ইহরাম

ইহরাম পরিহিত ব্যক্তি নিজে হালাল হওয়ার আগে কি অন্য কারো চুল কাটতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৭৯৫) : আল্লাহর রহমতে আমি এ বছর আমার স্ত্রীসহ হজ্ব করেছি। হজ্বে যাওয়ার কিছুদিন আগে হজ্ব প্রশিক্ষণে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, উমরার সমস্ত কাজ শেষ করার পর এবং ১০ যিলহজ্ব কুরবানী করার পর হালাল হওয়ার জন্য প্রথমে কাফেলার একজন কোনো নাপিত বা হালাল ব্যক্তির কাছে মাথা মুণ্ডিয়ে হালাল হবেন। তারপর সেই ব্যক্তি অন্যদের মাথা মুণ্ডন করতে পারবেন। এভাবে যারা হালাল হয়ে গেছেন শুধু তারাই অন্যদের মাথা মুণ্ডন করবেন। আর হালাল হয়েছেন এমন কোনো পুরুষ তার স্ত্রী বা মাহরামের চুল কেটে দেবেন। তারপর সেই মহিলা অন্য মহিলাদের চুল কেটে দিতে পারবেন। মোটকথা প্রশিক্ষণে বলা হয়েছে, কেউ নিজে হালাল না হয়ে নিজের বা অন্য কারো চুল কাটতে পারবে না। এ কথা কি ঠিক? কেউ যদি হালাল না হয়ে নিজের বা অন্য কারো চুল কেটে দেয় তাহলে এর ফলে কি দম বা সদকা ওয়াজিব হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

অসুস্থতার কারণে মাথায় ক্ষুর ব্যবহার করতে না পারলে ইহরাম থেকে হালাল হবে কিভাবে?

প্রশ্ন (১২৭৫৮) : আমি হজ্বের বিভিন্ন বইয়ে পড়েছি যে, হলকের দিন কারো মাথায় চুল না থাকলেও মাথায় ক্ষুর ঘুরাতে হয়। আমার মাথায় বিভিন্ন ধরনের গুটি থাকায় অনেক দিন যাবৎ আমি ডাক্তারের পরামর্শে ক্ষুর-কাঁচি কিছুই ব্যবহার করি না; বরং প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর ঔষধ ব্যবহার করে চুল উঠিয়ে ফেলি। এখন হুযূরের কাছে জানতে চাই, আমার উক্ত রোগের কারণে কি মাথায় ক্ষুর না লাগানোর সুযোগ আছে?

ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার জন্য কতটুকু পরিমাণ চুল কাটতে হবে?

প্রশ্ন (১২৬৬১) : হজ্ব বা উমরাহ করার পর হালাল হওয়ার জন্য কতটুকু পরিমাণ চুল কাটা আবশ্যক? মাথার চারপাশের কয়েক জায়গা থেকে অল্প অল্প করে চুল কেটে নিলে তার দ্বারা কি হালাল হওয়া যাবে?

হজ্বের কয়েকটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৭৬) : আমি এবং আমার স্বামী ২০২৫ সালে হজ্বে যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছি। এখন থেকেই আমি প্রয়োজনীয় মাসআলা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আপনাদের কাছে আমি কয়েকটি বিষয় জানতে চাচ্ছি। ১ . আমি সাধারণত হাতে-গলায় মিলিয়ে ২/৩ ভরি স্বর্ণ ব্যবহার করে থাকি। ইহরাম অবস্থায় কি এগুলো ব্যবহার করতে পারব? ২. ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা-পামোজা পরলে কোনো সমস্যা হবে কি না? ৩. সাধারণত সবাই ইহরামের জন্য সাদা কাপড় ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে মহিলাদের জন্যও কি সাদা বোরকা পরতে হবে?

ইহরাম অবস্থায় মুখ ঢেকে ঘুমালে কি কোনো জরিমানা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৫৩০) : ইহরাম অবস্থায় আমি ৮ তারিখ রাতে এশার নামাযের পর চাদর গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। এই অবস্থায় যেহেতু মাথা ও মুখ ঢাকা যায় না, তাই আমি বুক পর্যন্ত চাদর গায়ে দিয়েছিলাম। ফযরের আগে ঘুম থেকে ওঠার সময় খেয়াল করলাম, ঘুমের ভিতরে অজান্তে পূর্ব অভ্যাস অনুযায়ী আমি চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেছি। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? এরকম অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে কি কাফফারা দিতে হয়?

