মসজিদ

যৌথ ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ সদকা করার শর্তে বিনিয়োগ গ্রহণ করা জায়ে…

প্রশ্ন (১৩১১০) : আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি সবসময় ব্যবসার লাভের ২% মসজিদ-মাদরাসায় এবং ৩% গরিব-মিসকীনদের দান করে থাকি। বিভিন্ন সময় আমি অন্যদের থেকেও নির্দিষ্ট হারে লাভ প্রদানের চুক্তিতে বিনিয়োগ গ্রহণ করে থাকি। তাদেরকেও বিষয়টি জানিয়ে দেই যে, মোট লাভ থেকে উক্ত অংশ বাদ দিয়েই লাভ বণ্টন হবে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এভাবে চুক্তি করতে কোনো সমস্যা আছে কি?

মসজিদের মুতাওয়াল্লী মারা গেলে কি তার ছেলেকে মুতাওয়াল্লী বানানো জরুরি?

প্রশ্ন (১৩১০০) : আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তি একটি মসজিদ ওয়াকফ করেছেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনিই সেই মসজিদের মুতাওয়াল্লী ছিলেন। এখন তার মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে মুতাওয়াল্লী হতে চাচ্ছে। সে বলছে, ‘আমার বাবা এই মসজিদ ওয়াক্ফ করেছেন এবং তিনি মুতাওয়াল্লীও ছিলেন। এখন তার মৃত্যুর পরে তার বড় ছেলে হিসেবে আমিই এই মসজিদের মুতাওয়াল্লী হব।’ কিন্তু এলাকাবাসী তাকে মুতাওয়াল্লী বানাতে চাচ্ছে না। অবশ্য অল্প কিছু মানুষ তাকে সমর্থন করছে। কিন্তু বাকিরা অন্য একজনকে মুতাওয়াল্লী বানাতে চাচ্ছে। আর ওয়াক্ফকারীও তার সন্তান মুতাওয়াল্লী হওয়ার ব্যাপারে কিছু বলে যাননি। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি যে, এমতাবস্থায় আমাদের কী করণীয়?

সালাম ফিরানোর পর সাহু সিজদা দেওয়ার কথা মনে হলে উক্ত অবস্থায় সাহু সিজদা দিলে কি তা আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩০৮৬) : আমি একদিন এক লোককে দেখলাম, নামায শেষ করে বের হওয়ার জন্য সে দরজার দিকে যাচ্ছে। কিছুদূর গিয়ে পুনরায় বসে পড়েছে। অতপর সিজদা ও বৈঠকের পর সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করেছে। ব্যাপারটি তার কাছে জানতে চাইলে সে বলল, আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব ছিল। আমি তা আদায় করতে ভুলে গিয়েছি। আর মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত যেহেতু ভুলে যাওয়া সাহু সিজদা আদায়ের সুযোগ থাকে তাই স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে আমি তা আদায় করে নিলাম। জানতে চাই, প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে সাহু সিজদা আদায় করার দ্বারা কি তার নামায ত্রুটিমুক্ত হবে? উল্লেখ্য, লোকটি নামায নষ্ট হওয়ার মত কোনো কাজ না করেই সিজদা করেছে।

ইতিকাফরত অবস্থায় মসজিদ থেকে বের হলে কি ইতিকাফ ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১৩০৮৫) : আমাদের মহল্লার মসজিদে আমার চাচা প্রতি বছর রমযানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করেন। গত বছর একদিন ইতিকাফ অবস্থায় চাচার এক আত্মীয়ের সাথে কথা বলতে বলতে ভুলে মসজিদ থেকে বের হয়ে যান। পরে ইতিকাফের কথা স্মরণ হওয়া মাত্রই মসজিদে প্রবেশ করেন। তখন কেউ বলেছে, মসজিদ থেকে বের হওয়ার কারণে তার ইতিকাফ নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কেউ বলেছে, সে যেহেতু ভুলে বের হয়ে গেছে তাই তার ইতিকাফ নষ্ট হয়নি। যেমন ভুলে খেয়ে ফেললে রোযা ভাঙ্গে না। জানার বিষয় হলো, আসলেই কি চাচার ইতিকাফ ভেঙে গেছে?

