মাইয়্যেতের দাফনকার্য শেষে করণীয় কী?
প্রশ্ন (১৩৮১২) : মায়্যেতের পরিধেয় কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য আসবাবপত্রের হুকুম কী? মাইয়্যেতের দাফনকার্য শেষ হলে কবরের পাশে অবস্থান করে কী কী আমল করা যেতে পারে?
প্রশ্ন (১৩৮১২) : মায়্যেতের পরিধেয় কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য আসবাবপত্রের হুকুম কী? মাইয়্যেতের দাফনকার্য শেষ হলে কবরের পাশে অবস্থান করে কী কী আমল করা যেতে পারে?
প্রশ্ন (১৩৮০২) : আমাদের মহল্লার এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর যথারীতি জানাযা-দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এরপর কিছু মুসল্লি বলাবলি করছে যে, ইমাম সাহেব জানাযার নামাযে তিন তাকবীর বলেছেন। ইমাম সাহেব দৃঢ়তার সাথে বলছেন যে, তিনি চার তাকবীরই বলেছেন। কিন্তু তারা ইমাম সাহেবের কথা মানতে নারাজ। এখন এ ব্যাপারে আমাদের কোনো করণীয় আছে কি? দয়া করে জানাবেন।
প্রশ্ন (১৩৭৪২) : আমি শুনেছি যে, মৃত ব্যক্তিকে কবরে তিনটি প্রশ্ন করা হবে। কিন্তু যাদের মৃত্যু হয় আকাশে বা সাগরে যাদের লাশ মাটিতে দাফন করার সুযোগ হয় না। তাদেরকে কোথায় প্রশ্ন করা হবে?
প্রশ্ন (১৩৭২১) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার জানার বিষয় হলো, অনেক মানুষের লাশ সাগরে দাফন করা হয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে কি এটা বৈধ?
প্রশ্ন (১৩৬২৬) : আমাদের এলাকায় অনেকেই এই কথা বলে যে, মৃত ব্যক্তিকে যদি কবরে কেবলার দিক ছাড়া অন্যদিকে মুখ করে শোয়ানো হয় এটা তার ঈমানবিহীন মৃত্যুর আলামত। এ কথার ভিত্তি কী?
প্রশ্ন (১৩৬২৫) : কিছুদিন আগে আমার এক চাচাতো ভাই নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজের কিছুদিন পর তার কর্তিত মস্তক নদীতে পাওয়া যায়। এ অবস্থায় তার গোসল, নামায এবং কাফন-দাফন করার পদ্ধতি কী হবে?
প্রশ্ন (১৩৫৫০) : আমার মা কিছুদিন আগে স্ট্রোক করে মারা যান। তার মালিকানায় ৬ শতক জমি ছিল। তাঁর ওয়ারিশগণ হল- ১. স্বামী ২. এক পুত্র ও ৩. দুই কন্যা। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এর বণ্টন কীভাবে হবে?
প্রশ্ন (১৩৪২৮) : আমার নানা ঢাকায় থাকতেন। তিনি কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেন। তার গ্রামের বাড়ি সিলেট। গ্রামে তিনি একটি মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেগুলোর মুতাওয়াল্লি তিনিই ছিলেন। তাই কিছুদিন পরপরই সেখানে যেতেন। এবং কয়েক দিন সেখানে থেকে আসতেন। তার খুব আশা ছিল, উক্ত মাদরাসা-মসজিদের কাছেই তার কবর হবে। সন্তানদেরকে এ কথা বলেছেনও বিভিন্ন সময়। তো তার ইন্তিকালের পর তার দাফনের বিষয় নিয়ে মতভেদ হয়। গ্রামের লোকদের দ্বীনী মুরুব্বি হওয়ায় তাদের চাওয়া ছিল তাকে গ্রামে দাফন করা হোক। তাই তাকে সিলেটে নিয়েই দাফন করা হয়। কিন্তু আমি জানতাম, লাশ এত দূর নিয়ে দাফন করা মাকরূহে তাহরীমী ও নাজায়েয। এখন জানার বিষয় হল, উপরোক্ত অবস্থায় তাকে গ্রামে নিয়ে দাফন করাটা শরীয়তের দৃষ্টিতে ঠিক হয়েছে কি?
