কসম ও মান্নত

নিজের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যায় এমন মান্নত করা উচিত নয়।

প্রশ্ন (১২০৬৯) : কয়েক বছর আগে একদিন আমার ছেলে বাহির থেকে বাসায় ফিরছিল। তখন তার ফেরার পথে কোথাও গেঞ্জাম চলছিল। তখন পুলিশ আমার ছেলেকে সন্ত্রাস মনে করে অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও তাকে ছাড়ানো যাচ্ছিল না। তখন আমি মান্নত করেছিলাম, আমার ছেলে যদি জেলখানা থেকে ছাড়া পায় তাহলে আমি যতদিন বেঁচে থাকব প্রত্যেক সোমবার রোযা রাখব। এর কিছুদিন পর প্রায় আলৌকিকভাবে আমার ছেলে মুক্তি পেয়ে যায়। এরপর থেকে আমি নিয়মিত সোমবারে রোযা রেখে যাচ্ছি। কিন্তু এ বছর থেকে বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার কারণে আমার জন্য প্রত্যেক সোমবারে রোযা রাখা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমি মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে রোযা না রেখে আমার জন্য কিছু করার সুযোগ রয়েছে কি?

একাধিক রোযা রাখার মান্নত করলে সেগুলো একসাথে রাখতে হবে নাকি ভেঙে ভেঙে রাখা যাবে?

প্রশ্ন (১২০৩৭) : আমার চাচাতো বোনের নতুন বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর আমরা জানতে পারি, তার স্বামী তাকে মানসিক-শারীরিক নির্যাতন করে। এটা জানার পর তাকে আমরা নিয়ে আসতে চাইলে তারা আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করে আমাদের ফিরিয়ে দেয়। বোনের সাথে আমার সম্পর্ক ভালো ছিল বলে আমি অত্যন্ত পেরেশান হই, খুব কান্নাকাটি করি। একপর্যায়ে আমি আমার ভাইকে বলে বসি, ‘তুই সাক্ষী থাক, ও যদি আমাদের কাছে চলে আসতে পারে তাহলে আমি ৩০ টা রোযা রাখব।’ কিছুদিন পর সে জোরপূর্বক সেখান থেকে চলে আসতে সক্ষম হয়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, সেদিনের ঐ কথার কারণে কি এখন আমাকে ৩০টা রোযা রাখতে হবে? রাখতে হলে তা কি লাগাতার রাখতে হবে, নাকি ভেঙে ভেঙে রাখারও সুযোগ আছে? উল্লেখ্য, ঐ কথা বলার সময় আমার লাগাতার রাখার নিয়ত ছিল না।

কসমের কাফ্ফারা।

প্রশ্ন (১২০৩৬) : আমি বারবার একটি পাপ কাজে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। অনেক চেষ্টা করেও তা থেকে বিরত থাকতে পারছিলাম না। একবার দৃঢ় সংকল্প করে বলি, ভবিষ্যতে কখনো এ কাজটি করব না; করলে লাগাতার দশ দিন রোযা রাখব। পরবর্তীতে শয়তানের ধোঁকায় কাজটি আবার করে ফেলি। কিন্তু শারীরিক কিছু অসুস্থতার কারণে বর্তমানে লাগাতার দশ দিন রোযা রাখা আমার জন্য কষ্টকর। জানার বিষয় হল, এখন আমাকে কী করতে হবে?

কসম সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০২৪) : আমি আমার বন্ধুদের সাতে মিশে ধুমপানে অভ্যস্ত হয়ে যাই। এতে আমার বাবা-মা খুব কষ্ট পান এবং আমার সাথে খুব রাগ করেন। কিন্তু আমি কিছুতেই এটা ছাড়তে পারছিলাম না। পরে একদিন আমার বাবা আমাকে বলেন যে, তুমি তোমার মায়ের মাথা ছুঁয়ে কসম করে বলো যে, আর ধূমপান করবে না। তখন আমি বাধ্য হয়ে আমার মায়ের মাথা ছুঁয়ে বলি, “কসম করছি, আমি আর ধূমপার করব না।” কিন্তু কিছুদিন পর আবার করে ফেলি। তো আমি জানতে চাচ্ছি, এর কারণে কি আমার উপর কোনো কাফ্ফারা ওয়াজিব হয়েছে?

কসমের কাফ্ফারা।

প্রশ্ন (১১৯৯৮) : আমি মাঝে মাঝেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বেড়াতে গেলে পান খেতাম। এখন আমার পান খাওয়ার নেশা হয়ে গেছে। কিন্তু আমার মা-বাবা পান খাওয়া খুব অপছন্দ করেন। তাই তারা আমাকে পান খেতে নিষেধ করেন। কিন্তু আমি এটা ছাড়তে পারছি না বিধায় তারা আমাকে কসম করায়। তাই আমি কসম করে বলি যে, ‘আমি কসম করছি আর পান খাব না’। কিন্তু আমি আবারও পান খেয়ে ফেলি। এখন আমার কী করণীয়? আমার উপর কি কাফ্ফারা আবশ্যক হয়েছে?

মুখের কথা ধর্তব্য নাকি নিয়ত

প্রশ্ন (১১৮০৪) : মান্নত করার সময় নিয়ত ছিল দুইদিন রোযা রাখব। কিন্তু মুখে বলার সময় বের হয়ে যায় ৫ দিন। জানতে চাচ্ছি, আমার কয়দিন রোযা রাখতে হবে?

