সালাত বা নামাজ

নামাযের প্রথম বৈঠকে মুসল্লি তাশাহ্হুদ শেষ করার আগে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৫৮৮) : মাঝে মাঝে আমি প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। এ অবস্থায় আমি কী করব? তাশাহহুদ শেষ করব? নাকি তাশাহহুদ শেষ না করেই ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে যাব?

ইমাম সাহেবের তিলাওয়াত সহিহ না হলে তার পিছনে নামায আদায় করার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১৩৫৮৫) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব সহিহভাবে কুরআন শরীফ পড়তে পারেন না। তার ع ও ح এর উচ্চারণ সঠিক হয় না। ع হামযার মতো এবং ه ح ـ এর মতো হয়ে যায়। এ অবস্থায় তার পেছনে আমাদের নামায সহিহ হবে কি? আর এ ধরনের ব্যক্তিদের ইমামতির হুকুম কী? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

নৌকা, ফেরী, লঞ্চ ইত্যাদি চলমান অবস্থায় সেগুলোতে জুমার নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৮১) : লঞ্চ, ফেরী ইত্যাদিতে জুমার নামায পড়ার বিধান কী? যদি জুমার নামাযের ওয়াক্ত হয়ে যায় তাহলে সেখানে জুমার নামায পড়ে নিলে তা সহিহ হবে কি? যদি না হয় তাহলে সহিহ না হওয়ার কারণ কী? আর কোনো জায়গায় জুমার নামায আদায় করার জন্য কী কী শর্ত প্রযোজ্য? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

মাসবুক ব্যক্তি তার ছুটে যাওয়া রাকাতের সংখ্যা ভুলে গেলে কী করবে?

প্রশ্ন (১৩৫৭৫) : গতকাল ইশার নামাযে আমি মাসবুক হই। কিন্তু ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর পর কত রাকাত ছুটেছে তা মনে আসছে তাই পাশের মুসল্লি যত রাকাত পড়েছে আমিও তত রাকাত পড়েছি। কেননা আমরা দুইজন একসাথেই নামাযে শরিক হয়েছি। এখন হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, এভাবে নামায পড়ার কারণে নামাযের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি?

বিতরের নামাযে কোন দুআ কুনুত পড়তে হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৭০) : বিতর নামাযে কোন দুআ কুনূত পড়ব? অনেকে বলে, আমরা যে দুআ কুনূত পড়ি- )اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِي عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ، وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ، اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ، وَلَكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ، وَإِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ، نَرْجُو رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ، إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ ( সেটি সঠিক নয়। তারা অপর একটি দুআ কুনূত পড়তে বলে। আসলে কোনটি সঠিক?

নামাযের কোনো রাকাতে তিনটি সিজদা আদায় করলে উক্ত নামায সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৬৬) : আমি গতকাল আসরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে ভুলে তিনটি সিজদাহ করে ফেলেছি। নামাযের শেষে সাহু সিজদাও করেছি। হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, সাহু সিজদা তো ওয়াজিব হয় নামাযের কোনো ওয়াজিব বিধানে ত্রুটি হলে। সিজদা আদায় যেহেতু ফরয তাই এতে ত্রুটির কারণে হয়ত আমার নামায কি ভেঙ্গে গেছে?

নামাযের মধ্যে রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ তৈরী হলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৫৬১) : কয়েকদিন ধরে প্রায়ই নামাযের মধ্যে আমার রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হয়, আমি তিন রাকাত পড়লাম নাকি চার রাকাত। এ অবস্থায় আমি কীভাবে নামায আদায় করব? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

নামাযের বৈঠকে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৬০) : আমি ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের বৈঠকে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি। সূরা ফাতিহা শেষ করার পর আমার বৈঠকের কথা মনে হয়। পরে তাশাহহুদ পড়ে সাহু সিজদা আদায় করে নামায শেষ করি। এখন আমি জানতে চাই, নামাযের শেষ বৈঠকে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে কি?

কেরাতে ভুল পড়লে কি নামায ভেঙ্গে যাবে?

প্রশ্ন (১৩৫৪৮) : নামাযে ফরয পরিমাণ কেরাত পড়ার পর যদি পরবর্তী অংশে এমন কেনো ভুল পড়ে, যার কারণে অর্থ একেবারে পাল্টে যায় তাহলে নামায ভঙ্গ হবে কি? আর এক্ষেত্রে নফল ও ফরযের মধ্যে পার্থক্য আছে কি?

নফল নামাযে কেরাতের তারতীব ভঙ্গ হলে কি নামায মাকরূহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৪০) : আমি একদিন নফল নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা কুরাইশ পড়ি। আর দ্বিতীয় রাকাতে বেখেয়ালে তার উপরের সূরা আছর পড়ে ফেলি। জানার বিষয় হলো, একারণে আমার উক্ত নামায মাকরূহ হয়েছে কি?

