ফল কামড়ে খাওয়ার সময় তাতে হালকা রক্ত দেখা গেলে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৭৪৬) : আমার দাদার দাঁত কিছুটা দুর্বল। পেয়ারা, আপেল ইত্যাদি শক্ত কিছু কামড়ে খাওয়ার সময় তাতে রক্তের হালকা ছাপ পড়ে। হুজুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এমন অবস্থায় কি নতুন করে অযু করতে হবে? নাকি পূর্বের অযু দ্বারাই তিলাওয়াত, নামায ইত্যাদি আদায় করতে পারবেন?

অযুর শুরুতে পা ভিজিয়ে নিলে কি অযুর তারতীব ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১২৬৯০) : আমার পা শুষ্ক হওয়ার কারণে সাধারণত আমি অযু শুরু করার পূর্বে পা ভিজিয়ে নেই। এতে অযুর শেষে আমার পা ধৌত করতে সুবিধা হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত অনেকেই আমাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছে যে, আপনি এমনটি করেন কেন? এতে তো অযুর তারতীব রক্ষা হয় না। পা তো অযুর শেষে ধৌত করতে হয়। হুজুরের কাছে জানতে চাই, পায়ের শুষ্কতার কারণে আগে পা ভিজিয়ে নিলে কি অযুর তারতীব পরিবর্তন হয়ে যায়? আর এতে কি কোনো অসুবিধা আছে?

ড্রেসিংয়ের আগে ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ করলে কি ড্রেসিংয়ের পর পুনরায় মাসাহ করতে হবে?

প্রশ্ন (১২৬৮৮) : একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আমি হাতে চোট পেলে তাতে ব্যান্ডেজ লাগানো হয় এবং প্রতিদিনই ড্রেসিংয়ের প্রয়োজন হয়। ডাক্তার উক্ত স্থানে পানি লাগাতে নিষেধ করেন। তাই আমি ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ করি। জানার বিষয় হল, যদি আমি ড্রেসিংয়ের আগে ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ করে থাকি তাহলে কী ড্রেসিংয়ের পর পুনরায় মাসাহ করতে হবে?

জখম থেকে ইনজেকশন দ্বারা পানি বের করলে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৬৭৮) : একবার আমার পায়ের গোড়ালিতে ভীষণ আঘাত পাই। এরপর সে আঘাত সারার পরও সেখানে বেশি চাপ পড়লে পানি জমে যায়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ইনজেকশন দিয়ে সে পানি বের করে ফেলতে হয়। আমার জানার বিষয় হল, আমার যদি অযু থাকে তাহলে কি ইনজেকশন দ্বারা সে পানি বের করার দ্বারা আমার অযু ভেঙ্গে যাবে?

থুথুর সাথে কী পরিমাণ রক্ত বের হলে অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৬৬৫) : কিছু দিন আগে ডাক্তারের নিকট গিয়ে কয়েকটি দাঁত ওয়াশ করাই। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত পড়ছিল। ডাক্তারের কথা অনুযায়ী বাসায় এসে গরম পানি দিয়ে কুলি করলে বেশ সময় পর রক্ত পড়া বন্ধ হয়। নামাযের সময় হওয়ায় বাসা থেকে অযু করে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হই। মসজিদের কাছে গিয়ে থুথু ফেলে দেখি তা লালবর্ণ ধারণ করে ছিল। সন্দেহ হওয়ায় সতর্কতাবশত নতুন অযু করে নামায পড়ি। এখন আমার জানার বিষয় হল, আসলেই কি তখন আমার অযু ভেঙ্গে গিয়েছিল? এক্ষেত্রে শরীয়তের মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।

চোখে ব্যান্ডেজ করলে অযুর বিধান কী হবে?

