সালাত বা নামাজ

একই ব্যক্তির জানাযা একাধিক বার পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬১৮) : আমার দাদু চিটাগাংয়ে আমার চাচার বাসায় থাকতেন। কয়েক দিন আগে তিনি চাচার বাসায় মারা যান। আমার চাচা সেখানে একবার জানাযার নামায পড়ান। এরপর তাকে মাটি দেওয়ার জন্য শরীয়তপুরে নিয়ে আসেন। এখানে এসে পুনরায় তার জানাযার নামায পড়া হয়। এতে আমাদের এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেব শরীক হওয়া থেকে বিরত থাকেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়া ঠিক না। আমার চাচা তাকে বললেন, সহিহ বুখারিতে আছে, সাহাবায়ে কেরাম এক মহিলার জানাযার নামায পড়ার পর রাসূলুল্লাহ (সা.) পুনরায় ঐ মহিলার কবরের ওপর জানাযার নামায পড়েছেন। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাই, এ বিষয়ে শরীয়তের বিধান কী? দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়া যাবে কি না? যদি না যায় তাহলে সহিহ বুখারির এই হাদিসের ব্যাখ্যা কী? দলীলসহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

নাবালেগের পিছনে নামায আদায় করলে সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২৬১৫) : আমাদের টুপির একটি গার্মেন্ট আছে। আল্লাহর রহমতে সেখানে চার ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একজন নির্দিষ্ট ইমামও আছেন। ইমামের অনুপস্থিতে আমি নামায পড়াই। ঘটনাক্রমে একদিন উভয়ে অনুপস্থিত ছিলাম তখন আমার ফুফাতো ভাই ইমামতি করে। আর সে হল মক্তবের ছাত্র, এখনো বালেগ হয়নি। আর উপস্থিত সকলেই নামায সম্পর্কে এতটাই অজ্ঞ যে, তারা কেউই ইমামতির দায়িত্ব পালনে সম্মত হচ্ছিল না, বিধায় অপারগ হয়ে আমার ফুফাতো ভাই নামায পড়ায়। এখন আমার জানার বিষয় হলো, তাদের নামায কি সহিহ হয়েছে? জানতে পারলে উপকৃত হব।

শেষ বৈঠকে দুইবার তাশাহ্হুদ পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৬১৩) : কিছুদিন আগে যোহরের চার রাকাত সুন্নত পড়ার সময় শেষ বৈঠকে প্রথমবার তাশাহহুদ পড়ার পর আমার সন্দেহ জাগে যে, তাশাহহুদের কিছু অংশ ছুটে গেছে। তাই আবার পুরো তাশাহহুদ পড়ি। এরপর যথানিয়মে নামায শেষ করি। এখন হুযূরের কাছে জানার বিষয় হল, শেষ বৈঠকে দুই বার তাশাহহুদ পড়ার কারণে আমার উপর কি সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়েছিল? যদি হয়ে থাকে, তাহলে এখন আমার করণীয় কী?

শরয়ী ওযর ব্যতীত জুমার নামায ছাড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬১২) : গত শুক্রবার সকাল দশটার দিকে আমাদের এলাকার চেয়ারম্যান সাহেব নতুন রাস্তা নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। আমি শ্রমিক হিসাবে কাজ করছিলাম। ঘণ্টাখানিক পর জুমার নামাযের সময় হয়ে যায়। কন্ট্রাক্টর সাহেবকে নামাযের কথা জানালে তিনি বলেন, ‘দুইটা পর্যন্ত কাজ চলবে। এরপর আধা ঘণ্টা বিরতি। তখন যোহর পড়ে নিও।’ অতঃপর আমি ব্যথিত হৃদয়ে কাজ শুরু করলে এক মুরব্বী শ্রমিক সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘বাবা রাগ কর না, এখন আমরা তার অধীনে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ। তাই আমাদেরকে ছুটি না দেওয়ার অধিকার তার আছে।’ মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, আসলে কি কন্ট্রাক্টর আমাদেরকে জুমার জন্য ছুটি না দিয়ে কাজে বাধ্য করতে পারে?

