প্রশ্নোত্তর

অস্থায়ী নামায ঘর গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫১৫) : আমাদের বাজারের মসজিদের সাথে লাগানো একটি পাটের গুদাম ছিল। গুদামের মালিক এই এলাকা থেকে তার ব্যবসা সরিয়ে নেয়ার সময় গুদামটি মসজিদের কল্যাণে ওয়াকফ করে যায়। এরপর মসজিদ কমিটি সেটিকে এক গম ব্যবসায়ীর নিকট গোডাউন হিসেবে ভাড়া দেয়। জুমার দিন মুসল্লি বেশি হওয়া শুরু হলে মসজিদ কমিটি ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে গুদামটির দেয়াল ভেঙ্গে মসজিদের সাথে মিলিয়ে দেয়। এক থেকে দেড় বছর সেখানেও নামায হয়। এখন মসজিদের মূল জায়গাতেই তিন তলা ভবন করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হচ্ছে, এতদিন নামায পড়ার পর এখন ঐ জায়গাটি গুদাম বা দোকান হিসাবে ভাড়া দেওয়া যাবে কি না?

আমানতের জিনিস কি বন্ধক রাখা যায়?

প্রশ্ন (১২৫১৪) : আমাদের পাশের গ্রামের এক লোকের টাকার প্রয়োজন হলে সে আমার কাছ থেকে তিন মাসের জন্য ১৫ হাজার টাকা নেয় এবং তার সাথে থাকা সাইকেলটি বন্ধক রেখে যায়। আমার এক পরিচিত ব্যক্তি সাইকেলটি দেখে বলে, এটা তো আমার সাইকেল, তুমি কোথায় পেলে? আমি বিষয়টি বললে সে বলে, আমি তাকে সাইকেলটি কয়েকদিন ব্যবহারের জন্য দিয়েছিলাম। তুমি সাইকেলটি আমাকে দিয়ে দাও। ঋণের গ্যারান্টি শেষ হয়ে যাবে বলে তাকে সাইকেলটি দেইনি। জানার বিষয় হল, এভাবে সাইকেলটি বন্ধক রাখা ঠিক হয়েছে কি না? তার মালিক আমার থেকে সাইকেলটি নিয়ে যেতে পারবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মসজিদের অপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করে দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫১৩) : আমাদের এলাকায় একটি প্রাচীন মসজিদ আছে। মসজিদে অনেক আগের ইসলামী ফাউন্ডেশনের দেওয়া দুটি আলমারি আছে, এগুলো প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও কিছু পুরাতন পাখাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র আছে। মসজিদ বানানোর পর এসকল জিনিসপত্র নতুন করে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তখন বর্তমান জিনিসপত্রের কোনো প্রয়োজন থাকবে না। রেখে দিয়ে কোনো লাভও হবে না। উক্ত জিনিসগুলো ওয়াকফকৃত হওয়ায় তা কী করা হবে- এ নিয়ে দ্বিমত হচ্ছে। কেউ বলছে, এগুলো বিক্রি করা যাবে না। অনেকে এগুলো বিক্রি করে তার অর্থ মসজিদের কাজে ব্যবহার করতে বলছেন। জানার বিষয় হল, এই জিনিসগুলো রেখে দেওয়ার মাঝে কোনো লাভ নেই, তাই এগুলো বিক্রি করে মসজিদের কাজে ব্যয় করার শরয়ী বিধান কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

