হজ্জ ও উমরাহ

হজ্বে সেলাইকৃত জামা পরিধান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২১৫) : আমি পবিত্র হজ্ব পালন করেছি। ইহরাম অবস্থায় সতরের সতর্কতার জন্য আন্ডারপ্যান্ট পরি। তামাত্তু হজ্বের উমরা ও হজ্ব উভয়টি আদায়কালে আমি এটি পরিধান করে ছিলাম। পরবর্তীতে আলেমদের কাছে শুনেছি যে, ইহরাম অবস্থায় এগুলো পরা নিষেধ। এখন আমার কি করণীয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।

হজ্বে চুল কাটার নিয়ম।

প্রশ্ন (১২২১০) : হজ্বের মৌসুমে দেখা যায়, কয়েকজন বোরকা পরিহিতা মহিলা কেচি নিয়ে দাড়িয়ে থাকে। কারো চুল ছোট করার (কছর করা) প্রয়োজন হলে তারা অল্প কিছু চুল কেটে দেয়। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, চুল কাটার সর্বনিম্ন পরিমাণ কতটুকু? পুরো মাথা থেকে কাটতে হবে, নাকি অল্প কিছু চুল কাটলেও চলবে? এক্ষেত্রে নারী পুরুষ উভয়ের জন্য উত্তম তরিকা কী? বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানালে উপকৃত হতাম।

হজ্ব বা উমরায় অল্প চুল কাটার দ্বারা কি হালাল হওয়া যায়?

প্রশ্ন (১২১৮০) : পাঁচ বছর আগে আব্বুর সাথে ওমরা করার তৌফিক হয়। সেটা ছিল আমাদের প্রথম ওমরা। আমরা যখন তাওয়াফ ও সায়ী শেষ করে ইহরাম থেকে বের হওয়ার জন্য চুল কাটবো। তখন একটা বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝে সংশয় দেখা দেয়। বিষয়টি হল, আমরা দুজনই তো ইহরাম অবস্থায় আছি। আর শুনেছি যে, এক মুহরিম আরেক মুহরিমের চুল কাটলে দম দিতে হয়। এজন্য আব্বু মারওয়াতে এক ব্যক্তিকে, যে আগেই হালাল হয়ে গিয়েছিল অনুরোধ করলে সে কাঁচি দ্বারা আমাদের উভয়ের অল্প কিছু চুল কেটে দেয়। পরে আমরা হোটেলে এসে পূর্ণ মাথার চুল কাটি। প্রশ্ন হল, আমাদের এভাবে হালাল হওয়া সহিহ হয়েছে কি না? অল্প চুল কাটার দ্বারাও কি হালাল হওয়া যায়?

শাওয়াল মাসে মক্কায় অবস্থান করলে কি হজ্ব ফরয হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২১৭৬) : এক রমযানে আমি উমরার সফর করি। শাওয়ালের দশ তারিখ দেশে ফিরি। তখন অনেক পরিচিতজনই আমাকে বলেছে যে, আমার উপর নাকি হজ্ব ফরয হয়ে গেছে। কেননা হজের মাসে উমরাহ করলে নাকি হজ্ব ফরয হয়ে যায়। কারো কারো বক্তব্য হল, কাবা দেখলে বা যে কোনো সময়ই ওমরা করলে হজ্ব ফরয হয়ে যায়। তাদের এ কথাগুলো সঠিক কি না? আমি একজন আলেমকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, কিতাবাদীতে আছে যে, হজ্বের মৌসুমে মক্কায় অবস্থান করলে হজ্ব ফরজ হয়ে যায়। এখানে কোন বক্তব্যটি সঠিক?

বদলি হজ্ব করার পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২১৬৬) : আমার ফুফুর উপর হজ্ব ফরয। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তার হজ্ব করার শারীরিক সক্ষমতা নেই। তিনি অন্য কাউকে দিয়ে তার হজ্বটি করাতে চাচ্ছেন এবং এর জন্য আমাকে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু আমি নিজের ফরয হজ্ব আদায় করলেও কখনো অন্যের বদলি হজ্ব করিনি। তাই হযরতের কাছে আবেদন, বদলি হজ্বের পদ্ধতিটা সংক্ষেপে একটু বলবেন। এক্ষেত্রে কী কী বিষয়গুলো বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে?