নিষিদ্ধ সময়ে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬১১) : সাধারণত আমি সুবহে সাদিকের পর কুরআন শরীফ পড়ি। তাই অনেক সময় সিজদার আয়াতও পড়া হয়। আমি জানি, এসময় নফল নামায পড়া মাকরূহ। হুযূরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এসময় সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা করা যাবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

শেষ বৈঠকে দুরুদ পড়ার পর কোন কোন দুআ পাঠ করা যাবে?

প্রশ্ন (১২৬১০) : আমি নামাযের শেষ বৈঠকে দরূদ শরীফের পরে اللهم إني ظلمت نفسي এই দুআ পড়তাম। কিন্তু গতকাল মুআযযিন সাহেব বললেন, দরূদ শরীফের পরে এই দুআ ছাড়া অন্য যে কোনো দুআ পড়া যায় এবং এর মাধ্যমে নামাযের কোনো ক্ষতিও হয় না। কথাটি আমার কাছে নতুন মনে হয়েছে। তাই হযরতের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি, দরূদ শরীফের পর এই দুআ ছাড়া অন্য যে কোনো দুআ পড়া যাবে কি না?

কোনো কারণে নামায ফাসেদ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় শুরু করলে কি ইকামত দেওয়ার প্রয়োজন আছে?

প্রশ্ন (১২৫৯৬) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুলে একদিন অযু ছাড়া নামায পড়ান। সালাম ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে স্মরণ হয়। তখনই তিনি মুআজ্জিন সাহেবকে বলেন, তুমি আবার নামায পড়িয়ে দাও। তখন মুআজ্জিন সাহেব নামায পড়ালেন। কিন্তু পুনরায় ইকামত দেওয়া হয়নি। এটা কি ঠিক হয়েছে?

মাযূর ব্যক্তি কি মোজার উপর মাসাহ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৫৯৫) : আমার অসুস্থতার কারণে ডাক্তার প্রস্রাবের রাস্তার সাথে ক্যাথেটার লাগিয়ে দিয়েছে। তাই এক মাওলানা সাহেবের কথামতো আমি নামাযের প্রত্যেক ওয়াক্তে নতুন করে অযু করে নামায পড়ছি। প্রশ্ন হল, আমি এই ওযর থাকা অবস্থায় চামড়ার মোজা পরলে প্রতি ওয়াক্তের অযুর সময় পা না ধুয়ে মোজার উপর মাসাহ করতে পারব কি না?

প্রস্রাব করার পর পানি ব্যবহার না করে শুধু ঢিলা ব্যবহার করলে কি পবিত্রতা অর্জন হয় না?

প্রশ্ন (১২৫৯৪) : আমাদের এলাকার একজন মুসল্লী বলেন যে, প্রস্রাব করার পর পানি থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি পানি ব্যবহার না করে, তবে সে নাপাক থেকে যাবে, তার অযু হবে না। তাই হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হলো, কেউ যদি প্রস্রাব করার পর শুধু টিস্যু বা মাটির ঢিলা ব্যবহার করে শুকিয়ে নেয়, পানি ব্যবহার না করে, তারপর অযু করে নামায পড়ে, তবে কি তার নামায হবে না? পানি ব্যবহার না করার কারণে সে কি নাপাক থেকে যাবে?

মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিলে কি গোসলদাতার জন্য অযু বা গোসল করা আবশ্যক হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২৫৯৩) : কিছুদিন আগে আমার বড় মামা ইন্তিকাল করেন। আমি, ছোট মামা ও এক মুরুব্বী মিলে বড় মামাকে গোসল দেই। গোসল দেওয়া শেষে হাত-পা ধুয়ে শরীরের কাপড় পরিবর্তন করি। পূর্ব থেকে অযু থাকায় নতুন অযু না করেই জানাযার নামাযে শরীক হই। নামায শেষে এলাকার এক ভাই বেশ আপত্তি করে বলে, তোমার জানাযার নামায শুদ্ধ হয়নি। কারণ, তুমি গোসল করনি। পরে এবিষয়ে একাধিক ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করলে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাই। ফলে পেরেশানি আরো বেড়ে যায়, তাই মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, ঐ ভাইয়ের কথাটি কি ঠিক?

