প্রশ্নোত্তর

ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দেওয়া ঠিক যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৫৫) : একদিন মুয়াযযিন সাহেব ভুলবশত মাগরিবের ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দিয়ে ফেলেন। ওয়াক্ত হওয়ার পর আমার আব্বা তাকে পুনরায় আযান দিতে বলেন। তিনি বললেন, একবার তো আযান দেওয়া হয়েছে। আবার পুনরায় কেন আযান দেওয়া লাগবে? পূর্বের আযানই যথেষ্ট। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, তার কথা কি ঠিক? জানালে উপকৃত হব।

বন্য ছাগল-ভেড়া কিছু দিনের জন্য খামারে আটকে কুরবানী করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪৫৪) : আমি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। আমার জানার বিষয় হল, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বন-জঙ্গলে ও পাহাড়ী এলাকায় মালিকানাহীন অনেক বন্য ছাগল-ভেড়া থাকে। কুরবানীর কিছু আগে খামারীরা সে সমস্ত বন্য ছাগল-ভেড়া ধরে এনে কিছু দিন খামারে রাখে। এই ছাগল-ভেড়াগুলো সাধারণ ছাগল-ভেড়া থেকে আকারে একটু বড় হয়। এগুলো খামারীদের যেহেতু কিনতে হয় না তাই এগুলো তারা সস্তা দামে বিক্রি করে দেয়। জানতে চাই, এই বন্য ছাগল-ভেড়া দ্বারা কুরবানী করা কি সহিহ হবে?

সার্টিফিকেটে ভুল জন্ম তারিখ দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪৫৩) : দেশের আইন অনুযায়ী পাবলিক (সরকারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হলে তিনি অবসর গ্রহণ করবেন। এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেটে উল্লেখিত জন্ম তারিখ হতে বয়স হিসাব করা হয়। এক ব্যক্তি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। এসএসসি পরিক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করার সময় তার মামা (যিনি ঐ স্কুলের শিক্ষক ছিলেন) নিজের থেকেই তার একটা জন্ম তারিখ বসিয়ে দেন। সেই অনুযায়ী এসএসসি সার্টিফিকেটে তার জন্ম তারিখ উল্লেখ আছে। পরবর্তীতে ঐ ব্যক্তি তার মরহুম পিতার নোট বুকে তার জন্ম তারিখ লিখিত দেখেন। সেই অনুযায়ী এসএসসি সার্টিফিকেটে যদি তার সঠিক জন্ম তারিখ থাকত তবে তাকে ৩ বছর পূর্বে অবসরে যেতে হত। তিনি যদি ইচ্ছা করেন তবে তার সঠিক জন্ম তারিখ অনুযায়ী ৩ বছর পূর্বে অবসরে যেতে পারেন। এ বিভাগে শিক্ষক পদের সংখ্যা নির্দিষ্ট। তিনি অবসরে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় তার বিভাগে একজন নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে। অবসরে না যাওয়া পর্যন্ত ঐ পদে কোনো নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে না। এমতাবস্থায় এসএসসি সার্টিফিকেটে উল্লেখিত জন্ম তারিখ হিসাবে তার ৬৫ বছর পর্যন্ত চাকরি করা জায়েয হবে কি না?

নিজের উপর লানত করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪৫২) : আমার একটি বদঅভ্যাস আছে। আমি জানি তা বড় গুনাহের কাজ। কিন্তু ইচ্ছা-অনিচ্ছায় তা করে ফেলি। অনেক দিন ধরে চেষ্টা করছি, যেন তা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারি। বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রতিজ্ঞাই করেছি। একবার ঐ মন্দ কাজটি করার কারণে রাগে এ বলে প্রতিজ্ঞা করি যে, যদি সামনে কখনো এ কাজ করি তবে আমার উপর আল্লাহর গযব! আল্লাহর লানত! আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবের সঙ্গে এ কথা নিয়ে আলোচনা করলে তিনি বলেন, এমন কথা বললে তা কসম হয়। তাই তোমাকে এ কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে নতুবা কাফফারা আবশ্যক হবে। কিন্তু আমি কিছুদিন পরই তা করে ফেলি। এখন মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি যে, আসলেই কি এ কাজ করার কারণে আমার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে? সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

