দাফন-কাফন

মায়্যিতের চুল আঁচড়ানো এবং চুল নখ কাটার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৫৯২) : কিছুদিন আগে আমার এক চাচাতো ভাই ইন্তিকাল করে। আমি, আমার মামা এবং আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন সাহেব মিলে গোসল দেই। গোসল শেষে মামা চাচাতো ভাইকে কাফনের কাপড় পরিয়ে সুগন্ধি লাগায়, মাথার চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়িয়ে দেয় এবং বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠাঙ্গুলির বেশ বড় দুটো নখ কেটে অন্যান্য নখের সমান করে দেয়। মুয়াযযিন সাহেব চুল আঁচড়ানো এবং নখ কাটতে বাধা দিলে তিনি তা মানেননি; বরং বিভিন্ন ধরনের যুক্তির আশ্রয় নেন। তো আমার জানার বিষয় হল- ১. মৃত ব্যাক্তির মাথার চুল আঁচড়ানো এবং নখ কাটার ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী? ২. কেউ যদি ভুলে বা মাসআলা না-জানার কারণে এমনটি করে ফেলে, তবে ঐ কর্তিত নখের ব্যাপারে করণীয় কী? তা কি সাধারণ ময়লার মত ফেলে দেওয়া হবে, নাকি মৃতের কবরে দাফন করা হবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হতাম।

কবর স্থানান্তর করার বিধান কি?

প্রশ্ন (১২৫৪০) : আমাদের নির্দিষ্ট ওয়াকফকৃত কোনো কবরস্থান ছিল না। তাই আমাদের বংশীয় লোকদেরকে বাড়ির পাশে একটি স্থানে দাফন করা হত। এখানে নতুন পুরাতন অনেক কবর আছে। সর্বশেষ এক বছর আগে আমার চাচাকে দাফন করা হয়। আল্লাহর রহমতে এখন আমরা একটি ওয়াকফকৃত কবরস্থান বানিয়েছি। আমাদের বংশের অনেকেই কবরগুলোকে নতুন কবরস্থানে স্থানান্তর করে আগের জায়গাকে সমান করে দিয়ে ফসলি জমি বানাতে চাচ্ছে। জানার বিষয় হল, আমরা কি নতুন-পুরাতন কবরগুলোকে ওয়াকফকৃত নতুন কবরস্থানে স্থানান্তর করে ঐ জমি ব্যবহার করতে পারব? মাসআলাটির সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

হিজড়াদের কাফন-দাফনের বিধান।

প্রশ্ন (১২৫০৭) : মুসলিম হিজড়া মারা গেলে তাদের গোসল দেয়া, কাফন পরানো, দাফন করা ও জানাযার নামায পড়া বিষয়ে শরীয়তের বিধান কী?

কুরআনের পুরাতন কপি না রাখতে চাইলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৪১৭) : আমাদের মসজিদে কুরআন মাজীদের পুরাতন অনেক কপি আছে। যেগুলো এখন আর পড়ার উপযুক্ত থাকেনি। এগুলো ছাড়াও পড়ার মত আরো অনেক নতুন কুরআন শরীফ আছে। মসজিদ কমিটি চাচ্ছে, পুরাতন কপিগুলো সরিয়ে ফেলতে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা এগুলো কী করতে পারি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কবরে পানি উঠার কারণে কাঠের কফিনে দাফন করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪১৬) : আমরা চরাঞ্চলে বসবাস করি। এ অঞ্চলটি নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে কেউ মারা গেলে কখনো কখনো তার দাফনের বিষয়ে আমরা বেশ ঝামেলায় পড়ি। কবরস্থানের জায়গাটা তুলনামূলক উঁচু স্থানে হলেও মাটি খুঁড়তেই সেখান থেকে পানি উঠতে থাকে। ফলে লাশ রাখতেই কাফন নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ কাঠের কফিনে করে দাফন দেয়। এভাবে দাফন করতে কি কোনো অসুবিধা আছে?

অসীয়তকারী মারা যাওয়ার পর তার অসিয়ত কার্যকর হবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৮৮) : জনৈক ব্যক্তি তার বড় পুত্রবধুর খেদমতে সন্তুষ্ট হয়ে তার জন্য নির্দিষ্ট একটা জমির অসিয়ত করেন। তখন সেখানে ঐ ব্যক্তির স্ত্রী ও এক ছেলে উপস্থিত ছিল। বিষয়টি অন্য দুই পুত্রবধু জানতে পারলে তাদের মাঝে কানাঘুষা হয়। একপর্যায়ে তা পারিবারিক ঝগড়ায় রূপ নেয়। এ পরিস্থিতি দেখে বড় পুত্রবধু সবার সামনে তার শ্বশুরকে বলে আমার কোনো জমি লাগবে না। আমি আপনার জমি নিব না। তখন ঐ ব্যক্তি বলেছিল, আমি অসিয়ত করেছি, তুমি পাবে। ঐ ঘটনার পর আর এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। বর্তমানে সে ব্যক্তি বেঁচে নেই। বড় পুত্রবধু যেহেতু শ্বশুরের জীবদ্দশায় তার পক্ষে কৃত অসিয়ত প্রত্যাখ্যান করেছে তাই মৃতের ওয়ারিসরা তাকে ঐ জমি দিতে চাচ্ছে না। কিন্তু সে এখন জমিটি নিতে খুবই আগ্রহী। জানার বিষয় হল, উপরোক্ত পরিস্থিতিতে ঐ ব্যক্তির কৃত অসিয়ত বহাল আছে কি না? এবং উক্ত পুত্রবধু কি অসিয়তসূত্রে ঐ জমি দাবি করতে পারবে?

