ড. মুফতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী

ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৫৫) : কিছুদিন আগে একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে আমি এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার ফার্নিচার ক্রয় করি। তার মধ্যে এক লক্ষ টাকা নগদে পরিশোধ করি। বাকিটা কয়েকদিন পরে দেওয়ার কথা হয়। ফার্নিচারের দোকানদার বিক্রির সময় আমাকে বলেছিল, এগুলোর কেনা দাম এক লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে মেরামত বাবদ অতিরিক্ত খরচসহ এর বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে এক লাখ বিশ। কিন্তু ফার্নিচারগুলো দেখার পর অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন আমাকে বললেন, দোকানদার আপনাকে ঠকিয়েছে। এর কেনা দাম মোটেও সত্তর হাজারের বেশি হবে না। এ বিষয়ে দোকানদারকে জিজ্ঞেস করা হলে প্রথমে সে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে যে, তার কেনা দাম অন্তত এক লাখ না। তার চেয়ে কম। আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, তার এই প্রতারণার কারণে আমি কি তাকে বাদবাকি বিশ হাজার টাকা কম দিতে পারি? এক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা কী?

নামাযে সূরা ফাতিহা পড়তে ভুলে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৫৪) : আমি কয়েকদিন আগে ফরয নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে সূরা ফাতিহা না পড়ে সূরা পড়া আরম্ভ করি। সূরা পড়া শেষ হওয়ার পর আমার স্মরণ হয় যে, আমি সূরা ফাতিহা পড়িনি। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী?

সুন্নত বা নফল নামাযে একাধিক রাকাতে একই সূরা পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৫৩) : কয়েকদিন আগে এশার জামাতের পর সুন্নত পড়ছিলাম। দ্বিতীয় রাকাতে রুকুতে গিয়ে মনে পড়ে- আমি উভয় রাকাতে একই সূরা পড়েছি। পরে সাহু সিজদাও করিনি। জানার বিষয় হল, আমার উপর কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে এবং এ নামায কি সহিহ হয়েছে?

নামাযে ইশারা করে কিছু বললে কি নামায নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৩৫২) : কয়েকদিন আগে আমি বাসায় নামায পড়ছিলাম। হঠাৎ আমার ছোট বাচ্চা পাশে এসে পেশাব করে দেয়। এদিকে নামাযে বিঘ্নতার আশঙ্কায় তার মা তাকে নিতে আসে। তখন আমি তার পেশাবের দিকে ইশারা করি। তবে জায়নামায এবং আমার গায়ে পেশাব লাগেনি। এই ইশারার কারণে কি নামায নষ্ট হয়ে গিয়েছে?

ঈদের খুতবা চলাকালীন মুসল্লিরা কি ইমামের সাথে তাকবীর বলতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৩৫১) : ঈদের নামাযের খুতবার সময় আমাদের মসজিদে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়। তা হল খুতবার মাঝে ইমাম সাহেব যখন তাকবীর বলেন তখন অনেক মুসল্লিও তাঁর সাথে সাথে উচ্চস্বরে তাকবীর বলেন। আমি এক আলেমকে বলতে শুনেছিলাম, খুতবার সময় একেবারে চুপ থাকতে হয়। জানার বিষয় হল, এই বিধান কি শুধু জুমার খুতবার সাথেই খাস, নাকি ঈদের খুতবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য? সঠিক বিষয়টি জানালে উপকৃত হব।

ঈদের নামাযে অতিরিক্ত তাকবীর বলার সময় কি হাত বাঁধতে হবে?

