ফিদইয়া ও কাফফারা

নিজের উপর লানত করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪৫২) : আমার একটি বদঅভ্যাস আছে। আমি জানি তা বড় গুনাহের কাজ। কিন্তু ইচ্ছা-অনিচ্ছায় তা করে ফেলি। অনেক দিন ধরে চেষ্টা করছি, যেন তা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারি। বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রতিজ্ঞাই করেছি। একবার ঐ মন্দ কাজটি করার কারণে রাগে এ বলে প্রতিজ্ঞা করি যে, যদি সামনে কখনো এ কাজ করি তবে আমার উপর আল্লাহর গযব! আল্লাহর লানত! আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবের সঙ্গে এ কথা নিয়ে আলোচনা করলে তিনি বলেন, এমন কথা বললে তা কসম হয়। তাই তোমাকে এ কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে নতুবা কাফফারা আবশ্যক হবে। কিন্তু আমি কিছুদিন পরই তা করে ফেলি। এখন মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি যে, আসলেই কি এ কাজ করার কারণে আমার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে? সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

কসম ভঙ্গের কাফ্ফারা।

প্রশ্ন (১২৪৫১) : একবার আমি আমার স্ত্রীর রান্না আর খাব না বলে শপথ করেছিলাম। পরে এই শপথ ভঙ্গ হয়ে যায় এবং আমি তার হাতের রান্না খাই। এর কাফফারা আদায়ের জন্য আমি দরিদ্র দশ জনকে দাওয়াত করি। তারা এসে দুপুরে আমার বাসায় খানা খায়। খানার পর তাদেরকে পরের দিন দুপুরে আবার আসার জন্য বলে দিই। সে হিসেবে তারা পরের দিনও এসে খানা খায়। কিন্তু তাদের মধ্যে দুইজন এমন ছিল, যারা আগের দিন আসেনি। এখন গ্রামের এক আলেম বলছেন, কাফফারা আদায়ের জন্য প্রথম দিন যারা এসেছিল তাদেরকেই খাওয়াতে হবে। অন্য দুই জনকে খাওয়ালে কাফফারা আদায় হবে না। তাই হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে আসলেই কি প্রথম দশ জনকে খাওয়াতে হবে? নাকি যে কোনো দশজনকে খাওয়ালে হবে? যদি না হয় তাহলে এখন আমার করণীয় কী? এখন কি পুনরায় দশজনকে দু’বেলা খাওয়াতে হবে? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

কসম বাক্যের সাথে ইনশাআল্লাহ বললে কসম সংঘটিত হবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৬৫) : আমার এক আত্মীয় শহরে চাকরির খোঁজে এসে আমাদের বাড়িতে উঠেছে প্রায় এক বছর হল। যতদিন চাকরি হচ্ছে না ততদিন আমাদের এখানেই সে থাকবে এবং আমাদের সঙ্গেই খাবে- একথা আমি তাকে বলেছি। কিন্তু দীর্ঘ একটা সময় পার হওয়ার পরও চাকরি পাবার ক্ষেত্রে তার কোনো অগ্রগতি হয়নি। এদিকে জীবন নির্বাহের জন্য সাধারণ কোনো পেশা গ্রহণেও সে আগ্রহী নয়। একপর্যায়ে গত কয়েক দিন আগে আমি তাকে বলেই ফেললাম, ‘আল্লাহর কসম, যদি তুমি নিজ পায়ে দাঁড়ানোর একটা উপায় না কর তাহলে আমি আর তোমার সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারব না।’ তবে সেইসাথে আমি আমার এই কথার শেষে যুক্ত করে দিলাম, ‘ইনশাআল্লাহ’। এরপর আরো মাসখানেক সময় পার হয়েছে। সে এখনো তার কোনো গতি করতে পারেনি। আমি তো কসম করেছি, রোযগারের পথ করতে না পারলে তাকে আর সাহায্য করব না। কিন্তু এখন তার অবস্থা দেখে মায়া হচ্ছে। এ মুর্হূতে আমার কী করণীয়? আমি যদি আবারো তাকে সহযোগিতা করতে চাই তাতে কি আমার কসম ভঙ্গ করার কারণে কাফফারা দিতে হবে? জানালে উপকৃত হব।

