অনুসন্ধান

ফরয রোযার কাযা করার জন্য কখন নিয়ত করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৩৫) : গত রমযানে অসুস্থতার কারণে একটি রোযা রাখতে পারিনি। আজ সকাল আটটার দিকে ঘুম থেকে জেগে কাযা রোযাটি রাখার নিয়ত করি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বাড়িতে মেহমান আসায় তাদের পীড়াপীড়িতে তা ভেঙে ফেলি। জানার বিষয় হল, এখন আমাকে কয়টি রোযা রাখতে হবে? একটি, না দুটি?

মিকাত থেকে ইহরাম করা কি জরুরী?

প্রশ্ন (১২১৩৪) : এক ব্যক্তি বিমানে করে নিজ দেশ থেকে উমরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। তার ইচ্ছা ছিল যে, বিমানে ইহরাম করে নেবেন। কিন্তু যখন ইহরাম করার সময় এল তখন তার স্মরণ হল যে, তিনি তো ইহরামের কাপড় বাড়িতে ভুলে রেখে গেছেন। তাই তিনি ইহরাম ছাড়াই জিদ্দা পৌঁছে তার এলাকার একজন আলেমের সাথে যোগাযোগ করেন। ঐ আলেম তাকে বলেন যে, কাছের কোনো মীকাতে গিয়ে ইহরাম করে আসতে হবে। এবং জরিমানা স্বরূপ একটি পশু জবাই করতে হবে। কিন্তু তিনি এসব কিছু না করে জিদ্দায় ইহরাম করে ফেলেন। এবং এভাবেই উমরা শেষ করেন। প্রশ্ন হল, এসব ক্ষেত্রে জিদ্দায় ইহরাম করার দ্বারা কি উমরা সহিহ হয়ে যায়, নাকি ইহরামের জন্য মীকাতের দিকে যাওয়া জরুরি? যদি মীকাতের দিকে যাওয়া আবশ্যক হয় তাহলে কোন মীকাতের দিকে যাবে? ইহরাম ছাড়া যে মীকাত অতিক্রম করেছে, সেই মীকাতে যেতে হবে, না অন্য কোনো মীকাতে গিয়ে ইহরাম করলেও হবে?

সৌদি প্রবাসীকে দিয়ে বদলি হজ্ব করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৩৩) : আমার নানার উপর হজ্ব ফরয ছিল। হজ্বে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। এরই মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। হজ্বের টাকা-পয়সাও চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়ে যায়। মৃত্যুর সময় তিনি বদলি-হজ্ব করানোর অসীয়ত করে যান। কিন্তু মৃত্যুর পর তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ ৫০ হাজার টাকার বেশি নয়। এ দিয়ে হজ্ব করানো অসম্ভব। আমাদের এক আত্মীয় সৌদিতে থাকেন। তিনি উক্ত টাকায় বদলি হজ্ব করতে রাজি হয়েছেন। জানতে চাই উক্ত সৌদি প্রবাসীকে দিয়ে হজ্ব করানো যাবে কি না?

বোনের ননদ দুধ পান করালে কি দুলাভাই মাহরাম হবে?

প্রশ্ন (১২১৩২) : আমি একটি মহিলা মাদরাসায় হিফয বিভাগে পড়ি। আমার এক বছর বয়সে একদিন আমার বড় আপার ননদ আমাকে দুধ পান করান। এ কারণে আমি আপার বাড়িতে গেলে বা তারা আমাদের বাড়িতে আসলে আপা আমাকে দুলাভাইয়ের সাথে দেখা করতে বলেন। আমাকে তার সামনে নিয়ে যান। কিন্তু আমি এখন বড় হয়েছি। বিষয়টা আমার কাছে খুবই সংকোচ লাগে। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে আমার দুলাভাই কি আমার মাহরাম? আমি কি তার সাথে দেখা করতে পারব? আশা করি বিস্তারিত জানাবেন।

নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে নামায আদায় করার মান্নত করলে কি সেই জায়গায় গিয়েই তা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৩১) : আমার বাবা অনেক আগে কোনো এক প্রসঙ্গে মসজিদে নববীতে চার রাকাত নফল নামায পড়ার মান্নত করেছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার মসজিদে নববীতে যাওয়ার তৌফিক হয়নি। এখন তার বয়স অনেক বেড়েছে, শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। শারীরিক দুর্বলতার কারণে লম্বা সফর করা তার জন্য কঠিন। তো এখন তিনি কী করতে পারেন? মান্নতটি পূর্ণ করার কী পদ্ধতি হতে পারে?

কুরআন নিয়ে কসম করলে কি কসম সংঘটিত হয়?

প্রশ্ন (১২১৩০) : আমি একবার আমার চাচাতো ভাইয়ের বাসায় যাই। সেখানে তার সাথে একটি বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমি কুরআন শরীফ হাতে নিয়ে বলি যে, ‘আমি কুরআন শরীফের কসম করে বলছি, ‘আর কখনো তোর বাসায় আসব না।’ পরবর্তীতে তার সাথে রাগ মিটে যায়। এখন জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত কথার দ্বারা কি কসম হয়ে গেছে? এখন যদি আমি তার বাসায় যাই তাহলে কি আমাকে কাফফারা দিতে হবে? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

বিকাশে ঋণের টাকা আদান প্রদান করলে সেক্ষেত্রে খরচ কে বহন করবে?

প্রশ্ন (১২১২৯) : আমি আমার এক বন্ধু থেকে বিকাশের মাধ্যমে কিছু টাকা ঋণ নিয়েছি। সে টাকা ক্যাশআউট করার কোনো খরচ সে দেয়নি। আমি খরচ দিয়ে ক্যাশআউট করেছি। এখন টাকা ফেরত দেওয়ার সময় উক্ত খরচের টাকা কেটে রাখতে পারব কি না? আর ঋণ পরিশোধের সময় আমি যদি টাকাগুলো পুনরায় বিকাশের মাধ্যমে পাঠাই তাহলে সেক্ষেত্রে ক্যাশআউট করার খরচ আমাকে দিতে হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

এক তায়াম্মুম দিয়ে কত ওয়াক্ত নামায আদায় করা যায়?

প্রশ্ন (১২১২৮) : শীতের মৌসুমে কয়েকদিন আমি তীব্র জ¦রে আক্রান্ত ছিলাম। তায়াম্মুম করে নামায পড়তাম। একজন অত্মীয় আমাকে দেখতে এসে বললেন, ‘একবার তায়াম্মুম করে বারবার নামায পড়া যায় না। প্রতি ওয়াক্তে তায়াম্মুম করে নিও।’ আমি জানতে চাচ্ছি, একবার তায়াম্মুম করে কত ওয়াক্ত নামায পড়া যায়? ইতিপূর্বে আমি এক তায়াম্মুমে (পবিত্রতা থাকা পর্যন্ত) একাধিক নামায পড়েছি। সেগুলোর কী হুকুম?

মাসিক স্রাবের সময় কুরআন তিলাওয়াত শুনলে কি সিজদা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১২১২৭) : আমি একটি মহিলা মাদরাসায় হিফজ বিভাগের শিক্ষিকা। মাসিক স্রাবের সময়ও আমাকে ছাত্রীদের তিলাওয়াত শুনতে হয়। জানার বিষয় হল, এ সময় তারা সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলে আমার উপর সিজদা ওয়াজিব হবে কি?

মুক্তাদী নামাযে ভুল করলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২১২৬) : একদিন এশার নামাযে দ্বিতীয় রাকাতে বসার সময় ইমাম সাহেব কিছুটা দীর্ঘ করে তাকবীর বলেন। একারণে আমরা কয়েকজন মুক্তাদি দাঁড়িয়ে যাই। এরপর অন্যদের দেখে আবার বসে পড়ি এবং শেষে ইমামের সাথেই সালাম ফিরাই। জানার বিষয় হল, এভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণে কি আমাদের উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হয়েছে?

