মাযহাব

নফল নামায জামাতের সাথে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬৪০) : আমাদের মহল্লার মসজিদে রমযানের শেষ দশকে রাত ১২টার পর জামাতের সাথে কিয়ামুল লাইল-এর নামায আদায় করা হয় এবং তাতে পূর্ণ ৩০ পারা পড়া হয়। ইমাম সাহেব ফতোয়া দিয়েছেন, রমযানের শেষ দশকের জামাতবদ্ধ এই নফল নামায মাকরূহ হবে না। তিনি মক্কা ও মদীনাকে দলীল হিসাবে ব্যবহার করেছেন। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত নফল নামাযের জামাতটা শরীয়তে বৈধ হবে কি না? বিস্তারিত দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

কুরবানীর পশুতে কোনো শরীকের অংশ এক সপ্তমাংশের কম হলে কি কুরবানী সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৪৬৫) : কুরবানীর পশুতে কোনো শরীকের অংশ এক সপ্তমাংশের কম হলে সকল শরীকের কুরবানীই নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের এলাকায় একজন মুফতী সাহেব এমন একটি ঘটনায় ফতোয়া দিয়েছেন যে, শুধু ঐ শরীকের কুরবানীই নষ্ট হবে। অন্য শরীকের কুরবানী সহিহ হয়ে যাবে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, অন্য শরীকদের কুরবানী কেবল ঐ ক্ষেত্রেই নষ্ট হয়, যেক্ষেত্রে কোনো শরীক হারাম মাল দ্বারা কুরবানী করে অথবা দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে শরীক হয়। মুফতী সাহেবের কাছে বিনীত নিবেদন, হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদির হাওয়ালাসহ মাসআলাটির সঠিক সমাধান জানাবেন।

মূল্য দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৪২) : আমি ইংল্যান্ড প্রবাসী। প্রত্যেক রমযানে সদাকাতুল ফিতরের টাকা দেশে দিয়ে থাকি। আমাদের এখানের কিছু ভাই বলেন, টাকা দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায় হবে না। সরাসরি গম বা খেজুর ইত্যাদি দ্রব্যাদি দিয়ে দিতে হবে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এ দ্রব্যগুলোর মূল্য দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায় করলে কি তা আদায় হবে না? এ বিষয়ে মিডিয়াতে বিভিন্ন বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। বিস্তারিত দলীল-প্রমাণসহ জানালে উপকৃত হতাম।

মাগরিবের আযানের পর ফরযের আগে কোনো নফল নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২২৮) : মুহতারামের নিকট আমার জানার বিষয় হল, মাগরিবের আযানের পরে ফরয নামাযের আগে নফল নামায পড়ার হুকুম কী? এবিষয়ে কোনো এক আলেমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, পড়া যাবে। কেননা বিভিন্ন সাহাবীরা পড়েছেন। অন্য একজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মাকরূহে তানযিহী-এর সাথে হবে; কেননা খুলাফায়ে আরবাআসহ উল্লেখযোগ্য কোনো সাহাবী পড়েননি। এ বিষয়ে শরয়ী সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

সফরে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে এক ওয়াক্তে পড়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২২১২) : আমি রিয়াদের মুহাম্মদ বিন সাউদ ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্র। আমাদের ভার্সিটি থেকে প্রায়ই ছাত্র জামাত ওমরার উদ্দেশ্যে মক্কায় গিয়ে থাকে। সুযোগ হলে আমিও তাদের সাথে শরীক হই। আমার সফরসঙ্গীরা তাদের হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী যাত্রাপথে বিরতি দিয়ে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করে নেয়। কিন্তু আমাদের হানাফী মাযহাব অনুসারে যেহেতু দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে পড়ার নিয়ম নেই, তাই আমি তাদের সাথে জামাতে শরীক না হয়ে শুধু ওয়াক্তের নামায একাকী পড়ি। পরবর্তী ওয়াক্তের নামায সফরে বিরতি না হওয়ার কারণে বাধ্য হয়েই আমাকে কাযা করতে হয়। অবশ্য আমাকে অনেকে বলেছেন, তুমি চাইলে তাদের সাথে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে পড়তে পারো। আসলেই কি এভাবে দুই ওয়াক্তের নামায আমার জন্য একত্রে পড়ার সুযোগ রয়েছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

বিতরের নামাযে দুআয়ে কুনূত উচ্চ স্বরে পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৬৯) : আমি নিউইয়র্ক থাকি। প্রতি রমযানে সাধারণত মসজিদে তারাবীহ পড়ানো হয়। এ রমযানে যে মসজিদে তারাবীহ পড়াচ্ছি, সেখানকার অধিকাংশ মুসল্লীই বিভিন্ন আরব দেশের নাগরিক। তারা ফিকহে হানাফীর অনুসারী নয়। তাদের আবদার হচ্ছে, বিতর নামাযে দুআয়ে কুনূতটা যেন উচ্চ স্বরে পড়া হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, হানাফী মাযহাবের কারো মতে কী দুআয়ে কুনূত উচ্চ স্বরে পড়ার সুযোগ আছে?

