কাযা নামাজ

চার রাকাত সুন্নতের নিয়ত করে দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কি অবশিষ্ট দুই রাকাত কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৭৪) : দুই দিন আগে মসজিদে আছরের চার রাকআত সুন্নত পড়ছিলাম। তখন জামাত দাঁড়িয়ে গেলে দুই রাকাতের পর সালাম ফিরিয়ে জামাতে শরীক হয়ে যাই। প্রশ্ন হচ্ছে, এখন কি আমাকে অবশিষ্ট দুই রাকাত কাযা করত হবে? কেননা আমি তো চার রাকাতের নিয়তে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত পড়েছি?

নামায কাযা করার সময় কি ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৭৩) : আমি শৈশব থেকেই নামাযের প্রতি খুব যত্নবান ছিলাম। তাই কখনো কোনো কারণে নামায ছুটে গেলেও সাথে সাথে তা কাযা করে নিতাম। কিছুদিন হল, আমি এক কোম্পানিতে সেলসম্যান হিসাবে চাকরি শুরু করেছি। ডিউটিতে ব্যস্ত থাকায় মাঝেমাঝেই যোহর, আসর ও মাগরিব নামায কাযা হয়ে যায়। তবে আমি প্রতিদিন নিয়মিতই রাতে বাসায় এসে উক্ত নামাযগুলোর কাযা পড়ে নিই। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি যে, রাতে কাযা করার সময় আমাকে কি উক্ত নামাযগুলোর নির্ধারিত ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পড়তে হবে?

রোযা রেখে ভেঙে ফেললে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১৬৩) : গত বছর রমযানে প্রায় এক সপ্তাহ সফরে ছিলাম। সফরের কিছুদিন রোযা রাখতে পারিনি। মুহাররাম মাসে তা কাযা করতে শুরু করি। কতদিন রোযা রাখিনি- নিশ্চিতভাবে এ সংখ্যাটি মনে ছিল না। চারদিন রোযা রাখার পর পঞ্চম দিন রোযা রাখা অবস্থায় ঘটনাক্রমে এক সাথীর সাথে দেখা হয় যে ঐ সফরে আমাদের সাথে ছিল। সে আমাকে জানালো যে, আমরা কেবল তিন দিন রোযা রাখিনি। অবশিষ্ট দিনগুলোতে নিশ্চিতভাবেই রোযা রেখেছি। বিষয়টি জানার পর আমি পঞ্চম দিনের রোযাটি ভেঙে ফেলি। কিন্তু পরে জানতে পারলাম যে, রোযা শুরু করার পর তা পূর্ণ করা জরুরি। শুরু করার পর ভেঙে ফেললে এর কাযা করতে হবে। জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রেও কি আমাকে এ রোযার কাযা করতে হবে?

রোযা রাখার পর সফর অবস্থায় তা ভেঙে ফেলা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৫৩) : গত রমযানে সকালে জরুরি এক কাজে দেশের বাড়ি পাবনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। দুপুর ১টার দিকে গাড়ি সিরাজগঞ্জে হোটেলে বিরতি দেয়। তখন মাথায় চিন্তা আসল যে, আমি তো এখন মুসাফির। আর সফর অবস্থায় তো রোযা না রাখারও অনুমতি রয়েছে। কিছুটা ক্লান্তিও লাগছিল। তাই বিষয়টি চিন্তা করে রোযা ভেঙে ফেললাম। পাবনায় পৌঁছার পর যখন আমার মামাকে উক্ত ঘটনা শোনালাম। তখন তিনি বললেন, রোযা রাখার পর তা ভেঙে ফেলা জায়েয নেই। এখন তোমাকে উক্ত রোযার কাযা-কাফফারা উভয়টিই আদায় করতে হবে। তার এই কথা শোনার পর থেকে আমি বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত। তাই এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, আসলে সেই রোযার জরিমানাস্বরূপ এখন আমার করণীয় কী?

