ওয়াকফকৃত জমি কি ওয়ারিশী সম্পত্তিতে ফিরে আসতে পারে
প্রশ্ন (৮৩২) : এক লোক তার এক খণ্ড জমি একটি মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো কারণে মাদরাসাটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। ওয়াকফকারীর মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে সেই জায়গার মুতাওয়াল্লী নিযুক্ত হন। তিনি সদাকায়ে জারিয়ার উদ্দেশ্যে উক্ত জমিটি তার অন্যান্য ভাইদের না জানিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করে দেন। কিন্তু বর্তমানে তার ভাইগণ সেই সম্পত্তিতে তাদের ওয়ারিশ দাবি করছে এবং এলাকার কতিপয় ব্যক্তি উক্ত জমিটি ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে। এখন আমাদের প্রশ্ন হলো- এক. মুতাওয়াল্লীর ইন্তেকালের পর মাদ্রাসা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণে ওয়াকফ বাতিল হয়ে উক্ত জমি ওয়ারিশী সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে কি? এবং তাদের এই দাবি বৈধ হবে কি? দুই. অন্যান্য ওয়ারিশকে অবগত না করে বর্তমান মুতাওয়াল্লী কর্তৃক পার্শ্ববর্তী মাদরাসায় ওয়াকফ করাটা বৈধ হয়েছে কি? তিন. যদি এলাকাবাসী এই জমি ফিরিয়ে নিতে চায় তাহলে তাদের চাওয়া যুক্তিযুক্ত হবে কি?
প্রশ্ন
এক লোক তার এক খণ্ড জমি একটি মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো কারণে মাদরাসাটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। ওয়াকফকারীর মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে সেই জায়গার মুতাওয়াল্লী নিযুক্ত হন। তিনি সদাকায়ে জারিয়ার উদ্দেশ্যে উক্ত জমিটি তার অন্যান্য ভাইদের না জানিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করে দেন। কিন্তু বর্তমানে তার ভাইগণ সেই সম্পত্তিতে তাদের ওয়ারিশ দাবি করছে এবং এলাকার কতিপয় ব্যক্তি উক্ত জমিটি ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে। এখন আমাদের প্রশ্ন হলো-
এক. মুতাওয়াল্লীর ইন্তেকালের পর মাদ্রাসা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণে ওয়াকফ বাতিল হয়ে উক্ত জমি ওয়ারিশী সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে কি? এবং তাদের এই দাবি বৈধ হবে কি?
দুই. অন্যান্য ওয়ারিশকে অবগত না করে বর্তমান মুতাওয়াল্লী কর্তৃক পার্শ্ববর্তী মাদরাসায় ওয়াকফ করাটা বৈধ হয়েছে কি?
তিন. যদি এলাকাবাসী এই জমি ফিরিয়ে নিতে চায় তাহলে তাদের চাওয়া যুক্তিযুক্ত হবে কি?
উত্তর
بسم الله الرحمٰن الرحيم. حامدا و مصليا و مسلما
এক. না। উক্ত জমি ওয়ারিশী সম্পত্তিতে পরিণত হবে না এবং তাতে ওয়ারিশদের দাবিও বৈধ নয়।
দুই. হ্যাঁ, দ্বিতীয় মুতাওয়াল্লি হিসেবে ওয়াকফকারীর ছেলের জন্য উক্ত জমিটি পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসার নামে ওয়াকফ করাটা বৈধ হয়েছে।
তিন. এলাকাবাসী উক্ত জমিটি ফিরিয়ে নিতে পারবে না এবং তাদের এ দাবি করা ঠিক নয়। বরং তা কেয়ামত পর্যন্ত মাদ্রাসার নামেই থাকবে।
হেদায়া ২/৬২৫; ফাতাওয়া শামী ৪/৩৩৮
আল্লাহ তা‘আলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।
و الله تعالى أعلم بالصواب
وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله وسلم
উত্তর দিচ্ছেন:
ড. মুফতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী
সূত্র: http://www.drkhalilurrahman.com/3824/article-details.html
← পূর্ববর্তী
ব্যাংকের সুদ কী করবে
পরবর্তী →