রাস্তার পাশে মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি আইন অনুযায়ী রাস্তার জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫১২) : আজ থেকে ১৫ বছর আগে আমরা আমাদের এলাকার অভ্যন্তরীণ সাধারণ সড়কের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করি। মসজিদটি নির্মাণকালে আশেপাশে বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট কম থাকায় রাস্তা প্রশস্ত ছিল। তাই আমরা রাস্তার জন্য দেড় ফিট জায়গা- যা সরকারী আইন অনুযায়ী খালি রাখার দরকার ছিল- তা খালি না রেখেই নিজেদের পূর্ণ জায়গার উপর মসজিদটি নির্মাণ করি। পরবর্তীতে যারা রাস্তার পাশে বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট বানিয়েছে, তারাও রাস্তার জন্য দেড় ফিট জায়গা না ছেড়ে ওগুলো বানিয়েছে। ফলে চলাচলের পথ সংকীর্ণ হয়ে মানুষের যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে পৌরসভার পক্ষ থেকে সবার কাছে রাস্তার জন্য জায়গা ছাড়ার নোটিশ এসেছে। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় কি মসজিদের সেই অংশ থেকে রাস্তার জন্য দেড় ফিট জায়গা বের করার অবকাশ আছে, যে অংশটুকু সরকারি আইন অনুযায়ী খালি রাখার দরকার ছিল?

পুরুষের জন্য রুপার আংটি ছাড়া অন্য কোনো আংটি ব্যবহার করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫১১) : মুহতারামের নিকট আমার জানার বিষয় হল, পুরুষের জন্য রুপার আংটি ছাড়া অন্য কোনো আংটি যেমন ইমিটেশন, তামা ইত্যাদি ব্যবহার বৈধ কি না?

নামায শেষে সালাম ফিরানোর সুন্নতসম্মত পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১২৫১০) : আমি একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে নামাযের ইমামতি করি। কিছুদিন আগে একটি ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত সাময়িকীতে দেখলাম ‘সুন্নাহসম্মত নামায’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন এক নিবন্ধকার। সেখানে বলা হয়েছে, নামাযের শেষে যে সালাম ফেরানো হয় তার একটি সুন্নত হল, সালামের শব্দগুলো ‘মদ’ না করে (দীর্ঘক্ষণ না টেনে) সংক্ষেপে স্বাভাবিকভাবে উচ্চারণ করা। সালাম বিষয়ে এ কথাটি এর আগে কোথাও পড়িনি বা শুনিনি। তাই আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, এ নিবন্ধে যা লেখা হয়েছে তা কি ঠিক? নামাযের শেষে সালামের শব্দ উচ্চারণের সুন্নাহসম্মত তরীকা কি এটাই? জানালে অনেক উপকৃত হব।

স্ত্রীকে তালাক হওয়ার পরেও কি সে স্বামীর বাড়িতে থাকতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৫০৯) : কয়েকদিন আগে আমার প্রবাসী পিতা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার আম্মাকে তিন তালাক দিয়ে দেন। বিষয়টি একজনকে জানালে তিনি দ্রুত আম্মাকে নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দিতে বলেন। একথা শুনে তিনি বিমূর্ষ হয়ে পড়েছেন। এই বৃদ্ধ বয়সে নানাবাড়িতে কীভাবে যাবেন? এ করুণ পরিস্থিতিতে জনাবের কাছে জানার বিষয় হল, ১. এখন কি বাস্তবেই আম্মাকে নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে? আমরা চাচ্ছি, তিনি আব্বুর স্ত্রী হিসাবে না থাকলেও আমাদের দেখাশুনা ও পরিবারের নিয়ন্ত্রণের জন্য আব্বুর সংসারে থাকুন। এতে শরয়ী কোনো সমস্যা আছে কি না? এক্ষেত্রে আব্বুর টাকা দিয়ে তিনি নিজের ব্যয় নির্বাহ করতে পারবেন কি না? ২. আম্মার তালাকের ইদ্দতেও মৃত্যু পরবর্তী ইদ্দতের ন্যায় সাজসজ্জা ত্যাগ ইত্যাদি বিভিন্ন বিধান কার্যকর হবে কি না?