মায়্যেতকে গোসল করানো সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩১৯) : মুহতারাম, গত ২৩শে আগস্ট আমার এক নিকটাত্মীয় মারা যায়। সেই মায়্যেতকে গোসল করানোর জন্য আমি ও গ্রামের ইমাম সাহেবসহ আরেকজন ছিলাম। গোসল শেষে ইমাম সাহেব হালকাভাবে চেহারাটা মুছে মায়্যেতকে অযু করিয়ে দিলেন। তারপর পুরো চেহারা ভালোভাবে না মুছিয়েই দাফন করাতে চাইলেন। তখন আমি বললাম পুরো শরীর মুছবেন না কেন? কারণ আমার জানা মতে পূর্ণ শরীর মুছতে হবে। তখন ইমাম সাহেব বললেন, রাসূল (সা.) একবার এক সাহাবী মারা যাওয়ার পর জান্নাতের পানি দ্বারা তাকে গোসল করালেন এবং শরীর থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছিল। এমতাবস্থায় নবী (সা.) তাকে দাফন করে দিলেন। (অর্থাৎ কাফন পরিয়ে) দিলেন। সুতরাং পুরো শরীর ভালোভাবে মুছার প্রয়োজন নেই। এখন হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল- ১. মায়্যেতকে গোসলের পর অযু করানো যাবে কি না? না হলে এর বিধান কী? ২. মায়্যেতকে গোসলের পর পুরো শরীর ভালোভাবে মুছতে হবে কি না? এবং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেবের কথা সহিহ কি না? দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

কবরে মৃত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা লিখে রাখা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২২২৬) : বর্তমান কবরস্থানগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় যে, কবরের উপর মৃত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা সম্বলিত একটি ফলক লাগিয়ে দেয়া হয়। কিছুদিন আগে আমার চাচা ইন্তেকাল করেছেন। আত্মীয়স্বজন চাচ্ছেন যে, তার কবরেও নাম ইত্যাদি লিখে দেওয়া হোক, যাতে যিয়ারত করার সময় কবর চিনতে সুবিধা হয়। তাই আমরা মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, কবরের উপর মৃত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা সম্বলিত কোনো ফলক ইত্যাদি স্থাপন করা কি জায়েয আছে?

কোন যৌনকর্মী মারা গেলে কি তার জানাযার নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২২১৪) : সম্প্রতি এক যৌনকর্মীর মৃত্যুর পর পুরোপুরি ইসলামী প্রথা মেনে জানাযা পড়িয়ে দাফন করা হয়েছে। জনৈক পুলিশ কর্মকর্তার অনুরোধে স্থানীয় মসজিদের ইমাম প্রায় দু’শ উপস্থিত মুসল্লিদের নিয়ে তার জানাযা নামায পড়ান। এলাকার বাসিন্দাদের মতে এই যৌনপল্লিতে এটি ব্যতিক্রম ঘটনা। সাধারণত মৃত যৌনকর্মীদের গোপনে কবর দেওয়া হয় অথবা মৃতদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সংবাদটি প্রচার হলে মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আমার জানার বিষয় হল, যৌনকর্মীদের জানাযা পড়ার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

মায়্যিতের দাফনের পর কবরের পাশে অবস্থান করা কি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত?

প্রশ্ন (১২১৯২) : এক আলেম বলেছেন, দাফনের পর দেড় দুই ঘণ্টা কবরের পাশে থাকলে ভালো। এতে মায়্যিতের প্রশ্নোক্তর পর্ব সহজ হয়। এটা কি ঠিক? দলীলসহ জানালে খুবই ভাল হত।

গ্রামে প্রচলিত কিছু কুসংস্কার।

প্রশ্ন (১২১৮৩) : মুহতারাম, আমাদের গ্রামে প্রচলিত আছে যে, কোন মায়্যেতকে দাফন করার পর তার কবরের উপর কিছু সরিষার দানা ছিটিয়ে দেয় এবং খেজুর গাছের পাতা ১/২ হাত লম্বা করে কেটে কবরের চার কোণে চারটা এবং কবরের মাঝে একটা গেড়ে দেয় এবং এক একটা গাড়ার সময় সূরা কাফিরূন, ইখলাস, ফালাক্ব, নাস ও আয়াতুল কুরসি এগুলোর একটি করে পাঠ করে। হযরতের নিকট আমার জানার বিষয় হল, উপরোক্ত কাজ করা কি বৈধ? যদি না হয় তাহলে এর দ্বারা কি কোনো সমস্যা হবে? দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

কবর যিয়ারতের সময় কোন দিকে ফিরে দুআ করবে?