একাকী নামায আদায় করলে কেরাত আস্তে পড়বে নাকি জোরে পড়বে?

প্রশ্ন (১৩৫৩৯) : ফজর, মাগরিব ও এশার নামায জামাতে আদায় করলে ইমাম সাহেব উক্ত নামাযগুলোতে জোরে কেরাত পড়ে থাকেন। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এই নামাযগুলো কেউ একাকী আদায় করলে কেরাত জোরে পড়বে নাকি আস্তে পড়বে? আর নফল নামাযে আস্তে কেরাত পড়তে হবে, নাকি শব্দ করেও পড়া যাবে?

নফল নামায বসে আদায় করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৫৩৮) : আমার আব্বু সুস্থ-সবল। তিনি দাঁড়িয়ে নমায পড়তেও সক্ষম। তিনি সব নামায দাঁড়িয়েই আদায় করেন। তবে শুধু নফল নামায বসে আদায় করেন। জানতে চাই, ওজর ছাড়া নফল নামায বসে আদায় করার কী বিধান?

চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরিফ পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৩৭) : গতকাল এশার নামাযে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব সাহু সিজদা করেন। নামাযের পর কয়েকজন মুসল্লি সাহু সিজদার ব্যাপরে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তিনি বলেন, প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরিফ পড়ে ফেলি। এই কারণে সাহু সিজদা করেছি। তখন একজন বলল, দরূদ তো নবী (সা.)-এর জন্য দুআ। এর কারণে তো সাহু সিজদা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। জানতে চাই, এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা কী?

নফল নামায শুরু করে ভেঙ্গে ফেললে কি তা কাযা করতে হয়?

প্রশ্ন (১৩৫৩৬) : গতকাল এশার নামাযের পর আমি দু রাকাত নফল নামায শুরু করার পর একটি জরুরি কাজের কথা মনে পড়ায় আমি নামায ছেড়ে দিয়ে ঐ কাজে চলে যাই। আমি ভেবেছিলাম, যেহেতু এটা নফল নামায তাই কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু মা বললেন, নফল নামায শুরু করে ভেঙ্গে ফেললে তা কাযা করতে হয়। আমি জানতে চাচ্ছি, আমার কি ‍উক্ত নফলের কাযা করতে হবে?

বিতিরের নামাযের পর কি নফল নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১৩৫৩১) : অনেককে দেখি, বিতির নামাযের পর বসে বসে দু’ রাকাত নামায পড়ে। কাউকে কাউকে আবার এ নামাযকে বিভিন্ন নামেও অভিহিত করতে শুনেছি। জানার বিষয় হল, এটা আসলে কী নামায? এ নামায কি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত?

মুসাফিরের জন্য নামায কসর করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৫৩০) : আমি জানি ইসলামে মুসাফিরের জন্য নামায কসর করার বিধান রয়েছে। এক ব্যক্তি আমাকে বলল কসর করা নাকি জরুরি নয়। কেউ চাইলে পুরো নামাযও পড়তে পারে আবার কসরও করতে পারে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, সফর অবস্থায় নামায কসর করা কি জরুরি? দয়া করে আমাকে এর সমাধান জানাবেন।

তাশরীকের দিনসমূহে কাযা নামায আদায় করলে কি নামায শেষে তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে?

প্রশ্ন (১৩৫২০) : কেউ যদি যিলহজ্বের ৯ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ অর্থাৎ তাশরীকের দিনসমূহে পূর্বের কাযা নামায পড়ে তাহলে তাকে কি নামায শেষে তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে?

অন্ধ ব্যক্তির ইমামতি কি মাকরুহ?

প্রশ্ন (১৩৫১৯) : আমাদের এলাকায় একটি বড় মাদরাসা আছে। মাদরাসার মুহতামিম সাহেব একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেম। তিনি সবসময় আমাদের জামে মসজিদে জুমআ, দুই ঈদ ও তারাবীহর নামায পড়ান। কিছুদিন আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এখনও তিনি আমাদের জামে মসজিদে জুমআ, ঈদ ও তারাবীহর নামায পড়ান। আমি শুনেছি, অন্ধ ব্যক্তির পেছনে নামায মাকরূহ হয়। জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত ইমামের পেছনে নামায মাকরূহ হবে কি?

নামাযরত অবস্থায় কোনো লেখা মনে মনে পড়লে কি নামায নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১৩৫১৭) : আমি নামায পড়ছিলাম। আমার সামনে একটি বোর্ডে কিছু লেখা ছিল। আমি নামাযের ভেতরেই মনে মনে সেই লেখাটি পড়ে ফেলি। জানার বিষয় হলো, এভাবে নামাযের ভেতরে কোনো লেখা দেখে সেটা মনে মনে পড়লে কি নামায নষ্ট হয়ে যাবে?