হজ্জ ও উমরাহ

ইহরাম অবস্থায় মুখ ঢেকে ঘুমালে কি কোনো জরিমানা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৫৩০) : ইহরাম অবস্থায় আমি ৮ তারিখ রাতে এশার নামাযের পর চাদর গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। এই অবস্থায় যেহেতু মাথা ও মুখ ঢাকা যায় না, তাই আমি বুক পর্যন্ত চাদর গায়ে দিয়েছিলাম। ফযরের আগে ঘুম থেকে ওঠার সময় খেয়াল করলাম, ঘুমের ভিতরে অজান্তে পূর্ব অভ্যাস অনুযায়ী আমি চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেছি। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? এরকম অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে কি কাফফারা দিতে হয়?

তাওয়াফের সময় উচ্চস্বরে দুআ-দরূদ পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৫২২) : আল্লাহ তাআলার রহমতে গত বছর হজ্বে গিয়েছিলাম। আগামীতেও যাওয়ার ইচ্ছা আছে। তো হজ্বে গিয়ে দেখলাম, অনেক মানুষ তাওয়াফের সময় জোরে জোরে বিভিন্ন দুআ-দরূদ পড়ে। এতে অন্যের তাওয়াফে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। একবার তো তাওয়াফের সংখ্যাই ভুলে গিয়েছিলাম। পাশে এক আলেমের কাছ থেকে মাসআলা জেনে নিয়ে আমল করেছি। এ সময় আরো কিছু লোককে দেখলাম সারি বেঁধে তাওয়াফ করছে। তাদের মধ্যে একজন ছোট মাইকে দুআ পড়ছে আর অন্যরা তার অনুসরণ করেছে। এখন আমার জানার বিষয় হল, তাওয়াফের সময় এভাবে উচ্চস্বরে দুআ-দরূদ পড়ার বিধান কী? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

ইহরাম অবস্থায় যয়তুন তেল ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০৬) : আমার জিন্নাতের সমস্যা আছে। প্রতি রাতে আমি এদের আক্রমণের শিকার হই এবং দিনভর এর প্রভাব থাকে। আমাদের পরিচিত বহু হক্কানী আলেমের ইজাযতপ্রাপ্ত জনৈক আলেমের কাছে বিষয়টি আমি তুলে ধরলে তিনি আমাকে যয়তুন তেল দম করে তা প্রতিদিন পুরো শরীরে মালিশ করতে বলেন। আল্লাহর রহমতে আমি তা ব্যবহার করে এখন নিরাপদে আছি। তবে কোনো দিন যদি তেল মালিশ করতে ভুলে যাই তাহলে পূর্বের মন্দ অবস্থা প্রত্যক্ষ করি। ইতিমধ্যে আমি হজ্বে যাওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। মুহতারামের নিকট আমার জানার বিষয় হল, ইহরাম অবস্থায় আমি কি এই তেল ব্যবহার করতে পারব? যদি করি তাহলে কি কোনো কিছু আবশ্যক হবে?

হায়েয অবস্থায় তাওয়াফে যিয়ারত করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০৫) : আমার ফুফু এবার হজ্বে যান। ইহরাম অবস্থায় ৯ যিলহজ্ব তার হায়েয শুরু হয়। তার ফিরতি ফ্লাইট প্রথম দিকে হওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে এই অবস্থায় ১২ তারিখ তাওয়াফে যিয়ারত ও ১৩ তারিখ তাওয়াফে বিদা করে দেশে চলে আসেন। এখন তার করণীয় কী? তার কি তাওয়াফে যিয়ারত আদায় হয়েছে?

অসুস্থতার কারণে তাওয়াফ না করে দেশে চলে আসলে কি কোনো জরিমানা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৫০২) : আমি গত বছর স্বপরিবারে হজ্বে যাই। আমাদের সাথে আমার দশ বছর বয়সী ছোট ছেলেটিও ছিল। সে হজ্বের কাজগুলো করতে সক্ষম ছিল। সে আমাদের সাথে হজ্বের প্রথম দুই দিনের কাজগুলো যথাযথভাবে করার পর আরাফায় অসুস্থ হয়ে যায়। এরপরও আমরা তাকে নিয়ে দশই যিলহজ্বের কাজগুলো করেছি। এদিন তার অসুস্থতা এত বেড়ে যায় যে, তার পক্ষে বা তাকে নিয়ে তাওয়াফ করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। আমরা দেশের প্রথম ফিরতি ফ্লাইটে চলে আসি। আসার আগেও সে তাওয়াফ করতে পারেনি। জানার বিষয় হল, তাওয়াফ না করে চলে আসার কারণে তার উপর কিংবা আমাদের উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে কি না? সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