প্রশ্ন (১৩৪১৪) : আমার বড় ভাই ভালো আলেম ও বুযুর্গ ছিলেন। তিনি মসজিদের খতীব ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন মাহফিলে বয়ান করতেন। যার ফলে তার কিছু শত্রুও গড়ে ওঠেছিল। একবার তিনি সীমান্ত গোয়াইঘাটে একটি দ্বীনী প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্য সফর করছিলেন। তখন এক জনমানবহীন সড়কে গাড়ি পৌঁছলে একদল দুর্বৃত্ত ভাইজানের ওপর সশস্ত্র হামলা করে বসে। তারা বুলেটের আঘাতে তার দেহ ঝাঁজরা করে দেয়। ভাইয়ের লাশ এলাকায় আনা হলে তাকে গোসল দেওয়া হবে কি না এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক মতানৈক্য দেখা দেয়। অবশেষে ইমাম সাহেবের ফয়সালাক্রমে গোসল করিয়ে আলাদা কাফন পরানো হয়। এরপর জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়। কিন্তু তারপরও গোসলের বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে কানাঘুষা চলতে থাকে। এখন হযরতের কাছে বিষয়টির প্রকৃত সমাধান জানতে চাচ্ছি।
প্রশ্ন (১৩৩৭০) : আমাদের এলাকায় একবার জানাযার নামাযের পর মায়্যেতের পরিবারের এক মুরুব্বিকে দেখলাম, ছোট্ট একটি কাপড়ের টুকরোতে لا إله إلا الله محمد رسول الله، أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله লিখে মায়্যিতের কাফনে এঁটে দিলেন। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এটা কতটুকু শরীয়ত সম্মত? শরীয়তে কি এর কোনো ভিত্তি আছে?
প্রশ্ন (১৩৩৫৫) : আমার পাঁচ বছরের একটা ছোট্ট ছেলে ছিল। আমি তাকে অনেক বেশি মুহাব্বত করতাম। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা হঠাৎ করে সে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। দাফন কাফন হয়েছে আজ চার পাঁচ দিন। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই আমি ও তার আম্মু স্বপ্নে দেখি, সে বলছে, আব্বু আমি জীবিত। তুমি আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। এখন আমরা সন্দেহে পড়ে গেছি, আসলে সে জীবিত না মৃত। এখন হুযুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, আমি কি তার কবর খনন করে দেখে নিতে পারব আসলে জীবিত না মৃত? শরীয়ত কি আমাকে এটার অনুমতি দেয়?
প্রশ্ন (১৩৩২৯) : কিছু দিন আগে আমার ভাইয়ের একটি মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। তখন আমরা ঐ বাচ্চাকে গোসল দিয়ে কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দেই। কিন্তু তার জানাযার নামায পড়িনি। আমরা জানতে চাচ্ছি, আমাদের এই কাজটি কি সঠিক হয়েছে? নাকি তার জানাযার নামায পড়া উচিত ছিল?
প্রশ্ন (১৩১১৪) : একবার আমাদের এলাকার নদীতে লঞ্চ ডুবে অনেক মানুষ মারা যায়। নিহতদের উদ্ধারের পর আত্মীয়-স্বজনরা এসে যার যার লাশ নিয়ে যায়। শেষে এমন কিছু লাশ থেকে যায়, যাদের ঠিকানা ও স্বজনদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তখন স্থানীয়রা প্রতিটি লাশ গোসল দেওয়া ছাড়াই কাফন পরিয়ে জানাযার নামাযের পর দাফন করে দেয়। আমার জিজ্ঞাসা হল, মৃত্যুর পর নদীতে থাকার পরও কি গোসল দেওয়ার প্রয়োজন আছে? যদি থেকে থাকে তাহলে প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে গোসল দেওয়া ছাড়া জানাযার নামায পড়া কি ঠিক হয়েছে?
