প্রশ্নোত্তর

হজ্বে সেলাইকৃত জামা পরিধান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২১৫) : আমি পবিত্র হজ্ব পালন করেছি। ইহরাম অবস্থায় সতরের সতর্কতার জন্য আন্ডারপ্যান্ট পরি। তামাত্তু হজ্বের উমরা ও হজ্ব উভয়টি আদায়কালে আমি এটি পরিধান করে ছিলাম। পরবর্তীতে আলেমদের কাছে শুনেছি যে, ইহরাম অবস্থায় এগুলো পরা নিষেধ। এখন আমার কি করণীয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কোন যৌনকর্মী মারা গেলে কি তার জানাযার নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২২১৪) : সম্প্রতি এক যৌনকর্মীর মৃত্যুর পর পুরোপুরি ইসলামী প্রথা মেনে জানাযা পড়িয়ে দাফন করা হয়েছে। জনৈক পুলিশ কর্মকর্তার অনুরোধে স্থানীয় মসজিদের ইমাম প্রায় দু’শ উপস্থিত মুসল্লিদের নিয়ে তার জানাযা নামায পড়ান। এলাকার বাসিন্দাদের মতে এই যৌনপল্লিতে এটি ব্যতিক্রম ঘটনা। সাধারণত মৃত যৌনকর্মীদের গোপনে কবর দেওয়া হয় অথবা মৃতদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সংবাদটি প্রচার হলে মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আমার জানার বিষয় হল, যৌনকর্মীদের জানাযা পড়ার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে যাকাত আদায় করে দিলে কি যাকাত আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২২১৩) : আমার বাবার এক বন্ধু কয়েকদিন আগে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। দ্বীনদার হওয়ায় প্রতি বছর নিয়মিত যাকাত আদায় করতেন। কিন্তু মৃত্যুর প্রায় তিন বছর আগ থেকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। তাই কিছু দান-সদকা করলেও পরিপূর্ণ হিসাব করে এই তিন বছরের যাকাত আদায় করতে পারেননি এবং তিনি মৃত্যুর আগে এ বিষয়ে কিছু বলেও যাননি। এখন তার ওয়ারিশ ছেলে-মেয়েসহ অন্যান্যরা জানতে চাচ্ছেন যে, তাদের জন্য কি এখন নিজেদের অংশ থেকে উক্ত বছরগুলোর যাকাত আদায় করে দিতে হবে?

সফরে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে এক ওয়াক্তে পড়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২২১২) : আমি রিয়াদের মুহাম্মদ বিন সাউদ ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্র। আমাদের ভার্সিটি থেকে প্রায়ই ছাত্র জামাত ওমরার উদ্দেশ্যে মক্কায় গিয়ে থাকে। সুযোগ হলে আমিও তাদের সাথে শরীক হই। আমার সফরসঙ্গীরা তাদের হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী যাত্রাপথে বিরতি দিয়ে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করে নেয়। কিন্তু আমাদের হানাফী মাযহাব অনুসারে যেহেতু দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে পড়ার নিয়ম নেই, তাই আমি তাদের সাথে জামাতে শরীক না হয়ে শুধু ওয়াক্তের নামায একাকী পড়ি। পরবর্তী ওয়াক্তের নামায সফরে বিরতি না হওয়ার কারণে বাধ্য হয়েই আমাকে কাযা করতে হয়। অবশ্য আমাকে অনেকে বলেছেন, তুমি চাইলে তাদের সাথে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে পড়তে পারো। আসলেই কি এভাবে দুই ওয়াক্তের নামায আমার জন্য একত্রে পড়ার সুযোগ রয়েছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

নামাযী ব্যক্তির দিকে মুখ করে বসলে কোনো সমস্যা আছে কি?

প্রশ্ন (১২২১১) : একদিন মসজিদে কিবলার দিকে পিঠ করে বসে তিলাওয়াত করছিলাম। এর মধ্যে এক ব্যক্তি এসে আমার সামনে নামাযে দাঁড়িয়ে যায়। বলা হয়ে থাকে যে, নামাযীর দিকে মুখ করে বসা জায়েয নয়। কথাটি সঠিক কি না? বাস্তবে বিষয়টি এমন হয়ে থাকলে প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে গোনাহগার কে হবে? আমি, না ঐ নামাযী ব্যক্তি, যে হঠাৎ আমার সামেন এসে দাঁড়িয়ে গেল?