ইহরাম অবস্থায় যয়তুন তেল ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০৬) : আমার জিন্নাতের সমস্যা আছে। প্রতি রাতে আমি এদের আক্রমণের শিকার হই এবং দিনভর এর প্রভাব থাকে। আমাদের পরিচিত বহু হক্কানী আলেমের ইজাযতপ্রাপ্ত জনৈক আলেমের কাছে বিষয়টি আমি তুলে ধরলে তিনি আমাকে যয়তুন তেল দম করে তা প্রতিদিন পুরো শরীরে মালিশ করতে বলেন। আল্লাহর রহমতে আমি তা ব্যবহার করে এখন নিরাপদে আছি। তবে কোনো দিন যদি তেল মালিশ করতে ভুলে যাই তাহলে পূর্বের মন্দ অবস্থা প্রত্যক্ষ করি। ইতিমধ্যে আমি হজ্বে যাওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। মুহতারামের নিকট আমার জানার বিষয় হল, ইহরাম অবস্থায় আমি কি এই তেল ব্যবহার করতে পারব? যদি করি তাহলে কি কোনো কিছু আবশ্যক হবে?

ইহরাম অবস্থায় লুঙ্গি পরিধান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৬১) : আমরা জানি, ইহরাম অবস্থায় সেলাইযুক্ত কাপড় পরা জায়েয নয়। প্রশ্ন হল, লুঙ্গির ক্ষেত্রেও কি একই হুকুম? সেলাই ছাড়া লুঙ্গি পরলে অনেক সময় সতর খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এক্ষেত্রে কী করণীয়? বিস্তারিত জানানোর অনুরোধ রইল।

উমরার ইহরাম করার পর কোনো কারণে উমরায় যেতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৩৯) : আমার চাচা বাড়ি থেকে উমরার ইহরাম করে বের হন এয়ারপোর্ট যাওয়ার পথে গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়। তাই তার পক্ষে এখন উমরায় যাওয়া সম্ভব না। আমার জানামতে এমন ব্যক্তিগণ কারো মাধ্যমে হেরেম এলাকার ভেতর একটি দম জবাই করে ইহরাম থেকে মুক্ত হবেন এবং পরবর্তীতে উমরাটি কাযা করে নেবেন। কিন্তু জনৈক আলেম বলছেন, এক্ষেত্রে দম না দিয়ে রোযা রাখারও সুযোগ আছে। আমার জানার বিষয় হচ্ছে, তার বক্তব্য সঠিক কি না এবং উল্লেখিত অবস্থায় দম না দিয়ে সদকা করা বা রোযা রাখার মাধ্যমে ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে কি না? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

ইহরাম অবস্থায় ছাতা ব্যবহার করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২২৩৫) : গত বছর আমি হজ্বে যাই। আরাফার দিন সকালে রোদের কারণে ঘুমাতে কষ্ট হচ্ছিল। তখন আমি মাথার সামনে একটি ছাতা খুলে তার উপর কাপড় ঝুলিয়ে দিই। এরপর বুক পর্যন্ত ছাতার ভিতর ঢুকে ঘুমিয়ে পড়ি। আর ঝুলানো কাপড়টি আমার বুকের উপর ছিল। মাথা বা মুখ কিছুই স্পর্শ করেনি। জানতে চাচ্ছি, এভাবে মুখ ঢেকে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর দ্বারা কি দম ওয়াজিব হয়েছে?

হজ্বে সেলাইকৃত জামা পরিধান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২১৫) : আমি পবিত্র হজ্ব পালন করেছি। ইহরাম অবস্থায় সতরের সতর্কতার জন্য আন্ডারপ্যান্ট পরি। তামাত্তু হজ্বের উমরা ও হজ্ব উভয়টি আদায়কালে আমি এটি পরিধান করে ছিলাম। পরবর্তীতে আলেমদের কাছে শুনেছি যে, ইহরাম অবস্থায় এগুলো পরা নিষেধ। এখন আমার কি করণীয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।

হজ্বে চুল কাটার নিয়ম।

প্রশ্ন (১২২১০) : হজ্বের মৌসুমে দেখা যায়, কয়েকজন বোরকা পরিহিতা মহিলা কেচি নিয়ে দাড়িয়ে থাকে। কারো চুল ছোট করার (কছর করা) প্রয়োজন হলে তারা অল্প কিছু চুল কেটে দেয়। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, চুল কাটার সর্বনিম্ন পরিমাণ কতটুকু? পুরো মাথা থেকে কাটতে হবে, নাকি অল্প কিছু চুল কাটলেও চলবে? এক্ষেত্রে নারী পুরুষ উভয়ের জন্য উত্তম তরিকা কী? বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানালে উপকৃত হতাম।

হজ্ব বা উমরায় অল্প চুল কাটার দ্বারা কি হালাল হওয়া যায়?

প্রশ্ন (১২১৮০) : পাঁচ বছর আগে আব্বুর সাথে ওমরা করার তৌফিক হয়। সেটা ছিল আমাদের প্রথম ওমরা। আমরা যখন তাওয়াফ ও সায়ী শেষ করে ইহরাম থেকে বের হওয়ার জন্য চুল কাটবো। তখন একটা বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝে সংশয় দেখা দেয়। বিষয়টি হল, আমরা দুজনই তো ইহরাম অবস্থায় আছি। আর শুনেছি যে, এক মুহরিম আরেক মুহরিমের চুল কাটলে দম দিতে হয়। এজন্য আব্বু মারওয়াতে এক ব্যক্তিকে, যে আগেই হালাল হয়ে গিয়েছিল অনুরোধ করলে সে কাঁচি দ্বারা আমাদের উভয়ের অল্প কিছু চুল কেটে দেয়। পরে আমরা হোটেলে এসে পূর্ণ মাথার চুল কাটি। প্রশ্ন হল, আমাদের এভাবে হালাল হওয়া সহিহ হয়েছে কি না? অল্প চুল কাটার দ্বারাও কি হালাল হওয়া যায়?