প্রশ্ন (১২৬৪৪) : আমাদের এক আত্মীয়ের দুই চোখে অপারেশন হয়েছে। বেশ বড় ধরনের অপারেশন। সাত দিনের আগে ব্যান্ডেজ খোলা হবে না এবং খোলার পর এক মাস পর্যন্ত ডাক্তার চোখে পানি লাগাতে নিষেধ করেছে। এমন অবস্থায় তার অযুর বিধান কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কুলি করার পর মুখের ভেতরে পানির যে আর্দ্রতা থাকে তা গিলে ফেললে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৬০৮) : রমযান মাসে অনেককে দেখা যায় যে, তারা অযু করার পর মুখের ভেতরে অযুর পানি থাকার ভয়ে বারবার থুথু ফেলতেই থাকে, ফলে দ্রুত গলা শুকিয়ে যায়। আবার কেউ কুলির পর একবারও থুথু ফেলে না। তো প্রশ্ন হল, অযু করার পর মুখে যে আর্দ্রতা থাকে তা কি থুথুর সাথে গিলে ফেলা যাবে, না ফেলে দিতে হবে? এক্ষেত্রে আসলে সঠিক মাসআলাটি কী?

মাযূর ব্যক্তি কি মোজার উপর মাসাহ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৫৯৫) : আমার অসুস্থতার কারণে ডাক্তার প্রস্রাবের রাস্তার সাথে ক্যাথেটার লাগিয়ে দিয়েছে। তাই এক মাওলানা সাহেবের কথামতো আমি নামাযের প্রত্যেক ওয়াক্তে নতুন করে অযু করে নামায পড়ছি। প্রশ্ন হল, আমি এই ওযর থাকা অবস্থায় চামড়ার মোজা পরলে প্রতি ওয়াক্তের অযুর সময় পা না ধুয়ে মোজার উপর মাসাহ করতে পারব কি না?

প্রস্রাব করার পর পানি ব্যবহার না করে শুধু ঢিলা ব্যবহার করলে কি পবিত্রতা অর্জন হয় না?

প্রশ্ন (১২৫৯৪) : আমাদের এলাকার একজন মুসল্লী বলেন যে, প্রস্রাব করার পর পানি থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি পানি ব্যবহার না করে, তবে সে নাপাক থেকে যাবে, তার অযু হবে না। তাই হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হলো, কেউ যদি প্রস্রাব করার পর শুধু টিস্যু বা মাটির ঢিলা ব্যবহার করে শুকিয়ে নেয়, পানি ব্যবহার না করে, তারপর অযু করে নামায পড়ে, তবে কি তার নামায হবে না? পানি ব্যবহার না করার কারণে সে কি নাপাক থেকে যাবে?

মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিলে কি গোসলদাতার জন্য অযু বা গোসল করা আবশ্যক হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২৫৯৩) : কিছুদিন আগে আমার বড় মামা ইন্তিকাল করেন। আমি, ছোট মামা ও এক মুরুব্বী মিলে বড় মামাকে গোসল দেই। গোসল দেওয়া শেষে হাত-পা ধুয়ে শরীরের কাপড় পরিবর্তন করি। পূর্ব থেকে অযু থাকায় নতুন অযু না করেই জানাযার নামাযে শরীক হই। নামায শেষে এলাকার এক ভাই বেশ আপত্তি করে বলে, তোমার জানাযার নামায শুদ্ধ হয়নি। কারণ, তুমি গোসল করনি। পরে এবিষয়ে একাধিক ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করলে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাই। ফলে পেরেশানি আরো বেড়ে যায়, তাই মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, ঐ ভাইয়ের কথাটি কি ঠিক?

এসি থেকে নির্গত পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৬৮) : এয়ার কন্ডিশন (এসি) থেকে নির্গত পানি দ্বারা ফরয গোসল কিংবা অযু করা জায়েয হবে কি? বা তা দ্বারা নাপাক কাপড় পরিষ্কার করা যাবে কি?

জোঁক শরীর থেকে রক্ত খেলে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪৯৬) : আমাদের বাসা থেকে মসজিদে যেতে একটা ঝোপঝাড়ের পথ পাড়ি দিতে হয়। কিছুদিন আগে সেই পথ ধরে মসজিদে যাই। মসজিদের কাছাকাছি গিয়ে হঠাৎ পায়ে একটি জোঁক দেখতে পাই, যা রক্তে পূর্ণ ছিল। জামাত দাঁড়িয়ে যাওয়ায় জোঁকটি ফেলে জামাতে শরীক হই। যেহেতু অযু অবস্থায় ছিলাম, তাই নতুন করে অযু করিনি। এখন হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামাযটি কি শুদ্ধ হয়েছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

