প্রশ্নোত্তর

ইহরাম অবস্থায় ছাতা ব্যবহার করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২২৩৫) : গত বছর আমি হজ্বে যাই। আরাফার দিন সকালে রোদের কারণে ঘুমাতে কষ্ট হচ্ছিল। তখন আমি মাথার সামনে একটি ছাতা খুলে তার উপর কাপড় ঝুলিয়ে দিই। এরপর বুক পর্যন্ত ছাতার ভিতর ঢুকে ঘুমিয়ে পড়ি। আর ঝুলানো কাপড়টি আমার বুকের উপর ছিল। মাথা বা মুখ কিছুই স্পর্শ করেনি। জানতে চাচ্ছি, এভাবে মুখ ঢেকে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর দ্বারা কি দম ওয়াজিব হয়েছে?

আল্লাহর নাম ছাড়া কসম করলে কি কসম সংঘটিত হয়?

প্রশ্ন (১২২৩৪) : আল্লাহর নাম ব্যতীত শুধু কসম শব্দ দ্বারা কসম করলে কি কসম সংঘটিত হয়ে যায়? যেমন, কসম, আমি যাব। অনেকে মনে করে শুধু কসম শব্দ দ্বারা কসম করলে কসম হয় না। যেমন আমিও অনেক সময় এভাবে কসম করার পর মনে মনে ভাবি যে, আমি তো আল্লাহ কসম বলিনি তাই কসম হয়নি। অনেকসময় আমরা ঈমান শব্দ দ্বারা কসম খেয়ে থাকি। ঈমান শব্দ দ্বারা কসম করলে কি কসম সংঘটিত হয়ে যায়? হুজুরের কাছে আরেকটি বিষয় জানতে চাই। তা হচ্ছে, আমরা অনেক সময় কারো পিছনের কোনো বিষয়ের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ঈমান বা কসম শব্দ দ্বারা কসম নিয়ে থাকি। এধরনের কসমের সময় প্রতিপক্ষ যদি মিথ্যা কসম খায় তাহলে কি তাকে কাফফারা আদায় করতে হবে?

বিল্ডিংয়ের কোনো তলা নামাযের জন্য নির্ধারন করে আবার তা বাতিল করা কি ঠিক?

প্রশ্ন (১২২৩৩) : আমাদের এলাকায় ঘন বসতি হওয়ায় পূর্বের ছোট মসজিদে মুসল্লী সংকুলান হয় না। ফলে নামায পড়তে বেশ কষ্ট হয়। বিষয়টা নিয়ে আমাদের মাঝে আলোচনা চলছিল। একদিন আমরা কয়েকজন মিলে এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধাভাজন বশির সাহেবের বাসায় যাই। এব্যাপারে তার সাথে আলোচনা করলে তিনি বলেন যে, আমার এ বাড়ির ৫ম তলাটি খালি পড়ে রয়েছে। চাইলে তোমরা এটাকে মসজিদ বানিয়ে ফেলতে পারো। এরপর আমরা ৫ম তলাটিকে সাফাই করে তাতে নামায পড়া শুরু করি। এক সপ্তাহ পর একজন ইমামও নিয়োগ দেওয়া হয়। এভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা সেখানে নামায পড়ে আসছি। কিন্তু কয়েকদিন আগে উনার বড় ছেলে ৫ম তলার উপর আরো দুতলা করবে বলে সেখানে নামায পড়া বন্ধ করে দেয় এবং কাজও শুরু করে দেয়। তারা বলছে, যখন এটা আমাদের প্রয়োজন ছিল না তখন তা নামায পড়ার জন্য দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমাদের প্রয়োজন পড়েছে; বরং এটা যথেষ্ট হচ্ছে না বিধায় এর উপর আরো দু’তলা করতে হচ্ছে। তাই জানতে চাচ্ছি, ৫ম তলাটি মসজিদের জন্য দিয়ে পুনরায় তা নিয়ে নেওয়া কি জায়েয হবে? এতে তাদের মসজিদ ভাঙার গুনাহ হবে না?

ইস্তিঞ্জা সংক্রান্ত কয়েকটি প্রশ্ন।

প্রশ্ন (১২২৩২) : ১. একেবারে মাযুর ব্যক্তি নিজে নিজে ইস্তেঞ্জা করতে পারে না। তার ইস্তেঞ্জার কী বিধান হবে? তার স্ত্রী জীবিত নেই। এখন কি ছেলেরা তাকে ইস্তেঞ্জা করিয়ে দিতে পারবে? ২. মহিলাদেরও কি ইস্তেঞ্জার ক্ষেত্রে ঢিলা ব্যবহারের বিধান রয়েছে? ৩. ব্যবহৃত ঢিলা শুকিয়ে গেলে তা দ্বারা কি আবার ইস্তেঞ্জা করা যাবে? ৪. গাছের পাতা কি ঢিলা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে? যদি জায়েয না হয় তাহলে শুধু এভাবে ইস্তেঞ্জা করার পর আদায়কৃত নামাযের কী হুকুম হবে?

ইতিকাফরত অবস্থায় কি জানাযার নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২২৩১) : গত রোযায় প্রচণ্ড গরম পড়েছিল। অসহনীয় গরমের কারণে আমাদের পাড়ার মসজিদটিতে কেউ ইতিকাফ করতে চাচ্ছিল না। গরমে মুআযযিন সাহেব আগের থেকে অসুস্থ ছিলেন। তাই আমি একাই আল্লাহর উপর ভরসা করে ইতিকাফে বসে পড়ি। ইতিকাফে থাকা অবস্থায় পাড়ার তিন ভদ্রলোক বৈরী আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করে। ফলে যথাক্রমে ২৩, ২৪, ২৫ রমযানে মসজিদের পূর্ব পাশের উঠানে জানাযা পড়াই। কারণ আমাদের পাড়ার অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজ করে। ইদানীং সময়ে কিছু ছেলে স্কুলে যাওয়া-আসা করে। আমি জানতে চাচ্ছি যে, এ পরিস্থিতির মাঝেও কি জানাযা পড়ানোর কারণে উক্ত তিন দিনের ইতিকাফ ভেঙে গেছে? উল্লেখ্য, ২৫ রমযানে জানাযা পড়ানোর পর ইস্তিসকার নামাযও পড়ানো হয়। সংবাদ আসছিল, বিভিন্ন এলাকায় সালাতুল ইস্তিসকা পড়া হচ্ছে। তাই আমরা আগের থেকেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলাম যে, জানাযার পর ইস্তিসকার নামায অনুষ্ঠিত হবে।

কোনো ওয়ারিশের নামে জমি রেজিস্ট্রি করার পর মালিক মারা গেলে কি উক্ত জমি মীরাসী সম্পদ হিসাবে বণ্টন করা…

প্রশ্ন (১২২২৯) : আমার মামার দুই ছেলে। বড় ছেলে বিদেশে থাকে। ছোট ছেলে অনেক দিন থেকেই বাড়িতে মা-বাবার খেদমতে আছে। মামা তার ছোট ছেলের নামে কিছু জমি কেনেন এবং বিষয়টি তাকে জানান যে, আমি তোমার নামে কিছু জমি কিনেছি। পরিবারের অন্যান্যরাও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। কিন্তু জমিটা কোথায়- সেটা তাকে জানাননি। কিছুদিন পর তার ইন্তেকাল হয়। তার ইন্তেকালের পর বিদেশে অবস্থানরত বড় ছেলে এ জমিটিকেও মীরাসী সম্পদ হিসাবে ধরতে চায়। কিন্তু সরকারি ও অন্যান্য জরুরি কাগজ-পত্রে ছোট ছেলের নামেই জমিটি রেজিস্ট্রি করা। দেশীয় আইন অনুযায়ী এ জমির মালিক তো ছোট ছেলে। শরীয়তের দৃষ্টিতে এর মালিক কে? এটাকে কি মরহুম মামার মীরাসী সম্পদ হিসাবে গণ্য করা যাবে?