মুসল্লীরা রুকুতে শরীক হওয়ার উদ্দেশ্যে ইমাম সাহেব রুকু দীর্ঘায়িত করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৬৬) : আমি এক মসজিদের ইমাম। বিভিন্ন সময় অনেক মুসল্লী তাড়াহুড়ো করে রুকুতে শরীক হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মসজিদ বড় হওয়ার কারণে অনেকে রুকুতে শরীক হতে না পেরে মাসবুক হয়ে যায়। তাই কোনো সময় আমি রুকুকে একটু দীর্ঘ করি, যাতে মুসল্লীরা রুকুতে শরীক হতে পারে। এভাবে রুকুকে দীর্ঘ করা কি শরীয়তের দৃষ্টিতে অনুমোদিত? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

এলাকাবাসী মসজিদ নির্মাণ করতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩০৬০) : আমাদের এলাকায় খ্রিস্টানদের বসবাস বেশি। এবং এই এলাকার জমিদার সব খ্রিস্টান। কিন্তু সেখানে অনেক মুসলমানেরও বসবাস রয়েছে। প্রায় দুই/তিন হাজার মুসলমান বসবাসকারীর জন্য নামাযের উপযুক্ত কোনো জায়গা না থাকায় তারা সাময়িকভাবে পাঞ্জেগানা মসজিদ বা জামে মসজিদের জন্য কোনো ফ্লোর ভাড়া নিতে পারবে কি? উল্লেখ্য যে, তাদের জায়গা ক্রয় করার মত আর্থিক সামর্থ্যও নেই এবং তারা সেই ভাড়া ফ্লোরে নামাযের পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের কুরআন শেখার ব্যবস্থাও রাখতে চায়।

মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও জামাত আদায় করলে কি আযান দেওয়া জরুরি?

প্রশ্ন (১৩০৫৭) : এক ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণের পর সেখানে সবাই জামাতসহ নামায আদায় করি। উক্ত নামাযের পূর্বে আমাদের কেউ কেউ আযানের প্রস্তাব করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে কি আমাদের আযান দেওয়া জরুরি ছিল?

মসজিদের সাথে যুক্ত বর্ধিতাংশের হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১৩০৫৪) : আমাদের মসজিদের অভ্যন্তরে মুসল্লিদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ যদি অভ্যন্তর সংলগ্ন আরো কিছু জায়গা নামাযের জন্য বাড়িয়ে নেয় তবে কি তা মূল মসজিদ ধরা হবে, না বারান্দা ধরা হবে? যদি ঐ বর্ধিত অংশ মূল মসজিদ বলে গণ্য হয় তবে মসজিদের আদব-ইহতেরামের সমস্ত বিধানাবলী ঐ বর্ধিত অংশের উপর বর্তাবে কি?

অস্থায়ী মসজিদে ইতিকাফ আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৪২) : আমাদের মসজিদের ভবনটি অনেক পুরাতন। তাই পুনঃনির্মাণের জন্য গত বছর মসজিদটি ভাঙা হয়। আপাতত নামায পড়ার জন্য পাশে অবস্থিত মুতাওয়াল্লী সাহেবের জায়গায় টিনশেড দিয়ে একটি অস্থায়ী মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ঈদ-জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্তের নামায এই অস্থায়ী মসজিদেই আদায় করা হয়। এলাকার বিরোধের কারণে এখন পর্যন্ত নতুন ভবনের কাজ শুরু করা যায়নি। জানার বিষয় হল, সামনের রমযানে এ অস্থায়ী মসজিদে ইতিকাফে বসা সহিহ হবে কি? সহিহ না হলে মহল্লাবাসী সুন্নত ইতিকাফ কীভাবে আদায় করবে?

কোনো মুসল্লীর রাকাত পাওয়ার জন্য ইমাম সাহেবের রুকুতে দেরি করা কি ঠিক?