কসম ভঙ্গের কাফ্ফারা।

প্রশ্ন (১২৪৫১) : একবার আমি আমার স্ত্রীর রান্না আর খাব না বলে শপথ করেছিলাম। পরে এই শপথ ভঙ্গ হয়ে যায় এবং আমি তার হাতের রান্না খাই। এর কাফফারা আদায়ের জন্য আমি দরিদ্র দশ জনকে দাওয়াত করি। তারা এসে দুপুরে আমার বাসায় খানা খায়। খানার পর তাদেরকে পরের দিন দুপুরে আবার আসার জন্য বলে দিই। সে হিসেবে তারা পরের দিনও এসে খানা খায়। কিন্তু তাদের মধ্যে দুইজন এমন ছিল, যারা আগের দিন আসেনি। এখন গ্রামের এক আলেম বলছেন, কাফফারা আদায়ের জন্য প্রথম দিন যারা এসেছিল তাদেরকেই খাওয়াতে হবে। অন্য দুই জনকে খাওয়ালে কাফফারা আদায় হবে না। তাই হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে আসলেই কি প্রথম দশ জনকে খাওয়াতে হবে? নাকি যে কোনো দশজনকে খাওয়ালে হবে? যদি না হয় তাহলে এখন আমার করণীয় কী? এখন কি পুনরায় দশজনকে দু’বেলা খাওয়াতে হবে? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

স্ত্রীর মাকে বিবাহ করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৪৫০) : আমাদের গ্রামে একজন দরিদ্র বিধবা মহিলা থাকে। তার এক মেয়ে এক ছেলে। দুপুরে মেয়েটির বিবাহের আকদ সম্পন্ন হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইন্তিকাল করে। যেহেতু মেয়েটির সাথে লোকটির ঘর-সংসার হয়নি তাই কিছু দিন পর মৃত মেয়ের স্বামীর সঙ্গে বিধবা মহিলাটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আমাদের এলাকায় বিষয়টিকে সবাই বেশ খারাপ মনে করলেও কেউ কেউ তা শিথিলতার দৃষ্টিতে দেখছেন। এলাকায় এ নিয়ে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আমাদের আবেদন হল, এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে সবাইকে পেরেশানি মুক্ত করবেন।

আপন ভাইয়ের দুধ মাকে বিয়ে করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৪৯) : কিছু দিন আগে আমার স্ত্রী একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তিকাল করে। আমার ছোট দুটি সন্তান আছে। তাদের লালন-পালনের জন্য একজন বিধবা নারীর প্রয়োজন। এক বিধবা নারীর সঙ্গে আমার বিয়ের কথা চলছে, যে আমার ছোট ভাইকে দুধ পান করিয়েছিল। এলাকার কিছু লোক বলছে, এ মহিলা যেহেতু আমার ছোট ভাইয়ের দুধ মা, তাই এ দুধ সম্পর্কের সব বিধিনিষেধ আমার সাথেও কার্যকর হবে। অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্ন কথাও অনেকে বলেছে, যা আমার কাছে শক্তিশালী মনে হয়েছে। সার্বিকভাবে ঐ বিধবাকে পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও শুধু এই আপত্তির কারণে বিয়েটি আটকে আছে। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আসলেই কি মহিলাটি আমার ছোট ভাইয়ের দুধ মা হওয়ার কারণে তার সাথে আমারও দুধের সম্পর্ক হয়ে গেছে, ফলে তাকে বিয়ে করা আমার জন্য বৈধ নয়? এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে পেরেশানি থেকে মুক্ত করবেন।

নামাযে গলা খাঁকারি দেওয়ার হুকুম কি?

প্রশ্ন (১২৪৪৮) : ১. নামাযে গলা খাঁকারি দেওয়ার হুকুম কী? কেউ যদি ইচ্ছাকৃত দেয় তবে কী হুকুম? অনিচ্ছাকৃত দিলে কী হুকুম? কেউ যদি অভ্যাসের কারণে দেয়, (সে চেষ্টা করেও অভ্যাস ছাড়তে পারছে না) বা গলার সমস্যার কারণে দেয় তবে কী হবে? ২. কাশি দেওয়ার কী হুকুম? কোন অবস্থায় জায়েয, কোন অবস্থায় নাজায়েয? মাসআলাগুলোর সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

ইমামের পিছনে মুসল্লিরা কিভাবে দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২৪৪৭) : আমরা ভার্সিটিতে মাঝে মাঝে নিজেরা জামাত করি। একদিন নামাযের জন্য কাতার করে দাঁড়ানোর সময় এক সাথী বললেন, প্রথম কাতারে যারা আছি তাদের ইমামের পিছনেই দাঁড়াতে হবে এটা আবশ্যক না। ইমামের পাশে ডানে বামে দাঁড়ালেও চলবে। আরেক সাথী বললেন, না, এভাবে দাঁড়ালে হবে না। ইমামকে সামনে এগিয়েই দাঁড়াতে হবে। যাই হোক আমরা আর কথা না বাড়িয়ে প্রথমোক্ত সাথীর কথামতো ইমামের থেকে এক কদম সরে ডানে ও বামে তিনজন করে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করি। আর বাকি সাথীরা আমাদের পিছনে আরেক কাতারে। এখন জানার বিষয় হল, এইভাবে কাতার করে দাঁড়ালে কি নামায শুদ্ধ হবে? নাকি ইমামের একদম পিছনে কাতার করা বাধ্যতামূলক? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