জীবিত অবস্থায় মাদ্রাসা কিংবা মসজিদের জন্য জমি ওয়াকফ করলে এর হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১২৫০৮) : আমার চাচা এক মাস আগে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পূর্বে সুস্থ অবস্থায় তিনি আমাদের গ্রামের মাদরাসার জন্য আট শতাংশের একটি জমি ওয়াকফ করেন। তিনি মৌখিকভাবে বলেছিলেন, ‘আমি আমার এই আট শতাংশ জমি আমাদের গ্রামের মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করলাম। তবে যতদিন আমি বেঁচে আছি ততদিন আমি এই জমির ফল-ফসল ভোগ করব। আমার মৃত্যুর পরে মাদরাসা এটি নিয়ে নিবে।’ চাচার ইন্তেকালের পর চাচাত ভাইয়েরা এক হুযুরকে মাসআলা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন যে, আট শতাংশ জমি যদি মৃতের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ বা তার চেয়ে কম হয় তাহলে সেটা পুরোটাই মাদরাসার হবে। আর যদি এক তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ মাদরাসার জন্য ওয়াকফ হবে। বকিটা ওয়ারিশদের সম্পত্তি বলে বিবেচিত হবে। এখন চাচাত ভাইয়েরা জানতে চায় যে, ঐ কথা কি ঠিক? অনুগ্রহপূর্বক সঠিক মাসআলা জানানোর অনুরোধ রইল।

হিজড়াদের কাফন-দাফনের বিধান।

প্রশ্ন (১২৫০৭) : মুসলিম হিজড়া মারা গেলে তাদের গোসল দেয়া, কাফন পরানো, দাফন করা ও জানাযার নামায পড়া বিষয়ে শরীয়তের বিধান কী?

ইহরাম অবস্থায় যয়তুন তেল ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০৬) : আমার জিন্নাতের সমস্যা আছে। প্রতি রাতে আমি এদের আক্রমণের শিকার হই এবং দিনভর এর প্রভাব থাকে। আমাদের পরিচিত বহু হক্কানী আলেমের ইজাযতপ্রাপ্ত জনৈক আলেমের কাছে বিষয়টি আমি তুলে ধরলে তিনি আমাকে যয়তুন তেল দম করে তা প্রতিদিন পুরো শরীরে মালিশ করতে বলেন। আল্লাহর রহমতে আমি তা ব্যবহার করে এখন নিরাপদে আছি। তবে কোনো দিন যদি তেল মালিশ করতে ভুলে যাই তাহলে পূর্বের মন্দ অবস্থা প্রত্যক্ষ করি। ইতিমধ্যে আমি হজ্বে যাওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। মুহতারামের নিকট আমার জানার বিষয় হল, ইহরাম অবস্থায় আমি কি এই তেল ব্যবহার করতে পারব? যদি করি তাহলে কি কোনো কিছু আবশ্যক হবে?

হায়েয অবস্থায় তাওয়াফে যিয়ারত করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০৫) : আমার ফুফু এবার হজ্বে যান। ইহরাম অবস্থায় ৯ যিলহজ্ব তার হায়েয শুরু হয়। তার ফিরতি ফ্লাইট প্রথম দিকে হওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে এই অবস্থায় ১২ তারিখ তাওয়াফে যিয়ারত ও ১৩ তারিখ তাওয়াফে বিদা করে দেশে চলে আসেন। এখন তার করণীয় কী? তার কি তাওয়াফে যিয়ারত আদায় হয়েছে?

‘তুই আমার মার মত’ স্ত্রীকে এই কথা বললে কি তালাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫০৪) : আমার বন্ধুর সাথে তার স্ত্রীর ঝগড়া হচ্ছিল। এক পর্যায়ে সে তার স্ত্রীকে থামানোর জন্য বলে, ‘তুই আমার মার মত’ একথা বলার সময় তার চিন্তায় তালাক বা ভিন্ন কিছুর নিয়ত ছিল না। কেবল ঝগড়া থামানোর জন্যই সে এটা বলেছিল। এখন সে একথা বলার জন্য অনুতপ্ত। সে জানতে চেয়েছে, এতে কি তাদের বিবাহে কোনো সমস্যা হয়েছে? হয়ে থাকলে তাদের করণীয় কী? তাদের কি দ্বিতীয়বার বিবাহ করতে হবে?