বাচ্চার নাপাক কাঁথা ভেজা পানি ফ্লোরে পড়লে সেখানে কি নামায আদায় করা যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৭৮) : বাচ্চার পেশাবের বেশ কিছু কাঁথা-কাপড় মেঝেতে রাখা ছিল। একবার করে হালকাভাবে ধুয়ে শুধু বড় আকারের নাপাকির গন্ধ ও চিহ্ন দূর করা হয়েছিল। পুরোপুরি পাক করা হয়নি। ঐ নাপাক কাপড়ের পানি মেঝেতে লেগে বেশ খানিকটা জায়গা ভেজা মতোন হয়ে যায়। ঘর ছোট হওয়ায় ঐ জায়গা ছাড়া নামায পড়ার মতো আর জায়গাও নেই। এদিকে সময় এত অল্প যে, ঐ জায়গা মুছে পাক করতে গেলে নামাযের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। এ অবস্থায় ঐ মেঝেতে জায়নামায বিছিয়ে নামায পড়লে কি নামায সহিহ হবে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

একই সূরা একাধিক রাকাতে পড়লে কি নামাযে কোনো সমস্যা হয়?

প্রশ্ন (১২৫৭৭) : আমি একদিন বিতর নামাযের মধ্যে প্রথম রাকাতে সূরা ইখলাস তিলাওয়াত করি। অতপর দ্বিতীয় রাকাতেও ভুলবশত সূরা ইখলাস তিলাওয়াত করি। অতপর নামায ছেড়ে দিয়ে আবার পুনরায় নামায আদায় করি। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী ছিল?

হামদ ও নাত সম্পর্কে দুটি প্রশ্ন।

প্রশ্ন (১২৫৬৯) : আমার দুটি বিষয় জানার ছিল। ১. হামদ ও নাতে বাজনা বাজানো এবং আল্লাহ আল্লাহ শব্দের জিকির বাজনা স্বরূপ ব্যবহার করা- যেমনটি বর্তমান সময়ে কিছু ইসলামী সংগীতে করা হয়, শরীয়তের দৃষ্টিতে এর হুকুম কী? ২. শরীয়তের দৃষ্টিতে মহিলাদের কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত ও ইসলামী সংগীত শ্রবণ করার বিধান কী?

আলেম নয় এমন ব্যক্তির পিছনে কি আলেম ব্যক্তি ইক্তিদা করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৫৬৩) : আমাদের বাজার মসজিদে এশার সময় একদিন ইমাম সাহেব ছিলেন না। তখন এক মুসল্লী ইমামতী করে। সে আলেম না। তবে তার কেরাত শুদ্ধ। যখন নামায শুরু হয় তখন কোনো আলেম ছিলেন না। দ্বিতীয় রাকাতে এক আলেম এসে নামযে শরীক হন। নামাযের পর কেউ কেউ বলছে ঐ ব্যক্তি যেহেতু আলেম নয় তাই তার পেছনে আলেম ইকতেদা করার কারণে কারো নামায হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়ে গেছে। এ ব্যাপারে শরীয়তের মাসআলা জানতে চাই।

নামাযী ব্যক্তির জন্য কি নিজের সুতরা নিজেই স্থাপন করা আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৫৬১) : আমরা জানি, মুসল্লির সামনে অন্তত এক হাত পরিমাণ সুতরা থাকলেই তার সামনে দিয়ে চলাচল করা যায়। কিন্তু একটি বইয়ে দেখতে পেলাম যে, সেখানে উল্লেখ আছে, ‘যে ব্যক্তি নামায আদায় করবে সেই সুতরা স্থাপন করবে। সুতরাং নামাযী ব্যক্তি যদি সুতরা স্থাপন না করে তাহলে অতিক্রমকারী তার সামনে সুতরা রেখে অতিক্রম করতে পারবে না।’ আমার জানার বিষয় হল, ঐ বইয়ের বক্তব্যটি কি ঠিক?