নারীরা মাহরাম ছাড়া হজ্বে যেতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০০) : আমি শুনেছি যে, মহিলারা মাহরাম ব্যতিরেকে আটচল্লিশ মাইল বা এর চেয়ে বেশি দূরত্বের সফর একাকী করতে পারে না। যে পরিমাণ অর্থ থাকলে হজ্ব ফরয হয় তা আমার আছে। কিন্তু মাহরামকে সঙ্গে নেয়ার মতো পথ খরচ ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের মতো সামর্থ্য আমার নেই। এদিকে আমার পড়শী এক দম্পতি এ বছরই হজ্বে যাচ্ছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রতিবেশী মহিলার সাথে আমি কি হজ্বের সফরে যেতে পারি? কারণ আমার না হলেও তার তো মাহরাম আছে এবং এতে করে মাহরামের যে প্রয়োজনীয়তা, তথা নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত হওয়া- তা তো হয়েই যাচ্ছে। আর যদি এভাবেও আমার যাওয়ার অনুমতি না থাকে শরীয়তে তাহলে ফরয হজ্ব আদায়ে আমার করণীয় কী?

ইহরাম অবস্থায় লুঙ্গি পরিধান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৬১) : আমরা জানি, ইহরাম অবস্থায় সেলাইযুক্ত কাপড় পরা জায়েয নয়। প্রশ্ন হল, লুঙ্গির ক্ষেত্রেও কি একই হুকুম? সেলাই ছাড়া লুঙ্গি পরলে অনেক সময় সতর খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এক্ষেত্রে কী করণীয়? বিস্তারিত জানানোর অনুরোধ রইল।

কংকর নিক্ষেপের সময় কখন থেকে শুরু হয়?

প্রশ্ন (১২৪৫৯) : আমার ভগ্নিপতি গত বছর হজ্বে গিয়েছিলেন। হজ্বে যাওয়ার আগে দেশেই আমি হজ্বের বিভিন্ন বিষয়ে তাকে দিকনিদের্শনা দিয়েছিলাম। যেন হজ্বের হুকুম-আহকাম পালনে কোনো ধরনের ত্রুটি না হয়। ১২ তারিখে তাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করলাম, কোথায় আছেন? তিনি বললেন, এই তো কেবলমাত্র কংকর মেরে মক্কায় আসলাম। আমি বললাম, সূর্য ঢলার আগেই কংকর মেরেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। এখানকার অনেকেই বলেছে ১১ ও ১২ তারিখে সূর্য ঢলার আগেও কংকর নিক্ষেপ করা যায়। আমি বললাম, আপনি পুনরায় মিনায় গিয়ে কংকর মেরে আসেন। ফলে তিনি আবার মিনায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করেন। এখন হুজুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, যারা বলে, ১১ ও ১২ তারিখে সূর্য ঢলার আগেও কংকর মারা যাবে। তাদের কথা শুদ্ধ কি না? বিষয়টি নির্ভরযোগ্য দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

কংকর নিক্ষেপ, কুরবানী ও হলক করার আগে তাওয়াফ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৫৮) : আমি আমার মাকে নিয়ে গত বছর হজ্বে যাই। মক্কায় পৌঁছে প্রথমে উমরা করি। এরপর নির্দিষ্ট সময়ে পুনরায় ইহরাম বেঁধে হজ্বের কাজগুলো করতে থাকি। দশম তারিখে তাওয়াফের সময় প্রচন্ড ভিড়ের আশংকা করে কংকর নিক্ষেপ না করে সরাসরি মক্কায় চলে যাই এবং তাওয়াফ করে নেই। তারপর ঐ দিনের বাকি আমলগুলো যথানিয়মে আদায় করি। জানার বিষয় হল, তাওয়াফ কি কংকর নিক্ষেপ, কুরবানী ও হলকের পরই করতে হবে? কংকর নিক্ষেপ করার আগে তাওয়াফ করা যাবে কি? যদি তাওয়াফ করা না যায় তাহলে আমরা যে তাওয়াফ করেছি তার কারণে কোনো জরিমানা আদায় করতে হবে কি না? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

তাওয়াফ শেষ করে দুই রাকাত নামায পড়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২৪৩৫) : তাওয়াফের শেষে যে দু’রাকাত নামায পড়তে হয়; এর কী হুকুম? কখনো যদি ভুলক্রমে এ নামায ছুটে যায় তাহলে কি এতে দম আবশ্যক হবে, নাকি শুধু কাযা করলেই চলবে?