প্রশ্ন (১৩০২৭) : আমি এক মসজিদে ইমামতি করি। অনেক সময় রুকুতে যাওয়ার পর কোনো কোনো মুসল্লীর দ্রুতগতিতে মসজিদে প্রবেশের শব্দ শোনা যায়। এমতাবস্থায় আমি যদি উক্ত মুসল্লীর রাকাত পাওয়ার জন্য রুকুতে একটু দেরি করি তাহলে এতে শরয়ী কোনো সমস্যা হবে কি?

মসজিদ ফান্ডের টাকা নিজ প্রয়োজনে খরচ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩০১৮) : আমি একটি মসজিদের ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। মসজিদ ফান্ডের লাখ লাখ টাকা আমার কাছে থাকে। আমি এ টাকাগুলো মসজিদের নামেই ব্যাংকের একটি কারেন্ট একাউন্টে জমা করি এবং প্রয়োজনের সময় উত্তলোন করে খরচ করি। গত কয়েকদিন আগে আমার একটি ব্যক্তিগত কাজে লাখ দেড়েক টাকার প্রয়োজন হয়। তখন আমি শীঘ্রই ফিরিয়ে দেওয়ার নিয়তে দেড় লাখ টাকা মসজিদের একাউন্ট থেকে উত্তোলন করে খরচ করে ফেলি। জানতে চাচ্ছি, আমার এ কাজটি কি ঠিক হয়েছে? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩০১৭) : আমাদের মসজিদের দেয়ালে ‘মসজিদে দুনিয়াবী কথা হারাম’ বাক্যটি টাইলসে খোদাই করে লেখা। জানার বিষয় হলো, নামাযের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়ার পর কখনো দুনিয়াবী কথাবার্তাও হয়ে যায়। একারণে কি গুনাহ হবে?

মসজিদের জন্য ওয়াক্ফকৃত জমির গাছ থেকে কি মাদরাসার ছাত্ররা ফল খেতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩০০৮) : মসজিদের জন্য ওয়াক্ফকৃত জায়গায় যে সমস্ত ফলের গাছ আছে সেগুলোর ফল পাশের মাদরাসার ছাত্ররা খেতে পারবে কি? আসলে এ ফলগুলোর হকদার কারা? বিষয়টি নিয়ে এলাকায় খুব সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত সমাধান জানালে উপকৃত হব।

এক গ্রামে একাধিক মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৯৭) : আমাদের গ্রামে দুটি মসজিদ আছে। দুটি মসজিদেই জুমার নামায অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের গ্রামের সকল মুসল্লীদের জন্য এই দুইটি মসজিদই যথেষ্ট। কিন্তু এক মুরুব্বী মহল্লার একটি জুমা মসজিদের ৩০০ গজের মধ্যে তাঁর অর্থায়নে নির্মিত একটি পাঞ্জেগানা মসজিদকে জুমা মসজিদে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। বাহ্যত বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে হয় না। কিন্তু এতে পার্শ্ববর্তী মসজিদের জুমার জামাতে মুসল্লী হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশ্ন হল, এমতাবস্থায় তাঁর জন্য উক্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে কি না?

মসজিদের ছাদে বিজ্ঞাপনের জন্য বিলবোর্ড লাগানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৯৩) : আমাদের এলাকার মসজিদের ছাদে একটি প্রসিদ্ধ কোম্পানী তাদের বিজ্ঞাপনের জন্য বিলবোর্ড লাগাতে চাচ্ছে। তারা বলেছে, যেহেতু মসজিদের ছাদ তাই এতে তারা কোনো ছবি ব্যবহার করবে না। আপাতত তারা পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি করতে চাচ্ছে। সাধারণত ছাদে নামায পড়ার প্রয়োজন হয় না। ঈদের সময় কখনো প্রয়োজন হয়। আমরা এলাকাবাসী জানতে চাচ্ছি, মসজিদের ছাদে বিজ্ঞাপনের জন্য বিলবোর্ড লাগানো জায়েয হবে কি না?