প্রশ্ন (১২১৩৬) : কবর যিয়ারতের ক্ষেত্রে অনেককে দেখা যায় কবরের দিকে ফিরেই দুআ করেন। আবার অনেক লোককে দেখা যায় কেবলামুখী হয়ে দুআ করেন। আসলে এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি কোনটি?

মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পর কি গোসল করা আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২০৬২) : কিছুদিন আগে দুপুরে আমার একজন নিকটাত্মীয় ইন্তেকাল করেন।তিনি মৃত্যুর আগে আমাকে তার জানাযার নামায পড়ানোর জন্য খুব অনুরোধ করেছিলেন। তাই তাঁর আশা রক্ষার্থে আমি জানাযার নামায পড়াই এবং দাফনের সময় কবরে নামি। দাফন শেষ হয় আসরের সময় হবার এক ঘণ্টা পর। তাই আমি দাফনের কাজ শেষে (অযু অবস্থায় থাকার কারণে) নতুন করে অযু না করেই আসরের নামায পড়ে নিই। পরে আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি, যিনি ঐ দাফনকার্যে শরীক হয়েছিলেন, আমাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি দাফনের পরে গোসল না করেই আসরের নামায পড়লে কেন? এখন জানার বিষয় হল, মৃত ব্যক্তিকে গোসল বা কাফন-দাফন করানোর পর কি গোসল করা জরুরি?

মৃতের শরীরের অংশ বিশেষ পাওয়া গেলে দাফনের পদ্ধতি কি হবে?

প্রশ্ন (১২০৩১) : আমরা মধুর ব্যবসা করি। তাই বছরের বিভিন্ন সময়ে সুন্দরবনে যাই মধু সংগ্রহ করতে। গত সিজনে মধু সংগ্রহ করতে যাওয়ার পর একটা হিংস্র বাঘ এসে আমাদের এক সাথীর উপর আক্রমণ করে তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। আমরা তাকে খুঁজতে খুঁজতে একপর্যায়ে তার শরীরের ছিন্ন-ভিন্ন কিছু অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হই। আমরা তার একটি পা, একটি হাত ও পাজরের কিছু অংশ এবং মাথা পাই। এগুলো উদ্ধারের পর আমরা তার শরীরের উদ্ধারকৃত অংশগুলো গোসল না দিয়ে এবং জানাযা না পড়ে কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দিই। আমি জানতে চাচ্ছি, তার শরীরের অংশগুলো গোসল না দিয়ে জানাযা না পড়ে কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে দাফন করা কী শরীয়তসম্মত হয়েছে?

নিষিদ্ধ সময়ে জানাযার নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১১৯৯৪) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসরের নামাযের পর আমাদের মসজিদে একটি জানাযা উপস্থিত হয়। কিন্তু মৃত ব্যক্তির অভিভাবক ও নিকটাত্মীয়রা আসতে দেরি হওয়ায় নামায বিলম্বিত করা হয়। তখন উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয় যে, এই সময়ে জানাযার নামায পড়া যাবে কিনা। তো আমার জানার বিষয় হলো, এই সময়ে জানাযার নামায পড়ার বিধান কী?

মৃত ব্যক্তির অসিয়তকৃত জায়গায় তাকে দাফন না করলে কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন (১১৯০১) : আমার বাবা কিছু দিন আগে ইন্তিকাল করেন। ইন্তিকালের আগে তিনি আমার বড় ভাইকে অসিয়ত করেছিলেন যেন তাকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী জায়গায় দাফন করা হয়। কিন্তু সবার পরামর্শে তাকে বাড়ির পাশের কবরস্থানে দাফন করা হয়। আমার জানার বিষয় হলো, বাবাকে বাবার অসিয়তকৃত জায়গায় দাফন না করে অন্য জায়গায় করার কারণে কি আমাদের গুনাহ হবে?

পানিতে মৃত ব্যক্তির লাশ পেলে কি গোসল ছাড়া দাফন করা যাবে?

প্রশ্ন (১১৮৯৪) : এলাকার এক যুবক সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর সকালে একটি নদীর তীরে তার মৃত দেহ পাওয়া যায়। তাকে বাড়িতে এনে গোসলের ব্যবস্থা করা হলে এক মুরুব্বী বলেন, যেহেতু সে লম্বা সময় পানিতে ছিল তাই তার গোসল হয়ে গেছে। তাকে নতুন করে গোসল করানোর প্রয়োজন নেই। তখন তার কথা অনুযায়ী আমরা তাকে গোসল করানো ব্যতীত শুধু জানাযার নামায পড়ে দাফন করে দেই। তো আমার জানার বিষয় হলো, ঐ ব্যক্তির কথা কি ঠিক আছে?