মান্নতের টাকা মসজিদে দান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০৩) : আমি এক ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগের পর লস হওয়ার আশংকা দেখলে মান্নত করি যে, ‘যদি লাভ হয় তাহলে লাভের ১০% গরীবদের সদকা করব’। আল্লাহর রহমতে উক্ত ব্যবসায় ভালো লাভ হয়। এখন আমাদের মসজিদে নির্মাণ কাজ চলছে। আমি কি উক্ত টাকা এখানে দান করতে পারব?

অসুস্থতার কারণে তাওয়াফ না করে দেশে চলে আসলে কি কোনো জরিমানা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৫০২) : আমি গত বছর স্বপরিবারে হজ্বে যাই। আমাদের সাথে আমার দশ বছর বয়সী ছোট ছেলেটিও ছিল। সে হজ্বের কাজগুলো করতে সক্ষম ছিল। সে আমাদের সাথে হজ্বের প্রথম দুই দিনের কাজগুলো যথাযথভাবে করার পর আরাফায় অসুস্থ হয়ে যায়। এরপরও আমরা তাকে নিয়ে দশই যিলহজ্বের কাজগুলো করেছি। এদিন তার অসুস্থতা এত বেড়ে যায় যে, তার পক্ষে বা তাকে নিয়ে তাওয়াফ করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। আমরা দেশের প্রথম ফিরতি ফ্লাইটে চলে আসি। আসার আগেও সে তাওয়াফ করতে পারেনি। জানার বিষয় হল, তাওয়াফ না করে চলে আসার কারণে তার উপর কিংবা আমাদের উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে কি না? সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

লটারির টাকা কি হালাল হবে?

প্রশ্ন (১২৫০১) : আমি সাধারণ চাকরিজীবী। সাংসারিক ব্যয়ের পর যে অতিরিক্ত টাকা হাতে থাকে তা আমি হজ্বের উদ্দেশ্যে একটু একটু করে জমাতে থাকি। এভাবে হজ্ব কাফেলায় জমা দেওয়ার মতো অর্থ জোগাড় হয়ে যায়। এদিকে আমার একটি লটারি ড্র হওয়ায় আরো কিছু টাকা হাতে আসে। আগের জমানো অর্থগুলো হজ্ব কাফেলায় দিয়ে লটারি থেকে পাওয়া অর্থ নিজের সঙ্গে রাখি এবং গোটা সফরে ব্যক্তিগত বেশ কিছু খরচ তা দিয়ে নির্বাহ করি। হজ্ব শেষে মক্কায় আমার এক প্রবাসী বন্ধুর সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপকালে তিনি আমাকে জানালেন, লটারির টাকা হারাম! আর হারাম টাকা দিয়ে হজ্ব করলে হজ্ব হয় না। এতে আমি ভীষণ চিন্তিত হলাম। লটারির ঐ টাকা যে কেন সঙ্গে নিয়েছিলাম সেজন্য অনুতপ্ত হলাম। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার হজ্ব কি একেবারেই হয়নি? নাকি হলেও অসম্পূর্ণ হয়েছে? সেক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? আমার খটকার মূল কারণ, আমার হজ্ব সফরের মৌলিক খরচ, যা কিনা আমি হজ্ব কাফেলায় জমা দিয়েছি তা তো নিঃসন্দেহে হালাল। প্রাসঙ্গিক খরচ সন্দেহযুক্ত হওয়াতে কি হজ্বের উপরে তার প্রভাব পড়বে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