এলাকায় একাধিক মসজিদ থাকলে কোন মসজিদে নামায আদায় করা উচিত?

প্রশ্ন (১২৯৮৬) : আমাদের এলাকায় দুটি মসজিদ আছে। আমি প্রথম মসজিদের সামনে দিয়ে দ্বিতীয় মসজিদে নামাজ পড়তে যাই। এতে কি কোনো কুরআন হাদিস বিরোধী কাজ হয়?

মসজিদের জায়গায় অযুখানা, টয়লেট নির্মাণ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৯৭০) : আমাদের মহল্লার মসজিদের জন্য প্রথম যে জায়গাটি ওয়াকফ করা হয়েছিল তা ছিল একদম ছোট। তাই চতুর্দিকে একেবারে আশপাশের জায়গাগুলো তখনও পর্যন্ত খালি ছিল তাই কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা ছিল পরবর্তীতে জায়গার ব্যবস্থা হলে মসজিদ সম্প্রসারণ করা হবে এবং মসজিদের জন্য অযুখানা ও টয়লেট নির্মাণ করা হবে। এখন মসজিদের দক্ষিণ পাশে রাস্তা। উত্তর ও পূর্ব পাশে যাদের জায়াগা তারা কিছুতেই জায়গা দিতে প্রস্তুত নয়। শুধু মসজিদ বরাবর পশ্চিম পাশে বর্তমান মসজিদের দ্বিগুণ একটি জায়গা একলোক ওয়াক্ফ করেছে। তাই কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে পশ্চিমের পূর্ণ জায়গা জুড়ে মসজিদ নির্মাণ করে পূর্বদিকের যে জায়গায় বর্তমানে মসজিদ আছে তার একাংশে অযুখানা ও টয়লেট নির্মাণ করবে। জানার বিষয় হল, আগে যে জায়গা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে সেখানে অযুখানা ও টয়লেট নির্মাণ করা জায়েয হবে কি না? অথবা পশ্চিম পাশে কিছু জায়গা খালি রেখে সেখানে অযুখানা ও টয়লেট নির্মাণ করা যাবে কি না? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।

মসজিদে কুরআন শরিফের পুরাতন কপি জমা হয়ে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৯৬৭) : আমাদের মহল্লার মসজিদে কুরআন মাজীদের অনেক পুরনো কপি জমা হয়ে গেছে, যেগুলো পড়া যায় না। এখন সেগুলোর ব্যাপারে কী করণীয় তা নিয়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। অনেকে মৌখিকভাবে বিভিন্ন আলেম থেকে বিভিন্ন ধরনের মাসআলাও নিয়ে এসেছে। তাই হযরতের কাছে অনুরোধ, এ বিষয়ে দলীল-প্রমাণসহ লিখিত ফতোয়া প্রদান করে আমাদেরকে উপকৃত করবেন।

ফজরের সু্ন্নত আর ফরযের মাঝে অন্য কোনো নফল নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৫৯) : আমি সবসময় ঘরে ফজরের সুন্নত পড়ে তারপর মসজিদ যাই। মাঝে মাঝে মসজিদে গিয়ে দেখি ফজরের জামাত শুরু হতে এখনো কিছু সময় বাকি। তাই আমি সে সময় দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করি। আমার এক ভাগিনা আছে। সে মাদরাসায় পড়ে। একদিন সে আমাদের বাসায় বেড়াতে আসলে আমরা বাসায় একসাথে সুন্নত আদায় করে মসজিদে যাই। মসজিদে গিয়ে দেখি জামাতের সময় এখনো বাকি আছে তাই আমি তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়তে দাঁড়িয়ে যাই। নামায শেষে সে আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে আমি তাকে বলি যে, আমি তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করেছি। তখন সে আমাকে বলে, ফজরের সু্ন্নত আর ফরযের মাঝে অন্য কোনো নফল নামায পড়া যায় না। তাই আমি জানতে চাচ্ছি যে, তার কথা কি ঠিক আছে?