কাউকে বিপদে পড়তে দেখলে নামায ছেড়ে দেওয়া জায়েয আছি কি?

প্রশ্ন (১২১২৫) : আমার আট মাসের বাচ্চাকে খাটের উপর ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে আমি খাটের পাশে আসরের নামায পড়তে দাঁড়াই। ইতিমধ্যে ঘুম ভেঙ্গে গেলে বাচ্চা কাঁদতে শুরু করে এবং গড়াগড়ি করে খাটের পাশে চলে যায়। এ অবস্থা দেখে নিচে পড়ে যাওয়ার ভয়ে আমি নামায ছেড়ে দিয়ে বাচ্চাকে কোলে নিই। জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামায ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

অমুসলিমদের থেকে সিজদার আয়াত শুনলে কি সিজদা ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১২১২৪) : উত্তরবঙ্গে মিশনারীদের তৎপরতা অত্যধিক বেশি। খ্রিষ্টান মিশনারীরা নানা কৌশলে মানুষকে প্ররোচিত করছে। তারা সরলমনা মুসলমানদেরকে প্রভাবিত করতে প্রথমে তাদেরকে কুরআন পড়ে শোনায় এবং কিছু কিছু আয়াতের অনুবাদ করে তারা কুরআন থেকেই যীশুখ্রীস্টের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে। তাদের কৌশল ও কার্যক্রম জানতে আমরা মাঝে মাঝে তাদের কথা শুনি। জানার বিষয় হল, এসব অমুসলিমদের থেকে সিজদার আয়াত শুনলে আমাদের উপর সিজদা ওয়াজিব হবে কি না?

কুরআন তিলাওয়াতের সময় আযান হলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১২৩) : আমি কুরআন মাজীদ হিফজ করেছি। দুপুর ও সন্ধ্যায় নিয়মিত তিলাওয়াত করি। কোনো কোনো সময় তিলওয়াত করা অবস্থায় আযান শুরু হয়। শুনেছি এসময় আযানের জবাব দিতে হয় না। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, তিলাওয়াতকালে আযান শুরু হলে কি করা উচিত? তিলাওয়াত চালিয়ে যাওয়া, নাকি আযানের জবাব দেওয়া?

কোথাও সফরে গেলে কি সুন্নত নামায আদায় করা জরুরী?

প্রশ্ন (১২১২২) : কিছুদিন আগে দশ দিনের জন্য আমরা তাবলীগে গিয়েছিলাম। আমাদের রোখ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানায় ছিল। সেখানে গিয়ে আমরা একাকী নামায পড়লে কসর করতাম এবং নামাযের আগে পরের সুন্নাতগুলোও গুরুত্বের সাথে আদায় করছিলাম। আমাদের জামাতের আমীর সাহেব ফরয নামায কসর পড়লেও নামাযের আগে-পরের সুন্নতগুলো পড়তেন না এবং অন্যদেরকেও পড়তে নিষেধ করতেন। বলতেন যে, সফরে সুন্নাত পড়তে হয় না। আমরা যারা আগে থেকেই এই ধরনের সফরে সুন্নাত পড়ে আসছি, তার এই কথা শুনে বেশ সংশয়ে পড়ে যাই। এবং আমাদের অনেক সাথি সুন্নাত পড়া বন্ধ করে দেয়। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমি বিষয়টির সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি যে, সফরে নামাযের আগে-পরের সুন্নাত আদায়ের বিধান কী?

ইমাম সাহেব ভুলে প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১২১) : একদিন যোহরের নামাযের ইমাম সাহেব মসজিদে ছিলেন না। তখন মুসল্লিদের থেকে একজন নামায পড়ালেন। তিনি ভুলক্রমে প্রথম বৈঠক না করেই তৃতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। পেছন থেকে লোকমা দিলেও তিনি বসলেন না এবং শেষে সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করেন। তো আমি জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে ?

