ড. মুফতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী

জানাযার নামায পড়ানোর জন্য অসিয়ত করলে করণীয়।

প্রশ্ন (১৩৪৭৪) : মৃত্যুর আগে কেউ যদি অসিয়ত করে যায় যে, আমার জানাযা অমুক ব্যক্তি পড়াবে তাহলে কি শুধু অসিয়তের কারণে সে ব্যক্তি জানাযার নামায পড়ানোর বেশি হক্বদার হয়ে যাবে?

মৃত ব্যক্তির কাযা রোযা কি অন্য কেউ আদায় করতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৪৭৩) : আমার মামা দুই বছর আগে মারা গেছেন। তার জীবদ্দশায় তিনি বেশ কিছু রোযা রাখেননি। তার মৃত্যুর পর আমার খালারা কি এখন তার অনাদায়ী রোযাগুলো রাখতে পারবে? রাখলে কীভাবে রাখবে? কারণ আমরা জানি, ইচ্ছাকৃত একটি রোযা ভাঙলে একটানা ৬০টি রোযা রাখতে হয়। রোযার কাযা করা অবস্থায় ১দিন ছুটে গেলে তা কি আবার শুরু থেকেই রাখতে হবে? আর রোযা কি ১টির বদলে ৬০টি রাখতে হবে নাকি ১টি রাখলেই হবে?

হজ্বে মাথা মুন্ডানোর আগে নখ-মোচ ইত্যাদি কাটা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৭২) : ইহরাম ত্যাগ করার সময় হলক তথা মাথা মুণ্ডানোর আগে নখ-মোচ ইত্যাদি কাটা কি জায়েয? কেউ যদি এমনটি করে তবে কি তার উপর কোনো জরিমানা আসবে?

ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৭১) : এ বছর আমি হজ্বে যাওয়ার নিয়ত করেছি। শুনেছি, ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা যায় না। জানার বিষয় হল, এমন খাবার যা সুগন্ধিযুক্ত জিনিস দিয়ে রান্না করা হয় তা খাওয়া যাবে কি? যেমন পোলাও, বিরানী এগুলোতে এলাচ-দারচিনি ইত্যাদি সুগন্ধিযুক্ত জিনিস দেওয়া হয়। তাই তা খাওয়া যাবে কি?

ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৪৬৯) : আমরা অনেক সময় দোকানে গিয়ে বলি, ‘ভাই, অমুক মালটা দেন।’ দোকানদার মাল দেওয়ার পর কখনো মূল্য জিজ্ঞাসা করে পরিশোধ করি। কখনো পরে দেওয়ার কথা বলে চলে আসি। আবার কখনো মূল্য জিজ্ঞাসা না করেই বলি যে, মূল্য পরবর্তীতে আমি দিয়ে যাব বা অমুকে দিয়ে যাবে। তো আমার জানার বিষয় হল, ভাই অমুক মালটা দেন- কথাটা আদেশসূচক হয়েছে। সুতরাং ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হবে কি? না হলে কীভাবে বলব? শেষে মূল্য জিজ্ঞাসা না করেই পরে দেওয়ার কথা বললে মূল্যটা অস্পষ্ট থেকে যায়। তাই এই বিক্রয় শুদ্ধ হবে কি?

মাদরাসায় ছাত্ররা তাদের জিনিসপত্র ফেলে রেখে চলে গেলে সেগুলো কী করবে?

প্রশ্ন (১৩৪৬৭) : আমাদের মাদরাসায় প্রতি বছরের শেষেই অনেক ছাত্র বিভিন্ন জিনিস রেখে চলে যায়। কিন্তু পরে আর নিতে আসেনা। যেমন, ট্রাংক, লেপ-তোষক, কিতাব ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে কোনোটার মালিক জানা আছে। আবার কোনোটার মালিক জানা নেই। যেগুলোর মালিক জানা আছে তাদের সাথে মাদরাসার পক্ষ থেকে তা নিয়ে যাওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও তারা তা নিতে আসছে না। আমার জানার বিষয় হল, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এ জিনিসগুলো কী করবে? মালিক জানা থাকা না থাকার বিষয়ে কি কোনো পার্থক্য হবে? দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