রোযার কাফ্ফারা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩১৮) : আমি বালেগ হওয়ার পর ৭টি রমযান অতিবাহিত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে শেষ ৩ রমযান আমি ঠিকমত রোযা রেখেছি। কোনো রোযা ছাড়িনি। বাকি ৪ রমযানে নিয়মিত রোযা রাখিনি। কোনো দিন রোযা রেখে বিনা ওজরে ভেঙে ফেলেছি। কখনো মায়ের চাপাচাপিতে ভেঙেছি। আবার কোনো দিন একেবারেই রাখিনি। তবে মনে হয়, রেখে ভেঙে ফেলার সংখ্যাই বেশি। এভাবে কত রোযা গেছে তার সঠিক হিসাব আমি বলতে পারছি না। আমার জানা মতে, বিনা ওজরে রোযা ভাঙলে কাফফারা আদায় করতে হয়। তাই একবার লাগাতার ৬০টি রোযা রেখেছি। এ অবস্থায় আমার ঐ রোযাগুলোর কাযা কাফফারা আদায়ের ব্যাপারে শরীয়তের মাসআলা জানতে চাই।

আল্লাহর নাম ছাড়া কসম করলে কি কসম সংঘটিত হয়?

প্রশ্ন (১২২৩৪) : আল্লাহর নাম ব্যতীত শুধু কসম শব্দ দ্বারা কসম করলে কি কসম সংঘটিত হয়ে যায়? যেমন, কসম, আমি যাব। অনেকে মনে করে শুধু কসম শব্দ দ্বারা কসম করলে কসম হয় না। যেমন আমিও অনেক সময় এভাবে কসম করার পর মনে মনে ভাবি যে, আমি তো আল্লাহ কসম বলিনি তাই কসম হয়নি। অনেকসময় আমরা ঈমান শব্দ দ্বারা কসম খেয়ে থাকি। ঈমান শব্দ দ্বারা কসম করলে কি কসম সংঘটিত হয়ে যায়? হুজুরের কাছে আরেকটি বিষয় জানতে চাই। তা হচ্ছে, আমরা অনেক সময় কারো পিছনের কোনো বিষয়ের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ঈমান বা কসম শব্দ দ্বারা কসম নিয়ে থাকি। এধরনের কসমের সময় প্রতিপক্ষ যদি মিথ্যা কসম খায় তাহলে কি তাকে কাফফারা আদায় করতে হবে?

রোযা রাখার পর সফর অবস্থায় তা ভেঙে ফেলা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৫৩) : গত রমযানে সকালে জরুরি এক কাজে দেশের বাড়ি পাবনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। দুপুর ১টার দিকে গাড়ি সিরাজগঞ্জে হোটেলে বিরতি দেয়। তখন মাথায় চিন্তা আসল যে, আমি তো এখন মুসাফির। আর সফর অবস্থায় তো রোযা না রাখারও অনুমতি রয়েছে। কিছুটা ক্লান্তিও লাগছিল। তাই বিষয়টি চিন্তা করে রোযা ভেঙে ফেললাম। পাবনায় পৌঁছার পর যখন আমার মামাকে উক্ত ঘটনা শোনালাম। তখন তিনি বললেন, রোযা রাখার পর তা ভেঙে ফেলা জায়েয নেই। এখন তোমাকে উক্ত রোযার কাযা-কাফফারা উভয়টিই আদায় করতে হবে। তার এই কথা শোনার পর থেকে আমি বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত। তাই এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, আসলে সেই রোযার জরিমানাস্বরূপ এখন আমার করণীয় কী?

কুরআন নিয়ে কসম করলে কি কসম সংঘটিত হয়?