বদলি হজ্ব করার পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২১৬৬) : আমার ফুফুর উপর হজ্ব ফরয। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তার হজ্ব করার শারীরিক সক্ষমতা নেই। তিনি অন্য কাউকে দিয়ে তার হজ্বটি করাতে চাচ্ছেন এবং এর জন্য আমাকে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু আমি নিজের ফরয হজ্ব আদায় করলেও কখনো অন্যের বদলি হজ্ব করিনি। তাই হযরতের কাছে আবেদন, বদলি হজ্বের পদ্ধতিটা সংক্ষেপে একটু বলবেন। এক্ষেত্রে কী কী বিষয়গুলো বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে?

মিকাত থেকে ইহরাম করা কি জরুরী?

প্রশ্ন (১২১৩৪) : এক ব্যক্তি বিমানে করে নিজ দেশ থেকে উমরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। তার ইচ্ছা ছিল যে, বিমানে ইহরাম করে নেবেন। কিন্তু যখন ইহরাম করার সময় এল তখন তার স্মরণ হল যে, তিনি তো ইহরামের কাপড় বাড়িতে ভুলে রেখে গেছেন। তাই তিনি ইহরাম ছাড়াই জিদ্দা পৌঁছে তার এলাকার একজন আলেমের সাথে যোগাযোগ করেন। ঐ আলেম তাকে বলেন যে, কাছের কোনো মীকাতে গিয়ে ইহরাম করে আসতে হবে। এবং জরিমানা স্বরূপ একটি পশু জবাই করতে হবে। কিন্তু তিনি এসব কিছু না করে জিদ্দায় ইহরাম করে ফেলেন। এবং এভাবেই উমরা শেষ করেন। প্রশ্ন হল, এসব ক্ষেত্রে জিদ্দায় ইহরাম করার দ্বারা কি উমরা সহিহ হয়ে যায়, নাকি ইহরামের জন্য মীকাতের দিকে যাওয়া জরুরি? যদি মীকাতের দিকে যাওয়া আবশ্যক হয় তাহলে কোন মীকাতের দিকে যাবে? ইহরাম ছাড়া যে মীকাত অতিক্রম করেছে, সেই মীকাতে যেতে হবে, না অন্য কোনো মীকাতে গিয়ে ইহরাম করলেও হবে?

উমরার ইহরাম বাঁধার পর অসুস্থতার কারণে উমরায় যেতে না পারলে হালাল হওয়ার উপায় কী?

প্রশ্ন (১২০৬৮) : কিছুদিন আগে আমার মামা ইহরাম করে উমরার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। এয়ারপোর্টে গিয়ে গাড়ি থেকে নামার পরপরই একটি বাইকের চাকা আমার বড় মামার পায়ের পাতার উপর উঠে যায়। এতে তাঁর পায়ের পাতার হাড় ভেঙ্গে যায়। আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। ডাক্তার আমার মামাকে এক মাস বেডরেস্টে থাকতে বলেন। এখন মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি, উমরায় ইহরাম বাঁধার পর অসুস্থতা বা অন্য কোনো ওজরের কারণে উমরায় না যেতে পারলে ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার উপায় কী? এব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

যারা ঘন ঘন মক্কা মুকাররামায় আসা-যাওয়া করে তারা কি ইহরাম বেঁধে প্রবেশ করবে?

প্রশ্ন (১২০২১) : আমার মামা বাসের ড্রাইভার। তিনি সৌদিআরবে মক্কা থেকে মদীনায় বাস চালান। এ কারণে তাকে একদিন পর পর মক্কায় আসতে হয়। আমাদের সকলেরই জানা আছে যে, মীকাতের বাইরে থেকে কেউ সরাসরি মক্কায় প্রবেশ করলে তাকে এহরাম বেঁধে প্রবেশ করতে হয়। তাই এখন তিনি কী করবেন? প্রতিবার কি ইহরাম বেঁধেই মক্কায় প্রবেশ করবেন?

ইহরাম অবস্থায় কি সুগন্ধিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১২০০৮) : এবার আমি হজ্বে যাই। কিরান হ্জ্ব করায় প্রায় ১৫ দিনের মত ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। তখন আমি ‍সুগন্ধিযুক্ত বিরিয়ানী ও বিভিন্ন ধরনের খাবার খাই। আমি জানতে চাচ্ছি, ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে কি আমার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে?