তাওয়াফ শেষ করে দুই রাকাত নামায পড়ার হুকুম কী?
প্রশ্ন (১২৪৩৫) : তাওয়াফের শেষে যে দু’রাকাত নামায পড়তে হয়; এর কী হুকুম? কখনো যদি ভুলক্রমে এ নামায ছুটে যায় তাহলে কি এতে দম আবশ্যক হবে, নাকি শুধু কাযা করলেই চলবে?
প্রশ্ন (১২৪৩৫) : তাওয়াফের শেষে যে দু’রাকাত নামায পড়তে হয়; এর কী হুকুম? কখনো যদি ভুলক্রমে এ নামায ছুটে যায় তাহলে কি এতে দম আবশ্যক হবে, নাকি শুধু কাযা করলেই চলবে?
প্রশ্ন (১২৪৩৪) : আমার চাচা অনেক দিন ধরেই আমাদের এলাকায় জমির দালালী করেন। তিনি এবিষয়ে প্রসিদ্ধ হওয়ায় এলাকার কেউ জমি বিক্রি করতে চাইলে তাকে জানিয়ে রাখে। এমনিভাবে কেউ কিনতে চাইলে তাকে বলে রাখে যে, ভাই! এত দামের ভিতর একটি জমি কিনতে চাই। তখন তিনি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মাঝে সাক্ষাৎ ঘটিয়ে দেন এবং উভয়ের মাঝে মাধ্যম হিসাবে কাজ করেন। বিক্রিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়পক্ষ থেকেই কমিশন গ্রহণ করেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এক্ষেত্রে উভয় থেকে কমিশণ গ্রহণ করা কি বৈধ?
প্রশ্ন (১২৪৩৩) : আমাদের এলাকায় শীতের মৌসুমে খেজুর গাছওয়ালারা গাছিদের নিম্নোক্ত চুক্তিগুলো করে থাকে। শরীয়তের আলোকে সেগুলো বৈধ কি না জানিয়ে বাধিত করবেন। ১. গাছি পুরো মৌসুমে খেজুর গাছ কেটে নিজে রস নিয়ে নেবে। আর গাছের মালিকদেরকে নির্দিষ্ট পরিমাণে খেজুরের গুড় দেবে। যেমন, ২ বিলি বা ৩ বিলি। ২. এক পালায় গাছি রস নেবে। অন্য পালায় গাছের মালিক রস নেবে। ৩. যা রস হবে, তার অর্ধেক নেবে গাছি। আর অর্ধেক নেবে গাছের মালিক।
প্রশ্ন (১২৪৩২) : শুনেছি হালাল পশুর কিছু জিনিস খাওয়া যায় না। সেই জিনিসগুলো কয়টি ও কী কী?
প্রশ্ন (১২৪৩১) : আমার বাবা পরিবারের খাবারের জন্য গ্রামের পরিচিত একজনকে এই শর্তে বিশ হাজার টাকা দেন যে, এ বছর প্রতি চার মাস অন্তর চার মন করে অমুক জাতের চাল আমাদের বাসায় দিয়ে যাবে। মাস দেড়েক হল বাবা ইন্তিকাল করেছেন। জানার বিষয় হল, বাবার মৃত্যু পরবর্তী উক্ত চুক্তির হুকুম কী হবে? চুক্তিটি কি বহাল থাকবে না বাতিল হয়ে যাবে?
প্রশ্ন (১২৪৩০) : আমাদের এলাকায় ঈদগাহের জন্য একটি জায়গা ওয়াকফ করা হয়। পরবর্তীতে তার কিছু জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। জানার বিষয় হলো, সেই স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা ঠিক হয়েছে কি না? এবং সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও জুমার নামায আদায় করা সঠিক হবে কি না? যদি মসজিদ নির্মাণ এবং পাঁচ ওয়াক্ত ও জুমার নামায আদায় করা সঠিক না হয় তাহলে এখন করণীয় কী?
প্রশ্ন (১২৪২৯) : আমাদের এক বন্ধুর ‘রেডি ফ্ল্যাট’ বিক্রির ব্যবসা আছে। তিনি নিজে ধার্মিক এবং ধর্মীয় বিধি-নিষেধ মেনে চলতে সচেষ্ট। কিন্তু কখনো কখনো তাকে এমন ক্রেতার সম্মুখীনও হতে হয়, যার ব্যাপারে নিশ্চিত জানা থাকে যে, তার রোজগার হালাল নয়। যেমন, সে কোনো সুদী ব্যাংকে কর্মরত ইত্যাদি। জানা কথা, যে টাকা সে ফ্ল্যাটের মূল্য হিসাবে দেবে তা হারাম। এ অবস্থায় তার সঙ্গে লেনদেন বৈধ হবে কি? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
প্রশ্ন (১২৪২৮) : যশোর শহরে আমার একটি মুদি দোকান আছে। দোকান করার সময় একজনের সাথে এই মর্মে চুক্তি করি যে, সে দেড় লাখ টাকা দিয়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত আমার সাথে যৌথ কারবার করবে। পাঁচ বছর পর আর যৌথ লেনদেন থাকবে না। পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও ব্যবসায় উন্নতি দেখে সে অংশীদারিত্ব ছাড়তে সম্মত হচ্ছে না। সে বলছে, যৌথ কারবারে এরকম শর্তারোপ করা ঠিক নয়। মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, যৌথ কারবারে নির্দিষ্ট মেয়াদের শর্ত করা বৈধ কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৪২৭) : বাসায় জামাত করে নামায আদায়ের সময় অনেক ক্ষেত্রে আমার সঙ্গে শুধু আমার ভাই ও আমার বোন থাকে। অনেক সময় কেবল আমার স্ত্রী ও আমার ছোট বাচ্চা। তো এধরনের ক্ষেত্রে জামাতে নামায আদায়ের জন্য দাঁড়ানোর পদ্ধতি কী হবে? জানালে উপকৃত হব।
প্রশ্ন (১২৪২৬) : আমাদের সমাজে বিয়ের পূর্বে কিছু ব্যাপার ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে; যেমন- ১. বরপক্ষ যখন মেয়ে দেখতে যায় এবং কথা প্রসঙ্গে মেয়ের উচ্চতা সম্পর্কে জানতে চায় তখন বলা হয় যে, মেয়ের উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি। যদিও বাস্তবে মেয়ের উচ্চতা চার ফুট দশ ইঞ্চি। ২. অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শ্যামবর্ণের মেয়েদের বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করে ফর্সা হিসেবে বরপক্ষের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ৩. আবার ছেলের মাসিক বেতনের ব্যাপারে কথা উঠলে যা প্রকৃত বেতন তার থেকে অনেক বাড়িয়ে বলা হয়। হযরতের নিকট আমার জানার বিষয় হচ্ছে, উল্লিখিত বিষয়গুলো বিবাহের মত একটা পবিত্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধোঁকা বা প্রতারণার শামিল কি না এবং এই ধরনের ইস্যু নিয়ে বিয়ের পর সমস্যা দেখা দিলে কী করা উচিত?
প্রশ্ন (১২৪২৫) : একবার দূরে কোথাও যাচ্ছিলাম। রাতে গাড়িতে উঠেছি। ফজরের সময় দশ মিনিটের জন্য বিরতি দেওয়া হল। আমি এবং আমার পাশের সিটের সাথী একসাথে নামায আদায় করলাম। আমি তো অযু করেছি কিন্তু সে অযু করেনি। তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, আমি অযু করে উঠেছিলাম, আর বাসের সিটে বসে ঘুমালে অযু ভাঙে না। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আবেদন, এ বিষয়ে সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৪২৪) : গত রোযায় কোনো এক রাতে এশার নামাযের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শক্রমে মলদ্বারে ঔষুধ প্রয়োগ করি। পরে তারাবীহ পড়ানো শেষ হলে পায়জামায় হাত দিলে ভেজা ভেজা অনুভব হয়। জানার বিষয় হল, মলদ্বারের ভিতর ঔষধ প্রয়োগ করার পর তা যদি বের হয়ে যায়, তাহলে কি অযু ভেঙে যায়?
প্রশ্ন (১২৪২৩) : আমাদের বাসার পাশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। তাতে এক বাবুর্চি অপর আরেকজনের সহযোগিতায় সব মুরগি জবাই করে। কিন্তু সে প্রত্যেকটি মুরগি জবাই করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলেনি। শুরুতে কিছুক্ষণ বিসমিল্লাহ বলেছে, এরপর মাঝে মাঝে বলেছে। এমনটি দেখে আমি আপত্তি করলে সে বিষয়টি হালকাভাবে নেয় এবং উল্টা যুক্তি দিয়ে আমাকে বলে, ‘একজনই তো সব জবাই করছে, আর একজন সব জবাই করলে প্রতিবার ‘বিসমিল্লাহ’ না বললেও চলে।’ আমার প্রশ্ন হল, তার যুক্তিটি কি ঠিক, এক ব্যক্তি অনেক মুরগি জবাই করলে কি প্রত্যেক মুরগির জন্য বিসমিল্লাহ বলা আবশ্যক নয়, এতে কি কোনো ছাড় আছে? নতুবা যেসমস্ত মুরগি জবাই করার সময় বিসমিল্লাহ বলা হয়নি, তা খাওয়ার হুকুম কী? সঠিক বিষয়টি জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।