প্রশ্ন (১২১৩০) : আমি একবার আমার চাচাতো ভাইয়ের বাসায় যাই। সেখানে তার সাথে একটি বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমি কুরআন শরীফ হাতে নিয়ে বলি যে, ‘আমি কুরআন শরীফের কসম করে বলছি, ‘আর কখনো তোর বাসায় আসব না।’ পরবর্তীতে তার সাথে রাগ মিটে যায়। এখন জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত কথার দ্বারা কি কসম হয়ে গেছে? এখন যদি আমি তার বাসায় যাই তাহলে কি আমাকে কাফফারা দিতে হবে? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

বিগত দিনের কাযা রোযার কাফ্ফারা কিভাবে আদায় করব?

প্রশ্ন (১২০৪৬) : আমি ভার্সিটির একজন ছাত্র। আগে দ্বীনের বুঝ না থাকায় নামায-রোযা ঠিকমত আদায় করতাম না। এখন দ্বীনের বুঝ পেয়েছি। তাই পিছনের জীবনে ছেড়ে দেওয়া নামায-রোযা কাযা করা শুরু করেছি। আমি বিগত রমযানে আব্বু আম্মুর জোরাজুরির কারণে ভোর রাতে সাহরী করে রোযা রাখতাম। পরে ভার্সিটিতে এসে ভেঙ্গে ফেলতাম। আমি শুনেছি, রোযা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেললে শুধু কাযা করাই যথেষ্ট না; বরং কাফফারা আদায় করতে হয়। জানার বিষয় হল, আমি তো এভাবে অনেক রোযা ভেঙ্গেছি। এখন আমি এত কাফফারা কীভাবে আদায় করব? শরীয়তে আমার জন্য কোনো ছাড় আছে কি?

কসমের কাফ্ফারা।

প্রশ্ন (১২০৩৬) : আমি বারবার একটি পাপ কাজে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। অনেক চেষ্টা করেও তা থেকে বিরত থাকতে পারছিলাম না। একবার দৃঢ় সংকল্প করে বলি, ভবিষ্যতে কখনো এ কাজটি করব না; করলে লাগাতার দশ দিন রোযা রাখব। পরবর্তীতে শয়তানের ধোঁকায় কাজটি আবার করে ফেলি। কিন্তু শারীরিক কিছু অসুস্থতার কারণে বর্তমানে লাগাতার দশ দিন রোযা রাখা আমার জন্য কষ্টকর। জানার বিষয় হল, এখন আমাকে কী করতে হবে?

কসম সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০২৪) : আমি আমার বন্ধুদের সাতে মিশে ধুমপানে অভ্যস্ত হয়ে যাই। এতে আমার বাবা-মা খুব কষ্ট পান এবং আমার সাথে খুব রাগ করেন। কিন্তু আমি কিছুতেই এটা ছাড়তে পারছিলাম না। পরে একদিন আমার বাবা আমাকে বলেন যে, তুমি তোমার মায়ের মাথা ছুঁয়ে কসম করে বলো যে, আর ধূমপান করবে না। তখন আমি বাধ্য হয়ে আমার মায়ের মাথা ছুঁয়ে বলি, “কসম করছি, আমি আর ধূমপার করব না।” কিন্তু কিছুদিন পর আবার করে ফেলি। তো আমি জানতে চাচ্ছি, এর কারণে কি আমার উপর কোনো কাফ্ফারা ওয়াজিব হয়েছে?

কসমের কাফ্ফারা।

প্রশ্ন (১১৯৯৮) : আমি মাঝে মাঝেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বেড়াতে গেলে পান খেতাম। এখন আমার পান খাওয়ার নেশা হয়ে গেছে। কিন্তু আমার মা-বাবা পান খাওয়া খুব অপছন্দ করেন। তাই তারা আমাকে পান খেতে নিষেধ করেন। কিন্তু আমি এটা ছাড়তে পারছি না বিধায় তারা আমাকে কসম করায়। তাই আমি কসম করে বলি যে, ‘আমি কসম করছি আর পান খাব না’। কিন্তু আমি আবারও পান খেয়ে ফেলি। এখন আমার কী করণীয়? আমার উপর কি কাফ্ফারা আবশ্যক হয়েছে?

