অনুসন্ধান

কসর সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৭৫) : আমি ঢাকা লালমাটিয়ায় এলাকায় থাকি। বাড়িতে যাওয়ার সময় অনেকক্ষেত্রে আমাকে আমার ছোট ভাইয়ের মাদরাসা (কেরানীগঞ্জ) যেতে হয়। ওখান থেকে তাকে নিয়ে আবার লালমাটিয়া হয়ে এয়ারপোর্ট দিয়ে বাড়ি (সিলেট) যেতে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, কেরানীগঞ্জ তো সিটির বাইরে। তাই সেখানে গেলে কি আমি কসর করতে পারব। কেরানীগঞ্জ থেকে লালমাটিয়া হয়ে এয়ারপোর্ট যাওয়ার সময় আমি যদি মুহাম্মদপুর বা লালমাটিয়ায় নামায পড়ি তাহলে আমি কসর করব, না পূর্ণ নামায পড়ব। দলীলসহ উত্তর জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। জাযাকুমুল্লাহু খায়রান।

ইলেকট্রিক দোকানে কাস্টমার কোনো জিনিস ফেলে রেখে গেলে সেটা দোকানদার বিক্রি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৩৭৪) : আমার একটি কম্পিউটার সার্ভিসিংয়ের দোকান আছে। অনেকে সার্ভিসিংয়ের জন্য মাদারবোর্ড নিয়ে আসলে দেখা যায়, সেটা মেরামত করার চেয়ে নতুন মাদারবোর্ড কিনে নেওয়াই ভালো। আমি তাদেরকে বিষয়টি বললে, অনেকে নতুন মাদারবোর্ড কিনে পুরনোটি ফেলে চলে যায়। অনেকদিন পর দেখা যায়, কোনো কোনো পুরনো মাদারবোর্ড ঠিক করে ব্যবহারযোগ্য করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে যখন মেরামত করে এগুলো ব্যবহারযোগ্য হয় তখন কি এগুলো আমার জন্য বিক্রি করা জায়েয হবে? অথবা এর বিভিন্ন পার্টস অন্য মাদারবোর্ডে ব্যবহার করা জায়েয হবে? নাকি মালিককে বিষয়টি জানাতে হবে? অথচ মালিককে তো আমি চিনি না। আর মালিকও তো স্বেচ্ছায় জিনিসটি ফেলে গেছে। যদি এগুলো মেরামত করে ব্যবহার করা বা বিক্রি করা জায়েয না হয় তাহলে ইতিপূর্বে যেগুলো বিক্রি করেছি সেগুলোর ব্যাপারে আমার করণীয় কী? আর এখনও যেগুলো রয়ে গেছে সেগুলো কী করব? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

মৃত ব্যক্তির সমস্ত সম্পদের কী পরিমাণ অংশে তার অসিয়ত কার্যকর হবে?

প্রশ্ন (১২৩৭৩) : কিছুদিন আগে আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তি মারা গেছে। লোকটি ছিল অবিবাহিত। তাই তার ছেলে-সন্তান স্ত্রী পরিবার-পরিজন কেউ নেই। মৃত্যুর আগে সে অসিয়ত করে গেছে, তার যাবতীয় সম্পদ মসজিদ-মাদরাসায় দিয়ে দিতে। এখন মসজিদ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ উভয়ে তার সম্পদ দাবি করছে। কিন্তু মৃত ব্যক্তির ভাই তা মেনে নিচ্ছে না। মৃতের আত্মীয় বলতে শুধু তিনিই আছেন। বিষয়টি নিয়ে অনেক সমস্যা হচ্ছে। এখন আমরা সবাই (মসজিদ ও মাদারাসা কর্তৃপক্ষ ও তার ভাই) মুফতী সাহেবের শরণাপন্ন হচ্ছি, আমাদেরকে শরীয়তের সঠিক সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

দাইয়ূস মানে কী?