ফরয রোযার কাযা করার জন্য কখন নিয়ত করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৩৫) : গত রমযানে অসুস্থতার কারণে একটি রোযা রাখতে পারিনি। আজ সকাল আটটার দিকে ঘুম থেকে জেগে কাযা রোযাটি রাখার নিয়ত করি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বাড়িতে মেহমান আসায় তাদের পীড়াপীড়িতে তা ভেঙে ফেলি। জানার বিষয় হল, এখন আমাকে কয়টি রোযা রাখতে হবে? একটি, না দুটি?

ভুলে সময় হওয়ার আগে ইফতার করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২১১৯) : আমাদের বাসায় স্বাভাবিকভাবে রমযানে সকলেই মসজিদের আযানের পরই ইফতার করি। কিন্তু আমার দাদা সাধারণত আযানের অপেক্ষা করেন না। ঘড়িতে ইফতারের নির্ধারিত সময় হলেই ইফতার শুরু করে দেন। গত রমযানে একদিন বরাবরের মতই তিনি ঘড়িতে ইফতারের সময় হয়ে যাওয়ায় ইফতার করে নেন। কিন্তু পরে জানা যায় যে সেদিন দুর্ঘটনাক্রমে ঘড়ি প্রায় ১২ মিনিট ফাস্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে ভুলে তিনি ইফতারের সময় হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগেই ইফতার করে নিয়েছেন। এখন মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, দাদার সেই রোযা কি ভেঙে গিয়েছিল? ভেঙে গিয়ে থাকলে এখন তার করণীয় কী?

কাযা রোযা আদায় করার জন্য কখন নিয়ত করা জরুরী?

প্রশ্ন (১২১১০) : গত রমযানে মাসে আমার একটি রোযা কাযা হয়েছিল। গত শুক্রবার রোযাটি কাযা করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু শুক্রবার রাতে রোযা রাখার কথা আমার খেয়ালই ছিল না। পরে ঐ দিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে কিছু খাওয়ার আগেই রোযা রাখার কথা স্মরণ হলে রোযার নিয়ত করে ফেলি। মুহতারামের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার রোযাটি কি আদায় হয়েছে?

রমযান মাসে মান্নতের ইতিকাফ আদায় করতে না পারলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১০৯) : আমি গত রমযানে ইতিকাফ করার মান্নত করেছিলাম। কিন্তু গত বছর বিভিন্ন সমস্যার কারণে ইতিকাফ আদায় করতে পারিনি। এখন আমি চাচ্ছি, আগামী রমযানে উক্ত মান্নত ইতিকাফের কাযা করে নিতে। এভাবে কাযা করে নিলে আমার মান্নত ইতিকাফ কি আদায় হয়ে যাবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

ফরয নামায শুরু করার পর হায়েয চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৮৬) : ফরয নামায শুরু করার পর দ্বিতীয় রাকাতে আমার হায়েয চলে আসে। ফলে সে নামাযটি আমি পূর্ণ করতে পারিনি। এখন উক্ত নামাযের হুকুম কী? তা কি পবিত্র হওয়ার পর কাযা করতে হবে? এমনটি যদি নফল নামাযে হয়, তাহলে বিধান কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

ওযু করার সময় ভুলে গলায় পানি ঢুকে গেলে কি রোযা ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১২০৬৩) : এবার রমযানে একদিন অযুতে কুলি করার সময় ভুলে গলা দিয়ে পানি ঢুকে যায়। হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ কারণে আমার রোযার কোনো ক্ষতি হয়েছে কি?

অজ্ঞান থাকা অবস্থায় ১০ ওয়াক্ত নামায ছুটে গেলে কি সেগুলো কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২০৫৮) : আমি সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হই এবং সাথেসাথে অজ্ঞান হয়ে যাই। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যমে দুই দিন পরে আমার জ্ঞান ফিরে। এই দুই দিনে আমার ১০ ওয়াক্তের নামায ছুটে যায়। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, অজ্ঞান থাকা অবস্থায় যে ১০ ওয়াক্ত নামায আমার ছুটে গেছে, তা কি কাযা করতে হবে? জানালে উপকৃত হব।

বিগত দিনের কাযা রোযার কাফ্ফারা কিভাবে আদায় করব?