প্রশ্ন (১২৩৫০) : গত কুরবানী ঈদে এক মসজিদে ঈদের নামায পড়তে যাই। নামাযের আগে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত তাকবীর আদায়ের তরীকা বলেন, প্রথম দুই তাকবীরের পর হাত উঠিয়ে বেঁধে নিবে, তৃতীয় তাকবীরের পর হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিবে এবং চতুর্থ তাকবীর বলতে বলতে রুকুতে যাবে। অথচ আমাদের মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেব প্রথম দুই তাকবীরেও হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে বলেন। এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি কোনটি জানালে উপকৃত হব।

জমি ভাড়া সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৪৯) : আমরা চরাঞ্চলে বসবাস করি। এখানে আমার কিছু জমি আছে। এ অঞ্চলটি নিচু হওয়ায় বর্ষায় পানি বেশি হলে এখানের জমিগুলো প্রায় দেড়-দু’মাস চাষাবাদের অনুপযোগী থাকে। এ সময়ের ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে সংশয় হয়। অন্যান্য মালিকরা যেহেতু এ সময়ের ভাড়া আদায় করে থাকে, তাই আমিও নিই। এটা নেয়া কি বৈধ হবে? বর্ষার পর ফলন ভাল হলে তো তারা আমাদেরকে ভাড়া বেশি দেয় না। তাহলে আমরা কেন তাদের ক্ষতি বহন করব?

বর্গা চাষের একটি পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২৩৪৮) : এক ব্যক্তির সাথে আমি চুক্তি করতে চাচ্ছি যে, সে আমার এক বিঘা জমি চাষ করবে। চাষের জন্য বীজ, পানি, সার ইত্যাদির যাবতীয় খরচ সে বহন করবে। সিজন শেষে যা ফসল হবে তার বীজ সার ইত্যাদির খরচ বাদ দিয়ে বাকিটা দু’জনের মাঝে সমান হারে বণ্টন হবে। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমাদের এভাবে চুক্তি করা বৈধ হবে কি না? বৈধ না হলে বৈধতার কোনো পদ্ধতি আছে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

জমি চাষের একটি বৈধ পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২৩৪৭) : আমাদের এলাকায় জমি চাষাবাদের একটি পদ্ধতি ব্যাপকভাবে চালু রয়েছে। জমির মালিক জমি দেয়। আর পরবর্তীতে বীজ, সার, হাল দেওয়া ও সেচ বাবদ খরচ উভয়ে বহন করে। বীজ রোপন ও জমি প্রস্তুত করতে যে খরচ হয় তাও উভয়ে দেয়। আর উৎপাদিত ফসল উভয়ে সমান সমান করে ভাগ করে নেয়। হুজুরের কাছে জিজ্ঞাসা হল আমাদের জমি চাষাবাদের উক্ত পদ্ধতি বৈধ কি না? অনুগ্রহপূর্বক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

পণ্যে ত্রুটি ধরা পড়লে এর বিনিময়ে বিক্রেতার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৪৬) : আমি কিছুদিন আগে একটি ঘড়ি ক্রয় করি। কেনার পর ত্রুটি ধরা পড়লে আমি ঘড়িটি ফেরত দিতে যাই। তখন বিক্রেতা বলেন- আমি আপনাকে কিছু টাকা ফেরত দিচ্ছি, আপনি ঘড়িটি রেখে দিন। আমি কিছু টাকা ফেরত নিয়ে ঘড়িটি রেখে দিই। পরে ইমাম সাহেবকে বিষয়টি বললে তিনি বলেন- ত্রুটির কারণে কিছু টাকা ফেরত নিয়ে ঘড়িটি রেখে দেওয়া বৈধ হয়নি। আপনি ঘড়ি রাখতে চাইলে বিক্রেতা থেকে কোনো টাকা ফেরত নিতে পারবেন না। অন্যথায় ঘড়িটিই ফেরত দিতে হবে। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, কিছু টাকা ফেরত নিয়ে ঘড়ি রেখে দেওয়া বৈধ হয়েছে কি না? আর ইমাম সাহেবের কথা ঠিক কি না? মাসআলাটির সমাধান জানালে খুবই উপকৃত হব।

মুক্তাদির জন্য ইমাম সাহেবের ইক্তিদা করার বিধান কি?

