বিয়ে

ফোনে বিবাহ করলে উক্ত বিবাহ কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৮৭৪) : আমার এক বন্ধু মোবাইলে একটি মেয়েকে বিবাহ করে। ফোনেই মোহর নির্ধারণ ও ইজাব-কবুল সম্পন্ন করে। মেয়েও ফোনেই কবুল করে। উক্ত বিবাহ গোপনে হয়েছিল। বিবাহের সময় আমার বন্ধুর সাথে তার দু্ইজন বন্ধু সাক্ষী হিসেবে ছিল। উভয়ে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে মেয়ের কবুল শুনতে পেরেছিল। এখন সে জানতে চাচ্ছে, এর দ্বারা কি ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ সহিহ হয়েছে?

বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৮৬৫) : আমার চাচা উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশে দেশের একটি বড় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করে। উক্ত প্রতিষ্ঠানে বিবাহিত কাউকে ভর্তি নেয় না। কিন্তু আমার চাচা বিবাহিত। তাই বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ভর্তি হওয়ার জন্য সে তার জীবন বৃত্তান্তে অবিবাহিত লিখে। এবং মৌখিক স্বীকারোক্তি দেন এ বলে যে, আমি অবিবাহিত; আমার স্ত্রী নেই। বর্তমানে সে ঐ প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্র। জানার বিষয় হল, এভাবে বলা ও লিখার কারণে তার স্ত্রীর উপর কি কোনো তালাক পতিত হয়েছে?

স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৮৩৯) : আমার একজন ছোট বোন আছে। এক দেড় বছর আগে তার স্বামী তাকে তিন তালাক দিয়ে দেয়। এখন অনেক দিন পর তারা আবার একসঙ্গে থাকতে আগ্রহী হয়। তখন আমার স্বামী আমার বোনকে বিয়ে করে এবং তার সঙ্গে রাত যাপন করে। এরপর তাকে তিন তালাক দিয়ে দেয়। এখন ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আমার বোন তার প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে আর কোনো বাধা আছে কি?

দুধ পিতার বোনকে বিয়ে করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৮০৭) : আমার দুধ পিতার ছোট বোন অর্থাৎ আমার দুধ মায়ের ননদের সাথে আমার বিবাহের আলোচনা চলছে। গ্রামের মুরুব্বিরা এ কথা শুনে বলছেন, এ বিয়ে জায়েয হবে না। কারণ, সে আমার মাহরাম। আবার কেউ কেউ বলছেন, এই বিয়েতে কোনো সমস্যা নেই। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, শরীয়তের দৃষ্টিতে এই বিয়ের হুকুম কী? আমার দুধ মাতার ননদের সাথে আমার বিবাহ কি শুদ্ধ হবে?

বাবার অনুমতি ছাড়া মা কি তার মেয়েকে বিবাহ দিতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৭৮৯) : আমাদের এলাকায় পাশাপাশি বাড়ির এক মেয়ে ও এক ছেলের মাঝে সম্পর্ক ছিল। মেয়ের মা বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েকে বিবাহ দিয়েছে। জানার বিষয় হল, বাবা জীবিত থাকা সত্ত্বেও বাবার অনুমতি ছাড়া এই বিবাহ শুদ্ধ হয়েছে কি?

পাত্রীর কাছ থেকে বিয়ের সম্মতি নেওয়ার সময় সাক্ষী থাকা কি জরুরি?

প্রশ্ন (১৩৭৮৩) : আমাদের দেশে বিয়েতে সাধারণত প্রথমে কনে পক্ষের কোনো একজন মুরব্বী কনের কাছ থেকে ইয্ন (বিয়ের সম্মতি) নিয়ে আসে। এরপর বিয়ের মজলিসে বরের কাছে তা পেশ করা হয় এবং বর কবুল করলে বিবাহ সম্পন্ন হয়। জানার বিষয় হল, কনের কাছ থেকে ইয্ন নেওয়ার সময় সাক্ষীদের উপস্থিতি জরুরী কি?

দুধপানের বিষয় সাব্যস্ত হওয়ার জন্য কি পুরুষ সাক্ষী জরুরি?

প্রশ্ন (১৩৭৭১) : এক বছর যাবৎ আমার এক দুঃসম্পর্কের ভাগনীর সাথে আমার বিয়ের কথাবার্তা চলছে। এখন আমার মা বলছেন, আমি তাকে দুধ পান করিয়েছি। এ ব্যাপারে কোনো পুরুষ সাক্ষী নেই। সুতরাং আমি জানতে চাই, শরীয়তের দৃষ্টিতে আমার জন্য এই বিয়ে বৈধ হবে কি না? কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জানালে কৃতজ্ঞ হব।

দুধ ভাইয়ের বোনকে বিবাহ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৭৫৬) : আমার জন্মের পর মা অসুস্থ ছিলেন। তাই আমার খালামনি আমাকে কিছুদিন দুধ পান করিয়েছেন। কয়েক বছর পূর্বে আরেকটি শিশুকে তিনি কিছুদিন দুধ পান করিয়েছেন। এখন শিশুটির বোনের সঙ্গে আমার বিবাহ ঠিক হয়েছে। জানার বিষয় হল, ঐ শিশুটি কি আমার দুধ ভাই হবে? এবং তার বোনকে বিবাহ করা কি আমার জন্য জায়েয হবে?

স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তান কার নিকট থাকবে?

