ড. মুফতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী

পুরাতন কবরের উপর দোকান নির্মাণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৩৫) : তিন বছর আগে আমি এক ব্যক্তি থেকে আমাদের বাজারে এক কাঠা জায়গা ক্রয় করি। এখন সেখানে একটি দোকান করতে চাচ্ছি। কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলল, এখানে প্রায় চল্লিশ বছর আগের একটি কবর আছে। এমতাবস্থায় আমি কি ঐ জায়গায় দোকান করতে পারব?

বিয়ে পড়ানোর জন্য নির্ধারিত ওকীল অনুমতি ছাড়া কি মহর বৃদ্ধি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৩৩৪) : আমার বড় ভাই কুয়েতে থাকেন। আমার বড় ভগ্নিপতির ভাগ্নির সাথে তার বিবাহ ঠিক হয়। তিনি আমার ভগ্নিপতিকে ওকীল বানিয়ে দেন, যেন তিনি তার বিবাহটা পড়িয়ে দেন। ৫ লক্ষ টাকা দেন মহরের কথা হয়। কিন্তু বিবাহের মজলিসে মেয়ে পক্ষের জোরাজোরিতে আমার ভগ্নিপতি আরো দেড় লক্ষ টাকা বাড়িয়ে দেন। এক্ষেত্রে তিনি আমার ভাই থেকে পুনরায় অনুমতি নেননি এবং আমার বাবা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তাকেও কিছু জিজ্ঞেস করেননি। কারণ তিনি জানতেন, আমার বাবা মহর বাড়িয়ে দিতে রাযি হবেন না। আমার ভাই এখনো কুয়েত থেকে আসেননি। আরো দুই মাস পরে আসার কথা। এখন আমার জানার বিষয় হচ্ছে, আমার বড় ভাইয়ের অনুমতি ছাড়া মহর বৃদ্ধি করার কারণে তাদের বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে? যদি হয় তাহলে অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা কার উপর জরুরি? আমার ভাইয়ের উপর নাকি আমার ভগ্নিপতির উপর? উল্লেখ্য, ঐ মেয়ের মহরে মিসিল বর্তমান বাজারে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মতো।

কলম, পেন্সিল, রাবারজাতীয় ইত্যাদি জিনিসপত্র কেউ ফেলে দিলে অন্য কেউ তা নিয়ে ব্যবহার করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৩৩) : আমি একটি দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের খাদেম। বছরের শুরুতে বা শেষে তাফসীলি সাফাইয়ের পর ছাত্র ভাইয়েরা যে ময়লা আমাকে ফেলার জন্য দেয়, তাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কলম, পেন্সিল, রাবারজাতীয় জিনিসপত্র থাকে। এগুলো তাদেরকে রেখে দিতে বললে তারা রাখতে চায় না; বরং জানায়- ‘এগুলো সারা বছর কামরায় পড়ে থাকে। কেউ নেয় না। খোঁজও করে না। আপনি চাইলে এগুলো রেখে দিতে পারেন কিংবা ফেলেও দিতে পারেন।’ মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, আমি কি এগুলো ব্যবহার করতে পারব?

মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৩২) : আমি বিকাশের একজন এজেন্ট। অনেকেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে আমার দোকানে আসে। কেউ ক্যাশ আউট করতে আসলে বিকাশ এজেন্টগণ সাধারণত প্রতি হাজারে খরচ বাবদ ২০ টাকা রাখে। অথচ কোম্পানীর পক্ষ থেকে নির্ধারিত চার্জ হল ১৮.৫০। এখানে এজেন্টগণ ১.৫০ অতিরিক্ত লাভ গ্রহণ করে। আবার কারো ক্যাশ আউটের পরিমাণ বেশি হলে তাকে সেন্ড মানি করতে বলা হয়। এখানেও খরচ হিসেবে প্রতি হাজারে ২০ টাকা করে রাখে। অথচ কোম্পানীর পক্ষ থেকে সেন্ড মানির জন্য নির্ধারিত চার্জ হল পাঁচ টাকা। এক্ষেত্রে ২০ টাকা পুরোটাই অতিরিক্ত গ্রহণ করে থাকে। আর বলে- আমাদের তো টাকা ওঠাতে এত টাকা খরচ হবে। তাই আপনার থেকে রাখলাম। এক্ষেত্রে অনেকেই পরবর্তীতে ক্যাশ আউট না করে অন্যভাবে উক্ত টাকা ব্যবহার করে থাকে। অতএব হুযুরের কাছে উক্ত কারবারদুটির শরয়ী বিধান জানতে চাচ্ছি।

অবৈধ পথে উপার্জন করা টাকার বিধান।

প্রশ্ন (১২৩৩১) : এক ব্যক্তি অনিয়ম করে কিছু টাকা আয় করেছে, যা সরকারি ফান্ডে জমা করা উচিত ছিল। কাজটি অন্যায় বোধোদয় হওয়ার পর ঐ টাকা সরকারি ফান্ডে জমা দেওয়ার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়। আমি দীর্ঘদিন খোঁজ-খবর নিয়ে টাকাগুলো সরকারি কোনো ফান্ডে জমা দেয়ার দৃশ্যমান কোনো উপায় খুঁজে পাইনি। এছাড়া সরকারের কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে (যেমন রাস্তা মেরামত, টিউবওয়েল বসানো ইত্যাদি) ব্যয় করার সুযোগও খুঁজে পাইনি। তাই কয়েকজন অত্যন্ত গরীব অসহায় রোগীর তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য ঐ টাকা থেকে কিছু টাকা খরচ করেছি। বাকি টাকা এ ধরনের অসহায় রোগীর চিকিৎসা বা অসহায় এতীমগণের ভরণ-পোষণ বা গরিব নতুন মুসলমানকে সাহায্য করে খরচ করতে চাই। কেননা আমার মনে হয়, এসকল খাতে খরচ করাও সরকারের দায়িত্ব। এই টাকা এইভাবে খরচ করা ঠিক হবে কি না দয়া করে জানাবেন। এছাড়া অন্য কোনো সহজ উপায় থাকলে মেহেরবানী করে জানাবেন।

মাদ্রাসার জন্য জমি দান করার পর আবার সেখান থেকে পৃথক করে মসজিদের জন্য দান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৩০) : আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার জন্য ১০ ডিসিম জমি দান করে। সেখানে একটি অনাবাসিক নূরানী মকতব প্রতিষ্ঠা করা হয়। দুই-তিন বছর পর এলাকার মানুষের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে মাদরাসা কমিটি সিদ্ধান্ত নিল, মাদরাসার পাশাপাশি একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করবে। তাই কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে উক্ত ব্যক্তি দানকৃত জমি থেকে ৪ ডিসিম জমি মসজিদের জন্য দান করে এবং সেখানে মসজিদ নির্মাণ করে। আমার প্রশ্ন হল, উক্ত প্রক্রিয়াটি সঠিক হয়েছে কি না? ভুল হলে সংশোধনের উপায় কী? এবং এতদিন এলাকাবাসীর আদায়কৃত নামাযে কোনো সমস্যা হবে কি না? মাদরাসা ও মসজিদে একই কমিটি ও পূর্বের কমিটি অপরিবর্তিত।

মিরাছ বণ্টনের পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২৩২৯) : আমরা তিন বোন দুই ভাই। বেশ কয়েক বছর যাবৎ আমাদের মাতা-পিতার মাঝে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলছিল। কিছুদিন আগে এই ঝগড়া আরো প্রকট আকার ধারণ করে এবং আমার পিতা আমার মাকে এক তালাকে বায়েন দিয়ে দেন। তালাকের কয়েকদিন পর আমার মা খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় রাস্তায় গাড়ি এক্সিডেন্টে আমার মা ইন্তেকাল করেন, আমরাও গুরুতর আহত হই। ইন্তেকালের সময় আমার মায়ের মালিকানাধীন বেশ কিছু জমি, কিছু নগদ অর্থ আর কিছু স্বর্ণালঙ্কার ছিল। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমার মায়ের রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে আমরা তিন বোন, দুই ভাই এবং আমাদের পিতা কে কতটুকু করে অংশ পাবে? মাসআলাটির সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

সম্মান প্রদর্শন করার জন্য মাথা ঝুঁকানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩২৮) : আত্মরক্ষার কৌশল (মার্শাল আর্ট, কারাতে) শেখার সময় শিক্ষকের সামনে মাথা ঝুঁকাতে হয় (শিক্ষককে সম্মান দেখানোর জন্য) এতে কি কোনো অসুবিধা আছে? থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা কী?