মুখে প্রকাশ না করলে কসম হবে কি

প্রশ্ন (১১৮০৩) : আমি মনে মনে কসম করেছিলাম যে, অমুক কাজটি আর করব না। তবে মুখে তা উচ্চারণ করিনি। পরবর্তীতে উক্ত কাজটি করে ফেলি। জানতে চাচ্ছি, আমার কি কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে?

মান্নত থেকে দায়মুক্ত হওয়া যাবে কি

প্রশ্ন (১১৮০২) : আমার দাদা মান্নত করেছিলেন যে, তিনি চাকরি পেলে তিনদিন ইতিকাফ করবেন। কিন্তু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আর সুযোগ হয়ে উঠেনি। জানতে চাচ্ছি, তিনি কিভাবে এ থেকে দায়মুক্ত হবেন?

খাওয়ানোর ব্যবস্থা না থাকলে টাকা দেওয়া যাবে কি

প্রশ্ন (১১৭৯৯) : আমি মান্নত করেছিলাম, আমার অমুক কাজটি হলে ১০ জন গরিবকে খাওয়াবো। কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু আমার বাসায় ১০ জন গরিবকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা নেই। জানতে চাচ্ছি, ১০ জন গরিবকে খাবারের টাকা দিয়ে দিলে মান্নত আদায় হবে কি?

৫ জনকে খাওয়ালে মান্নত পূর্ণ হবে কি

প্রশ্ন (১১৭৯৪) : জনৈক ব্যক্তি মান্নত করেছে যে, তার উক্ত কাজ পূর্ণ হলে ১০ জন গরিবকে খাওয়াবে। তার উক্ত কাজ পূর্ণ হয়েছে। জানতে চাচ্ছি, সে যদি ৫ জন গরিবকে ১০ জনের খাবার খাওয়ায় তাহলে মান্নত পূর্ণ হবে কি?

কসমের কাফ্ফারা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১১৭৬৮) : একবার আমার স্ত্রীর সাথে আমার অনেক ঝগড়া হয়। তখন আমি রাগ করে আমি তাকে বলি ‘যাও আজ থেকে তোমার হাতের রান্না আর খাব না। যদি খাই তাহলে হারাম খাই।’ পর যখন আমার রাগ কমে যায় তখন তার অনুরোধে তার সাথে খাবার খাই। হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, এই কথা বলার পর তার হাতের রান্না খাওয়ায় কি আমার গুনাহ হয়েছে?

মান্নতের ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক।

প্রশ্ন (১১৬৮৯) : আমি আমার একটি শুভ কাজের জন্যে এক দিন এক রাত ইতিকাফ করার মান্নত করেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ আমার কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। তারপর আমি মান্নত আদায় করার জন্য মসজিদে চলে যাই। যোহরের সময় এক লোক আমাকে ইতিকাফের কথা জিজ্ঞাসা করে বললেন, আপনি কি রোজা রেখেছেন? উত্তরে আমি বললাম, না। তখন তিনি বললেন, মান্নতের ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, ঐ ব্যক্তির কথা কি ঠিক আছে? মান্নতের ইতিকাফের জন্য কি রোযা রাখা আবশ্যক?

কোনো কিছু না খাওয়ার কসম করার পর আবার তা খেলে কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন (১১৬১০) : আমার ছোট ভাই আমার বাসায় কিছু ফল নিয়ে বেড়াতে আসে। তখন আমাদের পারিবারিক বিষয়ে তার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাকে আমি বলে ফেলি, “ তুই এই ফল নিয়ে যা, আমি তোর ফল খাব না তোর এই ফল আমার জন্য হারাম”। তখন সে আমার কাছে মাফ চায় এবং অনুনয়-বিনয় করে উক্ত ফলগুলো রেখে যায়। পরবর্তীতে আমিও এই ফল খাই। তো আমার এই কথা বলার পর উক্ত ফল খাওয়ার কারণে কি আমার গুনাহ হয়েছে?

অসুস্থতার কারণে ঘরে নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১১৬০৮) : আমি বালেগ হওয়ার পর থেকে সর্বদা মসজিদে জামাতের সাথে নামায পড়ার চেষ্টা করছি। বর্তমানে আমি শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ থাকায় জামাতের সাথে নামায আদায় করা আমার জন্য কষ্ট হয়ে যায়। তবুও নামায জামাতেই পড়ছি। প্রথম রাকাত দাঁড়িয়ে পড়ি। পরবর্তী রাকাতগুলো বসে এবং ইশারায় পড়ি। এমতাবস্থায় আমার জন্য নিজ ঘরে নামায পড়ার অনুমতি আছে কি ? এক্ষেত্রে কি আমি জামাতের সওয়াব পাব?

এক মাস রোযা রাখার মান্নত করলে সেই রোযা কি লাগাতার এক মাসে আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১১৫৭০) : মাসখানেক আগের আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। দিন দিন তা বেড়েই যাচ্ছিল। তাই আমি মান্নত করেছিলাম যে, আল্লাহ তাআলা যদি আমাকে সুস্থ করে দেন, তাহলে আমি এক মাস রোযা রাখব। এর কয়েকদিন পরেই আলহামদুলিল্লাহ আমি সুস্থ হয়ে যাই। এখন আমার জানার বিষয় হল, মান্নতের এই এক মাস রোযা কি লাগাতার রাখতে হবে, নাকি ভেঙে ভেঙে রাখলেও চলবে?