তায়াম্মুম করে জানাযার নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১২০) : কয়েকদিন আগে আমাদের এলাকার চেয়ারম্যান মৃত্যুবরণ করেন। স্কুল মাঠে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। দূরাগত অনেক লোক যারা অযু করে আসেনি। অযুর অপেক্ষায় হাইস্কুলের টিউবওয়েলের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। জামাত শুরু হওয়ার পূর্বমুহূর্তে দেখলাম, তাদের অনেকেই তায়াম্মুম করে দ্রুত কাতারে দাঁড়িয়ে গেল। জানার বিষয় হল, তাদের তায়াম্মুম করা কি ঠিক হয়েছে? পানি থাকতে তায়াম্মুম করলে কি নামায হয়?

ভুলে সময় হওয়ার আগে ইফতার করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২১১৯) : আমাদের বাসায় স্বাভাবিকভাবে রমযানে সকলেই মসজিদের আযানের পরই ইফতার করি। কিন্তু আমার দাদা সাধারণত আযানের অপেক্ষা করেন না। ঘড়িতে ইফতারের নির্ধারিত সময় হলেই ইফতার শুরু করে দেন। গত রমযানে একদিন বরাবরের মতই তিনি ঘড়িতে ইফতারের সময় হয়ে যাওয়ায় ইফতার করে নেন। কিন্তু পরে জানা যায় যে সেদিন দুর্ঘটনাক্রমে ঘড়ি প্রায় ১২ মিনিট ফাস্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে ভুলে তিনি ইফতারের সময় হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগেই ইফতার করে নিয়েছেন। এখন মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, দাদার সেই রোযা কি ভেঙে গিয়েছিল? ভেঙে গিয়ে থাকলে এখন তার করণীয় কী?

মান্নত করার পর তা আদায় না করে মৃত্যু বরণ করলে তার জন্য করণীয়।

প্রশ্ন (১২১১৮) : আমার বড় ভাই একবার মান্নত করে বলেন যে, আমার চাকরি হলে তিন দিন ইতিকাফ করব। পরবর্তীতে তার চাকরি হয়, কিন্তু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তার মান্নতকৃত ইতিকাফ আদায় করেননি। এভাবে তিনি গত সপ্তাহে ইন্তেকাল করেন। আমাদের জানার বিষয় হল, তিনি যেন মান্নতের দায় থেকে মুক্ত হতে পারেন- এজন্য আমরা কী করতে পারি?

পড়াশোনার জন্য ক্রয়কৃত কিতাবাদির উপর কি যাকাত ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১২১১৭) : আমি মাদরাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি ছোট একটা ব্যবসা করি। পরিবারের প্রয়োজনে খরচ করার পর বছরের শেষে স্বাধারণত আমার কাছে ১০-১৫ হাজার টাকা বেঁচে থাকে। এ ছাড়া আমার আর কোনো সম্পদ নেই। তবে আমার সংগ্রহে আরবী, উর্দূ ও বাংলা মিলিয়ে বেশকিছু কিতাব আছে। যার ক্রয়মূল্য প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত কিতাবগুলোর কারণে কি আমার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে?

কাউকে ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২১১৬) : মুহতারাম! আমার জানার বিষয় হল, আমাদের এলাকায় প্রচলিত আছে, কাউকে ঋণ দেওয়ার সময় এভাবে চুক্তি করা হয় যে, ঋণদাতা ঋণগ্রহীতাকে বলে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আপনার কাছ থেকে ১০ মন ধান কিনলাম। ধানের মৌসুমে ধান না দিয়ে ধানের মূল্য দিয়ে দিবেন। এক্ষেত্রে তারা ধানের পরিমাণ এমনভাবে নির্ধারণ করে, যাতে ধানের মৌসুমে ঐ পরিমাণ ধানের মূল্য ঋণের টাকার থেকে বেশি হয়। এভাবে চুক্তি করা শরীয়তসম্মত কি না?