোবাইল লোন-সুবিধা দেয়। এক্ষেত্রে লোন পরিশোধের সময় তারা অতিরিক্ত টাকা কেটে নেয়। যেমন ১৭.৩৩ টাকা ব্যালেন্স লোন দিয়ে পরিশোধের সময় ২০ টাকা কেটে নেয়। আমার কাছে এটি সুদ ও নাজায়েয মনে হয়। কারণ ১৭.৩৩ টাকা ব্যালেন্সের বিনিময়ে ২.৬৭ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু কয়েকদিন আগে একজন মাদরাসা ছাত্রের সাথে কথা হলে সে বলল, ‘এ লোন নেওয়া বৈধ, সুদ বা নাজায়েয নয়।’ হুজুরের কাছে বিষয়টির আসল সমাধান জানতে চাচ্ছি। আশা করি বিস্তারিত জানাবেন।

ঋণদাতার কাছে কোনো পণ্য বিক্রি করার শর্তে ঋণ প্রদান করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২০৫২) : ধান-পাটের সিজনে আমাদের এলাকায় চাষীরা উৎপাদন খরচ যোগান দিতে প্রায়ই হিমশিম খেয়ে যায়। তখন বাজারে যে সমস্ত গুদাম ব্যবসায়ীরা আছে তারা চাষীদেরকে সুদ-মুক্ত ঋণ সুবিধা দেয়। এর পদ্ধতি হলো, চাষী তার ধান-পাট উৎপাদনের খরচ অনুযায়ী ঋণ নিবে; তবে শর্ত হল, ‘উৎপাদিত ধান-পাট সবই তার (উক্ত ব্যবসায়ীর) দোকানে বিক্রি করতে হবে।’ সাধারণত চাষীরা এই শর্ত মেনেই ব্যাপকভাবে এই ঋণ-সুবিধা গ্রহণ করে থাকে। আমি জানতে চাই, শরীয়তের দৃষ্টিতে এই পদ্ধতিতে ঋণ নেওয়া জায়েয আছে কি? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

ঋণ গ্রহীতার কাছ থেকে টাকা পাওয়ার পূর্বে সে টাকা তার কাছে বিনিয়োগ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২০৫১) : আমার এক আত্মীয় ৫ মাসের কথা বলে আমার থেকে এক লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। ঋণের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এক বছর আগে। কিন্তু এখনো তিনি তা পরিশোধ করেননি। কিছুদিন আগে আমার বড় ভাইয়ের পরামর্শে আমি তার সাথে চুক্তি করি যে, আপনার কাছে আমার যে এক লাখ টাকা আছে তা আপনি ব্যবসায় খাটান। এর থেকে যা লাভ আসবে তার অর্ধেক আপনি নিবেন আর অর্ধেক আমাকে দেবেন। আমাদের উক্ত চুক্তি কি সহিহ হয়েছে?

যে প্রাণী বিসমিল্লাহ ছাড়া জবাই করা হয় তা অমুসলিমদের কাছে বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২০৫০) : আমার খালাতো ভাইয়ের আমেরিকাতে একটি সুপার শপ আছে। আমেরিকার একটি কোম্পানি নিয়মিত তাতে হিমায়িত মুরগি সাপ্লাই দেয়। উক্ত কোম্পানিতে ইসলামী পদ্ধতি অনুযায়ী ‘বিসমিল্লাহ’ বলে মুরগি জবাই করা হয় না। তবে সুপার শপে এ মুরগিগুলো যদি মুসলমানদের কাছে বিক্রি করা না হয়; বরং অমুসলিম ক্রেতাদের কাছে এসব মুরগি বিক্রয় করা হয়। তাহলে তা কি জায়েয আছে? এবং এ থেকে অর্জিত মুনাফা কি হালাল হবে?

যৌথ মালিকানাধীন জমির অংশ ওয়াকফ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২০৪৯) : আমরা দুই বন্ধু মিলে যৌথ একটি জমি ক্রয় করি। আমার বন্ধু তার অংশ একটি মসজিদের জন্য ওয়াকফ করতে চেয়েছিল; কিন্তু তা আর করা হয়নি। কিছুদিন পর আমার অংশটুকু উক্ত মসজিদের জন্য ওয়াকফ করে দিই। কিন্তু জমি এখনো ভাগ করা হয়নি। তখন একজন আলেম শুনে বললেন যে, বণ্টনের পূর্বে আপনার ওয়াকফ করা সহিহ হয়নি। তাই জানতে চাচ্ছি, ঐ আলেমের কথা কি সঠিক? আমি যদি ভাগ করে আমার অংশটুকু মসজিদ কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিই, তা কি যথেষ্ট হবে?

বুকের দুধ অল্প পান করলে কি দুধসম্পর্ক সাব্যস্ত হবে?