মাগরিবের আযানের পর ফরযের আগে কোনো নফল নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২২৮) : মুহতারামের নিকট আমার জানার বিষয় হল, মাগরিবের আযানের পরে ফরয নামাযের আগে নফল নামায পড়ার হুকুম কী? এবিষয়ে কোনো এক আলেমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, পড়া যাবে। কেননা বিভিন্ন সাহাবীরা পড়েছেন। অন্য একজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মাকরূহে তানযিহী-এর সাথে হবে; কেননা খুলাফায়ে আরবাআসহ উল্লেখযোগ্য কোনো সাহাবী পড়েননি। এ বিষয়ে শরয়ী সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

নামাযে ইশারা করে কিছু বললে কি নামায ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১২২২৭) : আমি ও আমার বন্ধু একদিন তার ইমামতিতে আছরের নামায পড়ছিলাম। সালাম ফেরানোর পর রাকাত নিয়ে তার সন্দেহ হয়। তাই সে আমাকে হাতের ইশারায় জিজ্ঞেস করে যে, নামায তিন রাকাত হয়েছে, না চার রাকাত? আমি হাত ও মাথা দিয়ে ইশারা করে বুঝাই যে তিন রাকাত হয়েছে। সে দাঁড়িয়ে আরেক রাকাত পড়ে সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করে। কিন্তু আমার সন্দেহ হয় যে, এভাবে ইশারা করার পর এ নামায সহিহ হয়েছে কি না? তাই আমি পুনরায় নামাযটি পড়ে নিই। এখন জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত নামায সহিহ হয়েছিল কি না? পুনরায় নামায পড়া কি আমার ঠিক হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কবরে মৃত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা লিখে রাখা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২২২৬) : বর্তমান কবরস্থানগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় যে, কবরের উপর মৃত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা সম্বলিত একটি ফলক লাগিয়ে দেয়া হয়। কিছুদিন আগে আমার চাচা ইন্তেকাল করেছেন। আত্মীয়স্বজন চাচ্ছেন যে, তার কবরেও নাম ইত্যাদি লিখে দেওয়া হোক, যাতে যিয়ারত করার সময় কবর চিনতে সুবিধা হয়। তাই আমরা মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, কবরের উপর মৃত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা সম্বলিত কোনো ফলক ইত্যাদি স্থাপন করা কি জায়েয আছে?

মহিলারা কি কবর যিয়ারত করতে যেতে পারবে?

প্রশ্ন (১২২২৫) : কিছুদিন আগে আমার চাচা ইন্তেকাল করেছেন। মাঝেমাঝেই আমরা তার কবর যিয়ারত করতে যাই। কয়েকদিন যাবৎ আমার চাচাতো বোন ও চাচার কয়েকজন পুত্রবধু চাচ্ছেন, তারাও চাচার কবর যিয়ারত করবেন। কিন্তু এলাকার কিছু লোকজন বলছেন যে, মহিলাদের জন্য নাকি কবর যিয়ারত করা ঠিক নয়। তাই এখন আমরা চাচ্ছি যে, উক্ত মহিলাদের জন্য কি চাচার কবর যিয়ারত করা জায়েয হবে?

ক্রয় প্রতিনিধি কি পণ্যের মূল্যের ডিসকাউন্ট গ্রহণ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২২২৪) : অনলাইনে কিছু ওয়েবসাইট থেকে ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। বিগত কয়েক বছর যাবৎ আমি একটি সাইট থেকে পণ্য ক্রয় করে থাকি। কিছুদিন আগে সাইটটি থেকে একটি মেসেজ আসে যে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে এক হাজার টাকা বা তার চেয়ে বেশি টাকার পণ্য কিনলে দশ পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট দেবে। এ সময়ে আমার এক বন্ধুর চার শ টাকা মূল্যের একটা পণ্যের প্রয়োজন হলে সে আমাকে তা কিনে দিতে বলে। আমি তাকে এ সাইট থেকে পণ্যটি কিনে দিই। দশ পার্সেন্ট ডিসকাউন্টের কারণে চার শ টাকার বদলে আমাকে তিন শ ষাট টাকা পরিশোধ করতে হয়। ডিসকাউন্টের বিষয়টি আমার বন্ধুর জানা ছিল না। এজন্য সে আমাকে চার শ টাকাই দেয়। আমিও তা নিয়ে নিই এবং খরচ করে ফেলি। জানার বিষয় হল, আমার এ কাজটি কি ঠিক হয়েছে? আমার জন্য অতিরিক্ত চল্লিশ টাকা নেওয়া কি বৈধ হয়েছে?