প্রশ্ন (১২০৪৬) : আমি ভার্সিটির একজন ছাত্র। আগে দ্বীনের বুঝ না থাকায় নামায-রোযা ঠিকমত আদায় করতাম না। এখন দ্বীনের বুঝ পেয়েছি। তাই পিছনের জীবনে ছেড়ে দেওয়া নামায-রোযা কাযা করা শুরু করেছি। আমি বিগত রমযানে আব্বু আম্মুর জোরাজুরির কারণে ভোর রাতে সাহরী করে রোযা রাখতাম। পরে ভার্সিটিতে এসে ভেঙ্গে ফেলতাম। আমি শুনেছি, রোযা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেললে শুধু কাযা করাই যথেষ্ট না; বরং কাফফারা আদায় করতে হয়। জানার বিষয় হল, আমি তো এভাবে অনেক রোযা ভেঙ্গেছি। এখন আমি এত কাফফারা কীভাবে আদায় করব? শরীয়তে আমার জন্য কোনো ছাড় আছে কি?

কোনো নামাযের ওয়াক্তের মাঝে মাসিক শুরু হয়ে গেলে কি ঐ ওয়াক্তের নামায কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২০২৮) : যোহরের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর আমার মাসিক শুরু হয়। কিন্তু তখনও আমি যোহরের নামায পড়িনি। ‍তবে যোহরের নামায পড়ার মত সময় আমার হাতে ছিল। আমি চাইলে নামায পড়তে পারতাম। আমি জানতে চাচ্ছি, এখন কি আমার উক্ত নামায কাযা করতে হবে? জানালে উপকৃত হব।

কাযা আছে মনে করে ভেঙ্গে ফেললে কাযা করতে হবে কি

প্রশ্ন (১১৯২৯) : গত রোযায় আমার ৪টি রোযা কাযা হয়। কিন্তু আমি মনে করি যে, আমার ৫টি রোযা কাযা হয়েছিল। তাই ৪টি রোযা কাযা করার পর ৫ম টিও শুরু করি। সকালের কিছু অংশ যাওয়ার পর নিশ্চিত হই যে আমার ৪টি রোযা কাযা হয়েছিল। তাই তৎক্ষণাৎ তা ভেঙ্গে ফেলি। জানতে চাচ্ছি, উক্ত রোযা শুরু করার পর ভেঙে ফেলার কারণে আমাকে কি এর কাযা করতে হবে?

ইচ্ছাকৃত ভাঙ্গার পর হায়েয আসলে গুনাহ মাফ হবে কি

প্রশ্ন (১১৯২৮) : গত রোযায় শয়তানের ধোঁকায় পরে ইচ্ছাকৃত রোযা ভাঙ্গার পর সেদিনই সূর্যাস্তের আগে হায়েয আসে। জানতে চাচ্ছি, উক্ত কারণে ইচ্ছাকৃত রোযা ভাঙ্গার গুনাহ মাফ হবে কি?

১৩ তারিখ মাগরিবের পর কাযা করলে তাশরীক পড়তে হবে কি

প্রশ্ন (১১৮১৭) : ১৩ জ্বিলহজ্ব আসরের নামায কাযা হয়ে যায়। মাগরিবের পর যখন তা কাযা করি তখন আর তাকবীরে তাশরীক পাঠ করিনি। জানতে চাচ্ছি, আমার কাজটি কি বিধি সম্মত হয়েছে?

নখের ভিতর মাটি থাকলে কি ওযু হবে?

প্রশ্ন (১১৭৫৪) : আমি ক্ষেতে কাজ করছিলাম। তখন মসজিদে মাগরিবের আযান হয়ে যায়। তাই দ্রুত ওযু করে মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করলাম। নামাযের পর খেয়াল করলাম যে, নখের ভিতর মাটি রয়ে গেছে। তাই আমার মনে খটকা লাগছে যে, আমার নামায সহিহ হয়েছে কিনা। আমি জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে নাকি কাযা করতে হবে?