প্রশ্ন (১২০৪৮) : আমার চাচাতো ভাইয়ের চোখে ফুসকুড়ি ওঠে। গ্রামে প্রচলিত আছে বুকের দুধ দিলে জ্বালাপোড়া কমে। তাই জ্বালাপোড়া কমানোর জন্য পাশের বাড়ির এক মহিলা থেকে তার চোখে দেয়ার জন্য একটি ছোট পাত্রে ৭/৮ ফোঁটা বুকের দুধ আনা হয়। ঘটনাক্রমে ঐ পাত্র থেকে দুধটুকু অসুস্থ তার দেড় বছরের ভাগ্নী খেয়ে ফেলে। জানার বিষয় হল, পাত্র থেকে এতটুকু দুধ পান করার কারণে দুধসম্পর্ক সাব্যস্ত হবে কি না? ঐ মেয়ে বড় হলে তার ছেলেদের সাথে দেখা দিতে পারবে কি না?

বিগত দিনের কাযা রোযার কাফ্ফারা কিভাবে আদায় করব?

প্রশ্ন (১২০৪৬) : আমি ভার্সিটির একজন ছাত্র। আগে দ্বীনের বুঝ না থাকায় নামায-রোযা ঠিকমত আদায় করতাম না। এখন দ্বীনের বুঝ পেয়েছি। তাই পিছনের জীবনে ছেড়ে দেওয়া নামায-রোযা কাযা করা শুরু করেছি। আমি বিগত রমযানে আব্বু আম্মুর জোরাজুরির কারণে ভোর রাতে সাহরী করে রোযা রাখতাম। পরে ভার্সিটিতে এসে ভেঙ্গে ফেলতাম। আমি শুনেছি, রোযা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেললে শুধু কাযা করাই যথেষ্ট না; বরং কাফফারা আদায় করতে হয়। জানার বিষয় হল, আমি তো এভাবে অনেক রোযা ভেঙ্গেছি। এখন আমি এত কাফফারা কীভাবে আদায় করব? শরীয়তে আমার জন্য কোনো ছাড় আছে কি?

নামাযে ভুলে মুখে কিছু বলে ফেললে কি নামায বাতিল হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২০৪৫) : আমি মাগরিবের নামাযে ভুলে মুখে কিছু কথা বলে ফেলি। আমার জানার বিষয় হল, আমার নামায কি সহিহ হয়েছে? না হলে আমাকে কি সেই নামায আবার পড়তে হবে?

দুআয়ে কুনূত না পারলে বিতিরের নামাযে কি অন্য কোনো দুআ পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২০৪৪) : আমি একজন ড্রাইবার। আমি আগে নিয়মিত নামায পড়তাম না। এখন নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করি। আমি চারটা সূরা শিখেছি। কিন্তু বিতরের নামাযে যে দুআয়ে কুনূত পড়তে হয় সেটা এখনও শিখতে পারিনি। জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় আমি বিতরের নামাযে কী পড়ব?

ওযু করার পর কোনো অংশ শুকনো থেকে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৪৩) : আমি অযু করার পর লক্ষ করলাম, ডান হাতের কিছু অংশ শুকনো রয়ে গেছে। তখন আমি পুনরায় অযু করে নিই। জানার বিষয় হল, উক্ত অবস্থায় আমার করণীয় কী ছিল?

কারো কোনো জিনিস নিয়ে হারিয়ে ফেললে বিধান কী?

প্রশ্ন (১২০৪২) : আমার বন্ধু সফরে যাওয়ার সময় আমার নতুন মোবাইলটি অনুমতি নিয়ে সঙ্গে নিয়ে যায়। রাস্তায় গজল শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে গেলে স্টেশন আসার পর মোবাইলটি রেখেই বাস থেকে নেমে পড়ে। এখন তার উপর আমাকে নতুন একটি মোবাইল কিনে দেওয়া আবশ্যক কি না?

মাদকের টাকা ভোগ করা এবং সেই টাকা দিয়ে গাড়ি ও বাড়ি করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২০৪১) : আমাদের গ্রামে এক লোক মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত। এটাই তার একমাত্র উপার্জনের পথ। তিনি এই উপার্জনের টাকা থেকেই একটি বাড়ি বানিয়েছেন এবং একটি গাড়ি ক্রয় করেছেন। তাই জানতে চাচ্ছি, সেই গাড়ি এবং বাড়ি কি অবৈধ? অবৈধ হলে কি চিরকালের জন্য না সাময়িক? এগুলোকে বৈধ করার কোনো পদ্ধতি আছে কি?

স্বামীর মৃত্যুর খবর না জানতে পারলে ইদ্দত পালনের বিধান কী?