মান্নতের নিয়তে হজ্ব আদায় করলে কি ফরয হজ্ব আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২১৫৮) : আমার মামা অনেক দিন যাবৎ মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে জেলখানায় আটক ছিলেন। তখন তিনি মান্নত করেন যে, যদি আল্লাহ তাকে জেলখানা থেকে মুক্তি দান করেন তাহলে তিনি হজ্ব করবেন। আল্লাহর মেহেরবানীতে কিছুদিন আগে তিনি মুক্তি পেয়েছেন এবং মান্নত পূর্ণ করার জন্য আগামী বছর হজ্ব করার ইচ্ছা করেছেন। এর আগে কখনো তিনি হজ্ব করেননি। কিন্তু আগে থেকেই তার উপর হজ্ব ফরয ছিল। জানার বিষয় হল, এই হজ্বের মাধ্যমে কি তার ফরয হজ্ব আদায় হবে, নাকি ফরয হজ্ব আদায়ের জন্য পৃথকভাবে আরেকটি হজ্ব করতে হবে?

মিকাত থেকে ইহরাম করা কি জরুরী?

প্রশ্ন (১২১৩৪) : এক ব্যক্তি বিমানে করে নিজ দেশ থেকে উমরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। তার ইচ্ছা ছিল যে, বিমানে ইহরাম করে নেবেন। কিন্তু যখন ইহরাম করার সময় এল তখন তার স্মরণ হল যে, তিনি তো ইহরামের কাপড় বাড়িতে ভুলে রেখে গেছেন। তাই তিনি ইহরাম ছাড়াই জিদ্দা পৌঁছে তার এলাকার একজন আলেমের সাথে যোগাযোগ করেন। ঐ আলেম তাকে বলেন যে, কাছের কোনো মীকাতে গিয়ে ইহরাম করে আসতে হবে। এবং জরিমানা স্বরূপ একটি পশু জবাই করতে হবে। কিন্তু তিনি এসব কিছু না করে জিদ্দায় ইহরাম করে ফেলেন। এবং এভাবেই উমরা শেষ করেন। প্রশ্ন হল, এসব ক্ষেত্রে জিদ্দায় ইহরাম করার দ্বারা কি উমরা সহিহ হয়ে যায়, নাকি ইহরামের জন্য মীকাতের দিকে যাওয়া জরুরি? যদি মীকাতের দিকে যাওয়া আবশ্যক হয় তাহলে কোন মীকাতের দিকে যাবে? ইহরাম ছাড়া যে মীকাত অতিক্রম করেছে, সেই মীকাতে যেতে হবে, না অন্য কোনো মীকাতে গিয়ে ইহরাম করলেও হবে?

সৌদি প্রবাসীকে দিয়ে বদলি হজ্ব করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৩৩) : আমার নানার উপর হজ্ব ফরয ছিল। হজ্বে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। এরই মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। হজ্বের টাকা-পয়সাও চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়ে যায়। মৃত্যুর সময় তিনি বদলি-হজ্ব করানোর অসীয়ত করে যান। কিন্তু মৃত্যুর পর তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ ৫০ হাজার টাকার বেশি নয়। এ দিয়ে হজ্ব করানো অসম্ভব। আমাদের এক আত্মীয় সৌদিতে থাকেন। তিনি উক্ত টাকায় বদলি হজ্ব করতে রাজি হয়েছেন। জানতে চাই উক্ত সৌদি প্রবাসীকে দিয়ে হজ্ব করানো যাবে কি না?

সুস্থ ব্যক্তি কি নিজের পক্ষ থেকে নফল হজ্বের বদলি হজ্ব করাতে পারবে?

