ইমাম সাহেব সাহু সিজদার জন্য সালাম ফিরানোর সময় মাসবুক ব্যক্তি কী করবে?
প্রশ্ন (১২৯৪৪) : নামাযে ভুলের কারণে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দিলে মাসবুক ব্যক্তি কি ঐ সিজদায় ও সালামে শরীক হবে, নাকি হবে না? এ সম্পর্কে সঠিক পদ্ধতি জানানোর অনুরোধ রইল।
প্রশ্ন (১২৯৪৪) : নামাযে ভুলের কারণে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দিলে মাসবুক ব্যক্তি কি ঐ সিজদায় ও সালামে শরীক হবে, নাকি হবে না? এ সম্পর্কে সঠিক পদ্ধতি জানানোর অনুরোধ রইল।
প্রশ্ন (১২৯৪২) : আমাদের মহল্লার মসজিদে নামায পড়তে গেলে আমার একটা সমস্যা হয়। তা হলো, কখনো তাশাহ্হুদ শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। আবার কখনো আখেরী বৈঠকে দরূদ ও দুআ পড়ার আগে সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। উল্লেখিত দুটি ক্ষেত্রে আমার করণীয় কী হবে? জানানোর অনুরোধ রইল।
প্রশ্ন (১২৯২১) : মাসবুক ব্যক্তির দাঁড়ানোর সঠিক সময় কখন? অনেক সময় দেখা যায় যে, ইমাম প্রথম সালাম দেওয়ার সাথে সাথেই কেউ দাঁড়িয়ে যায় কিংবা কেউ ইমামের দুই সালাম দেওয়ার পর দাঁড়ায়। আমার জানার বিষয় হল, মাসবুক ব্যক্তি তার ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার জন্য কখন দাঁড়াবে?
প্রশ্ন (১২৯২০) : একবার মসজিদে এসে ইমাম সাহেবকে রুকু অবস্থায় পাই। কাতার পর্যন্ত পৌঁছার আগে ইমাম সাহেব রুকু থেকে উঠে যাওয়ার আশংকা ছিল তাই রাকাতটি পাওয়ার জন্য কাতার থেকে দূরে থাকতেই ইমামের একতেদা করি। অতপর এক রোকন পরিমাণ থেমে থেমে দু-এক কদম করে কাতারে গিয়ে মিলিত হই। জানার বিষয় হল, নামাযের মধ্যে এভাবে হাঁটার দ্বারা কি নামায নষ্ট হয়ে গেছে?
প্রশ্ন (১২৯০৫) : একদিন আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব এশার নামাযের তৃতীয় রাকাতে তিন সিজদা দেন। নামায শেষে তিনি সাহু সিজদা আদায় করেন। সালাম ফিরানোর পর মুসল্লীরা এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন যে, কেউ যদি নামাযের কোনো রাকাতে তিন সিজদাহ দেয়, তারপর সাহু সিজদা দেয় তবে নামায হয়ে যাবে। উক্ত কথাটি কতটুকু সঠিক? উত্তর দিয়ে উপকৃত করবেন।
প্রশ্ন (১২৮৭৮) : আমাদের এলাকার পুরাতন মসজিদে মুসল্লিদের জায়গা না হওয়ার কারণে সেটি ভেঙে এখন কয়েক তলাবিশিষ্ট নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম তলার কাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে। এখন ছাদ ঢালাইয়ের অপেক্ষায়। কিন্তু এর মধ্যেই একটা বিষয় নিয়ে বেশ ঝামেলা দেখা দিয়েছে। তা হল, অনেকে বলছে যে, প্রত্যেক তলার ছাদে খানিকটা ফাঁকা রাখতে হয় নিচ তলার সাথে সংযোগ থাকার জন্য। মসজিদ কমিটির বক্তব্য হল, ছাদে এভাবে ফাঁকা রাখলে মসজিদের সৌন্দর্য বিনষ্ট হবে। কাজেই ছাদে ফাঁকা রাখা যাবে না। এখন হযরতের কাছে আমাদের জানার বিষয় হলো, এক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা কী? প্রত্যেক তলার ছাদের একাংশ ফাঁকা রাখা কি জরুরি? দয়া করে দ্রুত জানালে কৃতার্থ হব।