প্রশ্ন (১৩১০৯) : বাবা মারা যাওয়ার পর আমরা ওয়ারিশসূত্রে ২০০০০/- টাকা ও ১৬ শতাংশ জমি পাই। সকল টাকা-পয়সা জায়গা-জমি ঠিক পেয়েছি। তবে একটি জমি নিয়ে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়, আব্বু আমাদেরকে এ ব্যাপারে কিছু বলে যাননি। তবে আমাদের এক চাচা থেকে এ ব্যাপারে জানতে পারি। আব্বু জীবিত থাকতেই জমিটি একজনের কাছে বন্ধক দিয়ে কিছু ঋণ নিয়েছিলেন। পরে এক উপযুক্ত খরিদ্দার পেয়ে ঋণদাতার সাথে এভাবে কথা হয় যে, ‘আমি অমুক তারিখের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করে দেব। আমাকে জমিটি এখনি বিক্রি করার জন্য দখলমুক্ত করে দেন।’ সে এতে রাজি হয় এবং আব্বু জমিটি বিক্রি করে দেন। কিন্তু আব্বু মৃত্যুর পূর্বে ঐ ঋণ পরিশোধ করেননি। আব্বু এ ব্যাপারে কোনো অসিয়তও করে যাননি। এখন হযরতের কাছে আমাদের কয়েকটি বিষয় জানার আছে- ১. আব্বুর এ ঋণ পরিশোধ করা আমাদের জন্য জরুরি কি? ২. ঋণ আদায় করলে আমরা জমিটির মালিক হব কি? ৩. অন্যের কাছে বন্ধক রাখা অবস্থায় জমিটি বিক্রি করা আব্বুর জন্য ঠিক হয়েছে কি? এভাবে বিক্রি করা জায়েয আছে কি?
প্রশ্ন (১৩০২২) : আমাদের এলাকায় লাশ দাফন শেষে কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়া হয়। আমার জানার বিষয় হল, এ কাজটি কি শরীয়তসম্মত? এ সংক্রান্ত সঠিক মাসআলাটি জানানোর অনুরোধ রইল।
প্রশ্ন (১৩০২১) : মানুষের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, যেমন- নখ, চুল ইত্যাদি কাটার পর এগুলোর হুকুম কী? এগুলো কি মাটিতে দাফন করে ফেলবো নাকি ফেলে দিব?
প্রশ্ন (১২৯৮৩) : অনেক জায়গায় প্রচলন আছে যে, বিশেষ কেউ মারা গেলে তাকে কবর দেওয়ার পর বা পরবর্তীতে বিশেষ কোনো উপলক্ষে তার আত্মীয়-স্বজন ও অন্যান্যরা এসে তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু সময় নীরবতা পালন করে এবং ফুলের মালা, ফুলের তোড়া কবরের উপর বা কবরের পাশে রাখে। হুযুরের কাছে জানতে চাই, মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন এবং তার কবরের উপর বা কবরের পাশে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা কতটুকু কুরআন-হাদিস সম্মত? দলীল-প্রমাণসহ জানানোর অনুরোধ রইলো।
প্রশ্ন (১২৮৪০) : কিছু দিন আগে আমার ছোট বোনের একটি মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। আমার ভগ্নিপতি ঐ বাচ্চাকে গোসল দিয়ে কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দিয়েছে। ঐ বাচ্চার জানাযার নামায পড়েনি। তার এই কাজটি কি সঠিক হয়েছে?
প্রশ্ন (১২৬৮৪) : কিছুদিন আগে আমার এক মামা ইন্তেকাল করেছেন। ইন্তেকালের পূর্বে তিনি তার বড় ছেলেকে অসিয়ত করে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার চাচার কাছে এক লক্ষ টাকা পাই। আমার মৃত্যুর পরে এ টাকার কিছু অংশ গ্রামের এতিমখানায় দিয়ে দিবে। আর বাকি টাকা দিয়ে চল্লিশতম দিনে কুলখানী করবে। জানাযার পরে আমাদের এলাকার ইমাম সাহেবের নিকট বিষয়টি পেশ করলে তিনি বললেন, শরীয়তে কুলখানী করা বৈধ নয়। এখন হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হলো, ১. ইমাম সাহেবের কথা কি ঠিক? ২. যদি ঠিক হয়, তাহলে এখন আমরা আমার মামার এ অসিয়ত কীভাবে আদায় করব?
প্রশ্ন (১২৬৫০) : আমাদের এলাকায় মহিলা মারা গেলে সাধারণত দাফনের সময় কবর পর্দা দিয়ে ঘেরাও হয় না। ইদানীং এক ভাইয়ের কাছে শুনলাম, মায়্যেত মহিলা হলে দাফনের সময় কবর পর্দা দিয়ে ঘিরে রাখতে হয়। কথাটি কতটুকু যথার্থ? দলীলসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।