হজ্বে চুল কাটার নিয়ম।

প্রশ্ন (১২২১০) : হজ্বের মৌসুমে দেখা যায়, কয়েকজন বোরকা পরিহিতা মহিলা কেচি নিয়ে দাড়িয়ে থাকে। কারো চুল ছোট করার (কছর করা) প্রয়োজন হলে তারা অল্প কিছু চুল কেটে দেয়। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, চুল কাটার সর্বনিম্ন পরিমাণ কতটুকু? পুরো মাথা থেকে কাটতে হবে, নাকি অল্প কিছু চুল কাটলেও চলবে? এক্ষেত্রে নারী পুরুষ উভয়ের জন্য উত্তম তরিকা কী? বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানালে উপকৃত হতাম।

মেয়ে সন্তানের উপর কি পিতা-মাতার ভরণপোষনের দায়িত্ব আছে?

প্রশ্ন (১২২০৯) : এক ব্যক্তির ছেলে-মেয়ে উভয়ে সামর্থ্যবান। সকলের বিবাহ হয়ে গেছে। তাদের মা-বাবা বৃদ্ধ হয়ে গেলে ছেলে মা-বাবার খরচ বহন করে। তবে ছেলে বলতে চায় যে, বোনেরও তো টাকা-পয়সা আছে। সেও যেন আমার সঙ্গে সমানভাবে মা-বাবার খরচ বহন করে। জানতে চাই, বিবাহিতা মেয়ের উপর কি বাবা-মায়ের খরচ বহন করা জরুরি?

কারো কাছ থেকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবার তার কাছে ভাড়া দেওয়া কি জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১২২০৮) : আমার এক পরিচিত ব্যক্তির নগদ টাকার প্রয়োজন হওয়ায় আমি তার মালিকানাধীন একটি ফ্লোর ছয় মাস মেয়াদের জন্য ভাড়া গ্রহণ করি এবং পুনরায় তার কাছেই ভাড়া দিই। ভাড়া নেওয়া ও দেওয়ার জন্য ভিন্ন ভিন্ন দুটি চুক্তিপত্র করা হয়। প্রথম চুক্তিপত্রে ফ্লোরটি দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে তার কাছ থেকে ভাড়া গ্রহণ করি এবং দুই লক্ষ টাকা ভাড়া নগদ পরিশোধ করি। দ্বিতীয় চুক্তিপত্রে ফ্লোরটি তার কাছে দুই লক্ষত্রিশ হাজার টাকার বিনিময়ে পুনরায় ভাড়া প্রদান করি। তিনি প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা কিস্তিতে ছয় মাসে মোট ত্রিশ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং ভাড়ার অবশিষ্ট দুই লক্ষ টাকা ছয় মাস পর পরিশোধ করেন। জানতে চাচ্ছি, আমাদের এ লেনদেন সহিহ হয়েছে কি না এবং এ কারবারের মাধ্যমে প্রাপ্ত অতিরিক্ত ত্রিশ হাজার টাকা আমার জন্য নেওয়া বৈধ হয়েছে কি না? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২০৭) : ১. আমি স্ত্রীর উপর রাগ করে ঠাণ্ডা মাথায় একবার একথা বলি, ‘আমার ছোট ছেলের ২ বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে তুমি তালাক’। একথা আমি একা একা বলি শব্দ করে। আবার প্রচন্ড রাগের মাথায় একা একা শব্দ করেও ঐ জাতীয় কথা আলাদা আলাদা দিনে কয়েকদিন বলি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে কয় তালাক পতিত হবে? ২. আমার এবং আমার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি আমার স্ত্রীকে এ কথা বলি- ‘বেশি চিল্লাবা না; আর বেশি চিল্লাইলে তুমি আমার বউ থাকবা না।’ এ কথার পরও সে অনেক চিল্লিয়েছে। ঐ কথা বলার সময় দিলের নিয়ত কী ছিল তা বুঝতে পারছি না। অতএব, উপরিউক্ত কথার ভিত্তিতে মেহেরবানী করে ফতোয়া জানালে বাধিত থাকব।

