মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন খতম করে বা দুআ করে বিনিময় গ্রহণ করা যাবে কি?
প্রশ্ন (১২৭১০) : একজন আমার মাধ্যমে কবর যিয়ারত করিয়েছে এবং আমার মাধ্যমে কুরআন খতম করে সওয়াবরেসানী করেছে। এবং সে আমাকে এর বিনিময়ে কিছু টাকা দিল। এখন আমার জন্য তা নেওয়া বৈধ হবে কি?
প্রশ্ন (১২৭১০) : একজন আমার মাধ্যমে কবর যিয়ারত করিয়েছে এবং আমার মাধ্যমে কুরআন খতম করে সওয়াবরেসানী করেছে। এবং সে আমাকে এর বিনিময়ে কিছু টাকা দিল। এখন আমার জন্য তা নেওয়া বৈধ হবে কি?
প্রশ্ন (১২৭০৭) : সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই মানুষের মৃত্যুতে আলহামদুলিল্লাহ বলছে। আমি জানতে চাচ্ছি যে, কারো মৃত্যুতে কী আলহামদুলিল্লাহ বলা যাবে, যদি সে হত্যা মামলার আসামিও হয়? ইসলাম এ সম্পর্কে কী বলে?
প্রশ্ন (১২৬৬৩) : কোনো কোনো কবরের পাশে কুরআনের আয়াত, কালিমা, দুআ বা কোনো নসীহত লিখে রাখতে দেখা যায়। আবার কোনো কবরে মৃতের নাম ঠিকানা মৃত্যু তারিখ লেখা থাকে। এ ধরনের কোনো কিছু লেখার বিধান কী?
প্রশ্ন (১২৬০২) : ব্যাংকে আমার বাবার দশ লাখ টাকা ছিল। তিনি প্রতি বছর এই টাকাগুলোর যাকাত আদায় করতেন। এই বছর যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার পর তা আদায়ের পূর্বে তিনি মারা যান। মৃত্যুর পূর্বে তিনি আমাদেরকে এই বিষয়টি অবহিত করে যাকাত আদায় করার ওছিয়ত করেছিলেন। কিন্তু এই নিয়ে ওয়ারিছদের মাঝে মতপার্থক্য হয়। মুহতারামের নিকট প্রশ্ন হল, আমাদের জন্য কি এই টাকার যাকাত দেওয়া আবশ্যক?
প্রশ্ন (১২৫৯৩) : কিছুদিন আগে আমার বড় মামা ইন্তিকাল করেন। আমি, ছোট মামা ও এক মুরুব্বী মিলে বড় মামাকে গোসল দেই। গোসল দেওয়া শেষে হাত-পা ধুয়ে শরীরের কাপড় পরিবর্তন করি। পূর্ব থেকে অযু থাকায় নতুন অযু না করেই জানাযার নামাযে শরীক হই। নামায শেষে এলাকার এক ভাই বেশ আপত্তি করে বলে, তোমার জানাযার নামায শুদ্ধ হয়নি। কারণ, তুমি গোসল করনি। পরে এবিষয়ে একাধিক ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করলে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাই। ফলে পেরেশানি আরো বেড়ে যায়, তাই মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, ঐ ভাইয়ের কথাটি কি ঠিক?
প্রশ্ন (১২৪৭১) : কয়েকদিন আগে আমাদের এলাকার একটি লোক মারা যান। লোকটি অনেক ধনী ছিলেন। তিনি দুই বিবাহ করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী থেকে তার দুই ছেলে তিন মেয়ে আর দ্বিতীয় স্ত্রী থেকে এক ছেলে। লোকটি মারা যাওয়ার পাঁচ মাস পূর্বে স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে প্রথম স্ত্রীর ঘরেই থাকতেন। তখন প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানেরা তাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরামর্শ দেয়। তাদের কথা অনুযায়ী তিনি কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের সামনে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ডেকে বলেন, ‘আজ থেকে তুমি তালাক’। তালাক দেওয়ার দেড় মাস পর তিনি মারা যান। এখন তার দ্বিতীয় স্ত্রী মিরাসের সম্পত্তি পাবে কি না এ নিয়ে আমাদের এলাকায় বিভিন্ন ধরনের কথা চলছে। তাই মুহতারামের নিকট দুটি বিষয়ে সঠিক সমাধান চাচ্ছি : ১. লোকটির দ্বিতীয় স্ত্রী মিরাসের সম্পত্তি পাবে কি না? ২. প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানদের দাবি হল, লোকটি ‘আজ থেকে তুমি তালাক’ এ কথা বলে বায়েন তালাকের নিয়ত করেছিল। তাই সে সম্পত্তি পাবে না। জানার বিষয় হচ্ছে, ‘তুমি তালাক’- বলে বাইন তালাকের নিয়ত করা যায় কি না?