তারাবীহর নামাযে কুরআন দেখে পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৬৭) : আমি আমেরিকার একটি অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। সেখান পুরো দুইশ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র একটি মসজিদ। দূর-দূরান্ত থেকে লোক এখানে নামায পড়তে আসে। রমযান মাসে কোনো হাফেয না পাওয়াতে সূরা তারাবীহ পড়তে হয়। সেখানকার কিছু মুসল্লীর পীড়াপীড়ি, উৎসাহ প্রদান ও সাহস যোগানোর কারণে আমি এ বৎসর আল্লাহর উপর ভরসা করে কুরআন হেফজ করা শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ প্রায় আঠারো পারা মুখস্থ করা শেষ হয়েছে। আমার ইচ্ছা হল, এবারের রমযানে এ আঠারো পারা দিয়ে নামায পড়াব। কিন্তু কিছু লোক আমাকে অনুরোধ করছে, অবশিষ্ট বারো পারা কুরআন শরীফ যেন দেখে পড়ে নিই। যাতে খতম পূর্ণ হয়। প্রশ্ন হল, দেখে দেখে নামাযে এভাবে কুরআন পড়া জায়েয হবে কি না? বিশেষত এক্ষেত্রে হানাফী মাযহাবের মতামত কী?

নামাযে সালাম ফিরানোর পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২০২৬) : ক) আমরা জানি, নামায থেকে বের হওয়ার জন্য সালাম ফিরানো ওয়াজিব। কিন্তু এটা কি এক সালামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না উভয় সালামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? কেউ যদি এক সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করে দেয় তাহলে কি কোনো অসুবিধা আছে? খ) সাধারণত লোকদের তিনভাবে সালাম ফিরাতে দেখা যায়। ১. সামনের দিকে চেহারা রেখে السّلَامُ عَلَيْكُمْ বলে। আর وَرَحْمَةُ اللهِ বলার সময় চেহারা ডানে-বামে ফিরায়। অথবা পুরা সালামই চেহারা সামনের দিকে রেখে বলে। এরপর চেহারা ডানে-বামে ফিরায়। ২. সালামের পুরা বাক্যই ডানে বা বামে চেহারা ফিরিয়ে বলে। অর্থাৎ চেহারা ডান বা বাম দিকে ফিরানোর পর السّلَامُ عَلَيْكُمْ বলা শুরু করে। ৩. সামনে থেকে সালাম শুরু করে। সালাম বলতে বলতে ডানে বা বামে চেহারা ফিরায়। যাতে ডানে বা বাম দিকে পূর্ণ চেহারা ফিরানোর সাথে সাথে সালামও শেষ হয়ে যায়। জানার বিষয় হল, এই তিন পদ্ধতির মধ্যে কোন পদ্ধতিটি সহিহ?

রোযার নিয়তের আগে কিছু খেলে রোযা হবে কি

প্রশ্ন (১১৯৩৩) : গত রমযানে প্রথম রোযায় সাহরীতে উঠতে পারিনি। আযানের পর ঘুম থেকে উঠে পানি পান করি। তখন রোযার কথা স্মরণ ছিল না। পানি পানের পর রোযা কথা স্মরণ হয় এবং রোযার নিয়ত করি। জানতে চাচ্ছি, আমার কি সেদিনের রোযা হয়েছিল?

পরে ইকতেদা করা হলে উচ্চস্বরে কেরাত পড়তে হবে কি

প্রশ্ন (১১৮৩১) : আমি একদিন একাকি ফজরের নামায পড়ছিলাম। পরবর্তীতে দুইজন ব্যক্তি আমার পিছনে ইকতেদা করে। কিন্তু আমি বাকি নামায একাকি আদায়কারীর ন্যায় শেষ করি। নামায শেষে মুক্তাদীরা বলে, আপনার জন্য উচ্চস্বরে কেরাত পড়া জরুরি ছিল। জানতে চাচ্ছি, আমার কি নামায হয়েছিল?

জানাযার নামাযের পর দাফনের পূর্বে হাত উঠিয়ে সম্মিলিত দুআ করার বিধান

প্রশ্ন (১১৫২৪) : আমাদের এলাকায় কোনো কোনো হুজুর জানাযার পর পর দাফনের পূর্বে হাত উঠিয়ে সম্মিলিত দুআ করে থাকেন। আবার আলেমকে দেখা যায় এটাকে নাজায়েয বলেন। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, জানাযার পর পর দাফনের পূর্বে হাত উঠিয়ে সম্মিলিত দুআ করা জায়েয আছে কি না? কুরআন-হাদিসের আলোকে সমাধান জানালে উপকৃত হব। জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।

বাটিতে দুধ খেলে দুধ সম্পর্ক স্থাপিত হবে কি

প্রশ্ন (১১৪১৩) : জনৈকা নারী বাটিতে করে তার বুকের দুধ দেড় বছরের এক বাচ্চাকে খাইয়েছে। জানতে চাচ্ছি, উক্ত নারীর সাথে সেই বাচ্চার দুধ সম্পর্ক সাব্যস্থ হবে কি?

সফরে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে পড়া যাবে কি

প্রশ্ন (১১৩৫৪) : আমি মদীনা ভার্সিটিতে পড়ি। এখান থেকে মাঝে মাঝে আমরা ছাত্ররা উমরা করতে মক্কায় যাই। পথে আমার সাথীরা ভিন্ন মাযহাবের হওয়ায় একই ওয়াক্তে দুই নামায একসাথে পড়ে। এ কারণে আমি তাদের সাথে নামায না পড়ে একাকি পড়ি। গাড়ি না থামানোর কারণে অন্য ওয়াক্তের নামায কাযা হয়ে যায় যা পরবর্তীতে পড়ে নেই। জানতে চাচ্ছি, তাদের মত আমি দুই ওয়াক্তের নামায একসাথে পড়তে পারব?