ঘুষ আদান-প্রদানের হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২২০৬) : সরকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন সময় চারাগাছ ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করে থাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবচে’ কম রেটে যারা চারাগাছ দিতে পারবে জানিয়ে দরপত্র দাখিল করে- সরকার তাদেরকেই প্রাধান্য দেয়। এক্ষেত্রে ব্যাপারটা এরকম হয় যে, বিভিন্ন নার্সারি থেকে কাক্সিক্ষত পরিমাণ বৃক্ষচারা যদি দশ টাকা করে সংগ্রহ করার সুযোগ থাকে তাহলে লাভ হিসেবে তার সঙ্গে -ধরা যাক- আরো দুই টাকা যোগ করে প্রতিটি চারাগাছের মূল্য ১২ টাকা নির্ধারণপূর্বক আবেদনপত্র পেশ করা হয়। কিন্তু সরকারের তরফে আবেদন মঞ্জুর হওয়ার জন্য এ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাথে আরো দুই টাকা সংযুক্ত করে দরপত্রে বৃক্ষমূল্য ১৪ টাকা উল্লেখের কথা বলে। ফলে সরকার বৃক্ষ প্রতি ঠিকই ১৪ টাকা দাম পরিশোধে চুক্তিবদ্ধ থাকে। কিন্তু আমার হাতে আসে ১২ টাকা। বাকি দুই টাকা কর্মকর্তারা আনুষঙ্গিক কাজের জন্য কমিশন ফি হিসেবে কেটে রাখে। ক্ষেত্রবিশেষ দেখা যায়, অন্য যারা দরপত্র দাখিল করেছে তাদের মধ্যে আমার দেয়া ১৪ টাকাই সর্বনিম্ন রেট। বাকিদেরটা হয়ত ১৫ টাকা বা তারও ওপরে। এমতাবস্থায় প্রকৃত দামের বাইরে বৃক্ষপ্রতি ঐ দুই টাকা দিতে রাজী হলে কর্মকার্তারা আমার আবেদনকে অগ্রাধিকার দেয়ার আগ্রহ দেখায়। তো আমার জন্য কি এই শর্ত মেনে টেন্ডার গ্রহণের অবকাশ আছে? বিশেষ করে অন্যদের চেয়ে আমার রেট যখন তুলনামূলক কম। তাছাড়া আমি এই টেন্ডার না নিলেও অন্যদেরকে অনুরূপ কমিশন প্রদানের শর্তেই তো দেবে?

নিজের জমাকৃত টাকা অন্যকে ধার দিয়ে দিলে কি কুরবানী করতে হবে?

প্রশ্ন (১২২০৫) : আমি পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করি। টিউশনি থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে প্রয়োজন পূর্ণ করার পর অবশিষ্ট টাকা ব্যাংকে জমা রাখি। এভাবে ৫৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে। তিন মাস আগে এক বন্ধুর একটি বিপদে এই টাকাগুলো তাকে ঋণ দিয়েছি। বর্তমানে আমার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো সম্পদ নেই। আমার জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমার উপর কি কুরবানী ওয়াজিব? কুরবানী করতে হলে আমাকে ঋণ নিয়ে কুরবানী করতে হবে। এখন আমার করণীয় কী? মাসআলাটির সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ হব।

মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন খতম করে হাদিয়া গ্রহণ করা বিধান কী?

প্রশ্ন (১২২০৪) : একজন আমার মাধ্যমে কবর যিয়ারত করিয়েছে এবং আমার মাধ্যমে কুরআন খতম করে সওয়াবরেসানী করেছে। পরবর্তীতে সে আমাকে বলল, আপনি অনেক কষ্ট করেছেন- এ বলে কিছু টাকা দিল। এখন আমার জন্য তা নেওয়া বৈধ হবে কি? আরেকজন উক্ত কাজ করিয়ে সে বলল, কিছু হাদিয়া দিতে চাই। আমি বললাম, তা জায়েয নেই। আমার জানার বিষয় হল, আমার কষ্টের বিনিময়ে আমাকে একজন কিছু খাওয়াল বা হাদিয়া দিল তা জায়েয না হওয়ার কারণ কী?

জন্মবার্ষিকী-মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২০৩) : আমাদের এলাকায় কারও জন্মবার্ষিকী এবং মৃত্যুবার্ষিকী পালন করার প্রচলন খুবই কম। কিছুদিন আগে ঢাকার একজন আলেম বয়ানের মধ্যে রাসূল (সা.) সহ সকল মানুষের মৃত্যুবার্ষিকী ও জন্মবার্ষিকী পালন করা জায়েয বলে ফতোয়া দেন। এতে আমাদের এলাকায় সকলে একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। সুতরাং উক্ত সমস্যার সমাধানকল্পে শরীয়তের দলিল উল্লেখ করে আমাদেরকে উপকৃত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

কাযা নামায বাকি রেখে ওয়াক্তিয়া নামায আদায় করলে কি আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২২০২) : আমি একদিন ফজরের নামায পড়তে পারি নাই। সূর্য উদয় হলে পড়ে নিব ভাবছিলাম। কিন্তু আমার মনে ছিল না। তারপর যোহরের নামায পড়ার পর আমি ফজরের কাযা নামায আদায় করি। এখন কি আমার যোহরের ফরয নামায বাতিল হয়ে যাবে? আমি একজন আলেমের কাছ থেকে শুনেছিলাম যে, কোনো ব্যক্তির এক ওয়াক্ত নামায তার জিম্মা থেকে ছুটে গেল পরবর্তী ওয়াক্তের পরে তা কাযা আদায় করলে পূর্ববর্তী নামাযের ফরযিয়াত বাতিল হয়ে যাবে। তাই দয়া করে সঠিক মাসআলা জানাবেন। উল্লেখ্য: আমার অনেক ওয়াক্তের নামায কাযা আছে।