প্রশ্ন (১২৪২২) : আমি গত কয়েক বছর যাবৎ কুরবানী ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও কুরবানী করিনি। এখন বিগত কাযা কুরবানীগুলো আদায় করতে চাচ্ছি। হুজুরের কাছে আমার প্রশ্ন হল, আমি যদি প্রতি বছরের জন্য গরুর সাত ভাগের এক ভাগের যে মূল্য আসে, সেই মূল্য সদকা করি, তাহলে কি আমার কাযা কুরবানী আদায় হবে? নাকি প্রতি বছরের জন্য একটি ছাগলের মূল্য সদকা করতে হবে? উদাহরণ সরূপ, একটি গরুর দাম ৪২ হাজার টাকা। আর সাতটি ছাগলের দাম ৭০ হাজার টাকা। এখন আমি যদি ৭ বছরের জন্য ৪২ হাজার টাকা সদকা করি। তাহলে কুরবানী আদায় হবে কি না? নাকি ৭০ হাজার টাকা সদকা করতে হবে? দলীলসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।
প্রশ্ন (১২৪২১) : গত ঈদে আমি চাচার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আলোচনার একপর্যায়ে চাচা বললেন, তোমাকে একটা বিষয় বলে রাখছি। তা হল, আমার জানাযার নামায বড় ছেলে রাশেদ পড়াবে। সে যদি না পড়ায় তাহলে তুমি পড়াবে। উল্লেখ থাকে যে, আমার জানা মতে রাশেদ ভাইয়ের কুরআন পড়া সহিহ-শুদ্ধ নয় এবং সে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাযও পড়ে না। এমনকি তার দাড়িও নেই এবং সে দেওয়ানবাগীর মুরিদ ও তার আকীদার প্রচারক। এমতাবস্থায় আমার জানার বিষয় হল- ১. ইমাম হওয়ার জন্য কী কী গুণাগুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন? ২. সে জানাযার নামায পড়াতে পারবে কি না? ৩. তার ইমামতি যদি জায়েয না হয় তাহলে জানাযায় উপস্থিত হাফেজ আলেম ও সাধারণ দ্বীনদার শ্রেণীর করণীয় কী হবে? কুরআন-সুন্নাহর আলোকে দলীল-প্রমাণসহ দিকনির্দেশনাদানে জনাব মুফতী সাহেবের প্রতি বিনীত অনুরোধ রইল।
প্রশ্ন (১২৪২০) : আমি হুজুরের কাছে দুটি বিষয় সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি, ১. জুমার নামাযে কেউ যদি দ্বিতীয় রাকাতের রুকু না পায়; যেমন শেষ বৈঠকে শরীক হল, তবে তার করণীয় কী? সে কি ইমাম সাহেবের সঙ্গে নামাযে শরীক হয়ে যাবে, নাকি মসজিদের এক পাশে একা একা চার রাকাত যোহর পড়ে নেবে? ২. এমন ব্যক্তি যদি ইমামের নামাযে শরীক হয়, তবে সে ইমামের সালাম ফেরানোর পর কত রাকাত পড়বে; দুই রাকাত না চার রাকাত? আমি আগে একজন থেকে শুনেছিলাম, দ্বিতীয় রাকাতের রুকু না পেলে চার রাকাত পড়তে হয়। এখন শুনি দুই রাকাত পড়া নাকি নিয়ম। মাসআলাদুটির সঠিক সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
প্রশ্ন (১২৪১৯) : আমার মামা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। তার উপর হজ্ব ফরয। কিন্তু হজ্বে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। অন্যকে দিয়ে বদলী হজ্ব করাতে চান। মামার এক প্রতিবেশী সরকারি মুআল্লিম। তিনি বাংলাদেশ থেকে সরকারি খরচে মক্কা যান। হাজ্বীদের খেদমত করে এবং নিজেও হজ্ব করে। তিনি মামাকে বললেন, আমি আপনার বদলী হজ্ব করে দিব। পুরো খরচ দিতে হবে না। ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিলেই চলবে। কেননা আমার তো খরচ নেই। তাই আপনার থেকে কম নিব। এখন আমার মামা কি তাকে দিয়ে বদলী হজ্ব করাতে পারবে?
প্রশ্ন (১২৪১৮) : আমাদের অঞ্চলে বাচ্চা হওয়ার পর সেই বাচ্চা মেয়ে হোক কিংবা ছেলে হোক; বাচ্চার মায়ের বাড়ির পক্ষ থেকে রুপার এক ধরনের বিশেষ চুড়ি তাকে উপহার দেওয়া হয়। বাচ্চা নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাওয়া হলে তার হাতে সেগুলো পরিয়ে দেওয়া হয়। এধরনের চুড়ি বাচ্চাকে পরিধান করালে কোনো অসুবিধা আছে?
প্রশ্ন (১২৪১৭) : আমাদের মসজিদে কুরআন মাজীদের পুরাতন অনেক কপি আছে। যেগুলো এখন আর পড়ার উপযুক্ত থাকেনি। এগুলো ছাড়াও পড়ার মত আরো অনেক নতুন কুরআন শরীফ আছে। মসজিদ কমিটি চাচ্ছে, পুরাতন কপিগুলো সরিয়ে ফেলতে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা এগুলো কী করতে পারি? জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৪১৬) : আমরা চরাঞ্চলে বসবাস করি। এ অঞ্চলটি নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে কেউ মারা গেলে কখনো কখনো তার দাফনের বিষয়ে আমরা বেশ ঝামেলায় পড়ি। কবরস্থানের জায়গাটা তুলনামূলক উঁচু স্থানে হলেও মাটি খুঁড়তেই সেখান থেকে পানি উঠতে থাকে। ফলে লাশ রাখতেই কাফন নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ কাঠের কফিনে করে দাফন দেয়। এভাবে দাফন করতে কি কোনো অসুবিধা আছে?