শপিং ব্যাগে আল্লাহ ও নবীর নাম লিখলে কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১২৩২৭) : আমার দোকানের শপিং ব্যাগে বরকত ও মহব্বতের প্রকাশস্বরূপ এক পাশে ডিজাইন করে আল্লাহ ও অপর পাশে মুহাম্মাদ (সা.) লেখা। কিছুদিন আগে এক ভাই তা দেখে আপত্তি করেন। যে এতে নাকি আল্লাহর নামের অপব্যবহার ও অবমাননা হয়। আমি জানতে চাচ্ছি যে, তার এ কথাটি কি ঠিক? এটা নিয়ে এখন পেরেশানিতে আছি। দয়া করে সঠিক সমাধান জানাবেন।

জুতা পায়ে দিয়ে জানাযার নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩২৬) : আমাদের স্কুলমাঠে একবার জানাযার নামায হয়। আমি অযু করে জানাযার নামাযে শরীক হই। কাতারে দাঁড়ানোর পর পাশের এক ভাই বললেন, জুতা খুলে সামনে রেখে দিন। জুতা পরে নামায হয় না। আরেক ভাই বললেন, জুতার উপরে দাঁড়ালেও নামায হবে। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার কি জুতা পরে নামায পড়াটা ঠিক হয়েছে, নাকি খালি পায়ে নামায পড়া আবশ্যক ছিল?

হায়েয সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩২৫) : জনৈক মহিলার সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে ৪০ দিন স্রাব চালু ছিল। এরপর ১২ দিন পবিত্র থাকার পর আবার স্রাব চালু হয়েছে। এখন তার পবিত্রতার হুকুম কী?

সাবান মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করা যাবে কি ?

প্রশ্ন (১২৩২৪) : শুক্রবার জুমুআর পূর্বে কাপড় ধোয়ার জন্য ওয়াশরুমে গিয়েছি। কাপড় ধোয়ার পরপরই পানি শেষ হয়ে যায়। কাপড়গুলো পবিত্র ছিল, শুধু ময়লা হয়েছিল। আর আমার উপর গোসলও ফরয ছিল না। জুমুআর উদ্দেশ্যে গোসল করব। এদিকে নামাযের সময় হয়ে গিয়েছে। তাই কাপড় ধোয়া সাবান মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করে নামায পড়ে নিয়েছি। জানার বিষয় হল, সেই পানি দিয়ে গোসল করা কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে?

বিড়ালের মুখ দেওয়া পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩২৩) : আমরা বান্দরবনে পাহাড়ের উপর বসবাস করি। গরমকালে পানির অনেক সংকট হয়। বহু নিচ থেকে পানি আনতে হয়। তাই একবার পানি আনলে কমপক্ষে এক দিন তা দিয়ে চলতে হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, কখনো কখনো বিড়াল পানিতে মুখ দিয়ে দেয়। তাই জানার বিষয় হচ্ছে, বিড়ালের মুখ দেওয়া সেই পানি কি আমরা অযু-গোসলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারব?

একাকী নামায আদায় করার ক্ষেত্রে কি আযান দিয়ে নেওয়া জরুরী?

প্রশ্ন (১২৩২২) : আমি যে এলাকায় থাকি সেটা খ্রিস্টান অধ্যুষিত হওয়ায় সেখানে কোনো মসজিদ নেই। পার্শবর্তী এলাকায় যেখানে মসজিদ আছে ওখানকার আযানের শব্দ এখানে পৌঁছে না। এ অবস্থায় সাধারণত দু-চারজন একত্র হয়ে জামাতে নামায আদায় করলে আমরা আযান দিয়ে নিই। প্রশ্ন হল, যদি একাকী নামায পড়ি তাহলেও কি আযান দিয়ে নামায পড়া জরুরি? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

ফেতনা হওয়ার আশঙ্কায় সাহু সিজদা ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক?

প্রশ্ন (১২৩২১) : আমি ঢাকার একটি বড় মসজিদে তারাবীহ পড়াই। এবার রমযানের ২৭ তারিখে তারাবীর নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার তিন-চার আয়াত মনে মনে পড়ি, এরপর স্মরণ হলে উচ্চস্বরে সূরা ফাতিহা শুরু থেকে পড়ি। সেদিন মসজিদে ৩-৪ হাজার মুসল্লী ছিল। অনেক বড় জামাত ফেতনা হতে পারে- একথা ভেবে সাহু সিজদা দিইনি। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হচ্ছে, আমার এই কাজটি কি ঠিক হয়েছে? জুমা ও ঈদের নামাযের মত তারাবীর জামাত বড় হলে সাহু সিজদা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ আছে কি না?