খতম তারাবীতে কোনো একটি সূরার শুরুতে উঁচু আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৪৬৬) : আমাদের দেশে যে সকল মসজিদে তারাবীতে খতমে কুরআন হয় সেখানে দেখা যায় যে, কোনো একটি সূরার শুরুতে বড় আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া সুন্নত। আবার সূরা ইখলাস তিনবার পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া মুস্তাহাব। অনুগ্রহপূর্বক এই দুই মাসআলার বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ফয়সালা জানানোর অনুরোধ রইল।

ভাড়া দেওয়া সাইকেলের উপর কি যাকাত আসবে?

প্রশ্ন (১৩৪৬৫) : আমার দোকানে মোট ৫ লক্ষ টাকার পণ্য আছে। সাথে মানুষের কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য ছোট-বড় মিলে ২০টি সাইকেলও আছে। প্রশ্ন হল, এখন আমি কীভাবে যাকাত আদায় করব? দোকানের মোট পুঁজির সাথে সাইকেলগুলোর মূল্য যোগ করে, নাকি পৃথক পৃথকভাবে আদায় করব? জানালে উপকৃত হব।

সফর সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৪৬৪) : আমি বিকালে সফরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হই। ১৫/২০ কিলোমিটার যাওয়ার পর আসরের সময় হলে এক জায়গায় আমি আসরের নামায দুই রাকাত কসর পড়ে নেই। কিন্তু আরো কিছু দূর যাওয়ার পর জরুরী কাজে আমার সফরটি মুলতবি করতে হয়। তো কাজ সেরে বাড়ি যেতে যেতে রাত প্রায় ১১টা বেজে যায়। এখন জানার বিষয় হল, রাস্তায় আদায়কৃত আসরের নামায কি আদায় হয়েছে? আর সফর যেহেতু মুলতবি করেছি সেক্ষেত্রে ইশার নামায একাকী পূর্ণ পড়া উচিত ছিল নাকি কসর? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।

কুরআন তিলাওয়াতের সময় সিজদার আয়াত আস্তে পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৪৬৩) : একদিন মসজিদে নামায পড়ছিলাম। আমার পাশে বসে এক ব্যক্তি উঁচু আওয়াজে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করছিল। তিলাওয়াতের মাঝে একটি সিজদার আয়াত এলে সেটাও সে আওয়াজ করেই পড়ল। আমি নামায শেষ করে তাকে বললাম, সিজদার আয়াতখানা আস্তে পড়লেই তো পারতেন। সে বলল, সব আয়াত জোরে পড়ে শুধু সিজদার আয়াত আস্তে পড়া মাকরূহ। জানার বিষয় হল, তার এ কথা কি ঠিক? সঠিক বিষয়টি জানালে উপকৃত হব।

অস্থায়ী নামায ঘরে ইতিকাফ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৬২) : আমাদের মসজিদের নির্মাণ কাজ চলছে। তাই মসজিদের পাশে এক ব্যক্তির জায়গায় টিন দিয়ে একটি নামাযের ঘর বানানো হয়েছে। বর্তমানে রমযান মাসেও এখানেই নামায পড়তে হচ্ছে। এখন আমাদের জানার বিষয় হলো, রমযানের শেষ দশকে এই অস্থায়ী মসজিদটিতে ইতিকাফ করা যাবে কি?

নারীদের জন্য মাহরাম ছাড়া হজ্বে যাওয়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৪৬১) : আমি ছোট থেকেই আমেরিকায় বড় হয়েছি। বিয়ের পরেও স্বামী-সন্তানসহ প্রায় সারা জীবনই কাটিয়েছি আমেরিকায়। আল্লাহর রহমতে আমি দ্বীনের পথে ফিরে আসি। কিন্তু আমার স্বামী তা মেনে নেয় না। তাই এক পর্যায়ে আমাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। বর্তমানে আমি বাংলাদেশে আছি। এখানে শুধু আমার মা ও ছোট বোনেরা থাকে। আল্লাহ আমাকে অনেক সম্পদ দান করেছেন। এখন আমি হজ্ব করতে চাচ্ছি। কিন্তু আমার সঙ্গে কোনো মাহরাম নেই। আমি কি একাকী হজ্ব করতে পারব?