প্রশ্ন (১২৮৭৭) : আমাদের এলাকায় জানাযার খাটিয়া বহন করার সময় লোকজন উচ্চস্বরে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও বিভিন্ন কালিমার যিকির করে। কিছুদিন আগে আমাদের মসজিদে একজন নতুন ইমাম আসেন। একদিন জানাযার খাটিয়া নেওয়ার সময় লোকজনকে সমস্বরে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর যিকির করতে দেখে নতুন ইমাম সাহেব বললেন যে, এভাবে উচ্চস্বরে কালিমা পড়া বিদআত। এ কথা বলার পর কিছু লোক ইমাম সাহেবের উপর খেপে যায়। তাদের কথা হল, কালিমা পড়ছি এখানে বিদআতের কী হল? এ নিয়ে বেশ ঝামেলা সৃষ্টি হয়। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাই, এ ব্যাপারে কুরআন-হাদিসের নির্দেশনা কী? এবং এক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণের আমল কী ছিল? বিস্তারিত দলিল-প্রমাণসহ জানানোর জন্য বিশেষ অনুরোধ রইল।
প্রশ্ন (১২৮৭২) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। সাধারণত ফজর ও আসর নামাযের পর মুসল্লিদের দিকে ফিরে বসি। কিন্তু এই ব্যপারে আমার কোনো জ্ঞান নেই। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আসলে বিষয়টি কতটুকু শরীয়তসম্মত? যদি বিষয়টি শরীয়তসম্মত হয় তাহলে জানার বিষয় হল, পুরোপুরি মুসল্লিদের দিকে ফিরে বসতে হবে, নাকি ডান বা বাম দিকে ফিরে বসলেও চলবে?
প্রশ্ন (১২৮৫৫) : আমার বাসা রাজশাহী। আমি একটি আহলে হাদিস অধ্যুষিত এলাকায় থাকি এবং তাদের মতাদর্শী এক ইমামের পিছনে জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্তের নামায আদায় করি। তিনি আরবীর পরিবর্তে বাংলায় জুমার খুতবা প্রদান করেন। অথচ আমরা জানি, আরবী ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় খুতবা দেওয়া জায়েয নয়। জানার বিষয় হল, বাংলাতে খুতবাদাতা ঐ ইমামের পিছনে আমার জুমার নামায সহিহ হয়েছে কি না? সহিহ না হলে এখন কি আমাকে এতদিনের আদায়কৃত নামাযগুলোর কাযা করতে হবে?
প্রশ্ন (১২৮১৭) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। কয়েকদিন আগে আমি ভুল করে যোহরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যাই। তখন পেছন থেকে একজন আল্লাহু আকবার বলে লোকমা দেয়। সেখানে উপস্থিত একজন আলেম নামায শেষে বললেন, হাদিস ও ফিকহের কিতাবাদিতে সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দেওয়ার কথা আছে। আল্লাহু আকবার বলে নয়। সুতরাং সুবহানাল্লাহ বলাই উচিত। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, ঐ আলেমের কথা কি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৮১৩) : মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের সাথে দরূদ ও দুআ মাসূরা পড়বে নাকি শুধু তাশাহহুদ পড়ে ইমামের সালাম ফিরানোর অপেক্ষা করবে? এ ব্যাপারে সঠিক পদ্ধতিটি জানালে উপকৃত হব।
প্রশ্ন (১২৮১২) : সফর অবস্থায় নামায কসর করা কি জরুরি? কেউ কেউ বলে কসর করা জরুরি নয়। কেউ চাইলে পুরো নামাযও পড়তে পারে আবার কসরও করতে পারে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। এ কথার পর বিষয়টি নিয়ে আমি সংশয়ে পড়ে যাই। দয়া করে আমাকে এর সমাধান জানাবেন।
প্রশ্ন (১২৮০৯) : অনেককেই বলতে শোনা যায় যে, মুক্তাদীগণ মুআজ্জিন হাইয়া আলাল ফালাহ বলা পর্যন্ত মুক্তাদীগণ অপেক্ষা করবে। তারপর দাঁড়াবে। আমার জানার বিষয় হলো, জামাতে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে কাতার সোজা করার সঠিক সময় কখন? আর ইক্বামত কি মুসল্লিরা দাঁড়ানোর পর দিবে? নাকি ইক্বামত শুরু করার পর মুসল্লিরা দাঁড়াবে?