জামাতে নামায আদায় করার গুরুত্ব।

প্রশ্ন (১২৫৬০) : আমার জানামতে আমাদের সমাজে কিছু মানুষ যে কোনো ফরয নামায (বিশেষ করে ফজরের ফরয নামায)-এর জামাতে অনুপস্থিত থাকে। কারণ হিসাবে তারা বলেন, নবী কারীম (সা.) সবসময় নামায আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করতেন এবং আবু দাউদ শরীফের একটি হাদিসে আছে, ‘যখন তোমাদের ইমামগণ নামায আদায়ে বিলম্ব করবে তখন তোমরা নিজেরা উক্ত নামায ঘরে আদায় করবে। পরে তাদের সাথে মিলিত হলে পুনরায় জামাতে শরীক হবে। তা তোমাদের জন্য নফল।’ তাদের এ বক্তব্য কতটুকু সঠিক এবং উক্ত কারণে জামাতে অনুপস্থিত থাকার গুনাহ হবে কি না?

নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৫৯) : আমি এক মসজিদের ইমাম। আমি জানি, সিজদার আয়াত যদি সূরার শেষে থাকে এবং সিজদার আয়াতের পর এক-দু আয়াত বাকি থাকে, তাহলে সূরা শেষ করে নামাযের রুকুর মাধ্যমে যদিও সিজদা আদায় হয়ে যায়, কিন্তু উত্তম হল, সিজদার আয়াত পড়ে ভিন্নভাবে সিজদা দেওয়া। আমার জানার বিষয় হল, ভিন্নভাবে সিজদা দেওয়ার পর দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট এক-দু আয়াত পড়ে রুকু করবে? নাকি অন্য সূরা থেকে আরো কিছু আয়াত মিলিয়ে রুকু করবে? আর যেসব সূরা সিজদার আয়াতের মাধ্যমে শেষ হয়, যেমন- সূরা ‘আলাক’। সেক্ষেত্রে যদি সূরা শেষ করে সিজদা করে এবং সিজদা থেকে দাঁড়িয়ে কিরাত না পড়েই রুকু সিজদার মাধ্যমে নামায শেষ করে তাহলে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি না? দলীলসহ উক্ত বিষয়গুলোর সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

মাসবুক ব্যক্তির পিছনে ইক্তিদা করা সহিহ আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫৫৭) : কিছু দিন আগে আমার এক চাচা বাসায় বেড়াতে আসেন। আসরের সময় একসঙ্গে মসজিদে যাই। যেতে দেরি হওয়ায় গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব সালাম ফিরাচ্ছেন। তাই আমি মসজিদের এক পাশে গিয়ে নামায আদায় করি। নামায শেষে জানতে পারি, জামাতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে চাচা একজন মাসবুকের পেছনে ইক্তিদা করে নামায আদায় করেছেন। হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হল, মাসবুকের পেছনে ইক্তিদা করে তার নামায পড়া কি সহিহ হয়েছে? এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।

জানাযার নামায শেষে কখন হাত ছাড়বে?

প্রশ্ন (১২৫৫৬) : জানাযার নামাযে হাত কখন ছাড়বে? কেউ কেউ দেখি চতুর্থ তাকবীরের পর হাত ছেড়ে দেয়, তারপর সালাম ফেরায়। আর কেউ কেউ উভয় দিকে সালামের পর হাত ছাড়ে। আর মাঝে মাঝে কাউকে দেখি ডানদিকে সালাম ফেরানোর পর ডান হাত এবং বামদিকে সালাম ফেরানোর পর বাম হাত ছাড়ে। এ বিষয়ে সঠিক পদ্ধতিটি জানিয়ে বাধিত করবেন।