এজেন্সির মুআল্লিমকে দিয়ে বদলী হজ্ব করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪১৯) : আমার মামা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। তার উপর হজ্ব ফরয। কিন্তু হজ্বে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। অন্যকে দিয়ে বদলী হজ্ব করাতে চান। মামার এক প্রতিবেশী সরকারি মুআল্লিম। তিনি বাংলাদেশ থেকে সরকারি খরচে মক্কা যান। হাজ্বীদের খেদমত করে এবং নিজেও হজ্ব করে। তিনি মামাকে বললেন, আমি আপনার বদলী হজ্ব করে দিব। পুরো খরচ দিতে হবে না। ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিলেই চলবে। কেননা আমার তো খরচ নেই। তাই আপনার থেকে কম নিব। এখন আমার মামা কি তাকে দিয়ে বদলী হজ্ব করাতে পারবে?

নাপাক কাপড়ে তাওয়াফ করলে কি তাওয়াফ শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন (১২৩৭০) : ওমরা করার সময় আমার কোলে আমার আট মাস বয়সী বাচ্চাও ছিল। যদিও ডায়াপার পরিয়ে রেখেছিলাম, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরে থাকার কারণে একসময় লক্ষ করি, বাচ্চার পেশাব লেগে আমার জামার বেশ খানিকটা জায়গা ভিজে উঠেছে। বুঝতে পারি, ডায়াপার অতিক্রম করে এ নাপাকি আমার কাপড়ে লেগেছে। এখন এ নাপাকসহ তাওয়াফ করাতে আমার তাওয়াফ শুদ্ধ হয়েছে কি? নামাযের মতো তাওয়াফেও কি কাপড়-চোপড় পাক থাকা জরুরি? জানালে উপকৃত হব।

হাঁটতে অক্ষম ব্যক্তি কি হুইল চেয়ারে বসে তাওয়াফ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৩৩৬) : আমার পিতা বার্ধক্যজনিত কারণে হাঁটতে সক্ষম নন। মৃত্যুর পূর্বে তার শেষ ইচ্ছা তিনি হজ্ব করবেন। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, ১. হুইল চেয়ারে তাকে তাওয়াফ করালে তাঁর তাওয়াফ কি আদায় হবে? এবং এর কারণে কোনো দম বা সদকা আবশ্যক হবে কি? ২. আমি যখন তাকে হুইল চেয়ারে তাওয়াফ করাব তখন এর দ্বারা কি আমার তাওয়াফ আদায় হবে, নাকি আমাকে পুনরায় পৃথক তাওয়াফ করতে হবে?

রমল না করলে কি দম ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১২৩০৭) : হজ্বের একটি প্রশিক্ষণে হুজুর থেকে জেনেছি যে, যেই তাওয়াফের পর সাঈ করা হয় সেই তাওয়াফে রমল করতে হয়। কিন্তু আমি তাওয়াফে যিয়ারতের সময় প্রথম চক্কর এবং দ্বিতীয় চক্করের কিছু অংশে রমল করতে ভুলে গিয়েছিলাম। তারপর স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে দ্বিতীয় চক্করের বাকি অংশে এবং তৃতীয় চক্করে রমল করেছি। জানার বিষয় হল, প্রথম চক্কর এবং দ্বিতীয় চক্করের কিছু অংশে ভুলে রমল না করার কারণে কি আমার উপর দম বা সদকা ওয়াজিব হয়েছে?

বদলি হজ্ব করার পর বেঁচে যাওয়া টাকার বিধান কি?

প্রশ্ন (১২২৮৫) : আমি মসজিদের ইমাম। এক মুসল্লি তার বাবার বদলি হজ্বের জন্য আমাকে নির্বাচন করেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, স্বাভাবিকভাবে হজ্ব করতে এখন কত খরচ হয়? আমি একজন ট্রাভেলস মালিকের কাছ থেকে খরচের পরিমাণ জানার পর উক্ত মুসল্লিকে তা জানিয়ে দিই। তিনি আমাকে সে পরিমাণ টাকা দিয়ে দেন। আল্লাহর রহমতে আমি হজ্বে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে সব খরচ করার পর তার দেওয়া কিছু টাকা আমার কাছে থেকে গিয়েছে। জানার বিষয় হল, আমি এই উদ্বৃত্ত টাকাগুলো কি আমার প্রয়োজনে খরচ করতে পরব? নাকি তার কাছে ফেরত দিতে হবে?

আসরের পর তাওয়াফ করলে তাওয়াফের নামায কখন আদায় করবে?