প্রশ্ন (১২৪৬৮) : আমি আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রী। কিছুদিন আগে আমার স্বামী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেই অবস্থায় আমার সতীনসহ তার সন্তানেরা আমাকে তালাক দেওয়ার জন্য তাকে প্ররোচিত করলে তিনি আমাকে তিন তালাক দেন। এরপর আমি তার বাড়িতেই ইদ্দত পালন শুরু করি। তার কয়েকদিন পড়েই তিনি সেই অসুস্থতায় মারা যান। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় আমার ইদ্দতের হুকুম কী? আমি কি তালাকের ইদ্দত পালন করব নাকি স্বামীর মৃত্যুর?
প্রশ্ন (১২৩৭৩) : কিছুদিন আগে আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তি মারা গেছে। লোকটি ছিল অবিবাহিত। তাই তার ছেলে-সন্তান স্ত্রী পরিবার-পরিজন কেউ নেই। মৃত্যুর আগে সে অসিয়ত করে গেছে, তার যাবতীয় সম্পদ মসজিদ-মাদরাসায় দিয়ে দিতে। এখন মসজিদ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ উভয়ে তার সম্পদ দাবি করছে। কিন্তু মৃত ব্যক্তির ভাই তা মেনে নিচ্ছে না। মৃতের আত্মীয় বলতে শুধু তিনিই আছেন। বিষয়টি নিয়ে অনেক সমস্যা হচ্ছে। এখন আমরা সবাই (মসজিদ ও মাদারাসা কর্তৃপক্ষ ও তার ভাই) মুফতী সাহেবের শরণাপন্ন হচ্ছি, আমাদেরকে শরীয়তের সঠিক সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।
প্রশ্ন (১২২২৬) : বর্তমান কবরস্থানগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় যে, কবরের উপর মৃত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা সম্বলিত একটি ফলক লাগিয়ে দেয়া হয়। কিছুদিন আগে আমার চাচা ইন্তেকাল করেছেন। আত্মীয়স্বজন চাচ্ছেন যে, তার কবরেও নাম ইত্যাদি লিখে দেওয়া হোক, যাতে যিয়ারত করার সময় কবর চিনতে সুবিধা হয়। তাই আমরা মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, কবরের উপর মৃত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা সম্বলিত কোনো ফলক ইত্যাদি স্থাপন করা কি জায়েয আছে?
প্রশ্ন (১২২১৩) : আমার বাবার এক বন্ধু কয়েকদিন আগে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। দ্বীনদার হওয়ায় প্রতি বছর নিয়মিত যাকাত আদায় করতেন। কিন্তু মৃত্যুর প্রায় তিন বছর আগ থেকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। তাই কিছু দান-সদকা করলেও পরিপূর্ণ হিসাব করে এই তিন বছরের যাকাত আদায় করতে পারেননি এবং তিনি মৃত্যুর আগে এ বিষয়ে কিছু বলেও যাননি। এখন তার ওয়ারিশ ছেলে-মেয়েসহ অন্যান্যরা জানতে চাচ্ছেন যে, তাদের জন্য কি এখন নিজেদের অংশ থেকে উক্ত বছরগুলোর যাকাত আদায় করে দিতে হবে?
প্রশ্ন (১২২০৪) : একজন আমার মাধ্যমে কবর যিয়ারত করিয়েছে এবং আমার মাধ্যমে কুরআন খতম করে সওয়াবরেসানী করেছে। পরবর্তীতে সে আমাকে বলল, আপনি অনেক কষ্ট করেছেন- এ বলে কিছু টাকা দিল। এখন আমার জন্য তা নেওয়া বৈধ হবে কি? আরেকজন উক্ত কাজ করিয়ে সে বলল, কিছু হাদিয়া দিতে চাই। আমি বললাম, তা জায়েয নেই। আমার জানার বিষয় হল, আমার কষ্টের বিনিময়ে আমাকে একজন কিছু খাওয়াল বা হাদিয়া দিল তা জায়েয না হওয়ার কারণ কী?
প্রশ্ন (১২২০৩) : আমাদের এলাকায় কারও জন্মবার্ষিকী এবং মৃত্যুবার্ষিকী পালন করার প্রচলন খুবই কম। কিছুদিন আগে ঢাকার একজন আলেম বয়ানের মধ্যে রাসূল (সা.) সহ সকল মানুষের মৃত্যুবার্ষিকী ও জন্মবার্ষিকী পালন করা জায়েয বলে ফতোয়া দেন। এতে আমাদের এলাকায় সকলে একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। সুতরাং উক্ত সমস্যার সমাধানকল্পে শরীয়তের দলিল উল্লেখ করে আমাদেরকে উপকৃত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
প্রশ্ন (১২১১৮) : আমার বড় ভাই একবার মান্নত করে বলেন যে, আমার চাকরি হলে তিন দিন ইতিকাফ করব। পরবর্তীতে তার চাকরি হয়, কিন্তু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তার মান্নতকৃত ইতিকাফ আদায় করেননি। এভাবে তিনি গত সপ্তাহে ইন্তেকাল করেন। আমাদের জানার বিষয় হল, তিনি যেন মান্নতের দায় থেকে মুক্ত হতে পারেন- এজন্য আমরা কী করতে পারি?