যাকাত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২০১) : আমার একটা দোকান আছে কাপড়ের। যাতে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার কাপড় ছিল। প্রতি বছর তার যাকাত আদায় করে থাকি। এ বছর রমযানের প্রথম তারিখে সে পণ্যের যাকাত হিসেব করে রাখি। কিন্তু বিশেষ সমস্যা ও ব্যস্ততার কারণে তা আদায় করতে পারিনি। এভাবে প্রায় তিন মাস হয়ে যায় গড়িমসি করে এখনো দেয়া হয়নি। এদিকে এর কিছুদিন পর দোকানের সব পণ্য ৩০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিই এবং সে টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করে ফেলি। জানার বিষয় হল, আমাকে কি এখন দোকানের পণ্য বিক্রির ৩০ লক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে?

ভাগনির ছেলে কি মাহরাম হবে?

প্রশ্ন (১২২০০) : আমার বড় ভাগনির ছেলে যখন ছোট ছিল আমি তখন ওর অনেক সেবাযত্ন করতাম। এখন ওকে আমার নিজের ছেলের মত মনে হয়। আমি হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, সে বড় হলে আমার সাথে কি তার পর্দা করতে হবে?

পশু প্রজনন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২১৯৯) : আমাদের দেশসহ বিভিন্ন দেশে এখন খামারগুলোতে ভেড়ার সাথে দুম্বা ও ছাগলের সাথে হরিণ দিয়ে ক্রসব্রিড করে অধিক মুনাফার আশায় নতুন নতুন জাতের ছাগল ও ভেড়ার জন্ম বিস্তার করছে। এই ধরনের প্রজনন শরীয়তসম্মত কি না?

যাকাত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২১৯৮) : গত রজব মাসে আমার স্ত্রীর বাবা মারা গেছেন। রমযানের কয়েক দিন আগে সম্পত্তি ভাগ করা হয়। আমার স্ত্রী কিছু জমি-জমাসহ নগদ দশ লক্ষ টাকা ক্যাশ পায়। এদিকে তার আগে থেকেই বিশ ভরির মত স্বর্ণ রয়েছে। আল্লাহর রহমতে প্রতি রমযানে তার যাকাত আদায় হয়ে থাকে। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এবার সে কি শুধু অলংকারের যাকাত দেবে নাকি মীরাস বাবদ যে টাকা পেয়েছে সেগুলোরও যাকাত দেবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

আকীকার গোশত বণ্টন করা পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২১৯৭) : অনেককে দেখা যায়, আকীকা করার পর বাড়িতে বাড়িতে গোশত পাঠিয়ে দেয়। আবার অনেকে দাওয়াত করে খাওয়ায়। দুই পদ্ধতির কোনটি উত্তম?

বিয়ে পড়ানোর ক্ষেত্রে নাম বলতে ভুল করলে কি বিয়ে শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন (১২১৯৬) : একই দিনে আমার ভাগনি ও তাদের পাশের বাড়ির একটি মেয়ের বিবাহ ঠিক হয়। যে মুরব্বি বিয়ে পড়ান তিনি একটু ভুল করেন। আমার ভাগনির বিয়ে পড়ানোর সময় ভুলে তার নাম না বলে অন্যজনের নাম বলে ফেলেন। তবে সেসময় যার নাম বলা হয় সে সামনে ছিল না; বরং আমার ভাগনি তার সামনে ছিল। তিনি তার দিকে হাত উঠিয়ে ইশারাও করেছিলেন। বিষয়টি তাকে বললে তিনি বলেন, সমস্যা নেই, বিবাহ হয়ে গেছে। তিনি আস্থাভাজন ও বিজ্ঞ হওয়ায় আমরা তাকে জোরাজুরি করিনি। পরে তিনি ২য় বার বিয়ে না পড়িয়ে অন্যজনের বিয়ে পড়াতে চলে যান। কিন্তু এখন আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা চলছে। তাই হুযুরের কাছে বিষয়টির সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি; ঐ মুরুব্বির কথা ঠিক কি না? আমার ভাগনির বিয়ে সহিহ হয়েছে কি না? দয়া করে জানিয়ে আমাদের উপকৃত করবেন।