প্রশ্ন (১২৩৪৫) : কিছুদিন আগে আমরা কয়েকজন জামাতের সাথে যোহর নামায আদায় করছিলাম। নামাযের প্রথম রাকাতে হঠাৎ দেখি ইমাম সাহেব তাকবীর বলে সিজদায় যাচ্ছেন। আমি সিজদায়ে তিলাওয়াত ভেবে ইমাম সাহেবের সাথে সিজদায় শরীক হই। পরে বুঝতে পারলাম যে, আসলেই তা সিজদায়ে তিলাওয়াত ছিল। তখন আমার পাশে যে মুসল্লী ভাই ছিলেন তিনি সিজদায় যাননি। পরে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি তিলাওয়াতে সিজদা শুনিনি, তাই যাইনি এবং আপনার যাওয়াটাও ঠিক হয়নি। আমার না করাটাই ঠিক। জানার বিষয় হল, ইমামের সাথে আমার সিজদায় শরীক হওয়া কি ঠিক হয়েছে? আর তার কথা কি ঠিক?

ফরয নামাযের পর ইমাম সাহেব কোন জায়গায় সুন্নত আদায় করবে?

প্রশ্ন (১২৩৪৪) : আমি মকতব বিভাগের একজন শিক্ষক। আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব কখনো না থাকলে আমি নামায পড়িয়ে থাকি। আমার একটি বিষয় জানার ছিল। তা হল, কোনো কোনো মসজিদে দেখি যে, ইমাম সাহেব যোহর, মাগরিব, এশা এই ওয়াক্তগুলোতে ফরয নামাযের পর সুন্নত পড়ার জন্য মেহরাব থেকে পিছনে চলে আসেন। আবার কেউ জায়নামাযের একপাশে দাঁড়িয়ে সুন্নত পড়েন। আর কেউ নিজের জায়গায় দাঁড়িয়েই সুন্নত পড়েন। এক্ষেত্রে আসলে সঠিক নিয়ম কী?

ওজরের কারণে রোজা ভাঙা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৩৪৩) : রমযান মাসে একদিন দুপুরে তীব্র গরমের কারণে আমি অস্বস্তি বোধ করছিলাম। তখন আমি এক গ্লাস পানি ও শরবত খেয়ে রোযা ভেঙে ফেলি। অবশ্য আমার রোযার কথা স্মরণ ছিল, আর না ভাঙলেও তেমন অসুবিধা হত না। এরপর বিকাল থেকে আমার ঋতুস্রাব শুরু হয়। বিষয়টি আমাদের তালীমের আপাকে জানালে তিনি বলেছেন, ‘কাফফারা ওয়াজিব হয়নি, তবে রোযাটি কাযা করতে হবে।’ হুযূরের কাছে জানার বিষয় হল, আমার উক্ত রোযার কী হুকুম? আমাদের তালিমের আপা কি সঠিক বলেছেন?

কাউকে ঋণ দেওয়া টাকার উপর যাকাত আবশ্যক হবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৪২) : আমার এক বন্ধুকে আমি ২ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছি প্রায় দুই বছর হয়ে যায়। সে দেবে বলে বিভিন্ন সমস্যার কারণে এখনো দিতে পারেনি। হুযূরের নিকট জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত বন্ধুকে দেওয়া ঐ ঋণের যাকাত আদায় করতে হবে কি?

ব্যবসা-পণ্যের মূল্যের যাকাত কিভাবে আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২৩৪১) : আমি সিজনের সময় আলু-পেঁয়াজ, আদা-রসুন ইত্যাদি মালামাল কিনে রাখি। এরপর সুবিধামত বিক্রি করি। এ বছর আমার বাৎসরিক যাকাত আদায়ের সময় আলু-পেঁয়াজ গোডাউনে থাকতেই এগুলোর বাজার-মূল্য কয়েকগুণ বেড়ে যায়। জানার বিষয় হল, এসময় আমি উক্ত মালের ক্রয়-মূল্য হিসাবে যাকাত আদায় করব, নাকি বিক্রয়-মূল্য হিসাবে যাকাত দিতে হবে?