প্রশ্ন (১২০৬২) : কিছুদিন আগে দুপুরে আমার একজন নিকটাত্মীয় ইন্তেকাল করেন।তিনি মৃত্যুর আগে আমাকে তার জানাযার নামায পড়ানোর জন্য খুব অনুরোধ করেছিলেন। তাই তাঁর আশা রক্ষার্থে আমি জানাযার নামায পড়াই এবং দাফনের সময় কবরে নামি। দাফন শেষ হয় আসরের সময় হবার এক ঘণ্টা পর। তাই আমি দাফনের কাজ শেষে (অযু অবস্থায় থাকার কারণে) নতুন করে অযু না করেই আসরের নামায পড়ে নিই। পরে আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি, যিনি ঐ দাফনকার্যে শরীক হয়েছিলেন, আমাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি দাফনের পরে গোসল না করেই আসরের নামায পড়লে কেন? এখন জানার বিষয় হল, মৃত ব্যক্তিকে গোসল বা কাফন-দাফন করানোর পর কি গোসল করা জরুরি?
প্রশ্ন (১২০৪০) : আমার এক আত্মীয় কয়েক বছর যাবৎ কানাডায় থাকেন। কিছুদিন আগে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক সড়ক-দুর্ঘটনায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর সংবাদ তার পরিবারের নিকট পৌঁছায়নি। এরপর থেকে তার সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ না হওয়ার কারণে পরিবারের লোকজন তার ব্যাপারে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তারা কানাডায় থাকা বাংলাদেশী লোকজন ও বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে খোঁজ-খবর নিতে থাকেন। এক মাস পর বাংলাদেশ দূতাবাস তার পরিবারের নিকট তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে। এখন জানার বিষয় হলো, তার স্ত্রী কোন দিন থেকে স্বামী-মৃত্যুর ইদ্দত গণনা শুরু করবে? মৃত্যুর দিন থেকে, নাকি সংবাদ পাওয়ার দিন থেকে?
প্রশ্ন (১১৯২১) : মৃত ব্যক্তির গোফ বড় থাকলে তা কেটে দেওয়া যাবে কি?
প্রশ্ন (১১৯২০) : যদি মৃত অবাঞ্ছিত পশম বড় থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে করণীয় কী? তা কি কেটে দিতে হবে?
প্রশ্ন (১১৯০১) : আমার বাবা কিছু দিন আগে ইন্তিকাল করেন। ইন্তিকালের আগে তিনি আমার বড় ভাইকে অসিয়ত করেছিলেন যেন তাকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী জায়গায় দাফন করা হয়। কিন্তু সবার পরামর্শে তাকে বাড়ির পাশের কবরস্থানে দাফন করা হয়। আমার জানার বিষয় হলো, বাবাকে বাবার অসিয়তকৃত জায়গায় দাফন না করে অন্য জায়গায় করার কারণে কি আমাদের গুনাহ হবে?
প্রশ্ন (১১৮৯৪) : এলাকার এক যুবক সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর সকালে একটি নদীর তীরে তার মৃত দেহ পাওয়া যায়। তাকে বাড়িতে এনে গোসলের ব্যবস্থা করা হলে এক মুরুব্বী বলেন, যেহেতু সে লম্বা সময় পানিতে ছিল তাই তার গোসল হয়ে গেছে। তাকে নতুন করে গোসল করানোর প্রয়োজন নেই। তখন তার কথা অনুযায়ী আমরা তাকে গোসল করানো ব্যতীত শুধু জানাযার নামায পড়ে দাফন করে দেই। তো আমার জানার বিষয় হলো, ঐ ব্যক্তির কথা কি ঠিক আছে?
প্রশ্ন (১১৭৫৮) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমাদের রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলে মৃত ব্যাক্তিকে (মহিলা) গোসল করানোর ব্যাপারে বিভিন্ন ধরণের কুসংস্কার চালু রয়েছে, যা কোনো মাসআলার কিতাবে পাওয়া যায় না। যেমন- ১. যে ব্যক্তি নাপাক পরিষ্কার করে তাকে আর সেখানে থাকতে দেওয়া হয় না । তাদের ভাষ্যমতে সে নাকি নাপাক হয়ে গেছে। সে গোসল করার আগে আার কোনো কিছু স্পর্শ করতে পারবে না। ২. গোসল শেষে চোখে সুরমা দেওয়া হয়, নাকে কানে তুলা গুঁজে দেওয়া হয়। ৩. সাবান দিয়ে সারা শরীর তিন বার ধৌত করা হয়। ৪. বিভিন্ন রকমের জারি গান গাওয়া হয়। ৫. গোসল শেষ করে সবাই মাইয়্যিতের জন্য হাত তুলে দোয়া করে। আমার জানার বিষয় হলো, এই সমস্ত কাজ করা কি সঠিক?