দুধ পান সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৪৬০) : মালিহা ও ফারহানা আপন বোন। ছোটবেলায় তাদের মা অসুস্থ থাকায় মালিহা কিছুদিন আমার আম্মুর দুধ পান করেছে। এখন ফারহানার সাথে আমার বিয়ের কথা চলছে। জানতে চাই, এ অবস্থায় আমার জন্য ফারহানাকে বিয়ে করা বৈধ হবে কি?

কোম্পানির পক্ষ থেকে নিযুক্ত ক্রয় প্রতিনিধি বিক্রেতার পক্ষ থেকে কমিশন পেলে সেটার হক্বদার কে হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৫৯) : আমি একটি কোরিয়ান ফ্যাক্টরিতে চাকরি করি। আমার দায়িত্ব হল ফ্যাক্টরির জন্য কাঁচামাল ক্রয় করা। কাঁচামালগুলে যেসব কোম্পানি থেকে ক্রয় করি তারা অনেক সময় আমাকে প্রস্তাব করে যে, আমি তাদের থেকে পণ্য ক্রয় করলে তারা আমাকে শতকরা হারে কিছু কমিশন দিবে। যেমন আমার ফ্যাক্টরির ক্যাবল প্রয়োজন। ক্যাবল বিক্রয়কারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে। যেমন, বিআরবি, প্যারাডাইস ক্যাবল ইত্যাদি। তো ধরুন, বিআরবি কোম্পানি আমাকে প্রস্তাব করল যে, আমি যদি তাদের থেকে ক্রয় করি তাহলে তারা আমাকে ০.৫% কমিশন দিবে। এই কমিশনটা নেওয়া আমার জন্য জায়েয হবে কি?

কুরবানীর উদ্দেশ্যে কেনা পশু কুরবানী করতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৪৫৮) : এ বছর কুরবানীর ঈদে বাবা কুরবানী করতে চেয়েছিলেন। তাই আমি কিছু টাকা জমিয়ে একটি ছাগল ক্রয় করেছি। কিন্তু কুরবানীর আগের দিন বাবা হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করতে করতে ৫-৭ দিন চলে যায়। এমনকি কুরবানীর সময়ও শেষ হয়ে যায়। কাউকে কুরবানী করার কথা বলার সুযোগ পাইনি। এ অবস্থায় উক্ত পশু দ্বারা আমি কী করব? যবাই করে খাওয়া বা বিক্রি করা কি জায়েয আছে? নাকি গরিব-মিসকীনকে দিয়ে দিতে হবে?

মাসিকের সময় মহিলারা দুআ পড়তে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৫৭) : আম্মু ঋতুস্রাবের দিনগুলোতেও বিভিন্ন মাসনুন দুআ পড়েন। আম্মুর দেখাদেখি আমরাও এ সময়গুলোতে মাসনুন দুআসমূহ আদায় করি। কিন্তু একজন বলল, মেয়েদের জন্য এ সময়ের দুআ-দরূদ পড়া কিংবা যিকির-আযকার করা কোনোটিই জায়েয নেই। জানতে চাচ্ছি, এই কথা কি সঠিক?

জুমার নামায আদায় করতে না পারলে কি যোহরের নামাযের জামাত পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১৩৪৫৬) : আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে শুক্রবার দিন ট্রেনে ঢাকা থেকে সিলেট যাচ্ছিলাম। জুমার নামাযের সময় ট্রেন না থামায় আমরা জুমার নামায পড়তে পারিনি। আমরা ট্রেন থেকে নেমে এক মসজিদে ঢুকে যোহরের নামায জামাতের সাথে আদায় করি। জানতে চাচ্ছি, জামাতের সাথে এভাবে যোহরের নামায আদায় করা কি ঠিক হয়েছে? নাকি পৃথকভাবে আদায় করা উচিত ছিল?