প্রশ্ন (১২১০৭) : আমি একটি বাড়িতে কাজ করি। বাড়ির মালিত অনেক সম্পদশালী। তিনি নিজে কয়েকবার হজ্ব করেছেন। কয়েক বছর যাবৎ তিনি তার পরিচিত মানুষকে তার পক্ষ থেকে নফল বদলি হজ্বে পাঠান। আলহামদু লিল্লাহ, এবছর হজ্বে যাওয়ার জন্য তিনি আমার নাম প্রস্তাব করেছেন। আমার ওপর হজ্ব ফরয নয়। কিন্তু আমার একটি খটকা আছে, আমি একটি মাসআলা শুনেছি, নিজে হজ্ব করতে একেবারে অক্ষম হয়ে গেলেই নাকি বদলি হজ্ব করানো যায়? তিনি সুস্থ সবল মানুষ, তাঁর জন্য কি বদলি হজ্ব করানো জায়েয হবে; যদিও তা নফলই হোক না কেন? জানিয়ে বাধিত করবেন।

হুইল চেয়ারে বসে সাঈ করলে কি দম ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১২১০৬) : কিছুদিন আগে আমি উমরাহ আদায় করি। তাওয়াফ শেষে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। স্বাভাবিক সুস্থ আছি। কিন্তু ক্লান্তির কারণে তাওয়াফের পর সাঈ করার সময় হুইল চেয়ারে বসে সাঈ সম্পন্ন করি। দেশে আসার পর একজন আলেমের নিকট একথা বললে তিনি বলেন, আমার ওপর নাকি একারণে দম ওয়াজিব হয়েছে। হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আসলেই কি আমার ওপর দম ওয়াজিব হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

নাপাক কাপড়ে তাওয়াফ করলে কি তাওয়াফ আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২১০২) : আমি উমরায় এসেছি। সাথে আমার দুই বছরের বাচ্চা আছে। আমি তাকে কোলে নিয়ে তাওয়াফ করার সময় সে পেশাব করে দেয়। ঐ অবস্থায়ই আমি তাওয়াফ শেষ করি। জানার বিষয় হল, নাপাক কাপড়ে আমার এই তাওয়াফ কি আদায় হয়েছে? এবং এক্ষেত্রে কোনো জরিমানা আসবে কি?

উমরার ইহরাম বাঁধার পর অসুস্থতার কারণে উমরায় যেতে না পারলে হালাল হওয়ার উপায় কী?

প্রশ্ন (১২০৬৮) : কিছুদিন আগে আমার মামা ইহরাম করে উমরার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। এয়ারপোর্টে গিয়ে গাড়ি থেকে নামার পরপরই একটি বাইকের চাকা আমার বড় মামার পায়ের পাতার উপর উঠে যায়। এতে তাঁর পায়ের পাতার হাড় ভেঙ্গে যায়। আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। ডাক্তার আমার মামাকে এক মাস বেডরেস্টে থাকতে বলেন। এখন মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি, উমরায় ইহরাম বাঁধার পর অসুস্থতা বা অন্য কোনো ওজরের কারণে উমরায় না যেতে পারলে ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার উপায় কী? এব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

হজ্বের কুরবানী করতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২০৩৪) : আমি কিরান হজ্ব করেছিলাম। কিরান হজ্বের কুরবানী দেওয়ার নিয়ত ছিল বিধায় ঈদের আগে তিনটি রোযা রাখিনি। কিন্তু যথাসময়ে টাকা ব্যবস্থা করতে না পারায় হজ্বের কুরবানী করা সম্ভব হয় নি। তখন হজ্বের কুরবানী না করে হালাল হয়ে যাই। এরপর হজ্বের বাকি আমল সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসি। এখন আমার জানার বিষয় হল, উক্ত ক্ষেত্রে বাড়িতে আসার পর উক্ত কুরবানীর বিকল্প দশটি রোযা রাখা আমার জন্য যথেষ্ট হবে, নাকি হজ্বের কুরাবানীই করতে হবে?