প্রশ্ন (১২০৪০) : আমার এক আত্মীয় কয়েক বছর যাবৎ কানাডায় থাকেন। কিছুদিন আগে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক সড়ক-দুর্ঘটনায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর সংবাদ তার পরিবারের নিকট পৌঁছায়নি। এরপর থেকে তার সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ না হওয়ার কারণে পরিবারের লোকজন তার ব্যাপারে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তারা কানাডায় থাকা বাংলাদেশী লোকজন ও বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে খোঁজ-খবর নিতে থাকেন। এক মাস পর বাংলাদেশ দূতাবাস তার পরিবারের নিকট তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে। এখন জানার বিষয় হলো, তার স্ত্রী কোন দিন থেকে স্বামী-মৃত্যুর ইদ্দত গণনা শুরু করবে? মৃত্যুর দিন থেকে, নাকি সংবাদ পাওয়ার দিন থেকে?

পানিতে তেলাপোকা বা টিকটিকির বিষ্ঠা পড়লে সেই পানি দিয়ে ওযু সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২০৩৯) : গতকাল ওযু করার সময় পাত্রে তেলাপোকা বা টিকটিকির বিষ্ঠা দেখেছি। পরে ঐ পানি দিয়েই ওযু শেষ করি। ঐ অযু দিয়ে আসরের নামায পড়েছি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমার নামায কি সহিহ হয়েছে?

লেনদেন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০৩৮) : কিছুদিন আগে একটি অনলাইন শপ অফার দিয়েছিল যে, একমাস পূর্বে অগ্রিম টাকা পরিশোধ করলে ১৫ হাজার টাকা মূল্যের পণ্যে ২০% ডিসকাউন্ট দেবে। আর সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করলে আরো ৪৪% ডিসকাউন্ট দেবে। তাই আমি ১৫ হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল ক্রয় করি। এবং সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৪% ডিসকাউন্টের পর অগ্রিম ৮ হাজার চারশত টাকা পরিশোধ করি। কিন্তু ডেলিভারির দুই দিন পূর্বে তারা জানিয়েছে যে, দুঃখিত, আমরা আপনার মোবাইলটি কিনে দিতে পারলাম না। বাকি আপনি যেন মোবাইলটি কিনে নিতে পারেন এজন্য আমরা আপনাকে মোবাইলের মূল্য ১৫ হাজার টাকা দিয়ে দিচ্ছি। অবশ্য আপনি চাইলে ১৫ হাজার টাকা মূল্যের অন্য কোনো পণ্যও নিতে পারবেন। আমার জানার বিষয় হল : ক) এখন মোবাইল না নিয়ে মোবাইলের মূল্য ১৫ হাজার টাকা বা ১৫ হাজার টাকা মূল্যের অন্য কোনো পণ্য নেওয়া আমার জন্য বৈধ হবে কি না? খ) যদি পুরো টাকা নেওয়া বৈধ না হয় তাহলে সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করার কারণে যে ২৪% ডিসকাউন্ট পেয়েছি, তা নেওয়া বৈধ হবে কি না? যেহেতু এই ডিসকাউন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করার কারণে আমি পেয়েছি।

একাধিক রোযা রাখার মান্নত করলে সেগুলো একসাথে রাখতে হবে নাকি ভেঙে ভেঙে রাখা যাবে?

প্রশ্ন (১২০৩৭) : আমার চাচাতো বোনের নতুন বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর আমরা জানতে পারি, তার স্বামী তাকে মানসিক-শারীরিক নির্যাতন করে। এটা জানার পর তাকে আমরা নিয়ে আসতে চাইলে তারা আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করে আমাদের ফিরিয়ে দেয়। বোনের সাথে আমার সম্পর্ক ভালো ছিল বলে আমি অত্যন্ত পেরেশান হই, খুব কান্নাকাটি করি। একপর্যায়ে আমি আমার ভাইকে বলে বসি, ‘তুই সাক্ষী থাক, ও যদি আমাদের কাছে চলে আসতে পারে তাহলে আমি ৩০ টা রোযা রাখব।’ কিছুদিন পর সে জোরপূর্বক সেখান থেকে চলে আসতে সক্ষম হয়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, সেদিনের ঐ কথার কারণে কি এখন আমাকে ৩০টা রোযা রাখতে হবে? রাখতে হলে তা কি লাগাতার রাখতে হবে, নাকি ভেঙে ভেঙে রাখারও সুযোগ আছে? উল্লেখ্য, ঐ কথা বলার সময় আমার লাগাতার রাখার নিয়ত ছিল না।

কসমের কাফ্ফারা।

প্রশ্ন (১২০৩৬) : আমি বারবার একটি পাপ কাজে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। অনেক চেষ্টা করেও তা থেকে বিরত থাকতে পারছিলাম না। একবার দৃঢ় সংকল্প করে বলি, ভবিষ্যতে কখনো এ কাজটি করব না; করলে লাগাতার দশ দিন রোযা রাখব। পরবর্তীতে শয়তানের ধোঁকায় কাজটি আবার করে ফেলি। কিন্তু শারীরিক কিছু অসুস্থতার কারণে বর্তমানে লাগাতার দশ দিন রোযা রাখা আমার জন্য কষ্টকর। জানার বিষয় হল, এখন আমাকে কী করতে হবে?