ভিক্ষুকদের সালামের উত্তর দেওয়া ক জরুরী?

প্রশ্ন (১২২২৩) : আমি একটি সরকারী হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার। প্রায় সময় হাসপাতালের গেইটে ভিক্ষুকেরা কিছুদূর পর পর বসা থাকে। তাদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করার সময় তারা পথচারীদেরকে একের পর এক সালাম দেয়। জানতে চাই, ভিক্ষুকদের এই সালামের উত্তর দেওয়া কি ওয়াজিব?

কুরবানীর পশুর চামড়া কি নিজে ব্যবহার করা জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১২২২২) : কিছুদিন আগে আমি আমার বড় খালামণির বাসায় গিয়েছিলাম। বাসায় যাওয়ার পর খালাতো ভাই বড় একটি চামড়া এনে তাতে বসতে বলল। আমি বললাম, এটা কিসের চামড়া? কোত্থেকে কিনেছ? সে বলল, এটা আমাদের গত কুরবানীর গরুর চামড়া। আমি বললাম, কুরবানীর চামড়া তো গরীবদের দিয়ে দিতে হয়। এটা তাদেরই হক। সে বলল, নিজরাও ব্যবহার করা যায়। হুজুরের কাছে কুরবানীর চামড়ার বিষয়টি বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি।

মাদরাসার এতিম ছাত্রদের পক্ষ থেকে উকিল হয়ে যাকাত গ্রহণের পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২২২১) : আমাদের মাদরাসায় লিল্লাহ বোডিং আছে। আমাদের ছাত্রদের থেকে মৌখিক স্বীকৃতি নেওয়া আছে যে, তারা তাদের পক্ষ হতে উস্তাযদেরকে যাকাত গ্রহণ করার জন্য প্রতিনিধি সাব্যস্ত করেছে। এমতাবস্থায় উস্তাদগণ তাদের পক্ষ হতে উকিল সাব্যস্ত হয়ে যাকাত গ্রহণ করতঃ টাকা হস্তগত করলে মালিকদের পক্ষ হতে যাকাত আদায় হবে কি না? অতঃপর উক্ত টাকা ছাত্রদেরকে মালিক বানানো ছাড়াই সেখান থেকে উসূলকারীগণ আমেল হিসাবে ২০% গ্রহণ করতে পারবে কি না? এব্যাপারে শরীয়তের সঠিক নির্দেশনা জানতে চাই। পাশাপাশি শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে আমেল হওয়ার সঠিক সূরাত বর্তমান সময়ে কী হতে পারে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাহরাম সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২২০) : হযরত আমাদের এলাকায় আজীমুদ্দিন তালুকদার নামে এক লোক আছে। সে দুটি বিবাহ করেছে। প্রথম বিবির নাম আমিরুন নেসা। তার ছেলের নাম ইসমাঈল তালুকদার। এই ইসমাঈলের বড় ছেলের নাম আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার। তার একজন মেয়ে আছে ‘মুক্তা’ নামে। আর এই আজিমুদ্দিনের অপর স্ত্রী আছে তার নাম মারিয়ম। তার ছেলের নাম ইবরাহীম তালুকদার। এই ইবরাহীম তালুকদারে সাথে ঐ মুক্তা বেগমের বিবাহ হয়েছে। এখন কথা হল, যার সাথে মুক্তার বিবাহ হয়েছে সে হল তার সৎ দাদা। অর্থাৎ মুক্তার আপন দাদা হল ইসমাঈল। আর ইসমাঈল ও ইবরাহীম হল সৎ ভাই। মা ভিন্ন বাপ এক। এখন সেই সৎ দাদা স্বীয় নাতনীকে বিবাহ করেছে। এখন প্রশ্ন হল, তাদের মধ্যকার বিবাহ বন্ধনের বিধান কী? জানালে উপকৃত হতাম।

বাড়ির কাজের লোক বাড়ির মালিকের অনুমতি ব্যতিত অন্য বাড়ির কাজ করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২২১৯) : আমি এক বাড়িতে পাহারাদারির কাজ করি। প্রতিদিন সকালে গেটের সামনে ঝাড়ু দিই। পাশের বিল্ডিংটি ছোট হওয়ায় সে বাড়ির মালিক কোনো পাহারাদার রাখেনি। তার বাড়ির সামনে নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণে ময়লা থাকে। একদিন তিনি আমাকে এ প্রস্তাব দিলেন, ‘তুমি যখন তোমাদের বাড়ির সামনে ঝাড়ু দেবে তখন আমারটাও দেবে। আমি তোমাকে প্রতি মাসে ৪০০ টাকা দিব।’ মালিককে না জানিয়ে আমি তার এই প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রতিদিন তার বাড়ির সামনে ঝাড়ু দিচ্ছি। এতে কোনো অসুবিধা আছে কি?