হায়েয চলে আসার কারণে তাওয়াফে বিদা করতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২০৩৩) : আলহামদুলিল্লাহ আমি আমার স্বামীর সাথে হজ্বে যাই। হজ্বের অধিকাংশ কাজ পূ্র্ণ করার পর ১২ জিলহজ্ব আমার হায়েয শুরু হয়ে যায়। এবং ১৮ জিলহজ্ব আমরা মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি। উল্লেখ্য, ১৮ জিলহজ্ব পর্যন্ত আমার হায়েয চলতে থাকে। তাই আমি তাওয়াফে বিদা না করেই রওয়ানা হয়ে যাই। আমি জানতে চাচ্ছি, তাওয়াফে বিদা না করে মদীনায় চলে যাওয়া কি ঠিক হয়েছে? এবং এর জন্য কি কোনো দম আবশ্যক হবে?

ঋতুস্রাব চলা অবস্থায় সায়ী করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২০৩২) : এবার হজ্বের সফরে তাওয়াফে যিয়ারত করার পর সায়ী শুরু করার আগেই আমার ঋতুস্রাব শুরু হয়। তখন আমি এ অবস্থাতেই সায়ী করি। আমি জানতে চাচ্ছি, ঋতুস্রাব চলা অবস্থায় সায়ী করা আমার জন্য সহিহ হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।

যারা ঘন ঘন মক্কা মুকাররামায় আসা-যাওয়া করে তারা কি ইহরাম বেঁধে প্রবেশ করবে?

প্রশ্ন (১২০২১) : আমার মামা বাসের ড্রাইভার। তিনি সৌদিআরবে মক্কা থেকে মদীনায় বাস চালান। এ কারণে তাকে একদিন পর পর মক্কায় আসতে হয়। আমাদের সকলেরই জানা আছে যে, মীকাতের বাইরে থেকে কেউ সরাসরি মক্কায় প্রবেশ করলে তাকে এহরাম বেঁধে প্রবেশ করতে হয়। তাই এখন তিনি কী করবেন? প্রতিবার কি ইহরাম বেঁধেই মক্কায় প্রবেশ করবেন?

বদলী হজ্ব শেষে অবশিষ্ট টাকা কি খরচ করা যাবে?

প্রশ্ন (১২০১৪) : আমার এক প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে আমি বদলি হজ্ব করি। হজ্বের খরচ বাবদ আমাকে যা দেওয়া হয়েছিল হজ্ব শেষে তা থেকে কিছু টাকা থেকে গেছে। আমি কি এই অবশিষ্ট টাকা নিজের জন্য খরচ করতে পারব?

ইহরাম অবস্থায় কি সুগন্ধিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১২০০৮) : এবার আমি হজ্বে যাই। কিরান হ্জ্ব করায় প্রায় ১৫ দিনের মত ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। তখন আমি ‍সুগন্ধিযুক্ত বিরিয়ানী ও বিভিন্ন ধরনের খাবার খাই। আমি জানতে চাচ্ছি, ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে কি আমার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে?

মুযদালিফায় যাওয়ার পথে মাগরিব এশা একসাথে পড়ে ফেললে পুনরায় পড়তে হবে কি?

প্রশ্ন (১১৯৯১) : কেউ যদি মুযদালিফায় যাওয়ার পথে রাস্তায় মাগরিব এশা একসাথে পড়ে নেয় এবং ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার আগেই মুযদালিফায় পৌঁছায় তাহলে উক্ত দুই নামায কি পুনরায় পড়তে হবে?

হায়েযের কারণে বিদায়ী তাওয়াফ না করলে দম আসবে কি?

প্রশ্ন (১১৯৯০) : জনৈক নারীর বিদায়ী তাওয়াফ করার আগেই হায়েয চলে আসে। সে আর বিদায়ী তাওয়াফ করতে পারেনি। দেশে চলে আসতে হয়েছে। জানতে চাচ্ছি, তার উপর কি কোনো দম আসবে?