বিধবা মহিলা কি ইদ্দত চলাকলীন স্বামীর গৃহের বাইরে রাত্রী যাপন করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৩৪০) : আড়াই মাস আগে আমার স্বামী রোড এক্সিডেন্টে মারা যান। বর্তমানে আমি স্বামীর বাড়িতে ইদ্দত পালন করছি। দু’সপ্তাহ পর আমার ছোট বোন ও তার স্বামী হজ্বে যাবেন। তাদের বাসা আমাদের গ্রামেই, খুব নিকটে। হজ্বে যাওয়া উপলক্ষে তারা সকল নিকট আত্মীয়কে দাওয়াত করেছেন। যাদের মাঝে আমিও আছি। আমি কি এ দাওয়াতে যেতে পারব?

গোসলের সময় শরীর থেকে পানির ছিটা বালতিতে পড়লে কি কোনো সমস্যা আছে?

প্রশ্ন (১২৩৩৯) : আমাদের পাশের বাড়িতে একজন মহিলা তালীম করেন। আমার আম্মু মাঝেমাঝে সেখানে বসেন। একদিন তালীম থেকে এসে বললেন যে, আজকে তালীমের মহিলা একটি মাসআলা বলল, তার উপর আমল করা তো কঠিন। মহিলা বলেছে, বালতির পানি দিয়ে গোসলের সময় শরীর থেকে পানির ছিটা বালতিতে পড়লে সে পানি দিয়ে গোসল হবে না। জানার বিষয় হল, মহিলার কথা কি ঠিক? অন্যথায় সঠিক মাসআলা কী?

রঙমিস্ত্রি হাত পরিষ্কার করার পরেও হাতে রঙ লেগে থাকলে কি তার অযু শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন (১২৩৩৮) : আমি একজন রঙমিস্ত্রি। রঙের কাজ করে তারপিন ইত্যাদি দিয়ে হাত পরিষ্কার করার পরও অনেকসময় নখের কোণায় কিছু রঙ আটকে থাকে, যা উঠানো খুবই কষ্টকর। জানার বিষয় হল, এমন অবস্থায় আমার অযুর কী হুকুম? আমার অযু কি শুদ্ধ হবে?

রুকু-সিজদায় মুক্তাদী তাসবীহ শেষ করার আগে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৩৭) : আমি একজন বয়স্ক মানুষ। ইমামের একেবারে সাথে সাথে উঠা-বসা করতে অনেক কষ্ট হয়। তাই অনেকসময় রুকু-সিজদার তাসবীহ তিন বার পড়ার আগেই ইমাম সাহেব তাকবীর বলে উঠে যান। এমতাবস্থায় আমি কি তাসবীহ তিন বার পূর্ণ করে উঠব নাকি তিন বার পূর্ণ না হলেও ইমাম সাহেব তাকবীর বললে উঠে যাব?

হাঁটতে অক্ষম ব্যক্তি কি হুইল চেয়ারে বসে তাওয়াফ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৩৩৬) : আমার পিতা বার্ধক্যজনিত কারণে হাঁটতে সক্ষম নন। মৃত্যুর পূর্বে তার শেষ ইচ্ছা তিনি হজ্ব করবেন। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, ১. হুইল চেয়ারে তাকে তাওয়াফ করালে তাঁর তাওয়াফ কি আদায় হবে? এবং এর কারণে কোনো দম বা সদকা আবশ্যক হবে কি? ২. আমি যখন তাকে হুইল চেয়ারে তাওয়াফ করাব তখন এর দ্বারা কি আমার তাওয়াফ আদায় হবে, নাকি আমাকে পুনরায় পৃথক তাওয়াফ করতে হবে?