ইতিকাফ সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২১৮) : গত রোযায় আমি এলাকার মসজিদে ইতিকাফে বসেছিলাম। মসজিদের বাথরুম অনেক নোংরা হওয়ায় তা ব্যবহারের অযোগ্য ছিল। ফলে টয়লেটের জন্য বাসায় আসতে হত। একদিন ঘরে এসে জরুরত পূর্ণ করার পর বেগম সাহেবের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় লিপ্ত হই। চার পাঁচ মিনিট পর সে আমাকে ইতিকাফের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তৎক্ষণাৎ আমি মসজিদে চলে আসি। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, একান্ত আলাপচারিতা দ্বারা কি আমার ইতিকাফটি ভেঙে গেছে?

অনির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাউকে বাড়ি বিক্রি করার দায়িত্ব দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২১৭) : সিরাজগঞ্জ শহরে আমাদের একটি বাড়ি আছে। ঢাকা থেকে বাবার জন্য সেটার পরিপূর্ণ দেখভাল করা সম্ভব হয় না বিধায় তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বাড়িটি বিক্রি করতে চাচ্ছেন। কিন্তু দূর থেকে তেমন সুবিধা করতে পারছিলেন না। তাই আমার মেজ চাচাকে বাবা বলেছেন যে, আমার বাড়িটা ১৬ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিন। এর অতিরিক্ত যত টাকায় বিক্রি করতে পারবেন তা আপনার। চাচা এখন বাড়িটি বিক্রি করে দেয়ার জন্য বেশ তোড়জোড় শুরু করেছেন। আমরা জানতে চাচ্ছি যে, বাবার জন্য চাচার সাথে এভাবে বাড়ি বিক্রি করে দেয়ার চুক্তি করা বৈধ হয়েছে কি? না হলে সঠিক পদ্ধতি কী?

লেনদেন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২১৬) : কিছুদিন আগে আমি ওয়ালটনের একটি ফ্রিজ ক্রয় করি। তখন ওয়ালটনের একটি ছাড় চলছিল। (এখনও চলছে) এর নাম হল ক্যাশভাউচার। ফ্রিজ ক্রয়ের পর নিয়ম অনুযায়ী আমি দোকানে লাগানো ওয়ালটনের বারকোডের উপর মোবাইল ফোন স্ক্যান করে নাম দেওয়ার পর আমার ফোনে সাতশত টাকা চলে আসে। টিভি, ফ্রিজ, এসিসহ নির্দিষ্ট কিছু পন্যে ওয়ালটন ক্রেতাদের এ সুবিধা দিচ্ছে। তাদের লিফলেট অনুযায়ী এবং দোকানীদের কথা অনুযায়ী ৩০০ টাকা থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত ক্রেতারা এ সুবিধা পেয়ে থাকে। তবে এ টাকা ঐসব দোকান থেকে নগদ ওঠানো যায় না। বরং ওয়ালটনেরই অন্য কোনো পণ্য কিনলে ঐ পরিমাণ টাকা কম নেওয়া হয়। তাই আমিও ঐ সাতশত টাকার সাথে আরো কিছু টাকা দিয়ে একটি আয়রন ক্রয় করে ফেলি। মুহতারামের কাছে জানতে চাই, ক্রেতাদের জন্য ওয়ালটন ক্যাশভাউচারের নামে যা দিচ্ছে তা নেওয়া জায়েয হবে কি না? আর আমি যে ঐ টাকা দিয়ে আয়রণ ক্রয় করেছি তা জায়েয হবে কি না? দয়া করে সঠিক উত্তর জানিয়ে বাধিত করবেন।