প্রশ্ন (১২২৬৪) : মক্কা শরীফে আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত অনেক সময় পাওয়া যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তখন দুটি তাওয়াফ করা যায়। আমাদের মুআল্লিম সাহেব বলেছেন, তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামায পড়া ওয়াজিব। আমি একবার আসরের পর একটি তাওয়াফ শেষ করে নামাযের জন্য দাঁড়াচ্ছিলাম তখন এক ভাই বললেন, আসরের পর নামায পড়া যায় না। জানার বিষয় হল, ঐ লোকের কথা কি ঠিক? যদি ঠিক হয় তাহলে তাওয়াফের নামায কখন পড়ব?

অন্যকে দিয়ে কংকর নিক্ষেপ করালে কি তা আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২২৬৩) : আমি এবছর আমার মাকে নিয়ে হজ্ব করতে গিয়েছিলাম। প্রথম দুই দিন প্রচুর ভিড়ের ভেতর মাকে সাথে নিয়ে কংকর মেরেছি। ১২ই যিলহজ্ব কাফেলার মুআল্লিম আমাকে বললেন, কংকর মারার সময় তো প্রচুর ভির থাকে তাই আজ আপনার মাকে কষ্ট না দিয়ে নিজেই তার পক্ষ থেকে কংকর মেরে দিন। এতে তার ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। মুআল্লিমের কথা অনুযায়ী আমি নিজে সেদিন মায়ের পক্ষ থেকে কংকর মেরেছি। হজ্ব থেকে দেশে ফেরার পর একজন আলেমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘নিজে কংকর মারতে পারলে অন্যকে দিয়ে কংকর মারানো জায়েয নেই।’ তার কথা কি ঠিক? ঠিক হলে এখন করণীয় কী?

উমরার ইহরাম করার পর কোনো কারণে উমরায় যেতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৩৯) : আমার চাচা বাড়ি থেকে উমরার ইহরাম করে বের হন এয়ারপোর্ট যাওয়ার পথে গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়। তাই তার পক্ষে এখন উমরায় যাওয়া সম্ভব না। আমার জানামতে এমন ব্যক্তিগণ কারো মাধ্যমে হেরেম এলাকার ভেতর একটি দম জবাই করে ইহরাম থেকে মুক্ত হবেন এবং পরবর্তীতে উমরাটি কাযা করে নেবেন। কিন্তু জনৈক আলেম বলছেন, এক্ষেত্রে দম না দিয়ে রোযা রাখারও সুযোগ আছে। আমার জানার বিষয় হচ্ছে, তার বক্তব্য সঠিক কি না এবং উল্লেখিত অবস্থায় দম না দিয়ে সদকা করা বা রোযা রাখার মাধ্যমে ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে কি না? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

মাজুর ব্যক্তি কাউকে দিয়ে বদলি হজ্ব করানোর পর সুস্থ হয়ে গেলে আবার হজ্ব করা কি আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২২৩৬) : আমার নানাজানের উপর আগে থেকে হজ্ব ফরয ছিল। তিনি হজ্বে যাবেন যাবেন করতে করতে দেরী হয়ে যায়। এর মাঝে হঠাৎ করে তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। যার দরুন তিনি হাঁটতে পারছিলেন না। নানা চাচ্ছেন তাড়াতাড়ি তার হজ্ব যেন আদায় করা হয়। তাই এক ব্যক্তিকে তার পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব করার জন্য পাঠান। সে নানাজানের পক্ষ থেকে হজ্ব আদায় করে আসে। এর প্রায় বছর খানেক পর আল্লাহর রহমতে নানা প্রায় পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। এখন তিনি একা একা চলা-ফেরা করতে সক্ষম। জানার বিষয় হল, নানা সুস্থ হওয়ার পর কি আবার হজ্ব করা লাগবে, নাকি ঐ হজ্ব যথেষ্ট হবে? তিনি চাচ্ছেন, আবার নিজে গিয়ে হজ্ব করবেন। এটা কি তার ফরয হিসেবে গণ্য হবে না নফল হিসেবে?

ইহরাম অবস্থায় ছাতা ব্যবহার করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২২৩৫) : গত বছর আমি হজ্বে যাই। আরাফার দিন সকালে রোদের কারণে ঘুমাতে কষ্ট হচ্ছিল। তখন আমি মাথার সামনে একটি ছাতা খুলে তার উপর কাপড় ঝুলিয়ে দিই। এরপর বুক পর্যন্ত ছাতার ভিতর ঢুকে ঘুমিয়ে পড়ি। আর ঝুলানো কাপড়টি আমার বুকের উপর ছিল। মাথা বা মুখ কিছুই স্পর্শ করেনি। জানতে চাচ্ছি, এভাবে মুখ ঢেকে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর দ্বারা কি দম ওয়াজিব হয়েছে?