প্রশ্ন (১৩৭৫৩) : কয়েক মাস মাস আগে আমার চাচাতো বোনের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে। তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে। ছেলের বয়স তিন বছর। আর মেয়ের বয়স ছয় বছর। প্রশ্ন হল, সন্তানরা কার নিকট থাকবে? এক্ষেত্রে শরীয়তের সিদ্ধান্ত জানতে চাই।

মেয়েকে তার সৎ দাদার সাথে বিবাহ দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৭০২) : আমাদের গ্রামের এক মেয়ের তার পিতার সৎ চাচা অর্থাৎ সৎ দাদার সাথে বিবাহের কথাবার্তা চলছে। তাদের বয়সের পার্থক্যও খুব বেশি নয়। এখন আমার জানার বিষয় হলো, তাদের বিবাহ সহিহ হবে কি?

আংটি পরানোর পর কি ছেলে-মেয়ে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৬৯৪) : বিয়ে সংঘটিত হওয়ার জন্য তো কাবিন করা শর্ত। বর্তমান সময়ে দেখা যায়, বিয়ের কথা পাকাপাকি হওয়ার পর মা-বাবা কিংবা অভিভাবকের সম্মতিতে কাবিন না করে শুধু আংটি পরিয়ে রাখে। জানার বিষয় হলো, আংটি পরিয়ে রাখার পর ছেলে-মেয়ে পরস্পরে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে কি? অনুগ্রহ করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

বিয়ে সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৬১৬) : আমার প্রতিবেশীর ছেলে এক মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক জড়িয়ে যায়। মেয়েটি অন্তস্বত্তা হলে তার পরিবার এই বিষয়টি জানতে পারে। পরে পরিবারের চাপাচাপিতে সে সব খুলে বলে। তারপর তার পরিবার ছেলের নামে মামলা করে। এখন মেয়ের পরিবার ঐ ছেলের সাথেই বিয়ে দিতে চায়। জানার বিষয় হল, তাদের বিবাহ সহিহ হবে কি? এবং তাদের দাম্পত্য জীবন সহিহ হবে কি?

ছেলের শাশুড়িকে বিয়ে করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৬১৪) : প্রায় এক বছর আগে জসিমের শ্বশুর মারা যায়। এখন জসিমের বাবা তার শাশুড়িকে বিয়ে করতে চাচ্ছে। শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদের পরস্পরে বিবাহ কি বৈধ হবে?

মায়ের সৎ মামার সাথে বিবাহ জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৬০৩) : আমার এক চাচাতো বোনের বিবাহ হয়েছে তার মায়ের সৎ মামার সাথে। সৎ মামা অর্থাৎ এক নানার ঔরসে ভিন্ন নানির ঔরসজাত ছেলের সাথে বিবাহ বৈধ কি না? কুরআন-হাদিসের আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।

দুধ পান সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৪৬০) : মালিহা ও ফারহানা আপন বোন। ছোটবেলায় তাদের মা অসুস্থ থাকায় মালিহা কিছুদিন আমার আম্মুর দুধ পান করেছে। এখন ফারহানার সাথে আমার বিয়ের কথা চলছে। জানতে চাই, এ অবস্থায় আমার জন্য ফারহানাকে বিয়ে করা বৈধ হবে কি?

ইদ্দতের মধ্যে কি বিয়ের কাবিননামা তৈরি করে রাখা যাবে?

প্রশ্ন (১৩২৫৬) : স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীকে চার মাস দশদিন ইদ্দত পালন করতে হয়। এ সময় বিশেষ কিছু বিধান তার মেনে চলতে হয়। তন্মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য একটি বিধান হল, এ সময় সে অন্যত্র বিয়ে করতে পারে না। কিন্তু আমাদের সমাজে দেখা যায়, মেয়েকে উপযুক্ত মনে হলে ইদ্দতের মধ্যেই কাবিন নামা তৈরি করে রাখা হয়। এবং ইদ্দত শেষে বিয়ের বাকি কাজ সম্পন্ন করা হয়। এখন প্রশ্ন হল, এভাবে ইদ্দতের মধ্যেই কাবিননামা লিখে রাখা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয হবে কি?

তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩২৪৩) : আমার বাবার বয়স ৫৮ বছর। তিনি অন্যের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ করেছেন। শরীয়তে এই বিবাহের হুকুম কী? প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, আমার বয়স ২৭। এখনো ছাত্র। এখনো বাবার টাকায় আমার খরচ চলে। বাড়ীতে আম্মা ও ৭ বছরের ছোট ভাই আছে। আম্মা এই বিবাহ মোটেই মানতে পারছেন না। এই অবস্থায় আমার করণীয় কী?

কসম করে চার মাসের অধিক সময় স্ত্রী থেকে দূরে থাকার পর উক্ত কসম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩২১৩) : একদিন আমার স্ত্রীর সাথে একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে আমি রাগের মাথায় তার সাথে এই বলে কসম করে ফেলি যে, আমি কোনোদিন তোমার সাথে মেলামেশা করব না। অতপর এক সপ্তাহ বাড়িতেই আলাদা ঘরে ছিলাম। কিন্তু সেই বিষয়টি নিয়ে আবার ঝগড়া হলে আমি ঢাকায় বোনের বাসায় চলে আসি এবং পাঁচ মাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখি। এর মধ্যে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা হলে আমি বাড়ি ফিরে যাই। এখন হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, আমি এই কসম থেকে কীভাবে নিষ্কৃতি পাব? এবং কসমের কাফফারা কীভাবে আদায় করব?