প্রশ্ন (১২৩৭২) : অনেকের মুখে দাইয়ূস শব্দটি শোনা যায়। এর অর্থ কী? কুরআন হাদিসে এ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? কেউ কেউ অন্যকে দাইয়ূস বলে গালি দেয়। এটা কি ঠিক?

পবিত্রতা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৭১) : সেদিন ফরয গোসল করতে গিয়ে বালতি থেকে মগ দিয়ে পানি ওঠানোর সময় হাতের আঙ্গুলের অংশে পানি লেগে যায়। এক্ষেত্রে যদিও আমার হাতে দৃশ্যত কোনো নাপাকি ছিল না; তথাপি যেহেতু ফরয গোসল তাই পরে আমার সন্দেহ হলে পাশের একজনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আপনার আঙ্গুলের অংশ পানিতে লাগার কারণে ঐ পানি ব্যবহৃত পানির হুকুমে হয়ে গেছে। আর আপনার ঐ পানি দিয়ে গোসল ও পবিত্রতা অর্জন শুদ্ধ হয়নি। জানার বিষয় হল, তার কথাটি কি ঠিক?

নাপাক কাপড়ে তাওয়াফ করলে কি তাওয়াফ শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন (১২৩৭০) : ওমরা করার সময় আমার কোলে আমার আট মাস বয়সী বাচ্চাও ছিল। যদিও ডায়াপার পরিয়ে রেখেছিলাম, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরে থাকার কারণে একসময় লক্ষ করি, বাচ্চার পেশাব লেগে আমার জামার বেশ খানিকটা জায়গা ভিজে উঠেছে। বুঝতে পারি, ডায়াপার অতিক্রম করে এ নাপাকি আমার কাপড়ে লেগেছে। এখন এ নাপাকসহ তাওয়াফ করাতে আমার তাওয়াফ শুদ্ধ হয়েছে কি? নামাযের মতো তাওয়াফেও কি কাপড়-চোপড় পাক থাকা জরুরি? জানালে উপকৃত হব।

কুরআনের আয়াত লিখিত কাগজ নিয়ে বাথরুমে যাওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৬৯) : আমি কিছুদিন আগে কুরআনের আয়াত লিখিত একটা কাগজ পকেটে নিয়ে বাথরুমে প্রবেশ করি। পরে এক ভাই বললেন যে, এভাবে কুরআন লিখিত কাগজ নিয়ে বাথরুমে প্রবেশ করা জায়েয নেই। জানার বিষয় হল, তার ঐ কথা কি ঠিক?

সম্পদ চুরি হওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে নামায্ আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৬৮) : চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে আমার একটি আমের বাগান আছে। আমের সিজনে বাগানে থেকে দেখাশুনা করতে হয়। আমার এই বাগান দেখাশুনা করার জন্যে কয়েকজন শ্রমিকও রয়েছে। এবছর আমের সিজনে একবার আম পেড়ে যমিনে স্তুপ দেওয়া হয়। ঘটনাক্রমে একদিন শ্রমিকরা সবাই ছুটিতে ছিল। আমি ছাড়া আমের স্তুপ দেখার মতো কেউই ছিল না। তাই আমাকে বাগান দেখাশুনা করতে হল। এদিকে দেখাশুনা করতে করতে যোহরের নামাযের সময় হয়ে যায়। ঘটনাক্রমে আমার আশপাশে অযু করার মতো কোনো পানি ছিল না। যদি পানির সন্ধানে দূরে কোথাও বা পাহাড়ের নিচে যাই, তাহলে বাগানে রাখা সব আম ওঁত পেতে থাকা চোরেরা নিয়ে যাবে। তাই আমি ঐদিন যোহরের নামায শেষ সময়ে তায়াম্মুম করে পড়ি। জানার বিষয় হল, এভাবে যদি কেউ তার সম্পদ চুরির ভয়ে তায়াম্মুম করে নামায পড়ে, তাহলে কি তা সহিহ হবে?

ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে নামায পড়া সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৬৭) : কয়েকদিন আগে ফজরের সময় ঘুম ভাঙতে দেরি হয়ে যায়। চোখ খুলে দেখি, সূর্যোদয়ের ১০ মিনিট বাকি আছে। অযু করার জন্য দ্রুত ওয়াশরুমে গিয়ে দেখি লাইনে পানি নেই। তখন পানি খুঁজতে গেলে নামায কাযা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে নামায পড়ে নিই। জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে তায়াম্মুম করে নামায পড়া কি সহিহ হয়েছে?

নামাযে সূরা ফাতিহা না পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৩৬৬) : একদিন যোহরের নামাযে মসজিদে যেতে দেরি হয়ে যায়, ফলে মাসবুক হই। যখন বাকি নামায আদায় করি তখন প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহা ভুলে যাই। আমার প্রশ্ন হল, এমন অবস্থায় কি আমার জন্য সাহু সিজদা করা আবশ্যক?

কসম বাক্যের সাথে ইনশাআল্লাহ বললে কসম সংঘটিত হবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৬৫) : আমার এক আত্মীয় শহরে চাকরির খোঁজে এসে আমাদের বাড়িতে উঠেছে প্রায় এক বছর হল। যতদিন চাকরি হচ্ছে না ততদিন আমাদের এখানেই সে থাকবে এবং আমাদের সঙ্গেই খাবে- একথা আমি তাকে বলেছি। কিন্তু দীর্ঘ একটা সময় পার হওয়ার পরও চাকরি পাবার ক্ষেত্রে তার কোনো অগ্রগতি হয়নি। এদিকে জীবন নির্বাহের জন্য সাধারণ কোনো পেশা গ্রহণেও সে আগ্রহী নয়। একপর্যায়ে গত কয়েক দিন আগে আমি তাকে বলেই ফেললাম, ‘আল্লাহর কসম, যদি তুমি নিজ পায়ে দাঁড়ানোর একটা উপায় না কর তাহলে আমি আর তোমার সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারব না।’ তবে সেইসাথে আমি আমার এই কথার শেষে যুক্ত করে দিলাম, ‘ইনশাআল্লাহ’। এরপর আরো মাসখানেক সময় পার হয়েছে। সে এখনো তার কোনো গতি করতে পারেনি। আমি তো কসম করেছি, রোযগারের পথ করতে না পারলে তাকে আর সাহায্য করব না। কিন্তু এখন তার অবস্থা দেখে মায়া হচ্ছে। এ মুর্হূতে আমার কী করণীয়? আমি যদি আবারো তাকে সহযোগিতা করতে চাই তাতে কি আমার কসম ভঙ্গ করার কারণে কাফফারা দিতে হবে? জানালে উপকৃত হব।

অযুতে কুলি করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৩৬৪) : আমি ভুলে অযুতে কুলি না করে নামায আদায় করি। জানার বিষয় হল, কুলি করা ছাড়া আমার ঐ অযু হয়েছে কি?

চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের প্রথম বৈঠকে ইমাম না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৬৩) : যোহরের নামাযে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। পিছন থেকে কয়েকজন মুকতাদী ‘আল্লাহু আকবার’ বলে লোকমা দেন। তখন ইমাম সাহেব বসে পড়েন এবং তাশাহ্হুদ পড়ার পর শেষে সাহু সিজদা করেন। আমার জানার বিষয় হল, এই নামায কি শুদ্ধ হয়েছে, নাকি তা আবার পড়তে হবে?

যোহরের চার রাকাত সুন্নত ফরযের আগে পড়তে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৬২) : আমার মাঝে মাঝে যোহরের নামাযের আগের চার রাকাত সুন্নত ছুটে যায়। জানার বিষয় হল, যোহরের সুন্নত ছুটে গেলে তখন করণীয় কী? কীভাবে তা আদায় করব? নামাযের পরের দু’রাকাত সুন্নতের আগে পড়ব, নাকি পরে?