পরিহিত জামার কোনা দিয়ে কুরআন ধরা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৫৬) : একবার আমি কুরআন তিলাওয়াত করছিলাম।কুরআন তিলাওয়াতের মাঝে আমার অযু ভেঙে যায়। তাই আমি পরিহিত জামার এক কোনা দিয়ে কুরআন শরীফ উঠিয়ে রাখি। হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হল, অযু ছাড়া এভাবে জামার কোনা দিয়ে কি কুরআন শরীফ উঠিয়ে রাখা যায়? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

তেলাপোকা বা এজাতীয় পোকা পানিতে পড়ে মারা গেলে কি উক্ত পানি নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪৪৫) : পানির সমস্যার কারণে আমাদের বাসায় বিভিন্ন পাত্রে পানি ভরে রাখা হয়। কখনো কখনো পাত্রে এক বা একাধিক তেলাপোকা মরা পাওয়া যায়। আমার মা সবসময় এ পানি ফেলে সাবান দিয়ে পাত্রটি ধুয়ে নেন। প্রশ্ন হল, তেলাপোকা মরার কারণে পাত্রের পানির হুকুম কী? তা কি অযু-গোসল কিংবা কাপড় ধোয়া ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করার সুযোগ আছে? সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

বাসের সিটে বসে ঘুমালে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪২৫) : একবার দূরে কোথাও যাচ্ছিলাম। রাতে গাড়িতে উঠেছি। ফজরের সময় দশ মিনিটের জন্য বিরতি দেওয়া হল। আমি এবং আমার পাশের সিটের সাথী একসাথে নামায আদায় করলাম। আমি তো অযু করেছি কিন্তু সে অযু করেনি। তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, আমি অযু করে উঠেছিলাম, আর বাসের সিটে বসে ঘুমালে অযু ভাঙে না। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আবেদন, এ বিষয়ে সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

মলদ্বারে ঔষুধ প্রয়োগ করার পর তা বের হলে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪২৪) : গত রোযায় কোনো এক রাতে এশার নামাযের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শক্রমে মলদ্বারে ঔষুধ প্রয়োগ করি। পরে তারাবীহ পড়ানো শেষ হলে পায়জামায় হাত দিলে ভেজা ভেজা অনুভব হয়। জানার বিষয় হল, মলদ্বারের ভিতর ঔষধ প্রয়োগ করার পর তা যদি বের হয়ে যায়, তাহলে কি অযু ভেঙে যায়?

জামার হাতা গুটিয়ে নামায আদায় করলে মাকরুহ হবে?

প্রশ্ন (১২৪০৬) : আমি মাদরাসার ছাত্র। আমরা আমাদের মাদরাসার নিজস্ব মসজিদে নামায পড়ে থাকি। একদিন ইমাম সাহেবকে রুকুতে যেতে দেখে তাড়াহুড়া করে তার একতেদা করি। আমার পাশেই উস্তায দাঁড়িয়েছিলেন। নামায শেষে তিনি আমাকে বললেন, অযু শেষ করে জামার হাতা ঠিক কর না কেন, নামাযে হাতা গুটিয়ে রাখা মাকরূহ। জানতে চাচ্ছি- সঠিক কথা কী?

অযু করার সময় কথা বললে কি মাকরুহ হবে?

প্রশ্ন (১২৪০১) : অযু করার সময় অনেকে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করে থাকে। উত্তর দিতে না পারায় নিজের কাছে অনেক খারাপ লাগে। জানার বিষয়, তার মনের দিকে লক্ষ করে যদি উত্তর দেওয়া হয়, তাহলেও কি অযু মাকরূহ হবে?

ক্ষতস্থান থেকে রক্ত গড়িয়ে না পড়লেও কি অযু ভাঙে?

প্রশ্ন (১২৩৮৪) : মসজিদে যাওয়ার সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে হাত ছিলে যায়। এ অবস্থায়ই নামাযে শরীক হয়ে যাই। নামায শুরু করার সময় হাতের ছিলা জায়গাটা সাদা হয়ে ছিল। যখন নামায শেষ করি তখন দেখি রক্তে চামড়াটা লাল হয়ে আছে। এখন জানার বিষয় হল, আমার এই নামায কি সহিহ হয়েছে?