প্রশ্ন (১২৭৯০) : এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর উক্ত গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব তার জানাযার নামায পড়িয়েছিলেন। এবং এতে মহল্লাবাসী ও দূরবর্তী ওলিগণ উপস্থিত ছিল। কিন্তু সে জানাযায় নিকটবর্তী ওলি উপস্থিত ছিল না এবং তার অনুমতিও ছিল না। এ অবস্থায় নিকটবর্তী ওলি দ্বিতীয়বার জানাযা পড়তে পারবে কি?
প্রশ্ন (১২৭৭৬) : ক. কোন মাসবুক ব্যক্তি যদি ইমামের সাথে প্রথম বৈঠকে শরীক হয় , আর এমতাবস্থায় ইমাম সাহেব বৈঠক থেকে উঠে যান তাহলে মাসবুকের তাশাহহুদ পড়া লাগবে কী? খ. যদি তাশাহহুদ পড়া জরুরি হয় তাহলে আগে মাসআলা না জানার কারণে তাশাহুদ না পড়ে যে নামায পড়েছি সেগুলোর হুকুম কী হবে?
প্রশ্ন (১২৭৭৫) : রাশেদা বেগম মৃত্যুর আগে তার এক হাফেজ ভাতিজাকে জানাযা পড়ানোর অসীয়ত করে গেছেন। মৃত্যুর পর তার পরিবারও চাচ্ছে মরহুমার ইচ্ছানুযায়ী সে-ই জানাযা পড়াক। কিন্তু সে ভাতিজা এখনো প্রাপ্তবয়স্ক নয়। প্রশ্ন হল, এ অবস্থায় সে জানাযা পড়াতে পারবে কি?
প্রশ্ন (১২৭৩৯) : আমাদের এলাকায় জামে মসজিদে আমি বেশ কিছুদিন যাবৎ একটা বিষয় দেখে আসছি। সেটা হলো, শুক্রবার জুমার নামাযের সময় ইমাম সাহেব বয়ান করেন। বয়ানের পর চার রাকাত কাবলাল জুমা পড়তে বলেন। তারপর ইমাম সাহেব মিম্বারে বসা অবস্থায় সানি আযানের পূর্বমুহূর্তে মসজিদে দান বাবদ আসা মুরগী, ডিম, নারিকেল ইত্যাদি নিলামে তোলা হয়। এ ধরনের কাজ মসজিদের ভিতরে করা যাবে কি? জানালে উপকৃত হব।
প্রশ্ন (১২৭১৮) : আমার ছেলে বুঝমান, কিন্তু সে নাবালেগ। আমরা সৌদি আরব থাকি। কিছুদিন আগে আমরা সৌদি আরব থেকে এসেছি। সে আরবীভাষী হওয়ার কারণে একদিন ইমাম সাহেব তাকে জুমার খুতবা দেওয়ার কথা বলেন। সে রাজি হয়ে যায়। তাই এদিন সে খুতবা দেয়। আর ইমাম সাহেব নামায পড়ান। জানার বিষয় হল, বুঝমান নাবালেগের খুতবা পাঠ জায়েয হয়েছে কি না?
প্রশ্ন (১২৬৯৯) : অনেক সময় মসজিদে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব সিজদারত আছেন। তখন কেউ কেউ ওই অবস্থায় ইমামের সঙ্গে নামাযে শরীক হয়। আবার অনেকে ইমাম সাহেব সিজদা থেকে উঠার অপেক্ষায় থাকে। যখন ইমাম সাহেব সিজদা থেকে দাঁড়ান, তখন নামাযে শরীক হয়। জানার বিষয় হল, ইমামকে সিজদা অবস্থায় পেলে করণীয় কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৬৯৬) : আমার বাড়ি মানিকগঞ্জ। কয়েকদিন আগে আমি খুলনায় আমার এক বন্ধুর বাসায় বেড়াতে যাই। সেখানে একটি ছোট মসজিদে জুমা আদায় করি। জুমার খুতবা দেওয়ার পর হঠাৎ খতীব সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন মুসল্লিরা আমাকে ইমামতির জন্যে অনুরোধ করলে আমি নামায পড়াই। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, মুসাফির হয়েও আমি যে জুমার নামাযে ইমামতি করেছি তা কি সহিহ হয়েছিল? না হলে এখন আমার করণীয় কী? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।