নারীরা মাহরাম ছাড়া হজ্বে যেতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০০) : আমি শুনেছি যে, মহিলারা মাহরাম ব্যতিরেকে আটচল্লিশ মাইল বা এর চেয়ে বেশি দূরত্বের সফর একাকী করতে পারে না। যে পরিমাণ অর্থ থাকলে হজ্ব ফরয হয় তা আমার আছে। কিন্তু মাহরামকে সঙ্গে নেয়ার মতো পথ খরচ ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের মতো সামর্থ্য আমার নেই। এদিকে আমার পড়শী এক দম্পতি এ বছরই হজ্বে যাচ্ছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রতিবেশী মহিলার সাথে আমি কি হজ্বের সফরে যেতে পারি? কারণ আমার না হলেও তার তো মাহরাম আছে এবং এতে করে মাহরামের যে প্রয়োজনীয়তা, তথা নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত হওয়া- তা তো হয়েই যাচ্ছে। আর যদি এভাবেও আমার যাওয়ার অনুমতি না থাকে শরীয়তে তাহলে ফরয হজ্ব আদায়ে আমার করণীয় কী?

তালাকের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর মহর ও ভরণপোষণের ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশনা কী?

প্রশ্ন (১২৪৯৯) : আমার বিয়ে হয়েছে প্রায় তিন বছর হয়েছে। প্রথম দেড় বছর মোটমুটি ভালো কাটলেও এরপরই সমস্যা শুরু হয়। সমস্যার সূচনা আমার স্ত্রীর ফেইসবুক চালানো নিয়ে। সে বিভিন্ন মানুষের সাথে মেসেজ আদান-প্রদান করত। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কথা কাটাকাটিও হয়। সে বারবার বলত, আমি ফেইসবুক চালালে তোমার সমস্যা কোথায়? এক মাস আগে এ নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে বলে ফেলি, ফেইসবুক চালালে আমার ঘরে আর থাকতে পারবে না। পরের দিন আমি অফিসে যাওয়ার পর সে তার বাবার বাসায় চলে যায়। আমার ও আমার পরিবারের লোকদের কয়েকবার চেষ্টার পরও সে আসেনি। পরে আমি মুরব্বীদের সাথে পরামর্শ করে তাকে তালাক দিয়ে দিই। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যেহেতু তার দোষেই আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে তাই মহর, তালাক পরবর্তী ইদ্দতের ভরণ-পোষণ এগুলো দিতে কি আমি বাধ্য? তাছাড়া আমার স্ত্রী পারিবারিকভাবে বেশ সচ্ছল।

স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর আবার ইদ্দতের মাঝে বিবাহ করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৯৮) : আমার বন্ধু তার স্ত্রীকে এক তালাকে বায়েন দিয়েছে। তারপর ইদ্দত শেষ হওয়ার আগেই তারা পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এখন জানার বিষয় হলো, ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে তাদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ঠিক হয়েছে কি না?

কোনো স্থানে কুকুর শুয়ে থাকলে কি উক্ত স্থান নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪৯৭) : আমাদের মসজিদের বাহিরের সিঁড়িতে প্রায়সময় কুকুর শুয়ে থাকে। মুআযযিন সাহেব খুব কষ্ট করে পানি ঢেলে সিঁড়ি পবিত্র করেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কুকুর শোয়ার দ্বারা কি সিঁড়ি নাপাক হয়ে যায়?

জোঁক শরীর থেকে রক্ত খেলে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪৯৬) : আমাদের বাসা থেকে মসজিদে যেতে একটা ঝোপঝাড়ের পথ পাড়ি দিতে হয়। কিছুদিন আগে সেই পথ ধরে মসজিদে যাই। মসজিদের কাছাকাছি গিয়ে হঠাৎ পায়ে একটি জোঁক দেখতে পাই, যা রক্তে পূর্ণ ছিল। জামাত দাঁড়িয়ে যাওয়ায় জোঁকটি ফেলে জামাতে শরীক হই। যেহেতু অযু অবস্থায় ছিলাম, তাই নতুন করে অযু করিনি। এখন হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামাযটি কি শুদ্ধ হয়েছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।