ইচ্ছাকৃত ভাঙ্গার পর হায়েয আসলে গুনাহ মাফ হবে কি

প্রশ্ন (১১৯২৮) : গত রোযায় শয়তানের ধোঁকায় পরে ইচ্ছাকৃত রোযা ভাঙ্গার পর সেদিনই সূর্যাস্তের আগে হায়েয আসে। জানতে চাচ্ছি, উক্ত কারণে ইচ্ছাকৃত রোযা ভাঙ্গার গুনাহ মাফ হবে কি?

মুখে প্রকাশ না করলে কসম হবে কি

প্রশ্ন (১১৮০৩) : আমি মনে মনে কসম করেছিলাম যে, অমুক কাজটি আর করব না। তবে মুখে তা উচ্চারণ করিনি। পরবর্তীতে উক্ত কাজটি করে ফেলি। জানতে চাচ্ছি, আমার কি কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে?

কোনো কিছু না খাওয়ার কসম করার পর আবার তা খেলে কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন (১১৬১০) : আমার ছোট ভাই আমার বাসায় কিছু ফল নিয়ে বেড়াতে আসে। তখন আমাদের পারিবারিক বিষয়ে তার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাকে আমি বলে ফেলি, “ তুই এই ফল নিয়ে যা, আমি তোর ফল খাব না তোর এই ফল আমার জন্য হারাম”। তখন সে আমার কাছে মাফ চায় এবং অনুনয়-বিনয় করে উক্ত ফলগুলো রেখে যায়। পরবর্তীতে আমিও এই ফল খাই। তো আমার এই কথা বলার পর উক্ত ফল খাওয়ার কারণে কি আমার গুনাহ হয়েছে?

ভালো কাজ না করার কসম করলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১১৫২৫) : আসসালমুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আমার স্বামীর নামাজ বা দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো আগ্রহ নেই। তাকে আমি সবসময়ই নামাযের কথা বুঝানোর চেষ্টা করি। দ্বীনের পথে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করি। জবাবে সে বলে, করবো। কিন্তু সে একদিন নামাজ পরে ফের দুদিন গ্যাপ দায়। নামাযের বিষয়ে আমি কিছু বললে সে বলবে সবসময় এক কথা ভালো লাগেনা। এই সব বিষয় নিয়ে আরো কিছু কারণে গতপরশু রাত্রে আমাদের মধ্যে অনেক ঝগড়া হয়। পরে আমি রাগের মাথায় ওকে বলি যে, আমি আর কোনোদিন এইসব বিষয়ে কোনো কথা বলবো না। আর আমি এ ব্যাপারে কসম দিয়ে ফেলি।এখন আমি মানসিকভাবে খুব অস্বস্তিতে আছি এই কসমের কারণে। আমি কিভাবে তাকে নামাযের কথা বলব? আমার কসমের কারণে তো আর বলতেও পারব না। বরং আমি আল্লাহর কাছে গুনাহগার হিসেবে গণ্য হবো। এখন আমি কিভাবে আল্লাহর কাছে এই বিষয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করব আর ওকে কিছু না বলে কিভাবে দ্বীনের প্রতি উৎসাহী করব?

৩০ হাজার টাকাই সদকা করতে হবে

প্রশ্ন (১১২৯৭) : আমি একবার কসম করেছিলাম যে, কখনো টিভি দেখব না। দেখলে ৩০ হাজার টাকা সদকা করব। কিন্তু কিছুদিন আগে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে দেখা হয়ে যায়। বর্তমানে আমি আর্থিক সমস্যায় ভুগছি। জানতে চাচ্ছি, দুই বেলা ১০ জন গরিবকে খাইয়ে দিলে কাফফারা আদায় হবে কি?