কুরবানীর গরু ক্রয় করার পর তাতে কাউকে শরীক করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৪৬) : আমরা পাঁচ ভাই-বোন। কুরবানীর উদ্দেশ্যে আমরা একটি গরু ক্রয় করি। ক্রয় করার সময় আমাদের নিয়ত ছিল, আমরা নিজেরাই গরুটি কুরবানী করব। বাইরের কাউকে শরীক করব না। আমাদের প্রতিবেশী এক ভাই আমাদের এই গরুতে শরীক হতে চাচ্ছে। আমরা কি তাকে শরীক করতে পারব? আমাদের এই গরুর এক ভাগ আমরা মরহুম আব্বাজানের নামে দিব। প্রশ্ন হল, এই ভাগের গোশত কি পুরোটা গরীব-মিসকীনদের সদকা করে দিতে হবে? নাকি আমরা নিজেরাও খেতে পারব? এই এক ভাগ কি আমরা পাঁচ জন মিলে দিতে পারব? নাকি একজনের দেওয়া আবশ্যক? বিষয়গুলো জানালে কৃতজ্ঞ হব।

তেলাপোকা বা এজাতীয় পোকা পানিতে পড়ে মারা গেলে কি উক্ত পানি নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪৪৫) : পানির সমস্যার কারণে আমাদের বাসায় বিভিন্ন পাত্রে পানি ভরে রাখা হয়। কখনো কখনো পাত্রে এক বা একাধিক তেলাপোকা মরা পাওয়া যায়। আমার মা সবসময় এ পানি ফেলে সাবান দিয়ে পাত্রটি ধুয়ে নেন। প্রশ্ন হল, তেলাপোকা মরার কারণে পাত্রের পানির হুকুম কী? তা কি অযু-গোসল কিংবা কাপড় ধোয়া ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করার সুযোগ আছে? সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাম ফিরালে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১২৪৪৪) : আমি এক নামাযে মাসবুক হই। ভুলবশত ইমামের সাথে আমিও সালাম ফিরাই। এরপর পাশের লোকদের দাঁড়াতে দেখে আমার মাসবুক হওয়ার কথা স্মরণ হয়। তখন আমি দাঁড়িয়ে বাকি রাকাত পড়ে সাহু সিজদা করি। আমার এ নামায কি সহিহ হয়েছে? ইমাম সাহেব বলেছেন সাহু সিজদা না দিলেও নামায হয়ে যেত, তাঁর কথা কি ঠিক?

ঋণদাতা বন্দকী বস্তু থেকে উপকৃত হতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৪৩) : আমার এক প্রতিবেশী আমার কাছ থেকে বড় অংকের টাকা ঋণস্বরূপ গ্রহণ করেন। ঋণের জামানত স্বরূপ তার একটি গরু আমার কাছে বন্ধক রাখেন। গরুটি আমার কাছে হস্তান্তরের সময় তিনি বললেন, এর যা দুধ হয় আপনি নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। তিনি এবং আমি দুজনেই আমরা শরীয়ত মেনে চলার চেষ্টা করি। আমি যতদূর জানি। ঋণ দিয়ে তার বিপরীতে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা গ্রহণ করলে সেটা সুদ হয়ে যায়। তো আপনার কাছে আমার প্রশ্ন, এই যে বন্ধকী গরুটির দুধ তিনি আমাকে খাওয়ার কথা বললেন এটা সুদের পর্যায়ে চলে যায় কি না? নাকি এতে কোনো অসুবিধা নেই? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

মূল্য দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৪২) : আমি ইংল্যান্ড প্রবাসী। প্রত্যেক রমযানে সদাকাতুল ফিতরের টাকা দেশে দিয়ে থাকি। আমাদের এখানের কিছু ভাই বলেন, টাকা দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায় হবে না। সরাসরি গম বা খেজুর ইত্যাদি দ্রব্যাদি দিয়ে দিতে হবে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এ দ্রব্যগুলোর মূল্য দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায় করলে কি তা আদায় হবে না? এ বিষয়ে মিডিয়াতে বিভিন্ন বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। বিস্তারিত দলীল-প্রমাণসহ জানালে উপকৃত হতাম।

কুকুর বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪৪১) : আমাদের বাড়ি শহরের এক প্রান্তে। আশপাশে তেমন বাড়ি-ঘর নেই। রাতে আমাদের বাড়ি পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমার পিতা কয়েকটি দামি কুকুর সংগ্রহ করেছিলেন। আমার পিতার ইন্তিকালের পর আমি এই কুকুরগুলোর মালিক হয়েছি। কুকুরগুলো পালতে বেশ অর্থ ব্যয় হয়। আর বাড়ি পাহারায় সবগুলোর প্রয়োজনও হয় না। তাই আমি চাচ্ছি, একটি বা দুটি কুকুর রেখে বাকিগুলো বিক্রি করে দিতে। আমার জন্য কি কুকুরগুলো বিক্রি করা বৈধ হবে? আমি শুনেছি, কুকুর বিক্রি করতে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