অযু করার সময় এক অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার পর অন্য অঙ্গ ধৌত করলে কি অযু সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৩৬১) : একদিন মসজিদে অযু করার সময় হাত ও মুখ ধোয়ার পর পানি চলে যায়। তখন মসজিদের ফিল্টার থেকে পানি নিয়ে অযু শেষ করি। ততক্ষণে আমার চেহারা এবং হাত শুকিয়ে যায়। জানার বিষয় হল, আমার এ অযু কি শুদ্ধ হয়েছে? এবং তা দ্বারা যে নামায পড়েছি তা কি আদায় হয়েছে?

মসজিদ স্থানান্তর করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৩৬০) : প্রায় সত্তর বছর আগে আমাদের এলাকায় মাদরাসার জন্য একটি জমি ওয়াকফ করা হয় এবং সেখানে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাদরাসার ছাত্ররা কাছের একটি পুরনো মসজিদে নামায আদায় করত। আনুমানিক চল্লিশ বছর আগে মসজিদ ও মাদরাসার মাঝে একটি হাইওয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। রাস্তা পার হয়ে মসজিদে যাওয়া ছাত্রদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের নামায আদায়ের সুবিধার্থে মাদরাসার ওয়াক্ফকৃত জমির উত্তর কোণে একটি মসজিদ নির্মাণ করে। চল্লিশ বছর যাবৎ উক্ত মসজিদে নামায পড়া হচ্ছে। কিন্তু মাদরাসার নতুন কর্তৃপক্ষ পুরো এরিয়ার সুযোগ-সুবিধার প্রতি লক্ষ করে মসজিদটি উক্ত জমির অন্য এক পাশে স্থানান্তর করে নিচ তলায় দোকানপাট ও দোতলা থেকে মসজিদ নির্মাণ করতে চচ্ছে। জানার বিষয় হল, এভাবে মসজিদ স্থানান্তর করা বৈধ হবে কি না? বৈধ হলে আগের মসজিদের জায়গা কী করা হবে? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

নামাযের শুরুতে ছানা পড়তে ভুলে গেলে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৩৫৯) : অনেক সময় নামায শুরু করার পর ছানা পড়তে ভুলে যাই। তো আমাদের এলাকায় একজনকে জিজ্ঞাসা করি; তিনি বলেন, এমন অবস্থায় সাহু সিজদা করা ওয়াজিব। হুজুরের কাছে প্রশ্ন হল, তার এ কথাটি কি ঠিক?

মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে রুকুতে পেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৫৮) : আমি অনেক সময় ইমামকে রুকুতে গিয়ে পাই। প্রশ্ন হল তখন আমি ছানা পড়ে রুকুতে যাবো না সরাসরি তাকবির বলে রুকুতে চলে যাবো? এ সময় ছানা পড়ার বিধান কী?

নামাযের কোনো রাকাতে এক সিজদা ছেড়ে দিলে কি নামায হবে?

প্রশ্ন (১২৩৫৭) : আমি নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে এক সিজদা করি। নামায শেষ করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর স্মরণ হয় যে, আমি এক সিজদা করেছি। এখন আমার ঐ নামাযের হুকুম কী?

ফরয নামায ভুলে পাঁচ রাকাত পড়ে ফেললে উক্ত নামাযের হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২৩৫৬) : আমার এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে জামাত করে আসর নামায পড়ছিলাম। ভুলবশত চতুর্থ রাকাতকে তৃতীয় রাকাত মনে করে দাঁড়িয়ে যাই এবং পাঁচ রাকাতের পর সালাম ফিরাই। সালাম ফেরানোর পর সে বলল, নামায তো পাঁচ রাকাত হয়েছে; তখন আমি কথা না বলে সাহু সিজদা করি এবং পুনরায় সালাম ফিরাই। আমাদের এ নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?