জানাযার খাটিয়া বহন করার পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২৩২০) : জানাযার খাটিয়া বহনের সুন্নত তরীকা কী? আমাদের এলাকায় এ ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি দেখা যায়। কখনো দেখা যায় কিছুদূর বহন করার পর যারা বহন করেনি তারা বহন করে। আবার কখনো পায়া পরিবর্তন করে নেয়। তাই এ বিষয়ে আমাদেরকে নির্ভরযোগ্য তথ্যসহ জানালে খুবই উপকার হবে।

মায়্যেতকে গোসল করানো সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩১৯) : মুহতারাম, গত ২৩শে আগস্ট আমার এক নিকটাত্মীয় মারা যায়। সেই মায়্যেতকে গোসল করানোর জন্য আমি ও গ্রামের ইমাম সাহেবসহ আরেকজন ছিলাম। গোসল শেষে ইমাম সাহেব হালকাভাবে চেহারাটা মুছে মায়্যেতকে অযু করিয়ে দিলেন। তারপর পুরো চেহারা ভালোভাবে না মুছিয়েই দাফন করাতে চাইলেন। তখন আমি বললাম পুরো শরীর মুছবেন না কেন? কারণ আমার জানা মতে পূর্ণ শরীর মুছতে হবে। তখন ইমাম সাহেব বললেন, রাসূল (সা.) একবার এক সাহাবী মারা যাওয়ার পর জান্নাতের পানি দ্বারা তাকে গোসল করালেন এবং শরীর থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছিল। এমতাবস্থায় নবী (সা.) তাকে দাফন করে দিলেন। (অর্থাৎ কাফন পরিয়ে) দিলেন। সুতরাং পুরো শরীর ভালোভাবে মুছার প্রয়োজন নেই। এখন হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল- ১. মায়্যেতকে গোসলের পর অযু করানো যাবে কি না? না হলে এর বিধান কী? ২. মায়্যেতকে গোসলের পর পুরো শরীর ভালোভাবে মুছতে হবে কি না? এবং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেবের কথা সহিহ কি না? দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

রোযার কাফ্ফারা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩১৮) : আমি বালেগ হওয়ার পর ৭টি রমযান অতিবাহিত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে শেষ ৩ রমযান আমি ঠিকমত রোযা রেখেছি। কোনো রোযা ছাড়িনি। বাকি ৪ রমযানে নিয়মিত রোযা রাখিনি। কোনো দিন রোযা রেখে বিনা ওজরে ভেঙে ফেলেছি। কখনো মায়ের চাপাচাপিতে ভেঙেছি। আবার কোনো দিন একেবারেই রাখিনি। তবে মনে হয়, রেখে ভেঙে ফেলার সংখ্যাই বেশি। এভাবে কত রোযা গেছে তার সঠিক হিসাব আমি বলতে পারছি না। আমার জানা মতে, বিনা ওজরে রোযা ভাঙলে কাফফারা আদায় করতে হয়। তাই একবার লাগাতার ৬০টি রোযা রেখেছি। এ অবস্থায় আমার ঐ রোযাগুলোর কাযা কাফফারা আদায়ের ব্যাপারে শরীয়তের মাসআলা জানতে চাই।

বিয়েতে উপহার দিলে সেগুলোর মালিক কে হবে?

প্রশ্ন (১২৩১৭) : আমার পিতার ইন্তেকালের পর আমিই আমার ভাই-বোনদের দেখাশোনা করছি। কিছুদিন আগে আমার ছোট বোনের বিবাহ দিই। বিবাহে আত্মীয়-স্বজন ও অন্যান্যদের আপ্যায়ন করি। উক্ত আপ্যায়নে অলঙ্কার ছাড়া নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী মিলে প্রায় ৪০ হাজার টাকার উপঢৌকন উঠেছে। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, এ উপঢৌকনের মালিক কে? সবগুলো আমার বোনকে দিয়ে দিতে হবে নাকি আমাদের ব্যবহার করার অনুমতি আছে? মাসআলাটির সঠিক সমাধানে হুযুরের সুমর্জি কামনা করছি।

কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৩১৬) : আমাদের গ্রামে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ আছে। মসজিদের জন্য যিনি জমি ওয়াকফ করেছিলেন। ওয়াকফ করার অনেক আগে (২০-২৫ বছর) সেই জমিতে তার দাদাকে কবর দেওয়া হয়েছিল। ওয়াকফ করার পর সেই জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের শেষের এক-দুই কাতার সেই কবরের উপর নির্মিত হয়েছে এবং এভাবেই দীর্ঘদিন থেকে নামায আদায় করা হচ্ছে। এখন কেউ কেউ বলছেন, কবরের উপর মসজিদ বানানো হারাম। তাই অনেকে মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলতে চাচ্ছেন। অথচ মসজিদের এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে নতুন করে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে। মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, আসলেই কি উক্ত মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলতে হবে? আরেকটি বিষয় জানতে চাচ্ছি, সম্প্রসারণের প্রয়োজনে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি না?