রমযানের রোযার কাযা আদায় করার জন্য সুবহে সাদিকের আগে নিয়ত করা কি আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৪৪০) : এবার রমযানে অসুস্থতার কারণে আমার একটি রোযা ভাঙা পড়ে। শাওয়াল মাসে একদিন ঐ রোযার কাযা করার উদ্দেশ্যে একটি রোযা রাখতে মনস্থ করি। কিন্তু সুবহে সাদিকের আগে ঘুম না ভাঙায় আযান হওয়ার পরপরই রোযার নিয়ত করে নিই। এদিকে বেলা বাড়ার আগেই পুনরায় অসুস্থতা বোধ করতে থাকি এবং ওষুধ সেবনের প্রয়োজনে রোযাটা ভেঙ্গে ফেলি। এখন আমি আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, রমযানের ঐ রোযা কাযা করতে গিয়ে ওযরবশত ভেঙ্গে ফেলার কারণে আমাকে কি অতিরিক্ত আরেকটি কাযা রোযা রাখতে হবে?

বিতির নামাযে ইমাম সাহেব ভুলে দুআ কুনুত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৪৩৯) : বিতিরের নামাযে ইমাম সাহেব ভুলে দুআ কুনূত না পড়েই রুকুতে চলে যান। মুক্তাদীগণ লোকমা দিলে রুকু বাদ দিয়ে আবার দাঁড়িয়ে যান। এরপর দুআ কুনূত পড়ে যথারীতি বাকি নামায শেষ করেন। এতে এক রাকাতে দুই রুকু হয়ে যায়। উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে? এক আলেম বলেছেন, নামায সহিহ হয়নি। সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

নাবালেগ এতিম বাচ্চার ভরণপোষণের জন্য ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৩৮) : কিছুদিন আগে আমার স্বামী ইন্তেকাল করেন। আমার দুইজন নাবালেগ সন্তান আছে। ভাইদের উপর আস্থা না থাকায় তিনি আমাকেই তার দুই সন্তানের সকল দায়-দায়িত্ব অর্পণ করেন। কৃষি জমি ছাড়া আয়ের আর কোনো উৎস না থাকায় বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে খুবই কষ্টে জীবন যাপন করছি। তাই এখন ভাবছি যে, আমি ও আমার সন্তানরা মীরাসসূত্রে যে জমি পেয়েছি তার অর্ধেক বিক্রি করে নিজেদের প্রয়োজন পূরণ করব। অতএব হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, সন্তানদের উক্ত জমি বিক্রি করার শরঈ বিধান কী? মাসআলাটির সমাধান জানালে খুবই উপকৃত হব।

অগ্রিম টাকা নিয়ে ক্রয়-বিক্রয় জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪৩৭) : আমাদের এলাকায় সাধারণত শবে বরাত, শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের দিন গরু জবাই হয়ে থাকে। যারা জবাই করেন তারা পেশাদার কসাই নয়; বরং অন্যান্য পেশার হয়ে থাকেন। তারা গরু কেনার পর এলাকার লোকজন থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে নেয়। আবার কারো থেকে শুধু গোস্ত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নেয়। সে সময় তারা শুধু এতটুকু বলে যে, ৭০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। ৮০ ভাগ করব। প্রতি ভাগ এক হাজার টাকা করে। এরপর নির্ধারিত দিনে গরু জবাই করে এবং পূর্বের ওয়াদা অনুযায়ী ভাগ করে দেয়। হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এভাবে অগ্রিম টাকা নিয়ে গোশত বিক্রি করা বৈধ হবে কি না?

জমি চাষ করা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৪৩৬) : আমার বাড়ি যশোর। আমি থাকি কাশিপুর নামক এক গ্রামে। অন্য এক এলাকায় আমার এক বিঘা জমি আছে। এলাকাটি আমাদের এলাকা থেকে বেশ দূরে। আসা-যাওয়া করা একটু কষ্টকর। তাই সেখানকার এক ব্যক্তির সাথে চুক্তি করেছি যে, আমাদের এলাকায় তার একটি জমি আমি চাষাবাদ করব। এর বিনিময়ে সে তার এলাকায় আমার জমিটি চাষ করবে। এই চুক্তির উপর এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, এভাবে চুক্তি করা শরীয়তসম্মত কি না? শরীয়তসম্মত না হলে সঠিক পদ্ধতি কী? আর বিগত এক বছরের বিধান কী হবে? বিষয়গুলো জানিয়ে কৃতার্থ করবেন।